মহিলা সমাজ কানিজ আমেনা

সুন্দর ঠোঁটে সুন্দর হাসি

প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০৫-২০১৮ ইং ০১:৫৮:৩৬ | সংবাদটি ১৭৪ বার পঠিত

যে কোনো মানুষকেই হাসলে সুন্দর দেখায়। আর সুন্দর হাসির ক্ষেত্রে সুন্দর একজোড়া ঠোঁটের গুরুত্ব অনেক। মুখমন্ডলের অন্যান্য অংশের তুলনায় ঠোঁটের ত্বক অনেক পাতলা ও স্পর্শকাতর। ঠোঁটে কোনো মর্মগ্রন্থি নেই। তাই ঠোঁট সুন্দর রাখার জন্য প্রয়োজন এর বাড়তি যতœ। সুন্দর একজোড়া কোমল পেলব গোলাপী ঠোঁট আমাদের সকলেরই কাম্য। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা শুষ্ক। কোলো বা ফ্যাকাসে হয়ে যায়। আসুন জেনে নিই সেই কারণগুলোÑপুষ্টিকর খাবার ঠিক মতো না খাওয়া, ধূমপান করা, অতিরিক্ত স্ট্রেসে থাকা, যথেষ্ট পরিমাণ পানি পান না করা, অতিরিক্ত চা/কফি পান করা যাতে ক্যাফেইন থাকে, তারিখ এক্সপায়ার হয়ে যাওয়া পণ্য ঠোঁটে ব্যবহার করা, সস্তাদরে পণ্য ঠোঁটে ব্যবহার করা, রাতে ঠোঁটের মেকাপ না তুলেই ঘুমিয়ে পড়া, এনিমিয়া বা রক্তশূনতায় ভোগা, সূর্যের আলো ও দূষণে ঠোঁটকে উন্মুক্ত রাখা।
আমাদের অতিমাত্রায় ব্যস্ত জীবনে আমরা উপরোক্ত বিষয়গুলো খেয়াল রাখি না এবং ঠোঁটের যতœ ঠিকমতো নেই না। ফলে ঠোঁট সহজেই হয়ে পড়ে শুষ্ক, বর্ণহীন ও ক্ষতিগ্রস্ত। এর একটি সহজ সমাধান হলো প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি এবং ক্ষতিকর ক্যামিকেলমুক্ত লিপবাম যদি আপনি ব্যবহার করতে পারেন তবে তা আপনার ঠোঁটের যতেœ হবে কার্যকরী। ঠোঁটের জন্যে প্রাকৃতিক সেরা তিনটি উপাদান হলোÑ এলোভেরা জেল, জোজোবা অয়েল ও বিসওয়াক্স বা মৌ মোম।
এলোভেরা জেল : আজকাল রূপসচেতন মানুষ মাত্রই এলোভেরার কথা জানেন। বাংলায় একে বলা হয় ঘৃতকুমারী বা ঘৃতকাঞ্চন। এ পর্যন্ত ৩০০ প্রজাতির এলোভেরা আবিষ্কার হয়েছে। এদের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট যে প্রজাতি সেটি হলো এলো বারবাডেনসিস মিলার। এলোভেরা জুস নিয়মিত পান করলে তা পাকস্থলী, কিডনি, লিভার, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদান্ত্রসহ শরীরের আভ্যন্তরীণ অর্গানকে ভালো ও সুস্থ রাখে। সেই সাথে ত্বকের যতেœও এলোভেরা কার্যকরী। শুষ্ক ত্বকের চিকিৎসায় এবং ঠোঁট থেকে ময়লা জীবাণু দূর করার কাজে এলোভেরা ব্যবহার করা যায়। এলোভেরাতে যে এন্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে তা কালো ঠোঁটের বর্ণ হালকা করতে এবং ঠোঁটকে গোলাপী করতে খুবই ফলপ্রসূ।
জোজোবা অয়েল : জোজোবা উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম সিমোন্ডসিয়া চাইনেনসিস। উত্তর আমেরিকার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে এটির উৎপত্তিস্থল। এটি গোটনাট, ডিয়ারনাট, পিগনাট, ওয়াইল্ড জেজেল, কুইনিননাট, কফিবেরি, গ্রে বক্স বুশ ইত্যাদি নামেও পরিচিত। সাধারণত জোজোবা অয়েলের জন্যেই জোজোবা উদ্ভিদটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হয়। এর বীজ থেকে তেল উৎপাদন করা হয়। জোজোবা অয়েল অন্যান্য ভেজিটেবল অয়েল থেকে কিছুটা ভিন্ন রকম। এটি পুরোপুরি তরল নয়, কিছুটা মোমের মতো। আমাদের ত্বকের গ্লান্ড বা গ্রন্থি থেকে সিবাম নামে এক ধরণের মোমজাতীয় পদার্থের নিঃসরণ হয় যার সাথে জোজোবা অয়েলের সাদৃশ্য রয়েছে। কাজেই এটা প্রাকৃতিক স্কিন কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করতে পারে। ঠোঁটের প্রতিদিনের প্রসাধনী হিসেবে জোজোবা অয়েল ব্যবহার করা যায়। মোমজাতীয় এই তেলটি ঠোঁটের ময়েশ্চার বা আদ্রতা ধরে রাখতে সহায়ক এবং সেই সাথে ঠোঁট রাখে নরম ও কোমল।
মৌ মোম : বিসওয়াক্স বা মৌ মোম হলো মৌমাছি দ্বারা উৎপাদিত এক প্রকার প্রাকৃতিক মোম। মৌমাছি তার মৌচাক নির্মাণের ক্ষেত্রে এই উপাদানটি ব্যবহার করে থাকে। আজকাল প্রসাধনী তৈরিতে বিশেষ করে লিপবাম বা চ্যাপস্টিকে এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এটি ত্বকের উপর একটি আবরণ তৈরি করে যা ত্বকের ময়েশ্চার বা আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়ক। এছাড়াও পরিবেশ দূষণকারী পদার্থের ক্ষতি থেকে এবং জ্বালাপোড়া থেকে এটি ত্বককে সুরক্ষিত রাখে।
ভালো লিপবামের বৈশিষ্ট্য হলো চারটি। ক্ষতিগ্রস্ত ঠোঁটের পুনর্গঠনে এটি কার্যকরী হবে। ঠোঁটের ডেমেজজনিত কারণে এতে যে ব্যথা সৃষ্টি হয়েছে তা দূর করতে সক্ষম হবে। ঠোঁটকে স্থায়ীভাবে নরম ও কোমল করতে পারবে। ঠোঁটকে ভবিষ্যতের পরিবেশজনিত ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হবে। যেমন-সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি থেকে এবং ঠান্ডা গরমের আবহাওয়াজনিত ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারবে।
সাধারণত এলোভেরা, জোজোবা অয়েল ও মৌ মোম এ তিনটি উপদানের সমন্বয়ে তৈরিকৃত লিপবামে ভালো লিপবামের উপরোক্ত চারটি বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান থাকে। এটি এন্টি ইনফ্লেমেটরি, এন্টিব্যাকটেরিয়াল, এন্টি অক্সিডেন্ট হিসেবেও কার্যকরী। তাই ঠোঁটের যতেœ এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলো অথবা এদের সমন্বয়ে তৈরি ভালো মানের লিপবাম ব্যবহার করাই আমাদের জন্য ফলপ্রসূ।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT