সম্পাদকীয়

স্বাগতম মাহে রমজান

প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০৫-২০১৮ ইং ০২:৩৭:১৯ | সংবাদটি ৬০ বার পঠিত

বছর ঘুরে আবার এলো সংযমের মাস মাহে রমজান। গ্রীষ্মের অসহনীয় উত্তাপ আর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির দুর্ভোগের মধ্যেই মুসলমানদের সামনে সমাগত সিয়াম সাধনার মাস। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সারা বছরই অপেক্ষায় থাকে এই মাসটির জন্য। আগামী এক মাস চলবে রমজানের আত্মশুদ্ধি আর সিয়ামের সাধনা। প্রতিটি মানুষের আত্মাকে পুতপবিত্র করে তোলার জন্য এই মাসটি রাখে অনন্য অবদান। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই মাসেই নিজেকে শুধরে নেয়ার জন্য একাগ্রচিত্তে সাধনা করেন। চরম আত্মসংযমের শিক্ষা দেয় এই রমজান। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার বন্ধ রেখে রোজাদাররা এই সংযম আর আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নেয়। পরহেজগারীর তাক্বওয়া অর্জনের পরিপূর্ণ শিক্ষার জন্য মাহে রমজানের মতো উপযুক্ত আর কোনো উপলক্ষ নেই। আর তাই রোজা প্রত্যেক মুসলিম নর নারীর জন্য ফরজ বা অবশ্যকরণীয়।
বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে মুসলমানদের সামনে রোজা আসে। কিন্তু এই রমজানে রোজাদার বা মানব জাতির যা অর্জন করার কথা, সেটা কি অর্জিত হচ্ছে। মহাগ্রন্থ আলকুরআনে বলা হয়েছে- ‘হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেরূপ ফরজ করা হয়েছিলো তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যেন তোমরা পরহেজগারী অর্জন করতে পারো।’ কিন্তু এই রোজা কি আমাদের সেভাবে পরহেজগার করে তুলতে পারছে? মানে, আমরা কি পরহেজগার হতে পারছি? পারছি কি আত্মাকে শুদ্ধ করতে? আমরা আমাদের চারপাশে তাকালে দেখবো, সর্বত্রই একটি ভাওতাবাজি আর প্রতারণার মহোৎসব চলছে। যেন সংযমের চেয়ে বেশি অসংযমী হয়ে উঠছি আমরা। আত্মশুদ্ধির চেয়ে আত্মকলুষিতই হচ্ছে বেশি। যেন নিজেকে শুধরে নেয়ার পরিবর্তে নিজের পশুত্বকেই জাগিয়ে তুলছি। আর এভাবেই ভূলুন্ঠিত হচ্ছে মাহে রমজানের মর্যাদা।
সত্যি বলতে কি আমাদের ব্যক্তিগত হীন স্বার্থের কারণেই মাহে রমজানের পবিত্রতা বিনষ্ট হচ্ছে এবং এর চেতনা ভূলুন্ঠিত হচ্ছে। আমরা অনেক সময়ই ব্যক্তিগত হীন স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে পূর্ণ আন্তরিকতার সঙ্গে ধর্মকর্ম পালন করতে পারছি না। অনেক সময় ¯্রফে লোক দেখানো পর্যায়ে চলে যায় আমাদের এবাদত বন্দেগী আর সংযম সাধনা। প্রতিটি রমজানেই বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায় অস্বাভাবিকভাবে। ব্যবসায়ীরা দাম বৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে। এই প্রতিযোগিতায় অসাধু ব্যবসায়ীরা লাভবান হয় ঠিকই, তবে দুর্ভোগ বেড়ে যায় রোজাদার আর সাধারণ মানুষের। এখানে এই কথাটি বললে অত্যুক্তি হবে না যে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য যারা দায়ী, সেই মুনাফাখোর ব্যবসায়ীসহ তাদের সহযোগীরা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাতারে আসতে পারে না।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি রমজানে মানুষের দুর্ভোগ বৃদ্ধির আরেকটি কারণ হচ্ছে দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবৈধ আবদার। তাদের ঈদের প্রস্তুতি শুরু হয় রমজান মাস আসতে না আসতেই। আর সেই প্রস্তুতি নিতেই তারা সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে উপরি আয়ের মাত্রাটি বাড়িয়ে দেয়। অনিয়ম, দুর্নীতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অন্যায়, অবিচার, অশান্তি, বিশৃঙ্খলা, বিদ্বেষ, হানাহানি, মিথ্যাচারসহ নানা অপকর্ম বেড়ে যায় এই সময়ে। অথচ এইসব কর্মকা- ইসলামের পরিপন্থী এবং মাহে রমজানের পবিত্রতা ধ্বংসকারী। এইসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের উদয়াস্ত না খেয়ে উপোস থাকলেই রোজা পালন হয়ে যাবে, এমনটি বলা যায় না। আর তাই আমাদেরকে শপথ নিতে হবে যথাযথভাবে রমজানের সিয়াম সাধনার। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে যারা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে, বাড়িয়ে দেয় জনদুর্ভোগ, তাদের বিরুদ্ধে। সমাজবিরোধী কাজে লিপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি গড়ে তুলতে হবে সামাজিক প্রতিরোধ।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT