ইতিহাস ও ঐতিহ্য

ঐতিহ্যবাহী গ্রাম জলঢুপ

সাদিক হোসেন এপলু প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০৫-২০১৮ ইং ০২:৪৫:৩২ | সংবাদটি ৮৫ বার পঠিত

সবাই ভ্রমণ করতে ভালোবাসে। ভ্রমণ মানুষের মনে আনন্দ দেয়। মানুষ বছরে অন্তত পক্ষে একবার চায় দেশের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থানে ভ্রমণ করতে। অনেকে আবার টাকার অভাবে বা বিভিন্ন সমস্যার কারণে ভ্রমণ করতে পারে না। দেশের এমন কতগুলি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত জায়গা আছে সেখানে প্রবেশ করতে কোনো টাকা টিকিট লাগে না। প্রতি বছরের শুরু বা শেষের দিকে মানুষ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও শিশুরা কোনো একটি নতুন জায়গায় ভ্রমণ করতে পছন্দ করে। তারা বিভিন্ন পার্কে টাকা দিয়ে টিকেট কেটে বেড়াতে যায়। কিন্তু তারা জানে না দেশের মধ্যে এমন কতকগুলি জায়গা আছে যেগুলো পরিদর্শন করলে তাদের জ্ঞানের পরিসর ঘটবে এবং তারা নতুন কিছু শিখবে। আমি এখন পর্যন্ত কোনো পার্কে টিকেট কেটে যাই নি।
আমি যখন অবসর সময় পাই তখন ছুটে যাই আমার গ্রামের বাড়িতে। আমার গ্রামের বাড়িটি হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী সিলেট বিভাগের বিয়ানীবাজার উপজেলার জলঢুপ উত্তর পাড়িয়া বহর গ্রামে। আমি মনে করি গোটা বাংলাদেশের মধ্যে এরকম একটি সৌন্দর্য্যমন্ডিত গ্রাম নেই। গ্রামটি উঁচু উঁচু পাহাড়ি টিলা ঘেরা। এ গ্রাম ব্রিটিশ আমল থেকে কমলা ও আনারস জাতীয় ফল ও কাঁঠালের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু সঠিকভাবে পরিচর্যার অভাবে দিন দিন এ গ্রামের সুনাম হারিয়ে যাচ্ছে। এ গ্রামের সৌন্দর্য্য দেখে মানুষ হতবাক হয়। এ গ্রাম শুধুমাত্র কমলা ও আনারস নয় বিভিন্ন ধরনের ফসলের জন্যও বিখ্যাত। মানুষ জলঢুপি কাঁঠাল ও আনারস খাওয়ার জন্য পাগল। আমি যখন আমার গ্রামের বাড়িতে যাই তখন আমার গ্রামটি দেখে আসি। মনে মনে আনন্দ উপভোগ করি এবং এই গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেছি বলে আমি গর্ববোধ করি। বাংলাদেশের ইতিহাসে আনারস, কমলা ও কাঁঠালের জন্য বিখ্যাত হিসাবে পরিচিত আমাদের এই গ্রামটি। আমি সর্বদাই চেষ্টা করি আমাদের গ্রামের এই ঐতিহ্যটাকে ধরে রাখতে।
এই গ্রামের বেশির ভাগ লোকই তাদের বাগান থেকে কমলা, কাঁঠাল, আনারস, লেবু, সাসনি লেবু, জারা লেবু, আদা লেবু, আম ও বিভিন্ন ধরনের ফসল বিভিন্ন জায়গায় বিক্রয় করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে ও ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনার খরচ চালায়। প্রতি বছর এই বাগানগুলি থেকে বাগানের মালিকরা অনেক টাকা উপার্জন করে। আমার মতে যে কেউ এই গ্রামটি পরিদর্শন করলে আনন্দ উপভোগ করবে। আমি চাই আমাদের এই সুনামধন্য ঐতিহ্যবাহী গ্রামটি সবার সামনে আরও পরিচিতি লাভ করুক। আমি চাই আমাদের সুনামধন্য গ্রামটির কথা দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়–ক এবং বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এই গ্রামটি পরিদর্শন করুক। এর জন্য আমি এই গ্রামের ঐতিহ্য দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে চেষ্টা করছি। যাতে বিভিন্ন পেশার মানুষ গভীর আগ্রহ নিয়ে এই গ্রামটি একবার পরিদর্শন করতে আসে। এই ঐতিহ্যবাহী গ্রামটা আমাদের সবার গর্ব ও অহংকার। আমি আমার গ্রাম বলেই বলছি না গ্রামটি একবার পরিদর্শন করে এর সৌন্দর্য উপভোগ করুন। অনেক দিন থেকে সিলেটে বসবাস করছি। আমি যখন সুযোগ পাই তখনই বন্ধুদের নিয়ে আমার গ্রামের বাড়ি বেড়াতে যাই।
২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কৃষি উপদেষ্টা সি.এস করিম ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এর বিচারক আবুল কাশেম মো. মোস্তফা আমাদের গ্রামটি পরিদর্শন করেন এবং ২০১২ সালে জেলা প্রশাসক খাঁন মোহাম্মদ বিলাল ও কৃষি অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ডিআইজি ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এই গ্রামটি পরিদর্শণ করেন। তারা এই গ্রামটির সৌন্দর্য্য দেখে মুগ্ধ হন এবং সৌন্দর্য্যকে ধরে রাখার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের ব্যাপার তাদের পদক্ষেপের কতোগুলি এখনও বাস্তবায়িত হয় নি। ফলে গ্রামের সৌন্দর্য্য দিন দিন হারিযে যাচ্ছে। তারা যদি সঠিকভাবে সবগুলি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতেন তাহলে গ্রামটা আরও উন্নতির দিকে এগিয়ে যেত। গ্রামের বেশিরভাগ লোক কৃষি বিজ্ঞান সম্পর্কে অবগত নয়। সঠিকভাবে বাগানের পরিচর্যা করতে জানে না। ফলে বাগানের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। কৃষি অধিদপ্তর যদি নিয়মিত কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিত তাহলে গ্রামের অনেক উন্নতি হতো।

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • বদর বাহিনীর হাতে শহীদ হন সাদেক
  • বানিয়াচংয়ের ভূপর্যটক রামনাথ
  • সিলেটের দ্বিতীয় সংবাদপত্র এবং বাগ্মী বিপিন
  • সিলেটের গৌরব : কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ
  • প্রকৃতিকন্যা সিলেট
  • ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রথম ক্ষেত্র
  • ইতিহাস সমৃদ্ধ জনপদ জামালপুর
  • সুনামগঞ্জের প্রথম নারী সলিসিটর
  • ইতিহাস-ঐতিহ্যের লীলাভূমি সোনারগাঁও
  • হারিয়ে যাওয়া বর্ণমালা
  • স্বামী হত্যার বিচার পাননি সাহার বানু
  • বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার একটি বর্ধিষ্ণু গ্রাম মিয়ারচর
  • বিভীষিকাময় একাত্তর শ্বাসরুদ্ধকর পাঁচঘণ্টা
  • সিলেটের প্রথম সংবাদপত্র এবং কবি প্যারীচরণ
  • সিলেটের প্রথম সাংবাদিক, প্রথম সংবাদপত্র
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • মুক্তিযোদ্ধা নজরুল এবং অন্যান্য
  • বানিয়াচং সাগরদিঘী
  • খুন ও ধর্ষণ করেছে চরমপন্থিরাও
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • Developed by: Sparkle IT