সম্পাদকীয়

আন্তর্জাতিক সেবিকা দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ১২-০৫-২০১৮ ইং ০৩:১৭:০১ | সংবাদটি ২০ বার পঠিত

নার্সিং পেশার গুরুত্ব অনুধাবন করে এই পেশার মর্যাদা সমুন্নত রাখার লক্ষে আন্তর্জাতিক সেবিকা দিবস পালিত হচ্ছে আজ সারা দেশে। মূলত আধুনিক নার্সিং পেশায় রূপকার ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য প্রতিবছর ১২ই মে সারাবিশ্বে আন্তর্জাতিক সেবিকা দিবস পালন করা হয়। নার্সিং এমনি এক পেশা, যেখানে কর্মরত সেবিকাদের ভূমিকা অত্যন্ত বিস্তৃত। শ্রম বিনিয়োগ, নারীর ক্ষমতায়ন, রোগ নিরাময়, রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য উন্নয়ন, পুনর্বাসন, হাইডিসেনডেন্সি কেয়ার ও মৃত্যু পথযাত্রীদের সেবা প্রদানসহ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যটিমের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে সমন্বয়কারী হিসেবে নার্সরা কাজ করে থাকেন। অথচ আমাদের দেশে চিকিৎসাসেবায় বড় গলদ হচ্ছে নার্স সংকট। এখানে প্রয়োজনের তুলনায় কমপক্ষে দুই লাখ নার্স ঘাটতি রয়েছে। ঘাটতি পূরণে তেমন একটা উদ্যোগ নেই। আর এই প্রেক্ষাপটে আজ দেশে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সেবিকা দিবস।
যাকে কেন্দ্র করে সারাবিশ্বে দিবসটি পালিত হয় তিনি হচ্ছেন ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল। তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্বপূর্ণ মহিলা। আধুনিক নার্সিংয়ের অগ্রদূত নাইটিঙ্গেল ১৮২০ খ্রীস্টাব্দে আজকের এই দিনে ইতালীর ফ্লোরেন্স শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মারা যান ১৯১০ খ্রীস্টাব্দের ১৩ই আগস্ট। ১৮৫৪ সালে ক্রিমিয়ার যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধে বহু সৈন্য আহত হয়। আহত সৈন্যদের সেবা করার জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে চলে যান নাইটিঙ্গেল। সেখানে তিনি দৃষ্টান্তমূলক ও গঠনমূলক সেবা প্রদান করে অতি অল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক আহত ও মৃত্যুপথযাত্রী সৈন্যকে সুস্থ করে তুলতে সক্ষম হন। আহত সৈন্যদের সেবা করার সময় রাতে তিনি একটি বাতি নিয়ে রোগীর পাশে গিয়ে খোঁজ খবর নিতেন। তিনি সাদা পোশাকে বাতি হাতে রোগীদের পাশে যেতেন। সৈন্যরা তাকে আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাতো। তাই তাকে ‘ল্যাডি উইথ দ্য লাম্প’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
নাইটিঙ্গেল মানবসেবার ইতিহাসে যুগান্তকারী উদাহরণ সংযোজন করেন। যে কারণে ক্রিমিয়ার যুদ্ধ শেষে ইংল্যান্ডের রাণী তাকে ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করেন। রাণী তাকে মোটা অঙ্কের অর্থও পুরস্কার প্রদান করেন। সেই অর্থ দিয়ে ১৮৩০ খ্রীস্টাব্দে ইংল্যান্ডে তিনি একটি নার্সিং ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। সবচেয়ে বড় কথা ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণ ও ব্যক্তিগত উন্নত স্বাস্থ্য পরিচর্যার মাধ্যমে তিনি বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে নার্সিং পেশার উদ্ভাবন করেন। মানবতার সেবায় এই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এখন পর্যন্ত আমাদের মানবসেবায় অনুপ্রাণিত করে চলেছে। কিন্তু আমাদের দেশে নার্সিং পেশার গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য অটুট রয়েছে, এমনটি বলা যাবে না। এখানে একদিকে প্রয়োজনের তুলনায় নার্সের সংখ্যা কম; তার ওপর নার্সরা সততার সাথে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছে না। সব মিলিয়ে হাসপাতাল-ক্লিনিকে রোগীরা উপযুক্ত সেবা পাচ্ছে না। তাছাড়া আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে বড় বাধা রয়েছে নার্সের ঘাটতি এবং তাদের দায়িত্বহীনতা।
নার্সিং পেশার মূলমন্ত্র হচ্ছে সততা, নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সঙ্গে রোগীর সেবা করা। অথচ আমাদের দেশে সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের নার্সদের মধ্যে সেই গুণাবলী অনুপস্থিত। প্রথমত অনেক চেষ্টা তদ্বির করেও রোগীরা নার্সের দেখা পায় না। তার ওপর নার্সরা অনেক সময়ই রোগীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে। যা মানবতার সেবায় নিবেদিত ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের আদর্শের প্রতি চপেটাঘাতের শামিল। সুতরাং নার্সিং পেশার বর্তমান এই ধারা পরিবর্তন করে এই পেশার উৎপত্তির ইতিহাস অনুধাবন করতে হবে। যেহেতু এই পেশার মূল মন্ত্রই হচ্ছে সেবা, তাই নার্সদের মধ্যে মানবতার সেবার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। সেই ধরনের শিক্ষাই দিতে হবে তাদের। আজকের আন্তর্জাতিক সেবিকা দিবসে এটিই আমাদের প্রত্যাশা।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT