উপ সম্পাদকীয়

আমারও কিছু বলার আছে

ইনাম চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০৪-২০১৮ ইং ০২:৪৫:০৪ | সংবাদটি ৪৮ বার পঠিত

আজকের সিলেট বিভাগটি ছিলো কিছুদিন আগেও একটি জেলা। জনসংখ্যা বৃদ্ধি আর প্রশাসনিক প্রয়োজনে সেটিকে বর্তমান অবয়বে রূপান্তরিত করা হয়েছে। মানুষ যেমন তার চাহিদা পূরণে নানামুখী বিচরণ অব্যাহত রাখতে চায় তেমনি প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং উন্নয়ন কর্মও তেমনি হতে চায় বহুমুখী। তৎকালীন বৃহত্তর সিলেট জেলাকে নানা বিশেষণে ভূষিত করা হতো অত্যন্ত শ্লাঘা সহকারে। আজ যেন সে জাতীয় বিশেষণ শোনাই যায় না। সংবাদ মাধ্যম সমূহ এটিকে আরেকটি লন্ডন বা বিলাসবহুল বাড়ীসমূহের আধার সম্বলিত এলাকা হিসাবেই আখ্যায়িত করতে চায় এই চা, কমলালেবু অধুনা হাতকরা নামক সুস্বাদু ফলসমৃদ্ধ এলাকাটিকে। ছাতকের চুনাপাথর বললেই সিলেটবাসীর বুক ভরে উঠতো গর্বে। আজ আর সেটা বিশেষ কোন মহলের কাছ থেকেই শোনা যায় না। রাজনৈতিক বিশেষণ সমূহই যেন এখন বৃহত্তর সিলেটকে ভূষিত করার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে অধিক।
কয়েকদিন আগে পর্যন্ত বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলকে বলা হতো বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী যৌক্তিক কারণ সহ। আজ আবার পরিসর ছোট হয়ে দাঁড়িয়েছে আধ্যাত্মিক নগরী হিসাবে। এটিরও যেন পরিবর্তন চলে আসছে। এখন ভোটপর্ব আসন্ন প্রায় তাই বলা হচ্ছে এই পুণ্যভূমিটিকে বলা হোক উন্নয়নের নগরী। এখানে নাকি খুঁজে খুঁজে বার করা হচ্ছে নানা অবহেলিত এলাকা, উন্নয়ন প্রত্যাশী কর্মসমূহ। পরোক্ষভাবে বলা হচ্ছে দেখিয়ে দেয়ার জন্য কোন জিনিসটি বা কোন এলাকাটি বাকি রইলো উন্নয়ন কর্মসূচীর বহিরাবরণে।
আমি এখনও জানিনা কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ এলাকার রাস্তাটি কতোটুকু উন্নয়ন কর্মের সাধ পেয়েছে আর কবেই বা সেটি সাধারণ মানুষের জন্য আয়াসযোগ্য ভ্রমণ উপযোগী হবে। নিশ্চয়ই সেটি আমজনতার হর্ষধ্বনীর মধ্যে একদিন এটির উদ্বোধনী কর্মটি সমাপ্ত হবে। মানুষ আনন্দে আর আয়েসে সেই সড়কটি ব্যবহার করবে। কোম্পানীগঞ্জ অভিমুখী বিকটদর্শন মালবাহী ট্রাকগুলি বিমানবন্দর সড়কটি সহ আম্বরখানা এলাকাটি একেবারে অবরুদ্ধ করে রেখেছে, এটাতো অতি সাধারণ দৃশ্য। এটির অবসানও নিশ্চয়ই অতি নিকটে নয়। দীর্ঘদিন ধরে শোনা যাচ্ছে বিমানবন্দর-শাহপরাণ মোড় আবার বিমানবন্দর-বাদাঘাট মোড় পর্যন্ত বাইপাস সড়ক হচ্ছে। সেটি হচ্ছে তো হচ্ছে শেষ হওয়ার খবর নেই। বারবার আম্বরখানা, সুবিদবাজার বাসীরা বিরাট, বৃহৎ আকারের মালবাহী (পাথরবাহী) ট্রাক দ্বারা দুর্ঘটনা কবলিত হচ্ছেন প্রতিকার বিহীনভাবে। বাইপাস সড়কগুলি যেন দিবাস্বপ্ন হিসাবেই সিলেটবাসীর অন্তরে জাজ্বল্যমান হয়ে রয়েছে। ভুক্তভোগীদের কথা নিশ্চয়ই নির্বাচনকালীন সময়ে বলা হবে। জানিনা সেটা হবে কবে।
সিলেট বিমানবন্দরটির অপ্রতুল সেবা আর ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির শিকার হচ্ছেন বৃহত্তর সিলেটবাসী। আমি বাদে আমার পরিবারের প্রায় সবাই অহরহ বিমানবন্দরটি ব্যবহার করেন এবং নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা। শোনা যায়, অনেক অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে সেটির উন্নয়ন কর্ম সাধন হবে কিন্তু কবে এবং কখন। বলা হচ্ছে উন্নয়নের স্বার্থে বৃহত্তর সিলেটে খুঁজে খুঁজে বার করা হচ্ছে। আমি দুটো ভবনের (প্রাচীনতম) খোঁজ দিতে চাই। সিলেট সরকারী আলীয়া মাদ্রাসাটির দৈন্যদশা দেখলে আর এর অতীত ঐতিহ্য মিলিয়ে তুলনা করলে শিহরিত হতে হয়। পুরানো দালান। ছাত্রাবাসের অবস্থা কহতব্য নয়। বিরাট ভূমি আর ছোট্ট আকারের অবকাঠামো। এটির ব্যাপারে (উন্নয়নের) সকলেই বেখবর। এখানে একটি হাই মাদ্রাসা সেকশন ছিল যেটি একটি সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিকল্প হিসাবে অনেক আধুনিক শিক্ষিত ব্যক্তিত্ব সৃষ্টি করেছে। বেশ আগে কয়েকজন কুচক্রী মিলে লোকচক্ষুর অন্তরালে সেই হাই মাদ্রাসাটির বিলুপ্তি সাধন করেন এবং নেতৃত্ব দানকারী ব্যক্তিটির জেলা শহরে নিয়ে সেটি একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারী বিদ্যালয় হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেন। তথাকথিত পদলেহী যারা ইন্ধন জুগিয়েছিলেন আর যার নেতৃত্বে সেই সিলেট বিদ্বেষী কর্মকান্ডটি পরিচালিত হয়েছিলো সম্ভবত এদের কেউই আর ইহধামে নাই। অপকর্ম সাধন অতি সোজা এবং সহজ একটি পন্থা কিন্তু সৎকর্ম একটি কঠিন কিন্তু পুণ্য ও শ্লাঘার বিষয়। তাই আজ আমি দাবী জানাতে চাই সিলেট সরকারী আলীয়া মাদ্রাসায় আধুনিক বিদ্যালয়রূপী হাই মাদ্রাসা সেকশনটি পুনঃস্থাপিত করা হোক। সত্ত্বর ব্যবস্থাটি গৃহীত হোক বৃহত্তর সিলেটবাসী নতুন প্রজন্মের শিক্ষা সুবিধা নিশ্চিত হোক অন্যদিকে সিলেট সরকারী আলীয়া মাদ্রাসাটিকে পূর্ণ অবয়বে এবং সার্বিক সুবিধাদি সহকারে আধুনিকায়ন করা হোক যথাযথ অর্থ বরাদ্দ মারফত।
সিলেট সরকারী আলীয়া মাদ্রাসা ময়দানটি তার ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারছে না। এটি যে সিলেটের ক্রীড়ামোদীদের কাছে এককালে কতো প্রিয় একটি অঙ্গন ছিলো শুধু পুরনো দিনের মানুষরাই বলতে পারবেন। এই ময়দানটি সৃষ্টি করেছে অসংখ্য ক্রীড়ামোদী আর অসংখ্য ক্রীড়াবিদ। এদের অনেকেই আজ দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন এটির বেহাল দশা দর্শনে। এটি পরিণত হয়েছে রাত্রিকালীন নেশাখোরদের নিরাপদ আবাসস্থল আর সাধারণ পথচারীদের জন্য প্রাকৃতিক কর্মসারার উৎকৃষ্ট এবং নিরাপদ স্থান হিসাবে। নানা ধরনের যানবাহন রাখার স্থান হিসাবেও এটি লাভ করেছে সমধিক পরিচিতি। অতিরিক্ত সুবিধা হিসাবে নানা ধরণের কৃষিজাত বা অন্যান্য পণ্যের মেলা বসানোর স্থান হয়ে উঠেছে এটি। প্রয়োজনের খাতিরে সেটিতে চলে খোড়াখুড়ি আর স্থাপনা নির্মাণ। তাই বলতে গেলে মাঠটি তার অবয়ব ধরে রেখেছে কিন্তু হারিয়েছে আসল যোগ্যতা। বর্তমান গণমুখী এবং জনপ্রিয় সরকারের কাছে আবেদন জানাতে চাই এই মাঠটি সহ পুরো আলীয়া মাদ্রাসাটিকে একটি উন্নয়ন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করে ভারতের কলকাতা আলীয়া মাদ্রাসার আদলে এটিকে পুনঃ নির্মাণ করা হোক।
চৌহাট্টা থেকে রিকাবীবাজার মোড় পর্যন্ত কয়েকটি যাত্রী ছাউনী স্থাপিত হয়েছে আগেকার সরকারের আমলে। চৌহাট্টা মোড়ের ছাউনীটির পাশে প্রায় সময়ই পুলিশী উপস্থিতি দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যরা বসে বিশ্রামও নেন কিন্তু বিস্ময় মানতে হয় যে বেঞ্চটিতে তারা বসেন সেখানকার দামী পাইপগুলি যে হাওয়া হয়ে গেছে তাদের সবিশেষ উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তা তারা নজরে আনতে ব্যর্থ হন বলে। আশা করবো সেগুলি প্রতিস্থাপিত হবে এবং রক্ষণমূলক নজরদারীও বাড়বে। একই রাস্তার উভয়দিকে যাত্রীবহনকারী ভাড়ায় চালিত যানবাহন সমূহ ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে। তাদের একটি কার্যালয়ও আছে। নির্বাচন পর্বও সমাপ্ত হলো তাদের শ্রমিক সংগঠনের অসংখ্য পোষ্টার টাঙ্গিয়ে। এ জন্য রাস্তাটির অবস্থা হয়েছে জাকান্দানীর শেষ পর্যায়ে। যারা নজরদারী করবেন তাদের সখ্যতা আরো বেশী এ সকল কর্মকান্ডের হোতাদের সাথে দৃষ্টিগ্রাহ্যভাবে। কোনো প্রতিকার নাই।
মরহুম সাইফুর রহমান (সাবেক অর্থমন্ত্রী) সাহেব এখানকার ফুটপাতে দামী টালীর আচ্ছাদন স্থাপন করেছিলেন। সেগুলি আজ অদৃশ্য হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানলাম ক্ষার জাতীয় পদার্থ দিয়ে দাঁড় করানো গাড়ী ধোয়ামোছা করতে গিয়ে টালীর আচ্ছাদনগুলি স্থানচ্যুত হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে বেহাত হয়েছে। মেডিকেল ছাত্রাবাসের অভ্যন্তর ভাগে রাস্তামুখী একটি দোকান স্থায়ীভাবে জাকিয়ে বসেছে। কে আর নজরদারী করবে।
সিলেটে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হবে বলে শোনা যাচ্ছে। অচিরেই সেটা হোক তাই আশা করছি। সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়টি অবয়বে এবং কর্মে পূর্ণ হোক তাও আশা করছি।
সিলেট মহানগরীর আনাচে-কানাচে মাদকের বিস্তার বেড়েছে। নজরদারী নাই নাকি বাটোয়ারার কারবার জানা নাই। সেটির অবসান হোক সত্ত্বর আশা করবো তাইই। চৌহাট্টা এলাকাটি গাড়ীমুক্ত হোক, সিলেট স্টেডিয়াম সংলগ্ন স্কাউট ভবনে পূর্ণ অবয়বের দালান কোঠা নির্মিত হোক। এই মানবিক আন্দোলনে উৎসাহীরা শরীক হোক সেটাও চাই। নগরীর জলাবদ্ধতা যেন নাভিশ্বাস না তুলে। বিদ্যুৎ বিপর্যয় যেন নগরবাসীর প্রাণ ওষ্ঠাগত না করে তাই চাই। সবাই যেন মুক্ত বায়ু সেবন করতে পারে আবর্জনামুক্ত নগর চাই এখনই। শুভস্য শীঘ্রম।
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • প্রাথমিক শিক্ষার গবেষণাধর্মী বই
  • কেমন মেয়র চাই
  • সেলফি ব্রীজ
  • সেলফি ব্রীজ
  • সেলফি ব্রীজ
  • প্লাস্টিকের ভয়াল থাবা
  • আব্দুল¬াহ আল মাহবুবশিক্ষার্থীর বিকাশে পরিবারের ভুমিকা
  • আজকের দিন আজকের দিকে তাকাও
  • সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম নেয়া হোক
  • সিলেটের ডাক
  • নারীর প্রতি সহিংসতা প্রসঙ্গে
  • সিলেটের ডাকের শিশুমেলা
  • সবুজ প্রবৃদ্ধির কৌশল : পরিবেশ-প্রতিবেশ
  • এরদোগানের শাসনে তুরস্কের ভবিষ্যৎ
  • বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং নদী রÿার্থে করণীয়
  • পয়ত্রিশ বছরে সিলেটের ডাক
  • আমরা কি কেবল দর্শক হয়েই থাকব?
  • কাবিনবিহীন বিয়ে, প্রতারণা ও আমাদের আইন
  • স্মার্টফোনে বন্দি জীবন
  • দৃষ্টিপাত নেশার নাম ড্যান্ডি!
  • Developed by: Sparkle IT