ইতিহাস ও ঐতিহ্য

বরইতলা গণহত্যা সম্পর্কে আজিজুল হক

তাজুল মোহাম্মদ প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০৫-২০১৮ ইং ০২:৪৬:০৪ | সংবাদটি ১৭৫ বার পঠিত

রেল লাইনের পশ্চিম পাশের বাসিন্দাদের শতকরা ৯৮ জনই ছিলেন আওয়ামী লীগের সমর্থক-সৈয়দ নজরুল ইসলামের একনিষ্ট ভক্ত। পক্ষান্তরে পূর্ব পাশের গ্রাম বাদে কুরিয়াইল, কশা কুরিয়াইল ও শেখর প্রভৃতি গ্রাম ছিল জামায়াতে ইসলামির নেতা মাহতাব উদ্দিনের প্রভাবাধিন। এই মাহতাব ১৯৭০ সালে জামায়াতের মনোনয়ন নিয়ে প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচন করেছিল। একটি বেসরকারি কলেজের প্রভাষক সে। এই এলাকায় মাহতাবের তত্ত্বাবধানেই গঠিত হয়েছে রাজাকার এবং আল বদর বাহিনী। পাকিস্তানি সেনা বাহিনীর প্রধান সহযোগী হিসেবে সমস্ত যুদ্ধাপরাধমূলক কর্মকান্ডে নেতৃত্ব দিয়েছে। প্রচুর লোককে হত্যা করেছে এই মাহতাবের পরিকল্পনায়। এই গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল রাজনৈতিক এবং কিছুটা ব্যক্তিগত কারণে। এই মাহতাবরা যা করেছে তার সবই হীন রাজনৈতিক স্বার্থে। এ ছাড়াও ব্যক্তিগত কিছু বিষয়ও জড়িয়ে পড়েছিল কোথাও কোথাও। যেমন আমাদের এই অঞ্চলে নরেন্দ্রনাথ এবং সুরেন্দ্রনাথ নামে দু’জন ধনাঢ্য ব্যক্তি ছিলেন। প্রচুর তাদের সম্পদ। প্রভাব প্রতিপত্তিও হয়ে যায় ধন-সম্পদের সাথে সাথে। তাদের জমি-জমা। উপরও লোভ পড়ে কিছু লোকের। জোর জবরদস্তি করে জমি দখল করে করে আসছিল কেউ কেউ। এই যে পশ্চিমাঞ্চলের লোকেরা নরেন্দ্র-সুরেন্দ্রদের সুরক্ষা দিয়ে আসছিলেন বরাবর। আমাদের কারণেই তাদের জমি-জমা দখল করতে ব্যর্থ হয়েছে প্রতিক্রিয়াশীল জামায়াত ভাবাপন্ন লোকগুলো। মাহতাবের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও বার বার বিফল হয়েছে ওরা। কিন্তু ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর আওয়ামী লীগার, প্রগতিশীল দল ও সংগঠন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকজন সবাই ভয়ে জড়ো সড়ো। কেউ চলে গেছেন ভারতে। মুক্তিযুদ্ধ করছেন প্রশিক্ষণ নিয়ে। কেউ কেউ উদ্বাস্তু হয়ে বাস করছেন ভারতে কিংবা দেশের ভেতরে। নিজেদেরই সুরক্ষা দিতে পারছেন না। অসহায় হয়ে পড়েছেন সবাই। এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চায়নি স্বার্থান্বেষীরা। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন আব্দুর রশিদ। তারই প্রত্যক্ষ ইন্দনে রাজাকাররা তাদের দু’জনকে তুলে নিয়ে যায়। ট্রেনে করে নিয়ে যাবার কালে তাদের একজন ট্রেনের জানালা দিয়ে জাম্প দিয়ে পড়ে পালান। অন্যজনকে হত্যা করে ওরা গচিহাটা বধ্যভূমিতে।
রাজনৈতিক কারণে রেলের পূর্ব পাশের জামায়াত অধ্যুষিত লোকেরা পশ্চিম পাশের স্বাধীনতা পন্থিদের ওপর ছিল বেশ ক্ষ্যাপা। মুক্তিযুদ্ধকালে জামায়াত গঠন করে রাজাকার, আল বদর, আল শামস প্রভৃতি ঘাতক বাহিনী। পশ্চিম পাশের লোকেরা যোগ দিয়েছে স্বাধীনতার যুদ্ধে। এই মাহতাবের রাজাকার, আল বদর এবং মুসলিম লীগ, পিডিপি, নেজামে ইসলাম প্রভৃতি একত্রিত হয়ে যায়। একই সঙ্গে স্বার্থের মিল-খোঁজে পায় দখলবাজরাও। সবারই স্বার্থ এক সূঁতে গাঁথা। অন্যদিকে সেপ্টেম্বর মাসে মুক্তি সেনারা ভৈরববাজার-ময়মনসিংহ লাইনের একটি রেল সেতু ধ্বংস করার পরিকল্পনা করে। ওরা রাতের আঁধারে রেল সেতুর পাশে গেলে পাকি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধে আমার গ্রাম চিকনিরচরের বীর মুক্তি সেনা শহীদুল ইসলাম ধরা পড়েন। তারপর ওরা এই ব্রিজেই নিয়ে যায় আবার। সেখানে গুলি করার ঠিক পূর্ব মুহূর্তেই উল্টো দিকে লাফ দিয়ে পড়ে যান তিনি সেতুর নিচে। পাকিস্তানি সৈন্যরা দু’পাশ থেকে অনেক গুলি ছুঁড়লেও শহীদের শরীরে বিদ্ধ হয় নি একটিও। আল্লাহর রহমতে বেঁচে যান তিনি। শহিদুল ইসলামও পেশায় ছিলেন শিক্ষক, মানুষ গড়ার কারিগর।
একাত্তরের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এভাবেই শুরু করেন মোহাম্মদ আজিজুল হক। পেশায় তিনি শিক্ষক। আজিমুদ্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন ১৯৬৬ থেকে। ২০০৭ সালে শিক্ষকতা থেকে অবসর গ্রহণ করে গ্রামেই বসবাস করছেন। দীর্ঘ ৪১ বছরের শিক্ষকতা জীবনের একটা অংশ কাটিয়েছেন অন্য একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। এই শিক্ষাবিদ ২০১৬ সালের ২১ শে মার্চ বরইতলা বৈদ্যভূমির পাশের দোকানে বসেই সাক্ষাৎকার দেন আমায়। তিনি জানান গাচিহাটা রেল সেতুর সেই যুদ্ধে পাকিস্তানি পক্ষে নেতৃত্ব দিয়েছিল একজন মেজর কিংবা ক্যাপ্টেন। কিন্তু সেই যুদ্ধে পাকিস্তানি ঐ সেনা অফিসারও মারা যায়। পরে আসে হেলিকপ্টার। নামে আজিমুদ্দিন স্কুলের মাঠে। নিয়ে যায় তার মৃতদেহ। এই যে, পূর্ব শত্রুতা সেটিও গণহত্যার একটি কারণ। দ্বিতীয়ত গচিহাটার রেল সেতু ধ্বংস করতে মুক্তিযোদ্ধার আগমন এবং পাকি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া। তৃতীয় কারণ শহীদ ধরা পড়েও গুলি করার মুর্হূতে লাফ দিয়ে পালিয়ে যাওয়া। এ সব মিলিয়েই তৈরি হয়েছে বরইতলা গণহত্যার প্রেক্ষাপট। ওরা ভালো, এখানকার স্বাধীনতাপন্থিরা দুর্বল হয়ে পড়েছে। অতএব, এই মুহূর্তে আঘাত করতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আক্রমণ চালায় ওরা আমাদের গ্রামে। আমি তখন নিজ বাড়িতেই ছিলাম। সেখান থেকেই প্রত্যক্ষ করি রেলের দুই অথবা তিনটি ওয়াগন নিয়ে একটি ইঞ্জিন আসছে আমাদের গ্রামের দিকে। সন্দেহ হলো আমার। জানালাম পরিবার সদস্যদের-গ্রাম আক্রান্ত হতে পারে। সাবধান করে দেই সবাইকে। লৌহ শকটটি আসছিল কিশোরগঞ্জ থেকে। যেতে পারবে গচিহাটা সেতু অবধি। সেই সেতুতো ধ্বংসপ্রাপ্ত। তারপর ভৈরববাজার রেল সেতু সেটিও ভেঙে দিয়েছিল মুক্তি সেনারা। সুতরাং ওরা গচিহাটা থেকেই ফিরে যেতে হবে। আমার সতর্কবাণী পেয়েই গ্রামের লোকেরা পেছন দিকে পালিয়ে নরমুন্দা নদীর তীরে আশ্রয় নিতে থাকে। কিন্তু ট্রেনটি গচিহাটা সেতু অবধি না গিয়ে ফিরে আসে আবার গ্রামের পাশে। এক সময় ট্রেন থেকে নামে অগণিত পাকিস্তানি হানাদার সৈন্য। বাঁধাপ্রাপ্ত হলো সাধারণ মানুষ। ওরা ছুটে গিয়ে প্রবেশ করে আমার একটি আখ ক্ষেতে। আমার পরিবারের সকল সদস্যও সেই ক্ষেতের ভেতরে।
আজিজুল হকের মতে পাকিস্তানি সৈন্যরা তখন মাহতাব উদ্দিনের রাজাকার বাহিনীর প্রদর্শিত পথে খোঁজে বেড়াচ্ছে গ্রাম বাসিদের। সেখানে যাকে পাচ্ছে- তাকেই গুলি করে হত্যা করছে। প্রতিটি গ্রামে অগ্নিসংযোগ করছে। বর্বরভাবে চালাচ্ছে নারী নির্যাতন। রাজাকারদের লোভ মেয়েদের গায়ের গহনাগুলোর প্রতি। লুটপাট করছে প্রতিটি বাড়িতে। রাজাকারদের নির্দেশনাতেই ঘেরাও করে আখ ক্ষেত। আটক হলেন অসংখ্য মানুষ। সৈন্যরা জানালো একটি স্থানে বসে তারা সবাইকে ডান্ডি কার্ড (পরিচয় পত্র) দেবে। এই আশ্বাস দিয়েই নিয়ে যায় বরইতলা। আজিজুল হক বলেন, বরইতলা নেবার পর সবাইকে বেধে ফেলে। ঐ সময় পাকিস্তানি সৈন্যদেরও গণনা করা হয়। আবুল হাসেম নামে এক রাজাকার গুনে যে সংখ্যা পেয়েছে তা অপারেশনে অংশ গ্রহণকারি পাকি সৈন্যদের সংখ্যা অপেক্ষা একজন কম। তাহলে একজন গেলো কোথায়? পড়ে গেলো শোর গোল। রাজাকারদের অভিমত আড়ালে আবডালে থাকা কোনো মুক্তি সেনা হত্যা করেছে। আসলে দলের একজন মিলিশিয়া গ্রামে প্রবেশ করে লুটপাট করছিল। তা করতে করতে চলে গেছে অনেক দূরে জিনারাই হয়ে শহরে। কিন্তু রাজাকারদের এই বক্তব্যের পরই পাকি বাহিনীর সর্দার বললো সবাইকে খতম করে দাও। শুরু হলো বন্দিদের হত্যা করা। মেশিনগান স্থাপন করা আছে বন্দিদের দিকে মুখ করে। কিন্তু সেটি নিরব। বন্দিদের মাথায় একজন আঘাত করে শাবল দিয়ে। তারপর অন্যজন আঘাত করে বেয়নেট দিয়ে। এভাবে হত্যা করে করে যখন ক্লান্ত ওরা তখন চালায় গুলি। ব্রাশ করার পর অনেকেরই নাড়ি ভূড়ি ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল বিরাট এলাকা জুড়ে।
এই ভয়াবহ হত্যাকান্ড চলাকালে প্রাণের ভয়ে আমি আশ্রয় নিয়েছিলাম আমার এক বন্ধু ইসহাক সাহেবের বাড়িতে। সেখান থেকেই জেনেছি-শুনেছি বরইতলার নৃশংস গণহত্যার ভয়াবহ কাহিনী। কিন্তু জানাতে পারিনি অন্যান্য গ্রামের কতো লোক প্রাণ দিয়েছেন। কি পরিমাণ ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে আমাদের এলাকায়। রওয়ানা করি অকুস্থলের দিকে। কিছুদূর যাবার পরই রক্তাক্ত একটি চাদরসহ এক কিশোর। কেঁদে কেঁদে বলছিল- স্যার আমার পিতাকে বাঁচান। আরো একটু সামনে গেলেই জানতে পারি বরইতলা গণহত্যার তালিকায় রয়েছেন। আমার পরিবারের তিন তিনজন সদস্য। প্রত্যক্ষ করি আমার এক চাচার কাঁধে একটি মৃতদেহ। ৭০ থেকে ৭৫ বছর বয়সী তৈয়ব উদ্দিনের মৃতদেহ। কিন্তু আমার চাচা বহন করতে পারছেন না তাঁকে। হাত লাগাই আমিও। বাড়িতে নিয়ে গেলাম আমরা। বাড়ি গিয়ে দেখলাম- তখনও আগুন জ্বলছে। বাড়ির অর্ধেক অংশ পুড়েছে। বাকি অর্ধেক অংশে দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন।
কি করবো আমি? মৃতদের সৎকারের ব্যবস্থা, আহতদের চিকিৎসা, নাকি বাড়ির আগুন নেভানোর চেষ্টা? কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। হঠাৎ করেই আবার ছুটে চলি বধ্যভূমির দিকে। সেখানে তখন লাশ আর লাশ। রক্তের ¯্রােত বয়ে চলছে। জানমাল মোট সাড়ে তিন থেকে চার’শ লোক বন্দি করেছিল। তাদের একটি বড় অংশ নামাজের কথা বলে জোহরের আযান হবার আগেই পার্শ্ববর্তী মসজিদে চলে যান। আর, সেখান থেকে পালিয়ে গ্রাম রক্ষা করতে সমর্থও হন। অন্যদিকে বন্দি করার সময় জামায়াতের কিছু লোকও আটক হয়েছিল। পাকিস্তানি সৈন্যরাতো জামায়াত এবং আওয়ামী লীগ চেনার কথা নয়। কিন্তু জামায়াত নেতা হাফিজ উদ্দিন মাওলানা নিজে থেকে পরিচয় দিলেন তাঁর আত্মীয় ও দলীয় অন্যান্যদের। বাদ বাকি সবাই আওয়ামী লীগ, মুক্তি এবং দুষ্কৃতিকারি। ফলে, ওরা সবাই মুক্তি পেলেন। আর মৃত্যুকে বরণ করে নিতে হলো অন্যদেরকে। হাফিজ উদ্দিনের বাড়ি শেওড়া গ্রামে।
শহীদ তালিকায় নাম রয়েছে ১শ’ জনের। সংখ্যাটি কি সঠিক? আজিজুল হক জানান ‘শহীদদের মধ্যে যতো জনের নাম সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে সে সংখ্যাটি হলো ১শ’ ১। এর বাইরের বহু লাশ সনাক্ত করা সম্ভব হয় নি। কাছেই নদীর মোড় রয়েছে। সেখান দিয়ে প্রচুর লাশ ভেসে গেছে। কিছু কিছু লোককে হত্যা করা হয়েছে অন্যান্য স্থানে। খালে, নালায়, জঙ্গলে পড়ে থাকা বহু মৃতদেহ দেখতে পায়নি কেউ। খেয়েছে শিয়াল-কুকুর। পঁচে গলে মিশেছে মাটির সঙ্গে। যে কারণে সব নাম সংগ্রহ করা সম্ভব হয় নি। আমার ধারণা আরো অন্তত ৫০ জন শহীদের নাম পরিচয় আমরা সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছি। অর্থাৎ মোট শহীদ হবে দেড়’শ জনের ওপরে।
এই নারকীয় হত্যাকান্ডের দু’মাসের মাথায়ই অর্জিত হলো স্বাধীনতা। স্বাধীন বাংলাদেশে এই শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে কিছু একটা করা দরকার মনে করি আমি। স্বাধীনতার ঠিক পর পর গ্রামে আসেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহযোগী, ১৯৭০ সালের, নির্বাচিত এম.এন.এ, মুজিবনগর সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। আমি ছিলাম তারই প্রতিষ্ঠিত হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক। যে কারণে, এস-ডিও সাহেব শুনতেন আমার কথা। বললাম, বরইতলা গ্রামে এতো এতো মানুষ খুন হলো। সেই শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করে একটু শান্ত¦না দেয়া দরকার। তখনকার মহকুমা প্রশাসক সাহেবের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলি। আমার প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন জানান সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছোট ভাই সৈয়দ ওয়াহিদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমদ, আওয়ামী লীগ নেতা মতিউর রহমান। এর আগে অবশ্য একটু বাঁকাভাবেই কথা বলেছি আমি। বললাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিক সফরে কিশোরগঞ্জ আসলে সেখানে একটি কালো পতাকা আসবে। চমকে ওঠেন মহকুমা প্রশাসক সাহেব। জানতে চান কে এবং কেন কালো পতাকা দেখাবে? জানালাম আমি-ই তা করবো। কারণ এই বরইতলায় এতো বড় একটা ম্যাসাকার হয়ে গেলো- প্রশাসন থেকে কেউ কোনো দিন তাদের সঙ্গেঁ একটু সাক্ষাৎও করলেন না। একটু সহানুভূতি জানালেন না। এসডিও সাথে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন যাতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেখানে যেতে পারেন।
বরইতলা আসলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। জনসভা হলো। আমি-ই সে সভায় সভাপতিত্ব করি। ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র (বর্তমানে ইডেন কলেজে শিক্ষকতায় ব্যাপৃত) কে দিয়ে মানপত্র পাঠ করাই। তা পাঠ করার সময় অঝোরে কাঁদলেন সৈয়দ নজরুল। কেঁদেছি আমিও। কেঁদেছে সবাই। সভা শেষে বধ্যভূমি পরিদর্শন করেন। দু’টি ইট নিয়ে যাওয়া হলো সেখানে। তা দিয়েই স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। আর নির্মাণের জন্য আমাকে দিয়ে যান ১ হাজার টাকা। স্থানীয় লোকেরা সহায়তা দেন। আমারই হাতে গড়া একটি সংগঠন ছিল দ্বীপ শিখা ছাত্র পরিষদ। এরাও এগিয়ে আসে। তারপর গড়ে তুলি প্রাথমিকভাবে স্মৃতিস্তম্ভ। তখন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছিলেন বনমালী ভৌমিক। তাঁর উদ্যোগেই ইহা সম্পন্ন হয়েছিল। পরে আওয়ামী লীগের সময় নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ।

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অতীত ও বর্তমান
  • নাটোরের জমিদার রানী ভবানী
  • ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়
  • সাহিত্য সাময়িকী নিশানা
  • জলসার একাল-সেকাল
  • স্তম্ভবিহীন মসজিদ
  • বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা
  • হারিয়ে যাচ্ছে খেজুর গাছ
  • গ্রামের কথা
  • প্রাচীন গড় কিভাবে গৌড় হল
  • চায়ের দেশ পর্যটকদের ডাকে
  • মুক্তিযুদ্ধকালীন সিলেট অঞ্চলের পত্রপত্রিকা
  • স্মৃতি ও চেতনায় বঙ্গবন্ধু
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • সাত মার্চের কবিতা ও সিলেট বেতার কেন্দ্র
  • পার্বত্য তথ্য সংকটের মূল্যায়ন
  • সিলেটের প্রাচীন ‘গড়’ কিভাবে ‘গৌড়’ হলো
  • ৮৭ বছরের গৌরব নিয়ে দাঁড়িয়ে সরকারি কিন্ডারগার্টেন প্রাথমিক বিদ্যালয় জিন্দাবাজার
  • খেলাফত বিল্ডিং : ইতিহাসের জ্যোতির্ময় অধ্যায়
  • এক ডিমের মসজিদ
  • Developed by: Sparkle IT