ধর্ম ও জীবন

তাফসিরুল কুরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪-০৫-২০১৮ ইং ০১:১৬:২২ | সংবাদটি ১২৩ বার পঠিত

[পূর্ব প্রকাশের পর]
সুরা ফাতেহা : এরপর আল্লাহর বিশেষ দান যা মানুষকে হেকমতের তাকিদে কম-বেশি দেয়া হয়েছে, ধন-সম্পদ, মান-সম্মান, আরাম-আয়েশ, সবই এর অন্তর্ভুক্ত। যদিও একথা অত্যন্ত মৌলিক যে, সাধারণ হেকমত যা সকল স্তরের মানুষের মধ্যে সমভাবে উপভোগ্য; যথা- আকাশ, বাতাস, জমিন এবং বিরাট এ প্রকৃতি, এ সমস্ত নেয়ামত বিশেষ নেয়ামতের (যথা ধন-সম্পদ) তুলনায় অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও উত্তম। অথচ এসব নেয়ামত সকল মানুষের মধ্যে সমভাবে পরিব্যাপ্ত বলে, এতো বড় নেয়ামতের প্রতি মানুষ দৃষ্টিপাত করে না। ভাবে, কি নেয়ামত। বরং আশপাশের সামান্য বস্তু যথা, আহার্য, পানীয়, বসবাসের নির্ধারিত স্থান, বাড়ী-ঘর প্রভৃতির প্রতিই তাদের দৃষ্টি সাধারণতঃ সীমাবদ্ধ থাকে।
মোটকথা, সৃষ্টিকর্তা মানবজাতির জীবন-ধারণ এবং দুনিয়ার জীবনে বেঁচে থাকার সুবিধার্থে যে অফুরন্ত নেয়ামত দান করেছেন, তার প্রতি অল্পই এ প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের পক্ষে দুনিয়ার জীবনে চোখ মেলেই মুখ থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে সেই মহান দাতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকা ছিল স্বাভাবিক। বলাবাহুল্য যে, মানবজীবনের সে চাহিদার প্রেক্ষিতে কুরআনের সর্ব প্রথম সূরার সর্বপ্রথম বাক্যে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ব্যবহার করা হয়েছে সেই মহান সত্তার তা’রীফ ও প্রশংসাকে এবাদতের শীর্ষস্থানে রাখা হয়েছে।
রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন যে, আল্লাহ তা’আলা তাঁর কোন নেয়ামত কোন বান্দাকে দান করার পর যখন সে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে, তখন বুঝতে হবে, যা সে পেয়েছে, এ শব্দ তা অপেক্ষা অনেক উত্তম।
অন্য এক হাদিসে বলা হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি যদি বিশ্ব-চরাচরের সকল নেয়ামত লাভ করে এবং সেজন্য সে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে, তবে বুঝতে হবে যে, সারা বিশ্বের নেয়ামতসমূহ অপেক্ষা তার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা অতি উত্তম। -(কুরতুবী)
কোনো কোনো আলেমের মন্তব্য উদ্বৃত করে কুরতুবী লিখেছেন যে, মুখে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা একটি নেয়ামত এবং এ নেয়ামত সারা বিশ্বের সকল নেয়ামত অপেক্ষা উত্তম। সহীহ হাদিসে আছে যে, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা একটি নেয়ামত এবং নেয়ামত সারা বিশ্বের সকল নেয়ামত অপেক্ষা উত্তম। সহীহ হাদিসে আছে যে, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পরকালের তৌলদ-ের অর্ধেক পরিপূর্ণ করবে।
হযরত শফীক ইবনে ইব্রাহিম ‘আলহামদু’ এর ফযীলত বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেন যে, যখন আল্লাহ তা’আলা তোমাদিগকে কোনো নেয়ামত দান করেন, তখন প্রথমে দাতাকে জানো এবং পরে তিনি যা দান করেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাক। আর তাঁর দেয়া শক্তি ও ক্ষমতা তোমাদের দেহে যতক্ষণ থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁর অবাধ্যতার নিকটেও যেও না।
দ্বিতীয় শব্দ ‘আল্লাহ’ এর সাথে ‘লাম’ বর্ণটি যুক্ত। যাকে আরবী ভাষায় নিয়ম অনুযায়ী খাস ‘লাম’ বলা হয়। যা কোনো আদেশ বা গুণের বিশেষত্ব বুঝায়। এখানে অর্থ হচ্ছে যে, শুধু তারীফ-প্রশংসাই মানবের কতর্ব্য। বরং এ তারীফ-প্রশংসা তাঁর অস্তিত্বের সাথে সংযুক্ত। বাস্তব পক্ষে তিনি ব্যতিত এ জগতে অন্য কেউ তারীফ-প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য নয়। এর বিস্তারিত বর্ণনা পূর্বে করা হয়েছে। এতদসঙ্গে এও তাঁর নেয়ামত যে, মানুষকে চরিত্র গঠন শিক্ষাদানের জন্য এ আদেশ দেয়া হয়েছে যে, আমার নেয়ামতসমূহ যে সকল মাধ্যম অতিক্রম করে আসে, সেগুলোরও শুকরিয়া আদায় করতে হবে। আর যে ব্যক্তি এহসানকারীকে শুকরিয়া আদায় করতে হবে। আর যে ব্যক্তি এহসানকারীর শুকরিয়া আদায় করে না সে বাস্তবপক্ষে আল্লাহ তা’আলারও শুকরিয়াও করে না।
‘ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন’ -এর অর্থ মুফাসসিরকুল শিরোমণি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, আমরা তোমারই এবাদত করি, তুমি ব্যতিত অন্য কারো এবাদত করি না। আর তোমারই সাহায্য চাই, তুমি ব্যতিত অন্য কারো সাহায্য চাই না। -(ইবনে জরীর, ইবনে আবি হাতেম) [চলবে]

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT