ধর্ম ও জীবন

তাফসিরুল কুরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০৪-২০১৮ ইং ০১:৫৯:১৫ | সংবাদটি ১২৭ বার পঠিত

[পূর্ব প্রকাশের পর]
হেদায়েতের তৃতীয় স্তর আরো বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। তা শুধু মু’মিন ও মুত্তাকী বা ধর্মভীরুদের জন্য। এ হেদায়েত আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে কোনো প্রকাশ মাধ্যম ব্যতিতই মানুষকে প্রদান করা হয়। এরই নাম তওফীক। অর্থাৎ, এমন অবস্থা, পরিবেশ ও মনোভাব সৃষ্টি করে দেয়া যে, তার ফলে কুরআনের হেদায়েতকে গ্রহণ করা এবং এর ওপর আমল করা সহজসাধ্য হয় এবং এর বিরুদ্ধাচরণ কঠিন হয়ে পড়ে। এ তৃতীয় স্তরের পরিসীমা অতি ব্যাপক। এ স্তরই মানবের উন্নতির ক্ষেত্র। নেক কাজের সাথে এ হেদায়েতের বৃদ্ধি হতে থাকে। কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে এ বৃদ্ধির উল্লেখ রয়েছে :
অর্থাৎ- ‘যারা আমার পথে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে, আমি তাদেরকে আমার পথে আরো অধিকতর অগ্রসর হওয়ার পথ অবশ্যই দেখিয়ে থাকি।’ এটি সেই কর্মক্ষেত্র যেখানে নবী-রাসুল এবং বড় বড় ওলী-আউলিয়া, কুতুবগণকেও জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আরো অধিকতর হেদায়েত ও তওফীকের জন্য চেষ্টায় রত থাকতে দেখা গেছে।
হেদায়েতের এ ব্যাখ্যার দ্বারা স্পষ্টভাবে বুঝা গেল যে, হেদায়েত এমন এক বস্তু যা সকলেই লাভ করেছে এবং এর আধিক্য লাভ করার জন্য বড় হতে বড় ব্যক্তির পক্ষেও কোনো বাধা-নিষেধ নেই। এজন্যই সূরা আল-ফাতেহায় গুরুত্বপূর্ণ দোয়ারূপে হেদায়েত প্রার্থনা শিক্ষা দেয়া হয়েছে। যা একজন সাধারণ মুমিনের জন্যও উপযোগী, আবার একজন বড় হতে বড় রসুলের জন্যও উপযোগী এজন্যই হযরত রসুলে আকরাম (সা.) এর শেষ জীবনে সুরা ফাত্তাহ’তে মক্কা বিজয় ফলাফল বর্ণনা করতে গিয়ে একথাও বলা হয়েছে যে, অর্থাৎ- মক্কা বিজয় এজন্যই আপনার দ্বারা সম্পন্ন করা হয়েছে, যাতে সিরাতে মুস্তাকীমের হেদায়েত লাভ হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) কেবল নিজেই হেদায়েতপ্রাপ্ত ছিলেন না; বরং অন্যের জন্যও ছিলেন হেদায়েতের উৎস। এমতাবস্থায় তাঁর হেদায়েত লাভের একমাত্র অর্থ হতে পারে, এ সময় হেদায়েতের কোনো উচ্চতর অবস্থা তিনি লাভ করেছেন।
হেদায়েতের এ ব্যাখ্যা পবিত্র কুরআন বুঝার ক্ষেত্রে যে সব ফায়দা প্রদান করবে সংক্ষেপে তা নি¤œরূপ :
(এক) পবিত্র কুরআনের কোথাও কোথাও মুমিন ও কাফের নির্বিশেষে সবার জন্যই হেদায়েত শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। আবার কোথাও শুধুমাত্র মুত্তাকীদের জন্য বিশেষ অর্থে হেদায়েত শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। এতে করে অজ্ঞ লোকদের পক্ষে সন্দেহে পতিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয় কিন্তু হেদায়েতের সাধারণ ও বিশেষ স্তরসমূহ জানার পর এ সন্দেহ আপনা-আপনিতেই দুরীভুত হয়ে যাবে।
(দুই) হেদায়েতের তিনটি স্তরের মধ্যে প্রথম ও তৃতীয় স্তর সরাসরি আল্লাহ তা’আলার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ পর্যায়ের হেদায়েত একান্তভাবে একমাত্র তাঁরই কাজ। এতে নবী-রাসুলগণেরও কোনো অধিকার নেই। নবী-রাসুলগণের কাজ শুধু হেদায়েতের দ্বিতীয় স্তরে সীমিত। কুরআনের যেখানে যেখানে বী-রাসুলগণকে হেদায়েতকারী বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তা হেদায়েতের দ্বিতীয় স্তরের ভিত্তিতেই বলা হয়েছে। আর যেখানে এরশাদ হয়েছে : অর্থাৎ, আপনি যাকে চাইবেন তাকেই হেদায়েত করতে পারবেন না- এতে হেদায়েতের তৃতীয় স্তরের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, কাউকে তওফিক দান করা আপনার কাজ নয়।
মোটকথা, ‘ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম’ একটি ব্যাপক ও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দোয়া, যা মানুষকে শিক্ষা দেয়া হয়েছে। মানবসমাজের কোনো ব্যক্তিই এর আওতার বাইরে নেই। কেননা, সরল-সঠিক পথ ব্যতিত দ্বীন-দুনিয়া কোনোটিরই উন্নতি ও সাফল্য সম্ভব নয়। দুনিয়ার আবর্তন-বিবর্তনের মধ্যেও সিরাতে মুস্তাকীমের প্রার্থনা পরশপাথরের ন্যায়, কিন্তু মানুষ তা লক্ষ্য করে না। আয়াতের অর্থ হচ্ছে- ‘আমাদিগকে সরল পথ দেখিয়ে দিন।’
[চলবে]

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT