উপ সম্পাদকীয়

সড়ক দুর্ঘটনায় দায়ী কে?

মো: লোকমান হেকিম প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০৪-২০১৮ ইং ০২:৫১:৩৮ | সংবাদটি ৫৭ বার পঠিত

সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল চলছে। প্রতিদিনই দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ না কেউ মারা যাচ্ছে। সড়কপথে দিনরাত সংঘটিত দুর্ঘটনায় নিহত বা আহতদের লাল রক্ত ঝরে পড়ছে অবিরত। রঞ্জিত হচ্ছে সবুজ জমিন। দেশে উদ্বেগজনক হারে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। ঘটছে প্রাণহানি। পথে বসছে অনেক পরিবার। দেশের অনেক প্রতিভাবান মানুষের প্রাণ গেছে সড়ক দুর্ঘটনায়। অনেক পরিবারের আশার আলো যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়েছে। প্রতিদিনই আসছে মর্মান্তিক সব সড়ক দুর্ঘটনার খরব। দেশে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। নতুন নুতন সড়ক অবকাঠামো নির্মিত হচ্ছে। মহাসড়কে একাধিক লেন হচ্ছে। বিপজ্জনক ঝাঁক ঠিক করা হচ্ছে। কিন্তু রোধ করা যাচ্ছে না প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। গত ০৫/০৪/২০১৮ ইং বৃহস্পতিবার একটি জাতীয় দৈনিকের প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ২৪ ঘন্টায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ ১৫জন নিহত হয়েছে। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী দেশে প্রতিদিন দুর্ঘটনায় গড়ে ১১জনের প্রাণহানি ঘটছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৭ সালের সড়ক দুর্ঘটনা আগের বছরের চেয়ে ২২ শতাংশ বেড়েছে। নিরাপদ সড়ক চাই নামের সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী ২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ হাজার ৬৪৫ জনের প্রাণহানি ঘটছে। অতিরিক্ত গতি, গাড়ি চালানোর লাইসেন্স না থাকা, চালকের দক্ষতার অভাব, সড়ক-মহাসড়ক বেহাল, ফিটনেসবিহীন যানবাহন-এসব কারণেই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, সরকারিভাবে নিবন্ধিত ৯ লাখ ২৩ হাজার ৩৩৫টি গাড়ি চালানো হচ্ছে লাইসেন্সবিহীন চালক দিয়ে। বেসরকারি হিসাবে দেশের ১০ লাখ অনুমোদিত যানবাহনের বেশির ভাগের বৈধ চালক নেই। বুয়েটের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনষ্টিটিউট বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছে নিয়ন্ত্রণহীন গতির কারণেই ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে। টিআইবির এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশের ৯৭ শতাংশ চালক ‘ওস্তাদের’ সহকারী হিসেবে কাজ করতে করতে গাড়ি চালানো শিখেছে। তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা নেই। এসব চালকের মধ্যে ১৩ শতাংশ নিরক্ষর, ৪৭ শতাংশের প্রাথমিক শিক্ষা ও ৪০ শতাংশের এর চেয়ে বেশি শিক্ষাগত যোগ্যতা আছে। পরীক্ষা না দিয়েই লাইসেন্স নেয় ৬১ শতাংশ চালক। আর এরই ফল প্রতিদিনের সড়ক দুর্ঘটনা। রাজীবের মতো তরুণরা হাত হারাচ্ছে। তার পরিবার পথে বসার উপক্রম হচ্ছে। নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিহাম আফসানা ৩০ মাস মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে প্রাণে বেঁচে গেলেও হারিয়েছেন দুই চোখ। চিকিৎসার জন্য সর্বস্ব বিক্রি করে তাঁর বাবা এখন হাত পেতেছেন মানুষের কাছে। ¯œাতক শ্রেণির ছাত্র একমাত্র ভাইয়ের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী সেই বাসচালকের কী হয়েছে?
সড়ক-মহাসড়ক শুধু নয়, তদারকির অভাবে রাজধানীর দুই শতাধিক রুটেও বেপরোয়াভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে যানবাহন। রাজীব, রিহামদের মতো কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ অক্ষম হয়ে পড়ছে। দেখার যেন কেউ নেই। এভাবে চলতে থাকলে সড়কের বিশৃঙ্খলা আরো বাড়বে। কাজেই এখনই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তৎপর হতে হবে। বৈধ চালক ছাড়া কারো হাতে যানবাহন তুলে দেওয়া যাবে না। মূলত চালকের বেপরোয়া মনোভাব ও নিয়ন্ত্রণহীন গতির কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য চালক দায়ী। তারা পরিবহন নিয়ে সড়কে এক সময় প্রতিযোগিতায় নামেন। তাদের উদ্দেশ্য, ‘আগে যাবো, বেশি যাত্রী পাবো’। কিন্তু যানবাহনের চাপ দেশের বিদ্যমান সড়কগুলো সামাল দিতে পারে না। ফলে সঙ্কীর্ণ ও খানাখন্দময় সড়ক পাড়ি দিতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। আবার অনেক সময়ে চালকেরা বিভিন্ন সড়কের গতিসীমা ও স্পিডব্রেকার লক্ষ করেন না। ফলে রাস্তার মোড় ঘুরতেই লেগে যায় ভয়াবহ সংঘর্ষ। এছাড়া যাত্রীরা চালককে দ্রুত গাড়ি চালাতে তাগিদ দেন। তখন গাড়ির গতি যেমন নিয়ন্ত্রণে রাখা কষ্টকর, তেমনি ভয়াবহ আশঙ্কা থাকে সড়ক দুর্ঘটনার । তাই যাত্রীদের যেমন সচেতন হতে হবে, তেমনি চালকদের সড়কে বেপরোয়া চালনা ত্যাগ করতে হবে। এছাড়া দেশে প্রধান প্রধান সড়কগুলোও প্রসারিত করতে হবে। জনসংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে যানবাহন। সড়কে জায়গা সঙ্কুলান করতে গিয়েও অনেক সময় দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তাছাড়া গণপরিবহনে চাঁদাবাজি ও যাত্রী হয়রানি বন্ধ করতে হবে। যাত্রী ও পথচারীদের সচেতনতা এবং দায়ী চালক-মালিকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানি অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। অতএব, দেশ ও জনগণের স্বার্থে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
লেখক: কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • প্রাথমিক শিক্ষার গবেষণাধর্মী বই
  • কেমন মেয়র চাই
  • সেলফি ব্রীজ
  • সেলফি ব্রীজ
  • সেলফি ব্রীজ
  • প্লাস্টিকের ভয়াল থাবা
  • আব্দুল¬াহ আল মাহবুবশিক্ষার্থীর বিকাশে পরিবারের ভুমিকা
  • আজকের দিন আজকের দিকে তাকাও
  • সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম নেয়া হোক
  • সিলেটের ডাক
  • নারীর প্রতি সহিংসতা প্রসঙ্গে
  • সিলেটের ডাকের শিশুমেলা
  • সবুজ প্রবৃদ্ধির কৌশল : পরিবেশ-প্রতিবেশ
  • এরদোগানের শাসনে তুরস্কের ভবিষ্যৎ
  • বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং নদী রÿার্থে করণীয়
  • পয়ত্রিশ বছরে সিলেটের ডাক
  • আমরা কি কেবল দর্শক হয়েই থাকব?
  • কাবিনবিহীন বিয়ে, প্রতারণা ও আমাদের আইন
  • স্মার্টফোনে বন্দি জীবন
  • দৃষ্টিপাত নেশার নাম ড্যান্ডি!
  • Developed by: Sparkle IT