উপ সম্পাদকীয়

বৃষ্টি বিলাস

আমীরুল হোসেন খান প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০৫-২০১৮ ইং ০১:৫৩:৪৬ | সংবাদটি ১৮১ বার পঠিত

এই রোদ, এই বৃষ্টি! সকাল থেকে যে কতবার লুকোচুরি খেলল, ঠিক নাই। জরুরি সব কাজ না করলেই নয়। বাইক নিয়ে শহরের এ প্রান্তে ও প্রান্তে! বৃষ্টি আসলেই আশ্রয় নেই যে কোন শেডের নীচে। যা বৃষ্টি ঝরে যা...। আবার বেরিয়ে পড়ি মিষ্টি রোদে! এ শহরে আর যাই হোক বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করতে হয় না। সারা বছরজুড়ে বৃষ্টি হয়। আমরাও অভ্যস্ত। আবহাওয়ার সাথে খাপ খাইয়ে বেড়ে ওঠা। আবহাওয়া সব সময় অনুকূল! প্রকৃতির বিরূপ আচরণ কখনো তেমনভাবে বুঝতে পারি না। আজকে ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ করেই ভাল লাগা এসে ভর করে। অঝোর বৃষ্টি সবসময় উপভোগ্য।
সেই ছোটবেলা থেকে তাঁর সাথে সখ্য। একমুহুর্তের জন্যও ঘরে মন টিকতো না। হা রে রে করতে আমরা দলবেধে মাঠে!! মাথার উপর আকাশ ভেঙে পড়লেও ফুটবল খেলায় কোন বিরতি নাই। বৃষ্টি আর থকথকে কাদায় ফুটবল খেলার মত মজা আর কিছুতে নাই! কাদায় মাখামাখি খালি গায় কোনটা কে, চেনার কোন উপায় নাই। তারপর পুকুরে ঝপাস! ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাঁতার লাই খেলা! রক্তজবার মত টকটকে লাল চোখ ঠা-ায় হাটু দাঁত টকটক করে কাঁপছে। আম্মা আপাদের বকুনি মৃদু চড় চাপড় শেষে উনুনের পাশে বসে উড়ি বীচি কাঠল বীচি ভাজা! আহ মুখের ভিতরে গরম মজা! মুহূর্তে শীত উধাও। তারপর শুরু হত দলবেধে লুডু চোর পুলিশ খেলা! বাবা বাড়ীতে থাকলে ভয়ে বাইরে বেরোতাম না, কিন্তু আম কুড়োতে বিধি নিষেধ নাই! প্রচ- ঝড় বৃষ্টি কালবৈশাখীর পরোয়া কে করে। সারা বাড়ী জুড়ে আমগাছ। অন্য কেউ হাত লাগানোর আগে নিয়ে আসতে হবে। কাঁচা পাকা আমে ঘরের দাওয়া ভরে যেত। নানা রঙের কাগজের নৌকায় বাড়ীর উঠোন সয়লাব । ভরা বর্ষায় সবচেয়ে মজার খেলা ছিল বাইছালি! ছোট ছোট নৌকা নিয়ে সার দিনমান খাল বিল হাওড়ে। নৌকা বাইচ! আসার সময় মায়ের জন্য নৌকার পাটাতন ভরে কেওরালী! কী সুস্বাদু তরকারী রান্না হত। এখনো জিভে লেগে আছে। নৌকা বাইচের জন্য অনেক ডলা খেয়েছি কিন্তু নেশা কাটত না! এখনো নৌকা দেখলেই চোখের সামনে সেইসব দিন সামনে এসে দাঁড়ায়!
বৃষ্টির নেশা পিছু ধাওয়া করেছে সারাজীবন। কলেজ জীবনে বৃষ্টি উদযাপন হত। জমজম করে নামার সাথে সাথে ব্যাকুল। গ্রাম থেকে শহরে আসা বন্ধুরা সব একসাথে ঘুরতাম। সবার এক রোগ। ক্লাশ হবে না। কুচ পরোয়া নাই। মানিব্যাগ হাতঘড়ি পলিথিনে মোড়ে হাটা শুরু। সারা কলেজ দেখত! এই ছেলেগুলো পাগল নাকি। ওরা তো জানে না রক্তে মিশে থাকা এ রোগ কখনো সারার নয়।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাটতে হাটতে পিচঢালা পথ, কলেজ মাঠ অবাক চোখ পেছনে ফেলে হোস্টেল অথবা বন্ধুদের মেসে! সারাদিন ভর আড্ডা গান ঝাল মুড়ি ভুনাখিচুরী কেরাম তাস! বৃষ্টির তোড়ে সময় ভেসে যায়। কখনো কখনো দুদিন তিনদিন পুরো সপ্তাহ ব্যাপী উদযাপন চলত। নতুন বাইক পাওয়ার পর বৃষ্টি বিলাস আরো বেড়ে গেল। বৃষ্টি নামার সাথে সাথে বাইক নিয়ে বেড়িয়ে পড়া। দলবেঁধে শহরের এ মাথা ও মাথা বন জঙ্গল চষে বেড়ানো নিত্যদিনের রুটিন। আমি বৃষ্টি দেখেছি.. বৃষ্টির ছবি এঁকেছি ... আমি রোদে পুড়ে ঘুরে ঘুরে অনেক কেঁদেছি...!! যৌবনের উচ্ছ্বাস আনন্দ বেদনা সব বৃষ্টিতে ভেসে একাকার!
শৈশব কৈশোর যৌবনের প্রিয় সব বন্ধুরা এখন ব্যস্ত! প্রবাসে পরবাসে অন্য শহরে জীবনযুদ্ধে লিপ্ত। কী আশ্চর্য, বৃষ্টি হলেই সবার কথা মনে হয়! আনন্দ বেদনা বিষন্নতার এক মিশেল অনুভূতি ভর করে। কাজের চাপ কেড়ে নিয়েছে আমাদের অনেক কিছু কিন্তু হৃদয়ের সে আবেগ আরো আরো জীবন্ত। বাসায় ফিরতে ফিরতে হঠাৎ করে পথে বৃষ্টি নামে অঝোর ধারায়! কী হবে আর আশ্রয় খুঁজে! একটু ভিজলে কিচ্ছু হবে না। আহ্ পরম প্রশান্তি। দেহের প্রতিটি রন্ধ্রে শিরা উপশিরায় শীতল স্রোত। ধুয়ে মুছে যায় নাগরিক সব যন্ত্রণা!! হে পরম বিধাতা তোমার পুত পবিত্রতায় আমায় শুদ্ধ কর ! কাকভেজা হয়ে বাসায় ঢুকতে ঢুকতে অমিয় বাণী কানে আসে.. বুড়ো বয়সে ভীমরতি ধরেছে। এই বয়সে শরীর খারাপ হলে কে দেখবে? রোজ রোজ কাপড় ভেজাচ্ছ, কে ধুয়ে দিবে? কখন শুকোবে?.. ঘোর লাগা মানুষের মুখে হাসি দেখে বেশিক্ষণ রাগ করে থাকা যায় না! ধেৎ আমার হয়েছে যত জ্বালা!

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • প্রসঙ্গ : কওমি মাদরাসা সনদের সরকারি স্বীকৃতি
  • পাহাড় ধ্বস
  • কালের গভীরে অমূল্য জীবন
  • সড়ক সন্ত্রাস প্রসঙ্গ
  • সনদ অর্জনই কি শিক্ষার লক্ষ্য?
  • সড়ক দুর্ঘটনা
  • সিসিক মেয়র এবং আমাদের প্রত্যাশা
  • মৃত্যুঞ্জয়ী বঙ্গবন্ধু
  • বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা
  • ১৫ আগস্ট ’৭৫ : ধানমন্ডি ট্রাজেডি
  • সেই দিনটির দুঃসহ স্মৃতি
  • মুক্তিযোদ্ধার দৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধু
  • মৃত্যুঞ্জয়ী বঙ্গবন্ধু
  • চিরঞ্জিব বঙ্গবন্ধু
  • ক্ষমা করো পিতা
  • এক নেতা এক দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ
  • পোয়েট অব পলিটিক্স
  • শুধু সাক্ষরতা বৃদ্ধি নয়, প্রকৃত শিক্ষা চাই
  • নাগরিক সাংবাদিকতা ও দায়বদ্ধতা
  • শিক্ষার্থীদের আন্দোলন : আমাদের শিক্ষা
  • Developed by: Sparkle IT