ধর্ম ও জীবন

শবে বরাতের ফজিলত

মাওলানা আব্দুল হান্নান তুরুকখলী প্রকাশিত হয়েছে: ২৭-০৪-২০১৮ ইং ০১:২৯:৫৮ | সংবাদটি ৮৬ বার পঠিত

মহান আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিন উম্মতে মোহাম্মদীকে যে সমস্ত বরকতপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ রাত প্রদান করেছেন তার মধ্যে পবিত্র শবে বরাত অন্যতম। পবিত্র শবে বরাতের ফজিলত ও মর্যাদা সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসে বর্ণনা রয়েছে।
শব অর্থ রাত, বরাত অর্থ ভাগ্য। অর্থাৎ শবে বরাত অর্থ ভাগ্যের রাত বা ভাগ্য নির্ধারণের রাত। এই রাতে মহান আল্লাহ পাকের নির্দেশে সৃষ্ট জগতের ভাগ্যলিপি এক বছরের জন্য তৈরি করা হয় বলে এই রাতকে শবে বরাত বলা হয়। ইহাকে লাইলাতুল বরাত বা মুক্তি লাভের রাত বলা হয়। যেহেতু গুনাহগার বান্দাগণ এই রাতে ইবাদত করার মাধ্যমে দোযখ থেকে মুক্তি লাভ করে, এই জন্য এই রাতকে লাইলাতুল বরাত বলা হয়। শবে বরাত মুসলমানদের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত এক অনন্য রহমতের রাত। বিশ্ব মুসলিমের জীবনে শবে বরাতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। শবে বরাতের ফজিলত সম্পর্কে অগণিত হাদিস রয়েছে। হযরত আলী (রা.) হতে বর্ণিত। নবী (সা.) বলেছেন- ‘যখন শাবানের ১৫ই রাত আসবে তখন ঐ রাতে জাগ্রত থেকে তোমরা মহান আল্লাহপাকের ইবাদত করবে ও দিনের বেলা রোযা রাখবে। কেননা, এ রাতে সূর্য অস্ত যাওয়ার সাথে সাথে মহান আল্লাহপাক দুনিয়ার আকাশে এসে মানুষকে ডেকে বলেন, যদি গুনাহগার থাক আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেবো। যদি অভাবী থাক, তবে মুক্তির দোয়া কর, আমি অভাবমুক্ত করে দেবো। রোগাক্রান্ত থাকলে রোগমুক্তির প্রার্থনা কর, আমি শিফা দান করবো। এ ধরনের যেকোনো রকমের হাজত থাকলে আমার দরবারে দোয়া কর, আমি হাজত পূরণ করবো।’ (তিরমীজি)
উপরোক্ত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, শবে বরাতের রাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাত, যে রাতে পাপীদের পাপ মুক্ত করা হয়, অভাবীদের অভাব দূর করা হয়, রোগীর রোগ শিফা করা হয়, এমনকি যেকোনো জায়েয প্রার্থনা কবুল করা হয়। উল্লেখ্য যে, প্রত্যেক রাতেরই কোনো ভাগে মহান আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে এসে তাঁর বান্দাদেরকে ডাকেন। যারা ঐ সময় আল্লাহর ডাকে সাড়া দেয় তাদের প্রতি আল্লাহপাক তাঁর অশেষ রহমত এবং করুণা নাজিল করেন। কিন্তু শবে বরাতের মর্যাদা, গুরুত্ব ও তাৎপর্য এতো বেশি যে, ঐ রাত মাগরিব থেকে ফজর পর্যন্ত মহান আল্লাহপাক দুনিয়ার আকাশে এসে তার বান্দাদের ক্ষমা ঘোষণা করতে থাকেন এবং তাঁর রহমতের চাদরে পরিবেষ্টন করতে থাকেন।
হযরত আয়শা সিদ্দীকা (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা.) বলেছেন আমার কাছে জিব্রাইল এসে বলেছেন যে, ১৪ই শাবান দিবাগত রাতে মহান আল্লাহপাক জাহান্নাম থেকে এতো লোকদেরকে আজাদ করে দেন যে, বনি কলব গোত্রের ছাগলের যে পরিমাণ লোম রয়েছে। কিন্তু কাফেরদেরকে ক্ষমা করেন না, মুসলমানদের প্রতি হিংসা বিদ্বেষ পোষণকারীকে ক্ষমা করেন না, সম্পর্ক বিচ্ছেদকারীকে ক্ষমা করেন না, মাতা-পিতার অবাধ্য সন্তানকে ক্ষমা করেন না। মদ্যপানকারী ও জিনাকারীকে ক্ষমা করেন না। হ্যাঁ, অবশ্য উপরোক্ত পাপী লোকেরাও যদি তওবা করে জীবনের গতি পরিবর্তন করতঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশিত পথে ফিরে আসে, তবে তাদেরকেও ক্ষমা করে দেয়া হবে।
এক হাদিসে নবী (সা.) বলেছেন ‘শবে বরাতের রাতে মহান আল্লাহপাক বনি কলব, বনি রবি ও বনি মুদর গোত্রের ভেড়া ও বকরির পশমের সংখ্যার সমপরিমাণ আমার গুনাহগার উম্মতকে ক্ষমা করে দেন।’ নবী (সা.) আরো বলেছেন- ‘যে কেহ শাবানের ১৫ তারিখ দিনে রোযা রাখবে তাকে দোযখের আগুন কখনও স্পর্শ করবে না। নবী (সা.) অন্য একখানা হাদিসে বলেছেন- পাঁচ রাতের দোয়া আল্লাহর নিকট কবুল হয়। এ রাত গুলো হচ্ছে- শবে মেরাজ, শবে বরাত, শবে ক্বদর, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার রাত।
শবে বরাত হচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ রাত। যে কোনো সরকার কয়েদীদের মুক্ত করার জন্য বৎসরে কিছু কিছু দিন ধার্য্য করে রাখেন। মহান আল্লাহপাক তেমনি তাঁর গুনাহগার বান্দাদেরকে ক্ষমা করে দেয়ার জন্য কিছু কিছু দিন ও রাত নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। এসব নির্দিষ্ট রাতের মধ্যে একটি হচ্ছে শবে বরাত। মূলত শবে বরাত আল্লাহর পক্ষ থেকে উম্মতে মোহাম্মদীকে দেয়া এক বিশেষ উপহার। এই উপহারের মর্যাদা যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে গুনাহ হতে মুক্ত হয়ে আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের সৌভাগ্য অর্জন করা আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT