স্বাস্থ্য কুশল

কুরআন নাযিলের মাসে করণীয়

আতিকুর রহমান নগরী প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০৫-২০১৮ ইং ০২:৪৩:৪৫ | সংবাদটি ১০৩ বার পঠিত

আরবি বার মাসের মধ্যে রমযান হচ্ছে নবম মাস। আসমানী রহমতের বার্তা আর অফুরন্ত মাগফিরাতের আহবান নিয়ে এ মোবারক মাহিনা আমাদের মাঝে হাজির হয়েছে। বছরের বাকি এগারো মাসের তুলনায় এ মাসটির ফযিলত ও বরকত অনেক বেশী।
মানবজাতিরা যখন সারাটি বছর খোদার নাফরমানি আর উল্টোমি করে কাটিয়ে দেয়, ঠিক তখনই সেসব ভুলের মাশুল দিতে ক্ষমার শ্লোগান নিয়ে মানুষকে নিষ্পাপ আর পাপরাশিকে ভষ্ম করার জন্য আগমন করেছে মাহে রমযান।
‘রমযান’ আরবি শব্দ। যা বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার হয়ে থাকে। কিন্তু মূলতঃ এর অর্থ হচ্ছে ভষ্ম করে দেয়া, ঝলসে দেয়া। এ মাসটির নাম করণের কারণ হচ্ছে, সর্বপ্রথম রোজার বিধান যে মাসে এসেছিল সে মাসটি ছিল প্রচন্ড গরমের। ঝলসে দেয়ার মতো গরম, তাই এর নাম রাখা হয়েছে ‘রমযান’। তবে আলেমগণ বলেন, ‘বান্দা যেহেতু এ মাসের বিধানাবলি সুচারুরূপে পালন করে বিধায় আল্লাহ তা’আলা তাঁর সমস্ত পাপকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ভষ্ম করে দেন। তাই এ মাসকে ‘রমযান’ বলা হয়।
আমরা সাধারণতঃ মনে করে থাকি রমযান মাসের বৈশিষ্ট্য শুধু ‘রোজা রাখা আর তারাবিহ পড়া। এগুলো রমযানের প্রধান দু’টি ইবাদত বটে। এছাড়াও এ মাসটির রয়েছে ভিন্ন এক উদ্দেশ্য। যেমন আল্লাহ পাক মহাগ্রন্থ আল কুরআনে ইরশাদ করেন, ‘আমি তোমাদের উপর রোজা ফরয করেছি। যেমনিভাবে করেছিলাম তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর যাতে তোমরা মুত্তাক্বি হতে পার’। সুতরাং রমযানের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে তাক্বওয়া বা খোদাভীতি অর্জন। বিগত বছরের সকল পাপাচার থেকে মুক্ত করে তোলাই হচ্ছে এ মাসের প্রধান পয়গাম। এ মাসটির ফযিলত বর্ণনা করতে গিয়ে হযরত সালমান ফারসি (রা.) বলেন, একবার নবী করিম (সা.) শাবানের শেষ তারিখে আমাদেরকে সম্বোধন করে বলেন, ‘হে মানবজাতি! তোমাদের মধ্যে এমন একটি মোবারক মাস উপস্থিত হয়েছে যে মাসটির মাঝে এমন একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।
মানবজাতির ধর্মীয়গ্রন্থ আল-কুরআন যে মাসে নাযিল হয়েছে এটা অবশ্যই কারো অজানা নয়। আর অজানাদের জন্য আল্লাহ পাকের ঘোষণা রয়েছে ‘রমযান সেই মাস যে মাসে নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হেদায়ত এবং পথযাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্যকারী’। (সুরা : ১, আয়াত : ১৮৫)
কুরআন নাযিলের ব্যাপারে আল্লাহপাক সূরা বাকারার ১৮৪ নং আয়াতে বলেন- ‘আইয়্যামাম মাদূদাত’ এ বাক্যটি ছিল সংক্ষিপ্ত। তারই ব্যাখ্যা করা হয়েছে উল্লেখিত আয়াতে। এ মাসটির অন্যতম ফযিলত হল ‘একে আল্লাহপাক স্বীয় ওহী এবং আসমানি কিতাব নাযিল করার জন্য নির্বাচিত করেছেন। সুতরাং রমযান মাসই হচ্ছে কুরআন নাযিলের মাস। পবিত্র কুরআনের ৩০নং পারার সূরা ক্বদরে আল্লাহপাক ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় আমি তা নাযিল করেছি ক্বদরের রাতে’। আর ক্বদরের রাত হল রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাত। উপরোল্লেখিত আয়াতের ভাষ্যানুযায়ী বুঝা গেল যে, ‘রমযান কুরআন নাযিলের মাস’।
মুসলমান হিসেবে যেমন ইসলামি শিক্ষা অর্জন করা সকলের উপর ফরজ। ঠিক তেমনিভাবে মুসলমানিত্ব বজায় রেখে যুগ চাহিদার খোরাক যোগাতে কলেজ-ভার্সিটিতেও পড়া সওয়াবের কাজ। রমযান ছাড়া প্রায় এগারোটি মাস আমরা সবাই স্কুল-কলেজ, ভার্সিটির লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাই। কুরআন তেলাওয়াত বা ক্বেরাত চর্চার তেমন একটা সুযোগ মিলে না। রমযান মাসে খোদার তরফ থেকে যে বরকত প্রদান করা হয় তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
শরিয়তের দৃষ্টিকোন থেকে কুরআন তেলাওয়াত : কুরআন তেলাওয়াত শিখা ফরজে কিফায়া আর তাজবিদ সহকারে তেলাওয়াত করা ফরজে আইন। আর এ ফরজে আইনের শিক্ষাকে অর্জন করলে বিশুদ্ধভাবে তেলাওয়াত করা যাবে, আর অন্যকে শেখানোও সম্ভব হবে।
তাজবিদ সংকলনের প্রেক্ষাপট : কুরআন তেলাওয়াতে ভুল হওয়া এটা কোনো নতুন ব্যাপার নয়, বরং হযরত ফারুক্বে আযমের যামানায় এক গ্রাম্য ব্যক্তি লোকমহলে কুরআন ভুল পড়েছিল। ঘটনাটি হযরত উমর (রা.) জানতে পেরে তাকে ডেকে এনে ভুলটি শুধরিয়ে দেন। আমাদের চারদিকে আলেম-উলামা, মুফতি-মুহাদ্দিস, ইমাম-মুয়াজ্জিন বিশুদ্ধভাবে কুরআনের খেদমত করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তা আমাদেরকে ফারুক্বে আযমের সেই যুগকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
বিশুদ্ধভাবে কুরআন তেলাওয়াতে যে কেমন সাওয়াব তা আমাদের কারো অজানা নয়, তদুপরি স্মরণ করিয়ে দেয়াকে আমি ঈমানি দায়িত্ব মনে করি। কুরআন শিখা আর শিখানো যে কতো মর্যাদা এবং ফজিলতের কাজ। এ সম্পর্কে মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যে নিজে কুরআন শিখে আর অন্যকে শিখায়’। অন্য রেওয়ায়তে বর্ণিত আছে যে, ‘কুরআন তেলাওয়াতই হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ট ইবাদত’। উপরোক্ত হাদিসের দ্বারা বিশুদ্ধ তেলাওয়াতই উদ্দেশ্য।
মোবারক এ মাহিনায় বেশি বেশি করে কুরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, তাহাজ্জুদ-নফল সালাত আদায় করা একান্ত জরুরী। আমাদের কি কারো ইচ্ছে করে না যে আমিই সর্বোত্তম ব্যক্তি বিবেচিত হই। আর তা ঠিক তখনই সম্ভব হবে যখন নিজে বিশুদ্ধভাবে কুরআন শিখে অন্যকে শিখাবো।
কুরআন নাযিলের এই মাসে পুণ্যভূমি সিলেটসহ সারা দেশে ‘আঞ্জুমানে তালিমুল ক্বোরআন, ‘মাদানিয়া কুরআন শিক্ষা বোর্ড, ক্বোরআন শিক্ষা পরিষদ, ফুলতলি কুরআন শিক্ষা ট্রাস্ট’সহ আরো অনেক বোর্ডের অধীনে দিবানিশি সহিহ-শুদ্ধভাবে কুরআন প্রশিক্ষণের দারস চলে। এছাড়াও প্রতিটি গ্রাম-গঞ্জে, শহর-বন্দরের আনাচে-কানাচে কুরআন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।
আমাদের সিলেট শহরে ‘সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি ওয়ার্ডের মসজিদে কুরআন প্রশিক্ষণের যে ব্যবস্থা করা হয় তা সত্যিই কুরআন প্রেমের উজ্জ্বল নিদর্শন।
অতএব আমাদের করণীয় হবে, আমরা নিজে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে হাজির হয়ে এবং নিজ জিম্মায় নিজেদের ছেলে-মেয়ে, ভাইবোন নিকটাত্মীয়দের পাঠিয়ে আল-কুরআনের মহান শিক্ষা অর্জন করে দুনিয়া ও আখেরাতের অফুরন্ত নেয়ামত এবং অশেষ কামিয়াবি হাসিল করুন।
আল্লাহ যেনো আমাদের সবাইকে ভালো কাজে প্রতিযোগিতা করার তৌফিক দান করুন। আমিন ॥

শেয়ার করুন
স্বাস্থ্য কুশল এর আরো সংবাদ
  • কোন জ্বরে কী দাওয়াই
  • মায়ের দুধ পান : সুস্থ জীবনের বুনিয়াদ
  • রোগ প্রতিরোধে মিষ্টি কুমড়া
  • আমাশয় চিকিৎসায় পরিচিত ভেষজ
  • ভাইরাল হেপাটাইটিস
  • পাইলস কি কোনো গোপন রোগ
  • শিশুর খাবারে অরুচি ও প্রতিকার
  • স্বাধীনচেতা ইবনে সিনা : চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিস্ময়
  • ধূমপান স্মার্টনেস নয় মৃত্যু ঘটায়
  • থাইরয়েড সমস্যা ও সমাধান
  • আমের বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যগুণ
  • এলোভেরা ও প্রপোলিস : দাঁতের যতেœ চমৎকার এক জুটি
  • অর্জুনের এত্তো গুণ
  • রোগ প্রতিরোধে আমলকী
  • ঔষধি গুণের ইলিশ
  • ওমেগা-থ্রি : মানবদেহে এর গুরুত্ব
  • নিরাপদ মাতৃত্ব রক্ষায় প্রয়োজন প্রশিক্ষিত ও দক্ষ মিডওয়াইফ
  • রক্ত স্বল্পতা : জনস্বাস্থ্যের প্রধান সমস্যা
  •  তাফসিরুল কুরআন
  • দেশে দেশে রোজা
  • Developed by: Sparkle IT