স্বাস্থ্য কুশল

তাফসিরুল কুরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০৫-২০১৮ ইং ০২:৪৮:৫৭ | সংবাদটি ১৮ বার পঠিত

[পূর্ব প্রকাশের পর]
সলফে সালেহীনদের কেউ কেউ বলেছেন যে, সূরা আর-ফাতেহা কুরআনের সারমর্ম এবং ‘ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন’ সূরা আল-ফাতেহার সারমর্ম। কেননা, এর প্রথম বাক্যে রয়েছে শিরক থেকে মুক্তির ঘোষণা এবং দ্বিতীয় বাক্যে তার পরিপূর্ণ শক্তি ও কুদরতের স্বীকৃতি। মানুষ দুর্বল, আল্লাহর সাহায্য ব্যতিত কোনো কিছুই সে করতে পারে না। তাই সকল ব্যাপারে আল্লাহর উপর একান্তভাবে নির্ভর করা ব্যতিত তার গত্যান্তর নেই। এ উপদেশ কুরআনের বিভিন্ন স্থানে দেয়া হয়েছে।
(এক) আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারো এবাদত জায়েয নয় :
ইতোপূর্বে এবাদতের পরিচয় দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে যে, কোনো সত্তার অসীমতা, মহত্ব এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসার ভিত্তিতে, তাঁর সামনে অশেষ কাকুতি-মিনতি পেশ করার নামই এবাদত। আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারো সাথে অনুরূপ আচরণ করাই শিরক। এতে বুঝা যাচ্ছে যে, মূর্তিপূজার মতো প্রতীকপূজা বা পাথরের মূর্তিকে খোদায়ী শক্তির আধার মনে করা বা কারো প্রতি সম্ভ্রম বা ভালোবাসা এ পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া, যা আল্লাহর জন্য করা হয়, তাও শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
কোন বস্তুকে হালাল বা হারাম ঘোষণা করা একমাত্র আল্লাহরই কাজ। যে ব্যক্তি এ কাজে অন্যকে অংশীদার করে, হালাল ও হারাম জানা থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারো কথাকে অবশ্য করণীয় মনে করে, তবে প্রকারান্তরে সে তার এবাদতই করে এবং শিরকে পতিত হয়। সাধারণ মুসলমান যারা কুরআন-হাদিস সরাসরি বুঝতে পারে না, শরীয়তের হুকুম-আহকাম নির্ধারণের যোগ্যতাও রাখে না; এ জন্য কোনো ইমাম, মুজতাহিদ, আলেম বা মুফতির কথার উপর বিশ্বাস রেখে কাজ করে; তাদের সাথে এ আয়াতের মর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। কেননা, প্রকৃত পক্ষে তারা কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক আমল করে; আল্লাহর নিয়ম-বিধানেই অনুকরণ করে। আলেমগণের নিকট থেকে তারা আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহর ব্যাখ্যা গ্রহণ করে মাত্র।
কুরআনই তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছে : ‘অর্থাৎ, যদি আল্লাহর আদেশ তোমাদের জানা না থাকে, তবে আলেমদের নিকট জেনে নাও।’ হালাল-হারাম নির্ধারণের ব্যাপারে আল্লাহ ব্যতিত অন্য যে কাউকেই অংশীদার করা শিরক। অনুরূপভাবে আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারো নামে মান্নত করাও শিরক। প্রয়োজন মিটানো বা বিপদ মুক্তির জন্য আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারো নিকট দোয়া করাও শিরক। কেননা, হাদিসে দোয়াকে এবাদতরূপে গণ্য করা হয়েছে। কাজেই সব কার্যকলাপ শিরকের নিদর্শন রয়েছে, সেসব কাজ করাও শিরকের অন্তর্ভুক্ত। হযরত আদী ইবনে হাতেম বলেন- ইসলাম কবুল করার পর আমি আমার গলায় ক্রস পরিহিত অবস্থায় রাসূল (সা.) এর দরবারে উপস্থিত হয়েছিলাম। এটা দেখে হুজুর আদেশ করলেন, এ মূর্তিটা গলা থেকে ফেলে দাও। আদী ইবনে হাতেম যদিও ক্রস সম্পর্কে তখন নাসারাদের ধারণা পোষণ করতেন না, এতদসত্ত্বেও প্রকাশ্যেভাবে শিরকের নিদর্শন থেকে বেঁচে থাকা অত্যাবশ্যকীয় বলে রাসূল (সা.) তাঁকে এ নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এমনিভাবে কারো প্রতি রুকু বা সেজদা করা, বাইতুল্লাহ ব্যতিত অন্য কোনো কিছুর তাওয়াফ করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। এসব থেকে বেঁচে থাকার স্বীকারোক্তি এবং আনুগত্যের অঙ্গিকারই ‘ইয়্যাকা না’বুদু’ তে করা হয়েছে।
কারো সাহায্য চাওয়ার বিষয়টি কিছুটা বিস্তারিত আলোচনা সাপেক্ষ। কেননা, বৈষয়িক সাহায্যে তো একজন অপরজনের কাছ থেকে সব সময়ই নিয়ে থাকে। এ ছাড়া দুনিয়ার কাজ-কারবার চলতেই পারে না। যথা- প্রস্তুতকারক, দিন-মজুর, নির্মাতা, কর্মকার, কুম্ভকার প্রভৃতি সকল শ্রেণির কারিগরই অন্যের সাহায্যে নিয়োজিত, অন্যের খেদমতে সর্বদা ব্যস্ত এবং প্রত্যেকেই তাদের সাহায্যপ্রার্থী ও সাহায্য গ্রহণে বাধ্য। এরূপ সাহায্য নেয়া কোনো ধর্মমতে বা কোনো শরীয়তেই নিষেধ নয়। কারণ, এ সাহায্যের সাথে আল্লাহ তা’আলার নিকট প্রার্থিত সাহায্য কোনো অবস্থাতেই সম্পৃক্ত নয়। অনুরূপভাবে কোনো নবী বা ওলীর বরাত দিয়েও বর্ণনায় বৈধ প্রমাণিত হয়েছে। এরূপ সাহায্য প্রার্থনাও আল্লাহর সম্পর্কযুক্ত সাহায্য প্রার্থনার অন্তর্ভুক্ত নয়, যা কুরআন ও হাদিসে শিরকের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
[চলবে]

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT