সাহিত্য

সুরমা সৈকতে গীতাঞ্জলি বিতর্ক

নৃপেন্দ্রলাল দাশ প্রকাশিত হয়েছে: ০৬-০৫-২০১৮ ইং ০২:২২:৪৯ | সংবাদটি ৩৩ বার পঠিত

(পূর্ব প্রকাশের পর)
১৯৩৯ সালের মে মাসে কবি বুদ্ধদেব বসু আসেন সিলেটে। এক সভায় রবীন্দ্র অনুরাগী হয়েও রবীন্দ্রনাথ বিষয়ে তীব্র এক সমালোচনামূলক বক্তৃতা দেন। সম্ভবত: সুরমা উপত্যকার গীতাঞ্জলি সমালোচনার কালো হাওয়া তখনও প্রবলভাবে বইছিল সিলেটে। পরে করিমগঞ্জে গিয়েও তিনি আবার রবীন্দ্র বিদুষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তৎকালীন ইংরেজি দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। বুদ্ধদেব বলেছিলেন- বাংলা সাহিত্যের নি¤œগতির জন্য রবীন্দ্রনাথই দায়ী। পত্রিকার খবর পড়ে বুদ্ধদেব রবীন্দ্রনাথকে একটি পত্র লেখেন। এক জায়গায় বলেন- ‘শ্রীহট্ট শহরে যে বক্তৃতা দিয়েছিলুম তার একটা কপি আপনাকে পাঠাচ্ছি। আপনি দয়া করে লেখাটির উপর একবার চোখ বুলোবেন- আধুনিক সাহিত্যিকের সম্পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি আমি এতে উপস্থিত করবার চেষ্টা করেছি। শ্রীহট্টে আমি কথা প্রসঙ্গে বলেছিলুম ‘রবীন্দ্রনাথকে অনুকরণ করা খুবই শক্ত’ বোধ হয় সে কথাই এমন বিকৃত হয়ে রটেছে। (বুদ্ধদেব- ২৯/৫/৩৯)।
বুদ্ধদেবের চিঠি পেয়ে রবীন্দ্রনাথ ৬.৬.৩৯ লেখেন ঃ ‘সাহিত্যের হাটে যাদের কারবার, ভিড়ের লোকের কথার কোলাহলে তাদের ক্ষুদ্ধ হলে চলবে না।’ শেষে চমৎকার উপসংহার লেখেন- ‘যা মনে রাখার অযোগ্য তা নিয়ে মনে জঞ্জাল জমিয়ে লাভ কি।’ উদয়চাঁদ দাসের লেখা বুদ্ধদেব বসু রবীন্দ্র ভক্তির অন্যমূর্তি এবং করিমগঞ্জ’ ‘এষণা’ (করিমগঞ্জ কলেজ পত্রিকা) প্রবন্ধে এ বিষয়ে বিশদ আলোচনা আছে। ঊষা রঞ্জনের প্রবন্ধে বিশ্লেষণ করা হয়েছে প্রসঙ্গটি বিস্তৃতভাবে।
এই দুইজন রবীন্দ্র সমালোচকের পর সিলেটে আর কোনো রবীন্দ্র নিন্দুকের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এমনকি বিপরীত চিত্র পাই ‘সুরমা সাহিত্য সম্মেলনীর মৌলভীবাজার অধিবেশনে শিক্ষাবিদ দার্শনিক সতীশচন্দ্র রায় ‘রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলি’ নামে একটি প্রবন্ধ পাঠ করেন। এই অনুষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন রবীন্দ্র বিদুষক ভুবন মোহন বিদ্যার্ণব। ভুবন মোহন দেবশর্মা (বিদ্যার্ণব) সুরমা উপত্যকা সাহিত্য সম্মেলনে ‘বঙ্গভাষা ও আমাদের ভাষা’ শীর্ষক সভাপতির ভাষণ দান করেন। মাসিক শ্রীভূমির ২য় বর্ষ, ১ম সংখ্যা বৈশাখ ১৩২০-এ বক্তৃতাটি প্রকাশিত হয়েছিল। সতীশচন্দ্রের এই দীর্ঘ প্রবন্ধটি ‘শ্রীভূমি’ ২য় বর্ষ ২য় সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। লেখাটির প্রারম্ভিক অংশ উৎকলন করি- (রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলি)
‘হেথা যে গান গাইতে আসা আমার/ হয়নি সে গান গাওয়া/ আজো কেবলি সুর সাধা, আমার/ কেবল গাইতে চাওয়া।’
‘গীতাঞ্জলির’ কবি উপরের কয়টি লাইনে যে ভাবটি প্রকাশ করিয়াছেন বর্তমান প্রবন্ধটির সম্বন্ধে ঠিক সেই কথা প্রয়োগ করিতে পারেন। আপনাদের সভায় আমি যে গান গাহিবার ভার নিয়াছিলাম সে গান আজ আমি গাহিতে পারিব না; এই অসামর্থ্যরে বাহিরের কারণ কতকটা সময়ের দুর্ভিক্ষ সন্দেহ নাই, কিন্তু বিষয়ের গুরুত্ব ও লেখকের আধ্যাত্মিক দারিদ্রতাই তাহার মূল কারণ। আমি কেবল এই লেখাটির মধ্যে সুরই সাধিতে চেষ্টা করিয়াছি, ‘কেবল গাইতে চাওয়া’ টুকুই আমার বাহাদুরি, কারণ গীতাঞ্জলির কবি নিজেই বলিয়াছেন-
‘শেষের মধ্যে অশেষ আছে এই কথাটি মনে,/ আজকে আমার গানের শেষের জাগছে ক্ষণে ক্ষণে।’ (১৫৬)
এই প্রবন্ধ লিখিতে আরম্ভ করিয়া পদে পদে এই কথাটিই গভীরভাবে উপলব্ধি করিয়াছি যে সার-সত্য বা দার্শনিকতত্ত্ব অনন্তধর্মী, সুতরাং অফুরন্ত ও অতলস্পর্শ, আমাদের চিন্তা ও বাক্য উভয়ই এই সারসত্যের সন্ধানে ক্লান্ত হইয়া ফিরিয়া আসে ও প্রাণের নিভৃতপ্রদেশে অনুভব করে যে ইহা কেবল অন্তরে উপলব্দি করার জিনিস, তর্কযুক্তি বা ভাষাদ্বারা প্রকাশের জিনিস নয়- কবির ভাষায় বলিতে গেলে- ‘সবার চেয়ে বড় যে গান, সে রয় বহুদূরে,/ সকল আলাপ গেলে থেমে, শান্ত বীণায় আসে নেমে,/ সন্ধ্যা যেমন দিনের শেষে বাজে গভীর স্বনে।’ (১৫৬)
রবীন্দ্র নিন্দুকদেরকে প্রতিহত না করে সুবিনীতভাবে সতীশচন্দ্র প্রত্যয়ঘন শ্রদ্ধাই প্রকাশ করেছেন। তিনি বিতর্কেও যোগ দেননি। রবীন্দ্রনাথের ‘সাধনা’ গ্রন্থের কিছু লেখা তিনি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন। ‘জবধষরুধঃরড়হ ড়ভ গধহ’ গ্রন্থের ভূমিকায় স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ প্রীতিময় ভাষায় সেই কথা স্বীকার করেছেন।
পদ্মনাথ, এক রবীন্দ্র বিদূষক :
রবীন্দ্র বিদূষক পন্ডিত পদ্মনাথ বিদ্যা বিনোদ ‘আলোচনা চতুষ্টর’ নামক গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে গর্জমান মন্তব্যকার হয়েছিলেন। কাশীধাম ব্রাহ্মণসভা থেকে শকাব্দ ১৮৪৬-এ (১৯৪২ খ্রি:) গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
পদ্মনাথ রবীন্দ্র বিরোধী ছিলেন, সে-কারণেই ‘ঘরে বাইরে’ উপন্যাসটি সম্পর্কে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন। এমনকি ১৯১৯ সালে যখন রবীন্দ্রনাথ সিলেটে এসেছিলেন, তখনও তিনি কবিগুরুর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন কি না সে জাতীয় কোন তথ্য পাওয়া যায় না। শ্রীহট্টবাসীর শ্রদ্ধার্ঘ্যরূপে ‘কবি প্রণাম’ নামে যে সংকলনগ্রন্থ বের হয়েছিল, অভিজাত সেই কোষগ্রন্থে তাঁর কোন লেখা নেই। অথচ তিনি শিলং ও গুয়াহাটিতে স্বামী বিবেকানন্দের সঙ্গে সাক্ষাতের বিশদ বিবরণ লিখে রেখেছেন তাঁর রচনায়।
‘রবীন্দ্রনাথের দুইটি উপন্যাস’ শীর্ষক প্রবন্ধের সূচনায় পদ্মনাথ রবীন্দ্রনাথের প্রশংসাও করেছেন অকুন্ঠ ভাষায়। ‘ইতঃপূর্বে দুই-এক স্থলে আমরা রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে সমালোচনা করিয়াছি এবং এই বর্তমান প্রবন্ধেও করিব; তথাপি প্রথমে বলিয়া রাখি যে, তিনি জগন্ময় যে গৌরব অর্জন করিয়াছেন তজ্জন্য প্রত্যেক বাঙালিরই তিনি ধন্যবাদের পাত্র। তাঁহার প্রতিভা অসাধারণ, লিখিবার ক্ষমতা অতুলনীয়। কিন্তু বড়ই দুঃখের বিষয় তাঁহার এই প্রতিভা ও ক্ষমতা হিন্দু সমাজের কোনও উপকারে লাগে নাই বরং ঘোরতর অনিষ্টই তদ্বারা সাধিত হইয়াছে।
পদ্মনাথের অভিযোগ, রবীন্দ্রনাথ ব্রাহ্ম ছিলেন, এ-জন্য হিন্দুদের মূর্তিপূজা, জাতিভেদ, গুরুবাদ, খাদ্য বিচার, মৃতের পিন্ডদান ইত্যাদি আচারের প্রতি তাঁর কোন শ্রদ্ধা ছিল না। বিশেষত নারী জাতি সম্পর্কে নব্য ইউরোপীয় ভাবের আমদানি করার জন্যও তিনি রবীন্দ্রনাথকে আসামি করেছেন। তাঁর ভাষায়, রবীন্দ্রনাথ ‘চোখের বালি’ ও ‘ঘরে বাইরে’’ উপন্যাসে যে নারী চরিত্র অঙ্কন করেছেন তা ভয়ংকর। ‘তাহাতে ভবিষ্যৎ ভাবিয়া শিহরিয়া উঠিতে হয়।’ ‘ঘরে বাইরে’ উপন্যাসের বিমলা চরিত্রটি তাঁর ভাষায় নীতিশাস্ত্রের বিচারে দুষ্ট। ‘বন্দে প্রিয়াং বন্দে মোহিনীং’ বলে সন্দীপ যে বিমলার গুণবর্ণনা করে তাতে স্বামী হিসেবে নিখিলেশের নির্বিকার থাকাও অশোভন।
ব্যক্তিগত আক্রমণও অনেক। কবি গুরুকে যে অনেক স্তাবক ‘ঋষি’ আখ্যায় ভূষিত করেছে এবং রবীন্দ্রনাথ তখন বৃদ্ধ- এই দুইটি বিষয়ে কটাক্ষ করে পদ্মনাথ মন্তব্য করেছেন, ‘এই বয়সে পরকীয়ার প্রতি এত আবেগবিশিষ্ট চিত্র এইরূপ প্রায় নগ্নভাবে আঁকিয়া দেখানোটা কেমন দেখায়?’ পদ্মনাথ ‘ঘরে বাইরে’ উপন্যাসের বিমলাকে বলেছেন ‘রবীন্দ্ররূপী বিমলা’। অর্থাৎ বিমলার মুখে যে-সব সংলাপ আছে তা রবীন্দ্রনাথেরই। ‘চোখের বালি’র ব্রহ্মচারিণী বিধবা অন্নপূর্ণা এবং পতিপ্রাণা আশালতার প্রতি তিনি (পদ্মনাথ) প্রসন্ন কিন্তু বিমলার প্রতি ভীষণ বিরূপ।’
রবীন্দ্রনাথ বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বন্দেমাতরম’-এর বিস্তৃত বিড়ম্বনা করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন পদ্মনাথ, কিন্তু তার কোনো বর্ণনা দেননি। বঙ্কিমকেও সমালোচনা করেছেন এ- লেখায়। ‘বঙ্কিমবাবু বিষবৃক্ষে যে গরল আনিয়াছিলেন, তাহাতে নিজের কোনও ¯েœহভাজনেরও নাকি শোচনীয় পরিণাম ঘটিয়াছিল। বোধ হয় ইহা ভাবিয়াই, ‘দেবী চৌধুরানী’কে বঙ্কিমবাবু সপতœীর ঘরেও নিষ্কামভাবে কিরূপে থাকা যায় সেই চিত্র দেখাইয়া প্রায়শ্চিত্ত করিয়াছেন।’
‘ঘরে বাইরে’র সন্দীপ চরিত্রটিকে পদ্মনাথ ‘পারোডি’ চরিত্র বলেছেন। অনেকের ধারণা, বাগ্মী ও রাজনীতিবিদ-লেখক বিপিন চন্দ্র পালের অনুকরণে সন্দীপ চরিত্র অঙ্কিত হয়েছে। এ-বিষয়ে সম্ভাবনার ক্ষেত্রসমূহকে আমি বিশ্লেষণ করেছি আমার ‘শ্রীভূমি সিলেটে রবীন্দ্রনাথ’ নামক গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণে।
ড. সত্যব্রত দে তাঁর গবেষণা গ্রন্থ ‘রবীন্দ্র উপন্যাস সমীক্ষায়’ ‘ঘরে বাইরে’ শীর্ষক অধ্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, বিপিনচন্দ্র পালের রাজনৈতিক নীতি ও পন্থার সঙ্গে সন্দীপের অবাক-করা মিল রয়েছে। সম্ভবত পদ্মনাথ সরস্বতী সেদিকেই লক্ষ করে এ মন্তব্য করেছেন।
আবার অন্যরকম তথ্যও পাওয়া যায়। ‘শ্রদ্ধাস্পদ যদুনাথ সরকার বলিয়াছেন যে সন্দীপ চরিত্রে কবি অরবিন্দের স্বাদেশিকতাকে বিদ্রুপ করিয়াছেন।’ পদ্মনাতের সমালোচনার ভাষা কোথাও কোথাও সৌজন্যের সীমাকে পর্যন্ত বিধ্বস্ত করেছে। ‘রবীন্দ্রনাথ ‘ঋষি’ পর্যন্ত উঠিয়াছেন এখনও অবতার হন নাই। তবে বাঙলার মাটিতে যেরূপ অবতারের আমদানি দেখা যায় তিনি যে কালে না হইবেন কে জানে?’ রবীন্দ্রনাথ ‘কোন উদ্দেশ্য দ্বারা পরিচালিত’ হয়ে এ-উপন্যাস লেখেননি এ-রকম অভিমতের বিরোধিতা করেই বলেছেন, ‘সন্দীপ চরিত্রে তিনি কোনও সুপ্রসিদ্ধ বক্তাকে প্যারোডি করিয়াছেন।’ আর সেই ‘সুপ্রসিদ্ধ বক্তা’ই হচ্ছেন বাগ্মী বিপিনচন্দ্র পাল।
এ বিষয়ে বিতর্কের অবকাশ হয়তো আছে, তবু ঐতিহাসিক সাপেক্ষতাকে কোনভাবেই অস্বীকার করা যায় না।
রবীন্দ্রনাথের ‘লিপিকুশলতা অসামান্য’ বিশ্বময় তিনি পরিচিত এ-সব উক্তি করার পর পদ্মনাথ বলেছেন, রবীন্দ্রনাথেরও ‘দোষ’ দেখানো কর্তব্য, কারণ তিনি (পদ্মনাথ০ স্ব-সমাজ হিতব্রতী। নিজের সমাজ-হিতকারী ভূমিকাকেই পদ্মনাথ প্রাধান্য দিয়েছেন। উপন্যাসের শিল্পরূপ, চরিত্র চিত্রণ, আখ্যানভাগ ইত্যাদি বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি। শিল্পের দায়ভাগ বিষয়ে তিনি একেবারেই ভাবিত নন। তাঁর মধ্যে প্রবল ছিল ব্রাহ্মণোচিত জাত্যাভিমান ও রক্ষণশীল হিন্দুদের নীতিবোধ। এই দৃষ্টিকোণ থেকেই তিনি বিচার করেছেন রবীন্দ্রনাথের উপন্যাস দুটি।
এ সম্পর্কে পদ্মনাথের জীবনীকার অধ্যাপক যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্যের মন্তব্য ও বিশ্লেষণ জানা যেতে পারে- ‘তাঁহার (পদ্মনাথের) মত প্রাচীন ঐতিহ্যে আস্থাবান ও শ্রদ্ধাবান নৈষ্ঠিক ব্যক্তি সচরাচর দুর্লভ। সনাতন ধর্মের উপর তাঁহার গভীর আস্থা ছিল এবং তাঁহার এই আস্তিক্য নিষ্ঠা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহিত যোগাযোগেই প্রমাণিত।
পদ্মনাথের স্পষ্ট মনোভাব এ-লেখায় প্রকাশিত হয়েছে। কোন সত্যসন্ধানী গবেষক সহজেই তাঁর সাহিত্যদৃষ্টিকে শনাক্ত করতে পারবেন। ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র এই সংস্কৃতের প-িত কীভাবে সৃজনক্ষমতাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিলেন- সেটাই দেখার বিষয়, উপভোগের বিষয়।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT