সাহিত্য

সুশাসন ও দুঃশাসনের তাত্ত্বিক পাঠ

মুহাম্মাদ রাইহান প্রকাশিত হয়েছে: ২২-০৪-২০১৮ ইং ০১:১০:৫১ | সংবাদটি ১৯১ বার পঠিত

শুরু করি ফ্ল্যাপের শুরুবাক্য দিয়ে ‘বইটিতে মূলত স্বতন্ত্র দু’টি প্রবন্ধের মাধ্যমে খেলাফত ও সাম্রাজ্যবাদ সম্পর্কে একেবারে মৌলিক কথাগুলো বলার চেষ্টা করা হয়েছে’। বাক্যটি একারণে তাৎপর্যবহ পাঠক যখন বইটি হাতে নিয়ে নামের ওপর দৃষ্টি দেবেন, তার মনে এ প্রশ্ন আসা অস্বাভাবিক কিছু নয় যে, খেলাফত ও সাম্রাজ্যবাদ দু’টি বিষয়ই বিস্তৃত আলোচনাসাপেক্ষ। এখানে তথ্যের সমাহার থাকবে, দীর্ঘ বক্তব্যের সম্মিলন ঘটবে, নাম জানা না-জানা বিশ্লেষকদের সুদীর্ঘ বয়ান উদ্ধৃত হবে। ফলতঃ খেলাফত ও সাম্রাজ্যবাদ সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা দিতে গিয়ে বইটির যে আয়তন দাঁড়াবে, সেটা মাঝারি আয়তনের একটা অভিধানের আকার ছুঁইছুঁই করবে। সাদিকুর রাহমানের ‘খেলাফত ও সাম্রাজ্যবাদ’ বইটির হালকাপাতলা গড়ন দেখে কেউ এমনতর স্বপ্নভঙ্গের সম্মুখীন হয়ে যেতে পারেন। তাই পাঠক যাতে আশাহত না-হোন, সেজন্যই ফ্ল্যাপের উপর্যুক্ত বাক্যটির উদ্ধৃতিগ্রহণ। তবে মৌলিক বলতে একেবারে প্রাথমিক কিম্বা গতানুগতিক আলোচনা নয়; বরং প্রবন্ধকার তত্ত্ব ও অনুসন্ধানের সাগর মন্থন করে মুঠোয় করে তুলে এনেছেন মণিমুক্তো। পাঠকের হাতে তুলে দেওয়া সেই মুক্তোই বুঝিয়ে দেবে, জলের কতোটা গভীরে ছিলো তার অবস্থান।
এপ্রসঙ্গে ‘বইপ্রসঙ্গ’তে লিখিত লেখকের প্রথম বক্তব্যটিও ধারযোগ্য ‘গ্রন্থটি আমার ব্যাপক পড়াশোনার সারনির্যাস। দীর্ঘ পরিশ্রম ও গভীর অনুসন্ধানের ফলাফল’। বইটির পাঠকমাত্র স্বীকার করতে বাধ্য হবেন যে, শব্দ ব্যবহারে লেখকের সচেতন মিতব্যয়িতা বইটির পরিসর অনেকটাই কমিয়ে এনেছে। বইটির কোথাও বিবরণের বাহুল্য, বর্ণনার বিরক্তি কিংবা আবেগের আতিশয্যের সামান্যতম ছোঁয়া নেই। এতদসত্ত্বেও শব্দের স্বল্পতা, বাক্যের সংখ্যালঘুতা কিম্বা বর্ণনার ক্ষেত্রে আঁটসাঁট নীতি লেখকের অন্তরস্থ অর্থ প্রকাশের ন্যূনতম বাঁধার সৃষ্টি করতে পারেনি; বরং বইটিকে উন্নীত করেছে একটি মৌলিক গবেষণাকর্মে।
গ্রন্থস্থিত দু’টো প্রবন্ধকেই যেন সাদিকুর রাহমান পরখ করেছেন হাতের মুঠোয় রেখে, গভীর ধ্যানে, নির্মোহ বিচারকের ভূমিকায়। কোথাও কোনো পক্ষপাত কিম্বা প্রতিহিংসার আঁচড় নেই। সত্যকে অশ্রয় করে বিষয়বস্তুর তীক্ষ¥ বিশ্লেষণ আমাদেরকে এমনটিই জানান দেয়।
বইয়ের ধারাবাহিকতা মেনে আলোচনার জন্যে প্রথমে তুলে নিলাম ‘বহুমাত্রিক সাম্রাজ্যবাদ’ বিষয়টিকে। সচেতন মহলে সাম্রাজ্যবাদ একটি পরিচিত শব্দ। প্রাচীন বা মধ্যযুগে যদিও সাম্রাজ্যবাদের উপস্থিতি ছিলো, কিন্তু আধুনিক সাম্রাজ্যবাদের চরিত্র সেগুলো থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আধুনিক সাম্রাজ্যবাদের বীজ রোপিত হয় স্প্যানিশ ও পর্তুগিজ নাবিকদের বিশ্বব্যাপী সমুদ্রযাত্রার মধ্য দিয়ে। তাদের এ সমুদ্র্রযাত্রায় ধীরে ধীরে যোগ হতে থাকে ইউরোপীয় অন্যান্য দেশগুলো। বাণিজ্যবিস্তার, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা সমুদয় সম্পদ করায়ত্ত করার ডাকাতি মনোভাব এবং খ্রিস্টধর্মের