ধর্ম ও জীবন

শবে মেরাজের তাৎপর্য

মোঃ শামসুল ইসলাম সাদিক প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০৪-২০১৮ ইং ০২:০০:২৯ | সংবাদটি ২১০ বার পঠিত

মানবজাতির অনুপম আদর্শ রাসুলে পাক (সাঃ)-এর অন্যতম মুজিজার মধ্যে মেরাজের ঘটনা। পবিত্র রজব মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে আল্লাহতায়ালা তার পেয়ারা হাবিব রাসুলে পাক (সাঃ)-এর সাথে সাক্ষাতের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনা করেন। ঐতিহাসিক সেই সফরকেই পবিত্র মেরাজ বলা হয়।
মেরাজ শব্দটি আরবি। শাব্দিক অর্থ উর্ধ্বগমন, আকাশপথে ভ্রমণ করা ইত্যাদি। পবিত্র রজব মাসের ২৬ তারিখ দিবাগতরাতে উম্মে হানির ঘর থেকে পবিত্র নগরী মক্কা শরীফের মাসজিদুল হারাম থেকে জেরুজালেমের মসজিদুল আক্বসা হয়ে জাগ্রত অবস্থায় আরশে আজিমে পৌঁছে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দিদার লাভ করাই পবিত্র মেরাজ। এই মেরাজ রাসুলে পাক (সাঃ) এর মুজিজা। আল্লাহতায়ালার রহস্যের অন্ত নেই। রাসুলে পাক (সাঃ)-এর মাধ্যমে কিঞ্চিৎ মাত্র উন্মেষ করে দেখান।
আল কুরআনে সুরা বনী ই¯্রাঈলে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, তিনি পরম পবিত্র মহিমাময় সত্তা, তিনি স্বীয় বান্দাকে তার নিদর্শনগুলো দেখানোর জন্য রাত্রিকালে ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আক্বসা পর্যন্ত। যার চারদিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি, যাতে আমি তাকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই। নিশ্চয় তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল।
হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী পবিত্র মেরাজের রাতে রাসুলে পাক (সাঃ) উম্মে হানি বিনতে আবু তালিবের ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। হঠাৎ হযরত জিবরাইল (আঃ) এসে রাসুল (সাঃ) কে মসজিদে হারামে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর বুক মোবারক বিদীর্ণ করে জমজম কূপের পানি দিয়ে সিনা মোবারক ধুয়ে পরিস্কার ও শক্তিশালী করা হয়। এটা শাক্কুস সদর বলে। রাসুলে পাক (সাঃ) এর জীবনে অন্তত তিনবার এমনটা হয়েছে। তারপর সেখান থেকে তিনি ‘বোরাক’ নামক এক ঐশী বাহনে চড়ে বায়তুল মোকাদ্দাসে উপস্থিত হয়ে সকল নবীদের নিয়ে তিনি ইমামতির মাধ্যমে দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন। তারপর বোরাকে চড়ে ৭ম আসমানের ‘ছিদরাতুল মুনতাহা’ পর্যন্ত উর্ধ্বগমন করতে থাকেন। এক এক আসমান অতিক্রম করে এক এক নবীর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং সেখানে রাসুলে পাক (সাঃ) কে বাস্তবে জান্নাত ও জাহান্নাম দেখানো হয়।
বায়তুল মামুর পর্যন্ত হযরত জিবরাইল (আঃ) সাথে ছিলেন, তারপর রাসুলে পাক (সাঃ) তাকে রেখে তিনি ‘রফরফ’ নামক আরেকটি আসমানি বাহনে চড়ে মহান আল্লাহর দরবারে হাজির হন। কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, পবিত্র মেরাজের রাতে রাসুলে পাক (সাঃ) আল্লাহতায়ালার এতোটা পাশাপাশি গিয়েছিলেন যে, দু’জনার মধ্যখানে মাত্র এক ধনুক পরিমাণ ব্যবধান ছিল। এখানে রাসুলে পাক (সাঃ) এর উম্মতের ওপর আল্লাহতায়ালা ৫০ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করে দেন। পরবর্তীতে রাসুল (সাঃ) বার বার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহতায়ালা আমাদের জন্য দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করে দেন। আর এই নামাজ ইসলামের পাঁচটি রোকনের অন্যতম একটি রোকন। যেহেতু পবিত্র মেরাজের রাতে বান্দার জন্য নামাজের নির্দেশ রয়েছে, সেজন্য নামাজকে ‘মেরাজুল মুমিনিন’ বা মুমিনের মেরাজ বলা হয়।
রাসুল (সাঃ) মেরাজ সম্পর্কে অকাট্য প্রমাণ রয়েছে। তাই কোনো মুসলমানের পক্ষে তা অস্বীকার করা কিংবা এ ব্যাপারে সংশয় দেখানো উচিত নয়। কেননা এই বিষয় প্রত্যেক মুসলমানগণ মনেপ্রাণে বিশ্বাস স্থাপন করা ঈমানি কর্তব্য। যখন রাসুলে পাক (সাঃ) মেরাজের কথা প্রকাশ করলেন, তখন কাফেররা মিথ্যারোপ করলো এবং হাসি-ঠাট্টা, বিদ্রুপ করলো। এমনকি অনেক নওমুসলিম এ সংবাদ শুনে ধর্মত্যাগী হয়ে যায়। লোকজন দৌঁড়ে গিয়ে হযরত আবু বকর (রাঃ) কে সংবাদটি দিয়ে এলো। হযরত আবু বকর (রাঃ) তৎক্ষণাৎ ঘটনার সত্যতা এ বলে বিশ্বাস করলেন যে, যদি এই সংবাদ স্বয়ং রাসুলে পাক (সাঃ) বর্ণনা করে থাকেন, তাহলে আমি বিশ্বাস করি। কারণ উনার কথায়ইতো এর চাইতে বড় বিষয় আসমানের ফিরিস্তা তাঁর কাছে ওহী নিয়ে আসেন, সে কথাও বিশ্বাস করেছি। অতঃপর তিনি রাসুলে (সাঃ) এর দরবারে এসে ঘটনার সত্যতা জিজ্ঞাস করলেন, এবং বিশ্বাস স্থাপন করে ‘সিদ্দিক’ উপাধি পেলেন।
আসুন আমরা পবিত্র শবে মেরাজের শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলনের মাধ্যমে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির পথ অন্বেষণ করি। পাশাপাশি রাব্বে কারিম আমাদের প্রত্যেক মুসলমানদেরকে পবিত্র শবে মেরাজের মহিমায় মহিমান্বিত করার প্রত্যাশা করি। আমিন।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT