প্রথম পাতা

আজ শুভ বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

আহমাদ সেলিম. প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০৪-২০১৮ ইং ০৪:৪০:১৪ | সংবাদটি ১০৬ বার পঠিত

নদীরও গন্তব্য আছে, মিশে মোহনায়। ¤্রয়িমান ছায়া পেছনে ফেলে রৌদ্রোজ্জ্বল দিনও বাড়ি যায়। অস্ত যায় শেষ বিকেলের সূর্য। সময় এমনই। সেই সময়ের পথ ধরে পুরনো হয়ে গেলো আরো একটি গল্পের পান্ডুলিপি। কবিগুরুর ভাষায়- বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক-----/যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে যাওয়া গীতি/অশ্রুবাষ্প সুদূরে মেলাক----। তারপর নতুনের আবাহন। আজ অভূতপূর্ব সাংস্কৃতিক জাগরণের দিন পয়লা বৈশাখ। বিদায় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ। স্বাগত নতুন বঙ্গাব্দ ১৪২৫। শালিকের ডানায় জমানো জীর্ণ রাতগুলো আজ পরাস্ত হবে নতুন উদ্দীপনার কাছে। অপরাজিতা, চন্দ্রমল্লিকা, কিংবা নয়নতারা’র সুরভী মেখে নতুন এক ভোর আজ সুগন্ধ ছড়াবে প্রকৃতিতে। আর সেই সুগন্ধে লেপ্টে যাবে বাংলার উঠোন। আজ ফুল, পাখি, পাতা গাইবে মহাজীবনের গান। পুরনো গ্লানি, পাতা ঝরার কান্না পেছনে ফেলে অপার সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাওয়ার দিন আজ। দুই হাতে ঘনীভূত রাত ঠেলে, সকল ভয়কে জয় করার মানসে নতুন করে জেগে উঠবে বাঙালী সত্তা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ আজ একাত্ম হয়ে গাইবেÑ এসো হে বৈশাখ...। অপার এক উৎসবে মেতে ওঠবেন গোটা দেশের মানুষ। যে আনন্দে নজরুল লিখেছেনÑ তোরা সব জয়ধ্বনি কর/তোরা সব জয়ধ্বনি কর/ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কালবোশেখির ঝড়/তোরা সব জয়ধ্বনি কর...। এবার যখন বাঙালির জীবনে নতুন একটি গল্প যোগ হলো তখন বাংলার অবারিত মাঠ জুড়ে হলুদ ধানের উচ্ছ্বাস। কৃষকের ঘরে ঘরে সোনাঝরা হাসি। মাঠের পর মাঠ পাকা ধানের সাথে জীবনের স্বপ্নগাঁথা। আজ চিরায়ত নিয়মে হালখাতা খুলবেন ব্যবসায়ীরা। মিষ্টিমুখ করানোরও রেওয়াজ আছে। অন্ধকার চিরস্থায়ী হয় না মহাকালেও। রাতের অবসানে ঝলমল আলো ফুটবেই। অফুরন্ত সম্ভাবনা নিয়ে জেগে ওঠেছে আমাদের মানচিত্র। বাংলাদেশ জেগে ওঠেছে। তরুণ প্রজন্ম দেশকে জাগিয়ে তুলেছে। বিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানের এই যুগে চারদিকে তরুণদের বিস্ময়। মহাবীর নেপোলিয়নের কালজয়ী বক্তব্য ‘অসম্ভব’ শব্দটি শুধু বোকাদের অভিধানেই পাওয়া যায়। আর সেই সত্যতা বাঙালি জীবনে বহুবার প্রমাণিত হয়েছে। মহান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত আমাদের ছিলো সম্ভবের সোনালী সময়। এখন পৃথিবী বিস্ময় নিয়ে দেখছে আটচল্লিশ বছরের একটি ধাবমান দেশকে। আজ শুধু উৎসব নয়, ফুলে ফলে শোভিত একটি দেশকে নিয়ে গৌরবেরও দিন। বাঙালির চেতনাবিরোধী অপশক্তি রুখতে নতুন বছরে আবারো ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার শপথ নেবে বাংলাদেশ।
সভ্যতার ঊষাকাল থেকেই মানবসমাজে নানান রূপে এই বৈশাখ উদযাপিত হয়েছে। আর সময়ের বিবর্তনে জাতীয় ঐক্য ও সংহতির ভিত্তি রচনা এবং ঐতিহ্যগত সংস্কৃতির বিকাশে বৈশাখ রাখছে বড় ভূমিকা। বাংলা নববর্ষের সঙ্গে সবচেয়ে নিবিড় সম্পর্ক কৃষির। এ সম্পর্কের সূত্রেই বাংলা সাল প্রবর্তন করেন সম্রাট আকবর। তাঁর আমলেই প্রবর্তন হয় বাংলা সাল। এখন তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত। বৈশাখ নামটি নেয়া হয়েছিল নক্ষত্র বিশাখার নাম থেকে। কালের বিবর্তনে নববর্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত অনেক পুরনো আচার অনুষ্ঠানের বিলুপ্তি ঘটেছে। আবার যুক্ত হয়েছে অনেক নতুন আয়োজন। তবে কালের আবর্তে অনেক কিছু সমাজজীবন থেকে হারিয়ে গেলেও হারায়নি কিছু আদি ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় গ্রামে বৈশাখ বরণ করতে বাড়িঘর ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করবেন গৃহিণীরা। শহরেও ভোরে ঘুম থেকে উঠবেন সবাই। অনেকেই নতুন পোশাকে সাজবেন। আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীর বাড়িতে বেড়াতে যাবেন। ঘরে ঘরে সাধ্যমতো বিশেষ খাবার রান্না করা হবে। থাকবে পান্তা ভাতের সাথে বাহারি খাবার। সঙ্গে বৈশাখের অনুষঙ্গ ইলিশ। অনেক স্থানে বসবে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা। নানা রকম কুটির শিল্প, খেলনা, মিষ্টিসহ বাহারি পণ্যের স্টল সাজানো হবে। বিভিন্ন এলাকায় থাকবে নৌকাবাইচ, লাঠিখেলাসহ ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। ষাটের দশকে রমনার বটমূলে শুরু হয় বৈশাখ উদযাপন। এর মাধ্যমে বাঙালি আপন পরিচয়ে সামনে আসার সুযোগ পায়। পরবর্তী সময়ে বাঙালির রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উত্থান ঘটে পয়লা বৈশাখের। এক সময় পয়লা বৈশাখ মূলত উদযাপিত হতো ব্যবসায়ীদের হালখাতা, শুভেচ্ছা বিনিময়, গ্রামীণ মেলা- এ সবের মাধ্যমে। এখন উৎসবের বৈচিত্র্য ও ব্যাপ্তি বেড়েছে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির চেতনাকে শাণিত করুক, বাঙালির অগ্রযাত্রাকে করুক বৈচিত্র্যময়। সব বৈষম্য ভুলে বাঙালির একমাত্র সার্বজনীন ও ধর্মনিরপেক্ষ এই উৎসবের স্লোগান হোক ‘সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপর নাই।’ নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগসহ বিভিন্ন সংগঠন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আজ সরকারী ছুটি। নববষের্র তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকসমূহ বিশেষ প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বিভিন্ন স্যাটেলাইট টেলিভিশন বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে।

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • ফেঞ্চুগঞ্জ মুক্ত দিবস আজ
  • মোমেন-মুক্তাদীরের মিশন শুরু
  • সিলেট প্রতীক পেয়ে ভোটের লড়াইয়ে প্রার্থীরা
  • কাল প্রচারণা শুরু করবেন শেখ হাসিনা
  • খালেদার প্রার্থিতা বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ
  • বিজয়ের মাস :
  • প্রার্থিতা নিয়ে খালেদা জিয়ার রিট
  • মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে ভোট দিয়ে তরুণরা ইতিহাসের অংশীদার হবেন
  • ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেন সিলেট বিভাগের ৩৮ প্রার্থী
  • সিলেট আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মেয়াদ বাড়লো
  • সিলেট বিভাগের ১২ আসনে দলীয়ভাবে নির্বাচন করবে জাপা ও খেলাফত মজলিস
  • ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারালো বাংলাদেশ
  • সিলেট বিভাগে চূড়ান্ত ভোট যুদ্ধে ১১৪ প্রার্থী
  • খালেদা জিয়া মামলা নিয়ে কানামাছি খেলেছেন: কাদের
  • সন্তানদের বেগম রোকেয়ার আদর্শে গড়ে তুলতে হবে
  • নৌকার প্রার্থী ২৭২, আওয়ামী লীগের ২৫৮
  • ধানের শীষের প্রার্থী ২৯৮ আসনে, বিএনপির ২৪২
  • টেকনোক্র্যাট ৪ মন্ত্রীকে অব্যাহতি
  • বিজয়ের মাস
  • ড. কামালের আয়-ব্যয়ের হিসাব খতিয়ে দেখছে এনবিআর
  • Developed by: Sparkle IT