মহিলা সমাজ

মানিব্যাগ

তাওহিদা আক্তার রিমি প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৪-২০১৮ ইং ০৩:০০:০৮ | সংবাদটি ১৭০ বার পঠিত

সকালে ফাতেমা মাদরাসায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। সে তার বই-খাতা-কলমসহ ব্যাগ গুছিয়ে নেয়। নাশতা শেষ করে মাদরাসায় রওয়ানা দিলো। সে দিন ছিল খুব গরম। সকাল বেলা কড়া রোদ। ফাতেমা বাড়ি থেকে বের হয়। ছাতা মাথায় দিয়ে পা পা করে মাদরাসার দিকে যাচ্ছিল। সে যখন গ্রাম পেরিয়ে বাজারের নিকটবর্তী হলো তখন কালো রঙের একটি মানিব্যাগ দেখতে পেল। সে চারদিকে তাকালো। কোনো লোক নেই। চারদিক ফাঁকা। সে ব্যাগটি তুলে নিলো। তখন তার বুক ভয়ে র্থ র্থ করে কাঁপছিলো। সে মাদরাসায় পৌঁছে। তার সহপাঠি তানিফাকে মানিব্যাগটি দেখাল। সে তাকে বলল মাদরাসায় আসার পথে এই মানিব্যাগটি পেয়েছে। তারা দু’জন মিলে ব্যাগটি খুলে দেখলো। ভেতর পাঁচ হাজার টাকা, ঝকঝকে নতুন নোটগুলি। তারা ভাবতে লাগলো এ টাকা কার। এ টাকার মালিক কে। তাদের মাথায় একটা বুদ্ধি এলো। ব্যাগটি ভালো করে খুঁজে এ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না। তারা ব্যাগটি খুলার সিদ্ধান্ত নিলো। ব্যাগটি খুলা হলো। তাতে কিছু কাগজ-পত্র দেখতে পেল। তারা কাগজগুলো ভালো করে পড়তে লাগলো এবং এক পর্যায়ে তারা একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি পেল। কিন্তু তারা ওই ব্যক্তিকে চিনতে পারল না। তাই দু’জন সিদ্ধান্ত নিলো ব্যাগ নিয়ে বাড়ি যাবে।
ফাতেমা বাবাকে সব খুলে বলবে, ফাতেমা ব্যাগ নিয়ে বাড়ি গেল। তার বাবাকে সব খুলে বললো। বাবা পরিচয়পত্র দেখে বললো ওতো করিম সাহেব আমাদের পাশের গ্রামের। ফাতেমা বললো কোন গ্রামের। তিনি বললেন করিমপুর গ্রামের। ফাতেমার বাবা ছিলেন অত্যন্ত সৎ মানুষ। তিনি বললেন মা আমি কাল সকালে তোমাকে সাথে নিয়ে ভদ্রলোকের বাড়ি যাব। তার টাকাসহ ব্যাগ ফেরৎ দিয়ে আসব। ফাতেমা বললো ঠিক আছে বাবা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। ফাতেমার বাবা সকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন, তিনি বললেন মা আগে আমি সুস্থ হয়ে যাই তারপর না হয় আমরা টাকাটা নিয়ে করিম সাহেবের বাড়ি যাব। সে বললো চলনা বাবা একটু কষ্ট হলেও আজই আমরা যাই। হয়তো উনার টাকাটার খুব প্রয়োজন। উনি হয়তো অনেক দুশ্চিন্তা করছেন। ফাতেমার বাবা বললেন ঠিক আছে মা আমরা যাবো।
তারা বাবা-মেয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন। বাবা-মেয়ে করিম সাহেবের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলেন। ফাতেমার বাবা অসুস্থ তাই একটু ধীরে ধীরে হাঁটতে লাগলেন। তারা ধীরে ধীরে হেঁটে তাদের গ্রাম পাড়ি দিয়ে করিমপুরে ঢুকলেন। ফাতেমার বাবা বললেন, মা এই হলো করিমপুর আর এ হলো করিম সাহেবের বাড়ি। তারা করিম সাহেবের বাড়িতে গেলেন। বিরাট বাড়ি, সুউচ্চ দালান, বড় পুকুর, পুকুরের দক্ষিণ দিকে বড় ঘাট। ফাতেমা এসব দেখে বললো-বাবা লোকটা খুব বড় লোক। তিনি বললেন হ্যাঁ, তিনি একজন সুপরিচিত সমাজসেবক। তারা বাড়ির ভেতরে ঢুকলেন।
বাড়ির ভিতরে যেতেই দেখলেন করিম সাহেব বাড়ির বারান্দায় বসে আছেন। কুশল বিনিময়ের সময় ফাতেমার বাবা করিম সাহেবকে বিনয়ের সাথে বললেন, ভাই সাহেব আমার মেয়ে ফাতেমা। করিম সাহেব বললেন, ও তাই নাকি। করিম সাহেব জিজ্ঞেস করলেন তুমি কি কর মা। ফাতেমা বললো সে লেখাপড়া করে। ফাতেমার বাবা বললেন ভাই সাহেব গত বৃহস্পতিবারে ফাতেমা মাদরাসায় যাচ্ছিল তখন রাস্তায় একটি মানিব্যাগ পায়। ব্যাগটি কুড়িয়ে নিয়ে সে আমাকে দেখালো। আমি জানতে চাইলাম ব্যাগটি কার। তখন সে আমাকে একটি পরিচয়পত্রের ফটোকপি দেখাল। এটা ওই ব্যাগের ভেতরে ছিল। আমি কাগজটি থেকে অনুমান করলাম এই ব্যাগটির মালিক আপনি। তাই ব্যাগটি নিয়ে এলাম। ফাতেমার বাবা করিম সাহেবকে ব্যাগটি ফেরৎ দিলেন। ব্যাগটির ভেতরের সব কিছু ঠিক আছে কি না তিনি দেখলেন। ব্যাগের ভেতরে তার সব কয়টি টাকা যেভাবে ছিল সেভাবেই রয়েছে। তিনি অবাক হয়ে গেলেন। কমির সাহেব বললেন, মা ম্যানিব্যাগটি তুমি ফেরৎ দিতে এসেছ? টাকা তো তুমি নিজেই খরচ করতে পারতে? এখনকার সময়ে তো বেশির ভাগ মানুষই আত্মসাৎ করে ফেলে? মা তুমি টাকাটা ফেরৎ দিতে চাইলে কেন? ফাতেমা বলল, বাবা-মা শিখিয়েছেন। সততাই উৎকৃষ্ট পন্থা। পরের সম্পদে লোভ করতে নেই। মহান আল্লাহ আমাদেরকে যা কিছু দিয়েছেন তার উপর সন্তুষ্ট থাকতে হবে। সৎ পথে চললে আল্লাহর আনুগত্য লাভ করা যায় এবং আল্লাহও খুশি হন। তাই আমি টাকাটা ফিরিয়ে দিতে এসেছি।
করিম সাহেব ছোট্ট মেয়ে ফাতেমার কথায় মুগ্ধ হলেন। তাকে পুরস্কারস্বরূপ এক হাজার টাকা দিলেন। তাকে আশির্বাদ করলেন। বললেন, আল্লাহ তোমার মঙ্গল করুন। তুমি অনেক বড় হও মা। করিম সাহেব ফাতেমার বাবাকে বললেন ভাই আপনি ধন্য, এরকম একটি ভালো মেয়ের জন্ম দিয়েছেন। ফাতেমার কথা-বার্তা ও সততা দেখে ফাতেমার বাবা অত্যন্ত খুশি হন। ফাতেমার বাবা করিম সাহেবের সাথে কুশল বিনিময় করে বিদায় নিয়ে ফাতেমাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT