প্রথম পাতা

প্রাণের উচ্ছা¡সে বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ বরণ সম্প্রীতির বন্ধনে দেশ গড়ার প্রত্যয়

প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০৪-২০১৮ ইং ০৪:৩৮:১০ | সংবাদটি ৮২ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার : সব অন্ধকার পেছনে ফেলে আলোর পথে যাত্রার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সারাদেশের মতো সিলেটের মানুষও বরণ করেছেন ১৪২৫ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন পয়লা বৈশাখকে। দিনটিকে ঘিরে উৎসবে মেতেছে সিলেটসহ সারা দেশ। জীর্ণ পুরাতন আর অশুভ অসুন্দরকে পেছনে ফেলে সকল ধর্মের সকল বর্ণের বাঙালি আবাহন করেছেন নতুনকে। লোকায়ত জীবন আর নিজস্ব কৃষ্টির কাছে মিলিত হয়েছেন সবাই। একই সাথে ধর্ম, গোত্র ভেদাবেদ ভুলে, সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে প্রিয় স্বদেশ গড়ার শপথ নিয়েছেন তারা। দিনটিকে ঘিরে সিলেট ছিলো উৎসবমুখর। সকাল থেকে বিভিন্ন স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজন করে নানা অনুষ্ঠানের। প্রতিবন্ধী শিশুদের বিভিন্ন সংগঠনও এই উৎসবে অংশ নেয়। এ সকল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে আবহমান বাংলার চিরায়ত সম্প্রীতির মেলবন্ধন। নববর্ষকে বরণ করতে সকাল থেকে শহরে নামে সাংস্কৃতিক সংগঠনের শোভাযাত্রার ঢল। ছিলো সবার স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণ। মঙ্গল শোভাযাত্রায় কাকাতুয়া, মাছ, বাঘ, পায়রা, হাতিসহ বিভিন্ন বাঙালী সংস্কৃতির উপকরণ ছিল। সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখে দাঁড়ানোর প্রতীক হিসেবে শোভাযাত্রায় ছিল মুষ্টিবদ্ধ হাত। মঙ্গল শোভাযাত্রায় শিশুদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। বহু শিশুকে দেখা গেছে মুখোশ ও নানা রকম কাগজ দিয়ে তৈরি পাখি, পুতুল, পেঁচাসহ নানা উপকরণ ধরে থাকতে। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বের হয় প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা। ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো এই শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা দিয়েছে। এদিকে, বর্ষবরণকে ঘিরে শহরের বিভিন্ন এলাকা ছিল কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে। বিশেষ করে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, এম.সি কলেজ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মদন মোহন কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সংস্কৃত কলেজ, ব্লু-বার্ড স্কুল, শিশু একাডেমি ও শিল্পকলা এলাকায় র‌্যাব, পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারি ছিল অনুষ্ঠানকে ঘিরে। যার ফলে পূর্ব ঘোষিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হয় প্রতিটি আয়োজন।
জেলা প্রশাসন : আবহমান বাংলা ও বাঙালির চিরায়ত উৎসব পয়লা বৈশাখকে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে বরণ করল সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে সিলেট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে গত শনিবার সকালে বর্ণিল মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। সুসজ্জিত হয়ে শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের প্রশিক্ষণার্থীরা মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে। এরপর দুপুরে শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ঢাকের বাদ্যের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা ঘটে। বর্ণিল আয়োজন এবং গান, আবৃত্তি ও নৃত্যের মূর্ছনায় মুখরিত ছিল শিল্পকলা প্রাঙ্গণ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উৎসবের উদ্বোধন করেন, জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এসএমপি সিলেটের উপ-পুলিশ কমিশনার রেজাউল করিম, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার মো. আরশ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নাট্যব্যক্তিত্ব ভবতোষ রায় বর্মণ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সিলেটের সাধারণ সম্পাদক গৌতম চক্রবর্ত্তী। উৎসবে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ডিসি নর্থ ফয়সল মাহমুদ, সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজাম মুনীরা, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সভাপতিম-লীর সদস্য মোকাদ্দেস বাবুল, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য শামসুল আলম সেলিম, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রিন্স সদরুজ্জামান চৌধুরী ও সম্মিলিত নাট্যপরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত প্রমুখ। জেলা কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্তের সঞ্চালনায় সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্যে ছিল বৈশাখের গান, লোকসংগীত, ধামাইল, কাঠিনৃত্য, ঝুমুর নৃত্য, লোকনৃত্য, সম্মেলক সংগীত, বৃন্দ আবৃত্তি, একক ও দলীয় সংগীত। উৎসবে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সংগীত শিশু ও সাধারণ, নৃত্য শিশু ও সাধারণ, আবৃত্তি বিভাগের পরিবেশনায় উপস্থাপিত হয় সংগীত, নৃত্য এবং আবৃত্তির দলীয় পরিবেশনা। পরিচালনায় ছিলেন, অরুণ কান্তি তালুকদার, পূর্ণিমা দত্ত, শান্তনা দেবী, শিনিয়া সাহা ঝুমা, প্রসেনজিৎ দে (শিপলু) ও জ্যোতি ভট্টাচার্য্য। আমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবে একক সংগীত পরিবেশনায় ছিলেন, একুশে পদক প্রাপ্ত সংগীতশিল্পী সুষমা দাস, জামাল উদ্দিন হাসান বান্না, নিরঞ্জন দে, লাভলী দেব, শামীম আহমদ, প্রতীক এন্দ, আফসানা জামান চৌধুরী, তন্বী দেব ও পলা দাশ গুপ্ত (জুঁই)। আমন্ত্রিত সংগঠন হিসেবে দলীয় পরিবেশনা উপস্থাপনায় ছিলেন, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, গীতবিতান বাংলাদেশ, আরকুম শাহ শিল্পীগোষ্ঠী, অন্বেষা শিল্পীগোষ্ঠী, একাডেমী ফর মণিপুরী কালচার এন্ড আর্ট, ছন্দনৃত্যালয়, নবারুণ শিল্পীগোষ্ঠী, মুক্তাক্ষর, সুরাঞ্জলি, নাট্যম, কথন আবৃত্তি সংসদ ও দলদলী চা বাগানের শিল্পীবৃন্দ।
সমাজসেবা পরিবার : নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে সিলেট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে বাগবাড়িস্থ সমাজকল্যাণ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে র‌্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বর্ষবরণ উৎসবের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানসূচির মধ্যে ছিল সকাল ১০টায় বর্ণাঢ্য র‌্যালি, সকাল সাড়ে ১০টায় শিশু পরিবারের সাংস্কৃতিক দল ও সিলেটের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন-সংগীত শিল্পীবৃন্দের অংশ গ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নিবাসী ও অতিথিদের জন্য উন্নত বৈশাখী খাবার। এতে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক সৈয়দা ফেরদাউস আক্তার, সাবেক সাংসদ সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নিবাস রঞ্জন দাশ, বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবদুর রফিক, জেলা পরিষদ সদস্য রওশন জেবিন রুবা, জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী সালমা বাছিত, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ভবতোষ রায় বর্মণ, শ্রমিক লীগ নেতা জাফর চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক এম আহমদ আলী, জৈন্তাপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার এ কে আজাদ ভূইয়া, প্রবেশন অফিসার তমির হোসেন চৌধুরী, শহর সমাজসেবা অফিসার মোহাম্মদ রফিকুল হক, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আবু সাঈদ মিয়া, গোলাপগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার তানজিলা তাসনিম প্রমুখ।
বদর উদ্দিন আহমদ কামরান : পয়লা বৈশাখ উপলক্ষেশিশুদের মাঝে বৈশাখী খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও তার পরিবার। বৈশাখের সকালে নিজ বাসভবনে শিশুদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে সাবেক মেয়র বলেন, আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে সমাজের কোনো মানুষই যেনো অবহেলার কারণে আনন্দ উৎসব থেকে বাদ না পড়ে। প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমাজের সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করে যেতে হবে। সুবিধা বঞ্চিত মানুষ আমাদের সমাজের বড় একটি অংশ। তাই আসুন সকলে মিলে সমাজের সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করি। খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, সোনা মিয়া, এডভোকেট বিজয় কুমার দেব, সাইফুল আলম খান কয়েছ, আব্দুর রহমান, আব্দুল গফফার মিন্টু, দিলীপ মিয়া, এনাম আহমদ, আছমা কামরান, ডা. আরমান আহমদ শিপলু, ফারহানা আরমান, রায়হান চৌধুরী, দিলওয়ার হোসেন দিলাল, জাহেদ হোসেন মুসা, ইমন আহমদ, রাশেদ, ওহী, সালমান, লিমন, সাজু, আল-আমিন প্রমুখ।
নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি : ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ কবি গুরুর এই গানের সুরে বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ কে বরণ করলো নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি। এনইইউবি কালচারাল ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত নাচ, গান, আবৃত্তি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপিত হয় বৈশাখ। শনিবার তেলিহাওরস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে উপাচার্য প্রফেসর ড. আতফুল হাই শিবলীর নেতৃত্বে বৈশাখের আনন্দ শোভাযাত্রা নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়। পরবর্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পহেলা বৈশাখের সাংস্কৃতিক অনুুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী, উপাচার্য প্রফেসর ড. আতফুল হাই শিবলী, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য প্রফেসর হেনা সিদ্দিকী, ব্যবসায় অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. তোফায়েল আহমদ, প্রফেসর ডাঃ রঞ্জিত কুমার দেসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।
শ্রুতি : পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে ব্লু-বার্ড স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গনে সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রুতি সিলেট’র আয়োজনে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য শতকন্ঠে বর্ষবরণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ভোরের সূর্যোদয়ের সাথে সাথে মঙ্গলঢাক আর এ¯্রাজের আগমনী আবাহনে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়া হয়। সপ্তসুরের আবাহনে বিদায় জানানো হয় বিগত বছরকে। এরপর শিশু-কিশোরদের কন্ঠে শুরু হয় নতুন বছরের আবাহন বার্তা। উৎসব মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আরশ আলী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিলেটের জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান, সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, উপ পুলিশ কমিশনার ফয়সাল মাহমুদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক গৌতম চক্রবর্তী, শ্রুতি সমন্বয়ক সুমন্ত গুপ্ত প্রমুখ। প্রভাতি পর্বের প্রথমেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন, শ্রুতির সদস্য সচিব সুকান্ত গুপ্ত, বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ভবতোষ রায় বর্মণ রানা, সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত, শ্রুতির সমন্বয়ক সুমন্ত গুপ্ত। পরে প্রদান করা হয় শ্রুতি সম্মাননা ১৪২৪ বাংলা। এবার সম্মাননা পান বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ও সংগঠক নীলোৎপল সাধ্য। পঞ্চকবির গান এবং আবৃত্তি পরিবেশন করেন, লাভলী দেব, শামীম আহমেদ, প্রদীপ মল্লিক, সোনিয়া রায়, লিংকন দাশ প্রমুখ। আবৃত্তি পরিবেশন করেন, শিল্পী মজুমদার বিপ্লব এবং নাজমুল আহসান। একক সংগীত পরিবেশন করেন নীলোৎপল সাধ্য। সম্মেলক পরিবেশনায় অংশ নেয় শ্রুতি, জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ, গান বাহান, গীতবিতান-বাংলাদেশ, দ্বৈতস্বর, নগরনাট, ছন্দনৃত্যালয়, মৃত্তিকায় মহাকাল, সুরের ভূবন, শতভিষা, নাট্যম সংগীত বিদ্যালয়, মুক্তাক্ষর প্রমুখ। এছাড়া ইসমাইল গনি হিমনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয় রং তুলিতে বর্ষবরণ। রং তুলিতে বর্ষবরণ উদ্বোধন করেন, চিত্রশিল্পী অরবিন্দ দাশগুপ্ত ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর : পয়লা বৈশাখকে স্বাগত জানিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উদ্যোগে নগরীতে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়েছে। গত শনিবার সকালে নগরীর ধোপাদিঘির পাড়স্থ কার্যালয় থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আবুল হোসেন, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম, আব্দুল্লাহপুর সি.আই.জি. (ফসল) সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ চন্দ্র, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা উৎপাদক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ছয়দুর রহমান, কৃষক খলিলুর রহমান রাজা, খছরু, আজিজুর রহমান প্রমুখ।
খেলাফত মজলিস : বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে খেলাফত মজলিস দক্ষিণ সুরমা ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে এতিম, গরীব ও অসহায় পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী প্রদান, তেতলী বড় বেটুয়ার মুখ এলাকায় সংগঠনের কর্মী সদ্যপ্রয়াত নজরুল ইসলামের পরিবারের জন্য পাকাঘর নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী মাওলানা রশিদ আহমদের অর্থায়নে ৪টি টিউবওয়েল উদ্বোধন কাজ শুরু করা হয়। দিনব্যাপী এই কার্যক্রমে বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ব্যবসায়ী আলহাজ্ব দেলোওয়ার হোসাইনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের দক্ষিণ সুরমা ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শাখা ও স্থানীয় ইউনিয়ন শাখা এবং ওয়ার্ড শাখা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সিলেট আর্ট এন্ড অটিজম ফাউন্ডেশন : বাংলা নববর্ষকে বরণ করে শেষ হয় সিলেট আর্ট এন্ড অটিজম ফাউন্ডেশনের ১৩ দিনব্যাপি শিশু চারুকলা উৎসব। বর্ষবরণ উৎসব আয়োজনে ছিল সকাল ১০টায় মঙ্গল শোভাযাত্র, শিশুদের আর্টক্যাম্প, শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একইভাবে গতকাল রোববারও বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে কুমারপাড়াস্থ সিলেট আর্ট এন্ড অটিস্টিক স্কুল প্রাঙ্গনে ২য় বারের মত উৎসবের আয়োজন করা হয়। উৎসবের উদ্বোধন করেন, জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান। এতে অংশগ্রহণ করে সাধারণ শিশু ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন (অটিস্টিক) শিশুরা। আয়োজনের মধ্যে রয়েছে ২ থেকে ৬ এপ্রিল বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের এবং ৭ থেকে ১৩ এপ্রিল সাধারণ শিশুদের হস্তশিল্প মেলা, চিত্রপ্রদর্শনী, মুখোশ কর্মশালা ও শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শন। সিলেট আর্ট এন্ড অটিজম ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব চিত্রশিল্পী ইসমাইল গনি হিমন জানান, শিশু চারুকলা উৎসব মূলত আয়োজন করা হয় শিশুদের উৎসাহিত করার জন্যে। আমরা চাই এই শিশুদের মাধ্যমে অটিজম সচেতনতা তৈরি করা। ‘আগামীর আকাশে উড়াব নতুন ঘুড়ি’ এই প্রত্যয় ব্যক্ত করে শিশু চারুকলা উৎসবের সমাপ্ত ঘোষণা করেন শিশু শিল্পী জারিন উম্মে হাব্বিবা জুরাফা।
নিসচা : বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে নগরীতে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি নগরীর প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। নিসচা জেলা সভাপতি এম.বাবর লস্করের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. লোকমান আলীর পরিচালনায় অতিথির বক্তব্য রাখেন. নিসচা কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিশু। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, মহানগর শাখার সভাপতি এম ইকবাল হোসেন, চেয়ারম্যান শেখ তোফায়েল আহমদ শেফুল।
সিলেটস্থ টাঙ্গাইল জেলা সমিতি : বাংলা বর্ষবরণ ১৪২৫ উদযাপন উপলক্ষে পয়লা বৈশাখের দিনে সিলেট নগরীতে আনন্দ র‌্যালি বের করেছে সিলেটস্থ টাঙ্গাইল জেলা সমিতি। একই সাথে সমিতির বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কেককাটা এবং আলোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার নগরীর আলীয়া মাদ্রাসা মাঠ সংলগ্ন মেডিকেল কোয়ার্টার প্রাঙ্গনে কেককাটার পর র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে একইস্থানে পান্তা-ইলিশ দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করানো হয়। সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল। বর্ষপূর্তি ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন, সমিতির সহ-সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন এবং সদস্য সচিব সমিতির অর্থ সম্পাদক সোলায়মনা খাঁন মিল্টন। অনুষ্ঠানে সমিতির কার্যকরী পরিষদের সহ-সভাপতি ইয়াছিস আকরাম, ড. আতিকুজ্জামান, সহ-সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা নাজমা আকতার, আইটি সম্পাদক নাজমুল ইসলাম নিপু, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস রুবেন, প্রচার সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন, কার্যকরী সদস্য আজাদ কামাল, মেহেদী হাসানসহ সমিতির আজীবন সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এসিআই : বর্ণাঢ্য আয়োজনে পয়লা বৈশাখ উদযাপন করেছে এসিআই মটরস সিলেট অফি

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • আইসিটি আইনের মামলায় ফারিয়া ৩ দিনের রিমান্ডে
  • ইমরান খান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত
  • ওবায়দুল কাদের মারাত্মক কথা বলেছেন: ফখরুল
  • ২৪ হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা ধর্ষণের শিকার ১৮ হাজার
  • প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১০ মিনিট সময় চান ড. কামাল
  • মির্জা ফখরুলের বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল: কাদের
  • ইলেকট্রিক সাপ্লাই এলাকায় স্কুল ছাত্রী পাশবিকতার শিকার
  • নজর পড়েনি রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজি অটোরিক্সায়!
  • কানাইঘাটে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় মামলা ॥ গ্রেফতার ৩
  • শাবিতে রোববার থেকে ঈদের ছুটি শুরু
  • নবীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ১০
  • কোম্পানীগঞ্জে টাস্কফোর্সের অভিযান ২০টি বোমা মেশিন ধ্বংস, আটক ১
  • আ’লীগকে নেতৃত্বশূন্য করে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতেই বিএনপি গ্রেনেড হামলার পথ বেছে নিয়েছিল
  • বাংলাদেশে আর কোনদিন খুনীদের রাজত্ব আসবে না : প্রধানমন্ত্রী
  • রায়নগরে পুলিশ সদস্য কর্র্তৃক দখলকৃত স্থাপনা উচ্ছেদ করলেন আরিফুল হক
  • নগরীতে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত বেড়েই চলেছে
  • উপজেলার হাটসমূহে বেচাকেনা শুরু হয়েছে
  • সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল ভুটানকে বিধ্বস্ত করে ফাইনালে বাংলাদেশ
  • শাহজালাল বিশ^বিদ্যালয়ে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন
  • আওয়ামী লীগের শোক র‌্যালি ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ
  • Developed by: Sparkle IT