প্রচার ছিলো তাদের এ অভিযাত্রার মূল উদ্দেশ্য। এ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্যে টার্গেটকৃত দেশসমূহে স্থাপন করা হয় বাণিজ্যিক উপনিবেশ। তাদের এই তত্ত্বগত সাম্রাজ্যবাদ এবং সাম্রাজ্যবাদের প্রায়োগিক বাস্তবতা উপনিবেশবাদকে বৈধ করার জন্য সময়ে-অসময়ে জন্ম দেয় বেশকিছু অবৈধ মতবাদের। দেশে দেশে সংঘাত, বিশ্বব্যাপী অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে এই মতবাদগুলো।
সময়ের বিবর্তনে আধুনিক সাম্রাজ্যবাদের আবেদন কিছুটা ফিকে হয়ে এলে নতুন করে জন্ম নেয় উত্তরাধুনিক সাম্রাজ্যবাদ। নাম পাল্টালেও থিউরি পাল্টেনি, বরং তার ভয়াবহতা বেড়েছে দ্বিগুণ। আধুনিক সাম্রাজ্যবাদ ছিলো তুলনামূলক ধরা-ছোঁয়াযোগ্য, কিন্তু উত্তরাধুনিক কেবলই অনুভব্য। আধুনিকের তুলনায় উত্তরাধুনিক আরও বেশি সূক্ষ্ম, আরও বেশি বিধ্বংসী। গ্রন্থাকার সাদিকুর রাহমান সাম্রাজ্যবাদের সেই বহুরূপী চরিত্রের মুখোশগুলোকে উন্মোচন করেছেন দালিলিক উপস্থাপনায়। বারোটি উপশিরোনামে অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে বিশ্লেষণ করেছেন সাম্রাজ্যবাদের আদ্যোপান্ত। তিনি খুলে খুলে দেখিয়েছেন অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ভাষিক, মনস্তাত্ত্বিক সাম্রাজ্যবাদের পার্থক্য এবং প্রত্যেকটিকে স্বতন্ত্রভাবে আলোচনা করার যৌক্তিকতা। তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে আমরা চেতনে-অবচেতনে, জ্ঞানে-অজ্ঞানে সাম্রাজ্যবাদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি।
সর্বোপরি, সাদিকুর রাহমানের এ প্রয়াস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া আগ্রাসী সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এক বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন। তাঁর এ প্রবন্ধ সাম্রাজ্যবাদের ঘৃণ্য চেহারাকে পাঠকের সম্মুখে কিছুটা হলেও উন্মোচিত করতে সমর্থ হবে বলে আমরা আশাবাদী
খেলাফত বিষয়ে প্রবেশের পূর্বে চলুন পশ্চিমাদের ঘরে এসংক্রান্ত কী কূটালাপ চলছে, সেদিকে একটু ঢুঁ মেরে আসি। তখন সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হয়ে গেছে। সুইবেঁধা বেলুনের মতো মিইয়ে গেছে সাম্যবাদের সাম্রাজ্য। আনন্দের ঢোলে অতিরিক্ত দুইটা বারি দিয়ে মার্কিন তাত্ত্বিক ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা ঘোষণা করলেন, সমাজতন্ত্র পটল তুলেছে, তার মানে ইতিহাসের পরিসমাপ্তি এখানেই। পুঁজিবাদের মুখোমুখি দাঁড়ানোর মতো ক্ষমতা পৃথিবীর আর কোনো সভ্যতা, সংস্কৃতি কিম্বা রাজনৈতিক শক্তির অবশিষ্ট নেই। তার আগামীর দিনগুলো নির্ঝঞ্ঝাট, নিষ্কণ্টক। পুঁজিবাদের শাসন মানে মানবতা, মানবাধিকার, শৃঙ্খলা, সুশাসন আর শান্তিতে ভরপুর এক তুলনারহিত পৃথিবী। কিন্তু ফুকুয়ামার এই স্বপ্নকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করে দিয়ে স্যামুয়েল হান্টিংটন দাঁড় করালেন অন্য সূত্র। এই মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী নিজের উর্বর মস্তিস্ক ছেনে পুঁজিবাদী শোষকবাহিনীর সম্মুখে যে তত্ত্ব হাজির করলেন, তা হলো, সমাজতন্ত্রের পতনে এতো খুশি হওয়ার মতো কিছু নেই। এটা ছিলো একটা খ-কালিন সমস্যা, যেটা তার উত্থানের সত্তুর বছরের মাথায় পতন মেনে নিয়েছে। কিন্তু চিরস্থায়ী যে সমস্যা পুঁজিবাদী মহান তত্ত্বের গলায় কাঁটার মতো আটকে আছে, সেটা হলো ইসলাম। ইসলাম হচ্ছে আগামী পাশ্চাত্য সভ্যতার জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি বিশ্বসভ্যতাকে নয়টি ভাগে বিভক্ত করে প্রথমেই রাখলেন পশ্চিমা সভ্যতাকে। ঘোষণা করলেন, এই সভ্যতা হচ্ছে উন্নত, উদার, প্রগতিশীল এবং মানবিক। তারপর একে একে বাকি আটটিকে পশ্চিমা সভ্যতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেখালেন যে, পশ্চিমা সভ্যতাকে চ্যালেঞ্জ করার মতো দুঃসাহস ও শক্তি কোনোটিরই নেই একমাত্র ইসলাম ছাড়া। ইসলাম প্রায় দেড় হাজার বছর ধরে বুক ফুলিয়ে পাশ্চাত্য সভ্যতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। ইসলামের এমনকিছু প্রাণশক্তি রয়েছে, যেটার পুনরুত্থান ঘটলে পাশ্চাত্য সভ্যতা মুখ থুবড়ে পড়বে ইতিহাসের অতল অন্ধকারে। তাই এই সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখতে হলে ইসলামের পুনরুত্থানকে যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করতে হবে। ইসলামকে প্রতিহত করা এবং পশ্চিমা সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যেই পৃথিবীব্যাপী চলছে মুসলিম-উচ্ছেদ। সাম্প্রতিক এবং নিকট অতীতের পৃথিবীতে তাকালে এর নজিরবিহীন উদাহরণ পাওয়া যায়।
ইসলামকে দমন করার বহুবৈচিত্র্যপূর্ণ পদ্ধতির মধ্যে একটি কার্যকর পদ্ধতি হচ্ছে মুসলমান তরুণ ও যুবকদের এমনভাবে তৈরি করা, যাতে তারা পরিচয়ে থাকবে মুসলমান, কিন্তু লালন করবে পশ্চিমা ধ্যান-ধারণা, সভ্যতা-সংস্কৃতি। তাদের মন-মস্তিষ্ক থেকে সন্তর্পণে মুছে ফেলা হবে ইসলামের সব কীর্তিগাথা, মুসলিম ঐতিহ্যের যাবতীয় নিদর্শন। আর মুসলিম ঐতিহ্যের অন্যতম গৌরবময় একটি অধ্যায় হচ্ছে ‘ইসলামি খেলাফত’। অতএব, প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর ইসলামি খেলাফতকে তাদের মন-মস্তিষ্ক, চিন্তা-চেতনা থেকে মুছে ফেলতে হবে। খেলাফত সম্পর্কে জানলেও সেটা জানবে বিকৃতভাবে, পশ্চিমাদের মর্জিমাফিক। যেকোনো মূল্যে এটা প্রমাণ করতে হবে যে, খেলাফত একটি পশ্চাৎপদ, সেকেলে, বর্তমান সময়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ, অচল রাষ্ট্রব্যবস্থা। প্রাবন্ধিক সাদিকুর রাহমান তার গবেষণার বিষয়বস্তু হিসেবে ‘শাসন, সুশাসন ও চার খলিফার খেলাফত’কে মৌলিকভাবে নির্ধারণ করে প্রথম চপেটাঘাতটি করেছেন ঐসব বুদ্ধিজীবীদের, যারা চায় না খেলাফতের প্রকৃত সৌন্দর্য নতুন করে উঠে আসুক বর্তমান প্রজন্মের কাছে। খেলাফতের সুগভীর অধ্যয়ন এবং প্রামাণিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন ’খেলাফত আধুনিক ধ্যানধারণাহীন সেকেলে ও অকার্যকর কোনো রাষ্ট্রব্যবস্থা নয়, খেলাফত সময়ের চেয়ে আধুনিক, যুগোপযোগী ও সুশাসনের সুন্দরে বর্ণিল একটি কার্যকর শাসনব্যবস্থা’।
খেলাফতের সংজ্ঞা প্রদানের পর তিনি প্রাসঙ্গিকভাবে একটি গুরুত্ববহ বিষয়ের অবতারণা করেছেন যে, ‘মানুষ কার খলিফা?’ বিষয়টি জটিল এবং মতানৈক্যপূর্ণ। তিনি পাঠককে সেই মতানৈক্যের জটিলতায় না-জড়িয়ে সেদিকে সামান্য ইঙ্গিত করে তুলে এনেছেন মীমাংসক মন্তব্য। তারপর খেলাফতের মেয়াদকাল এবং চার খলিফার জীবনী সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরেছেন চমৎকার বর্ণনায়।
খেলাফত ব্যবস্থার আরেকটি জটিল অধ্যায় হচ্ছে ‘চার খলিফার নির্বাচনপদ্ধতি’। নির্বাচনপদ্ধতি নিয়ে খেলাফত তাত্ত্বিকদের থেকে অনেক কথা বিবৃত হয়েছে। তিনি একা একা সেই অনেক কথা মন্থন করে পাঠকের জন্য সংরক্ষণ করেছেন শুধু সারকথাটুকু। বহুমত ও বহু বর্ণনা-সম্বলিত সেই বিষয়টাকে তিনি প্রাঞ্জলভাবে তুলে এনেছেন এক পৃষ্ঠার বর্ণনায়। তাই নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে পাঠক এখানে পেয়ে যাবেন স্বচ্ছ ধারণা। সাম্প্রতিকতম শাসন-সুশাসনের ধারণাকে তিনি সংজ্ঞায়িত করেছেন গুরুত্ববহ উদ্ধৃতি সহযোগে। ইসলামে শাসন ও সুশাসন বলতে কী বোঝায়, সেই ধারণা স্পষ্ট করতে গিয়ে তুলে ধরেছেন শরিয়া ও আস-সিয়াসাতুশ শরিয়ার পরিচয় এবং বিশ্লেষণ।
খেলাফত বিষয়ে বাঙলা ভাষায় লিখিত প্রায় বইয়েই প্রত্যেক খলিফার খেলাফত কার্যক্রম ও অবদানকে তাদের জীবনীর সঙ্গে প্রচ্ছন্নভাবে আলোচনা করা হয়েছে। এতে করে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ব্যাপারে চার খলিফার সামষ্টিক রাষ্ট্রদর্শন কী ছিলো, সেটা ততোটা স্পষ্ট হয়নি। সাদিকুর রাহমান এখানে ব্যতিক্রম। তিনি রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে বিভিন্ন বিভাগে বিভক্ত করে প্রত্যেকটির জন্য স্বতন্ত্র উপশিরোনাম নির্ধারণ করেছেন। তারপর প্রত্যেক বিভাগে চার খলিফার অবদানকে তুলে ধরেছেন ধারাবাহিকভাবে। কোনো বিভাগে কোনো একজন খলিফার অবদান না-থাকলে সেটাও উল্লেখ করেছেন নিঃসঙ্কোচে।
তিনি খেলাফতের পরিভাষাগুলোকে অধুনা রাষ্ট্রের পরিভাষার সঙ্গে মিলিয়ে প্রমাণ করেছেন উভয়ের সাযুজ্য। সেইসঙ্গে এটাও প্রমাণিত হয়েছে যে, দেড় হাজার বছর আগের খেলাফত নামক রাষ্ট্রব্যবস্থা আধুনিক সময়ে এসে কতোটা কার্যকর, কতোটা আধুনিক। প্রগতিশীল সময়ে প্রবেশ করেও তার আবেদন এবং প্রাসঙ্গিকতা ম্লান হয়নি বিন্দু পরিমাণ। সাদিকুর রাহমান তার উদ্দিষ্ট অর্থকে আরও বেশি সুস্পষ্ট করতে যথোপযুক্ত স্থানে ব্যবহার করেছেন মোট ছয়টি সারণি।
সর্বোপরি, খেলাফত সর্বযুগে সমানভাবে কার্যকর ও অনন্ত আবেদনময় একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার নাম নয় শুধু, বরং খেলাফত প্রত্যেক মুসলমানের অন্তরে নীরবে পুষে রাখা এক আকাক্সক্ষার নাম। প্রত্যেক মুমিনের চোখে নিভৃতে ঢেউ-খেলানো এক স্বপ্নের নাম। সেই স্বপ্ন ও আকাক্সক্ষা ক্রমশ ডুবে যাচ্ছে চতুর্মুখী ষড়যন্ত্রে। বিস্মৃতির ছাইয়ে চাপা পড়ে যাচ্ছে তার হৃদয়াকর্ষক সৌন্দর্য। সাদিকুর রাহমান সেই অস্তায়মান স্বপ্ন আর বিলীয়মান সৌন্দর্যকে কিছুটা হলেও জাগ্রত করেছেন হরফের বিপ্লবে। এখন সেই সৌন্দর্যকে হৃদয় থেকে হৃদয়ে ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব আপনার, আমার, আমাদের সবার।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT