ইতিহাস ও ঐতিহ্য

পার্বত্য তথ্য কোষ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-০৫-২০১৮ ইং ০২:০৮:৪১ | সংবাদটি ২৮ বার পঠিত

[পূর্ব প্রকাশের পর]
(তাং রোববার ২৩ আশ্বিন ১৪০৭ বাংলা ৮ অক্টোবর ২০০০ খ্রিস্টাব্দ/ দৈনিক গিরিদর্পণ, রাঙামাটি)
এটা দুঃখজনক বিভ্রান্তি যে, সরকারি বেসরকারি উভয় পক্ষেরই ধারণা : চুক্তিভুক্ত অঞ্চল হলো গোটা পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং এ কারণেই গোটা পার্বত্য অঞ্চলকে নিয়ে আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠিত। এই অখন্ডতাকে অবলম্বন করেই জন সংহতি সমিতি পার্বত্য বাঙালিদের ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে আপত্তি উত্থাপনের সুযোগ পাচ্ছে। তিন জেলা পরিষদ এ হেতু সমুদয় জমিজমা, আর্থিক ও শিক্ষাগত সুযোগ-সুবিধা এবং কর্ম সংস্থানের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের দ্বারা, সরকারি জেলা প্রশাসনকে, নিষ্ক্রিয় করে রেখেছে। জেলা পরিষদের ছাড়পত্র ছাড়া ভূমি বন্দোবস্তি হস্তান্তর ও মিউটেশন নিশ্চয় অচল হয়ে আছে। সুতরাং সর্বাগ্রে এ বিভ্রান্তি দূর করা দরকার যে, আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদ কি অখন্ড পার্বত্য জেলা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে গঠিত এবং তাদের এখতিয়ার কি সারা অঞ্চল ব্যাপ্ত সার্বিক? এই প্রশ্নটির মীমাংসা পেতে হলে প্রথমেই জানতে হবে, জনসংহতি সমিতির এ সংক্রান্ত দাবী ও তার ব্যাখ্যাটি কী? এবং সঙ্গে সঙ্গে এটাও বিবেচ্য হবে যে, পার্বত্য চুক্তি ও পরিষদীয় আইনের মূল ভিত্তি হলো ৫ দফা দাবী নামা। দাবী নং ২/৫-ক- তে উল্লেখ করা হয়েছে :
কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ প্রকল্প কেন্দ্র এলাকা, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র এলাকা, রাষ্ট্রীয় শিল্প কারখানা এলাকা এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থে অধিগ্রহণকৃত জমি ব্যতিত অন্যান্য সকল শ্রেণির জমি পাহাড় ও কাপ্তাই হ্রদ এলাকা এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চলসহ অন্যান্য সকল বনাঞ্চল, পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ও আওতাধীন করা।
এই দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে এটা পরিষ্কার যে, নি¤েœাক্ত অঞ্চলগুলো দাবীমুক্ত যথা :
ক) কর্ণফুলী জল বিদ্যুৎ প্রকল্প কেন্দ্র এলাকা, খ) বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র এলাকা, গ) রাষ্ট্রীয় শিল্প কারখানা এলাকা, ঘ) রাষ্ট্রীয় স্বার্থে অধিগ্রহণকৃত অঞ্চল।
এই তালিকার (ঘ) তে বর্ণিত অঞ্চলের ভিতর, কর্ণফুলী হ্রদ এলাকা, সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও অশ্রেণিভুক্ত রাষ্ট্রীয় বনভূমি পাহাড় ও নদীনালা পড়ে। দাবিটির প্রথমার্ধের এই ছাড়কে দ্বিতীয়ার্ধে এসে বিভ্রান্তিমূলকভাবে বলা হয়েছে, কর্ণফুলী হ্রদ এলাকা সংরক্ষিত বনাঞ্চলসহ সমুদয় বন পাহাড় ও সকল শ্রেণির জমি পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন হবে। এটা স্ববিরোধী বক্তব্য।
১৮৬৫ সালের এক্ট নং ৭ ধারা নং ২ এবং কলকাতা গেজেটের ১ ফেব্রুয়ারি ১৮৭১ তারিখের বিজ্ঞপ্তি মূলে, সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম ৫৬৭০ বর্গমাইল এলাকাকে বন ঘোষণা করেন। তখন কক্সবাজার ও দেমাগ্রীর কিছু অঞ্চলসহ পার্বত্য অঞ্চলের মোট আয়তন ছিলো ৬৮৮২ বর্গমাইল। ১৯২৭ সালে আরেক বন আইন জারির মাধ্যমে সংরক্ষিত বনাঞ্চলকে তা থেকে পৃথক করা হয়। ১৯৫৬ সালে কর্ণফুলী হ্রদ এলাকাভুক্ত সমুদয় জায়গা জমি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অধিগ্রহণ করা হয়। বন্দোবস্তি প্রদত্ত বা খাস জমি বিশেষ প্রয়োজনে সরকারি খাতে বরাদ্দ বা অর্পণ করা অধিগ্রহণের পর্যায়ভুক্ত। ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক সম্পত্তির হুকুম দখল বা অধিগ্রহণের সাথে ক্ষতিপূরণ জড়িত। স্বীয় দাবীর ব্যাখ্যা ক্রমে জনসংহতি সমিতি মতামত দিয়েছে স্থানীয় সরকার পরিষদের আইনের বিধি অনুসারে মাত্র ৪৪৬.০৪ বর্গমাইল এলাকাই স্থানীয় সরকার পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন ও বাকি ৪৬৪২.৯৬ বর্গমাইল এলাকা বাংলাদেশ সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন রাখা হয়েছে।
এই আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, পার্বত্য চুক্তিতে এর কোনো সমাধান দেয়া হয়নি। সুতরাং এ ধারণা সঠিক নয় যে, গোটা পার্বত্য চট্টগ্রামই পরিষদীয় অঞ্চল। দাবী নং (২/৫-ক) ই বলে দেয়, সার্বিকভাবে গোটা পর্বতাঞ্চল জনসংহতি সমিতির দাবীভুক্ত এলাকা নয়। তাতে কিছু ছাড় আছে এবং চুক্তির মূল ভিত্তি এটাই। এই বক্তব্যকে সমর্থন করে তাদের পরবর্তী দাবী যথা :
দাবী নং ২/৫-খ. কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প কেন্দ্র এলাকা , বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র এলাকা, রাষ্ট্রীয় শিল্প কারখানা এলাকা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থে অধিগ্রহণকৃত জমির সীমানা নির্ধারণ করা।
[চলবে]

 

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • জাফলং নামকরণের ইতিকথা
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • জলপ্রপাতের নাম হামহাম
  • কেমুসাসের কাচঘেরা বাক্সে মোগল স¤্রাটের হাতে লেখা কুরআন
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • বরইতলা গণহত্যা সম্পর্কে আজিজুল হক
  • ঐতিহ্যবাহী গ্রাম জলঢুপ
  • বাংলাদেশের বয়ন ঐতিহ্য
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • ইতিহাস গবেষক দেওয়ান নূরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরী
  • লৌকিক শিল্প নকশি পিঠা
  • জেনারেলের বাড়িতে গণহত্যা
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • হত্যাকারির নাম বলা যাবে না
  •  প্রযুক্তির অপব্যবহারে বিপন্ন নারী-শিশু ও যুবসমাজ
  • মুক্তিযুদ্ধে লাউয়াই
  • সুবিধাবাদীদের পরিণতি
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • ঝরনা কলম : আজ বিলুপ্তপ্রায়
  • মুক্তিযুদ্ধে পুণ্যভূমি সিলেটের সূর্যসন্তানরা
  • Developed by: Sparkle IT