ইতিহাস ও ঐতিহ্য

পার্বত্য তথ্য কোষ

প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০৫-২০১৮ ইং ০২:৪৬:৩০ | সংবাদটি ৭০ বার পঠিত

[পূর্ব প্রকাশের পর]
এখানে স্মর্তব্য যে, এই ২/৫-খ-তে ২/৫-ক এর দ্বিতীয়াংশের বক্তব্যটি নেই। সুতরাং অধিগ্রহণভুক্ত বন পাহাড় নদী নালা ও কর্ণফুলী হ্রদ দাবীমুক্ত।
উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় : এখন পার্বত্য চুক্তি ও পরিষদীয় আইনের ভিত্তিতে দুই পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্তিত্ব ভাস্বর হয়ে উঠেছে। একটি হলো পরিষদীয় অঞ্চল, আর অপরটি হলো জাতীয় অঞ্চল। পরিষদীয় অঞ্চলের আয়তন ৪৪০.০৬ বা ৪৪৬.০৬ বর্গমাইল, আর জাতীয় অঞ্চলের আয়তন হলো ৪৬৫২.৯৬ বা ৪৬৪২.৯৬ বর্গমাইল। এ হিসাবে আঞ্চলিক পরিষদ জেলা পরিষদ ও ভূমি কমিশনের এখতিয়ার সংকুচিত। এখন তাদের এখতিয়ার থেকে বহির্ভুত অঞ্চল ভুক্ত জনসাধারণের রাজনৈতিক ও বৈষয়িক বিষয়াদিও হবে ভিন্ন এখতেয়ারাধীন। এই দাবি ও চুক্তি অনুযায়ী তিন জেলা ভিত্তিক পরিষদীয় আর জাতীয় অঞ্চলের সীমানাও আয়তনের ভাগ বাটোয়ারা সম্পন্ন হলে, প্রশাসন ও পরিষদ উভয়ই হস্তক্ষেপ ও বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত পরিবেশ লাভ করবে। এছাড়া এখন সবাই বিভ্রান্ত। প্রশাসন ও পরিষদ সমূহ সবাই সুপিরিওরিটি কমপ্লেক্সে আক্রান্ত। এই পরিস্থিতি অস্বস্তিকর।
পার্বত্য চুক্তি বহুবিধ বাঁধার সৃষ্টি করেছে। এর অনেক কিছুই বিভ্রান্তিকর। আসলে পার্বত্য চট্টগ্রাম কোনো স্বায়ত্তশাসিত বা প্রশাসনিক ইউনিট নয়। দেশ হলো সাংবিধানিকভাবে একটি বিশুদ্ধ ইউনিটারী রাষ্ট্র। প্রশাসনিক ইউনিট ছাড়া এর অন্য কোনো বৈধ অঙ্গ সংগঠন নেই। আঞ্চলিক পরিষদকে বৈধ ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষ বানাতে হলে, আগে এর ভিত্তিমূল পার্বত্য চট্টগ্রামকে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ইউনিটে পরিণত করতে হবে। জনসংহতি সমিতির ৫ দফা দাবি নামার ১নং দফায় এই আইনি শূণ্যতা নিরসনের কথা ছিলো। কিন্তু চুক্তির সময় তারা আত্মহারা আনন্দে ভুলে গেছেন যে, তাদের সাফল্য শূণ্য স্থিতির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটির স্থায়ীত্ব লাভ সন্দেহজনক। সাংবিধানিক শূণ্যতা এর জন্য মারাত্মক হয়ে দেখা দিয়েছে।
(তাং-২৫ আশ্বিন ১৪০৭ বাংলা, ১০ অক্টোবর ২০০০ খ্রি./দৈনিক গিরিদর্পণ, রাঙামাটি)
জনসংহতি সমিতির নেতৃবৃন্দ নিজেদের একটি ক্রটি স্বীকারের পরিবর্তে যুক্তি দেখাতে পারেন যে, সরকার সামগ্রিক অর্থে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়েই চুক্তি করেছেন। তাতে পরিষদীয় অঞ্চল আর জাতীয় অঞ্চলের কোনো ভাগ বিভক্তি নেই। চুক্তি কার্যকর করা কালে আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদ গঠন এবং দায়িত্ব দেয়া কালে ও গোটা পর্বতাঞ্চলকে পরিষদ সমূহের এখতিয়ারভুক্ত করা হয়েছে। ১৯৮৯ সালে তিন পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ গঠনকালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনটিও সামগ্রিক ভিত্তিতে হয়েছে। এখন জাতীয় অঞ্চল আর পরিষদীয় অঞ্চলের প্রশ্ন উত্থাপন অবান্তর।
কিন্তু না, চুক্তি ভিত্তিক প্রণীত জেলা পরিষদ আইনের ৬৪নং ধারায় জাতীয় অঞ্চল ও পরিষদীয় অঞ্চলের বিভক্তি স্পষ্ট করে বর্ণিত হয়েছে, যথা : তবে শর্ত থাকে যে, রক্ষিত বনাঞ্চল, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা, বেতনবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ এলাকা, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্প কারখানা ও সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নামে রেকর্ডকৃত জমির ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।
বর্ণিত ছাড়ের তাৎপর্য ব্যাপক। রক্ষিত বনাঞ্চল মানে সংরক্ষিত আর রাষ্ট্রীয় বনের একত্রিত সংস্থান। রাষ্ট্রীয় বনের বৃহদাংশ ডেপুটি কমিশনারদের নিয়ন্ত্রণাধীন রেকর্ডকৃত সরকারি সম্পত্তি, এবং অবশিষ্টাংশ, জুম নিয়ন্ত্রণ, পাল্প উড, ও ইউএস এফ নামীয় বন বিভাগের নামে রেকর্ডকৃত। এই ব্যাখ্যা জনসংহতি সমিতির কাছে মনোপুত না হতেও পারে। তবু এটি অপ্রিয় সত্য।
জনসংহতি সমিতি স্বীয় দাবী নং-২/৫-ক-তে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছে :
সকল শ্রেণির জমি পাহাড় ও কাপ্তাই হৃদ এলাকা, এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চলসহ অন্যান্য সকল বনাঞ্চল পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ও আওতাধীন করা। কিন্তু চুক্তিতে তা মানা হয়নি। এর বিপরীতে প্রণীত আইনি বক্তব্য হলো : ধারা নং ৬৪। জমি সংক্রান্ত বিশেষ বিধান। (১) আপাতত : বলবৎ অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন (ক) রাঙামাটি/ খাগড়াছড়ি/ বান্দরবান পার্বত্য জেলার এলাকাধীন বন্দোবস্ত যোগ্য খাস জমি সহ যেকোনো জায়গা জমি পরিষদের পুর্বানুমোদন ব্যতিরেকে, ইজারা প্রদান, বন্দোবস্ত, ক্রয় বিক্রয় বা অন্যবিধ ভাবে হস্তান্তর করা যাবে না। এর অর্থ হলো মূল বন্দোবস্তি ক্ষমতা জেলা প্রশাসকদেরই হাতে ন্যস্ত আছে।
এই আইনে সুনির্দিষ্টভাবে সকল শ্রেণির জমি পাহাড়, সংরক্ষিত আর অন্যান্য বনাঞ্চল জেলা পরিষদের বন্দোবস্তি ও হস্তান্তরের পূর্বানুমোদন আওতাধীন করা হয়নি। সুনির্দিষ্ট না হলে ঢালাও সামগ্রিক ক্ষমতা, প্রয়োগযোগ্য হয় না। সুতরাং বলা যায় : চুক্তি ও আইনে চাওয়ার চেয়ে অধিক দেয়া হলেও বাস্তবে এই দান সুনির্দিষ্ট নয়। এখানে সংবিধানের আওতায় হিল ট্রাক্টস ম্যানুয়েলও পড়ে, যা বাস্তবে কার্যকর আছে। এই আইন জেলা পরিষদ আইনের সমান্তরাল কার্যকর থাকায়, এ বলা প্রহসন যে, আপাতত : বলবৎ অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাক না কেন, এই ৬৪ নং বিশেষ বিধানটি অবশ্যই কার্যকর হবে। তবু বাস্তব হলো, হিল ট্রাক্টস ম্যানুয়েলের অগ্রমান্যতা স্থগিত হয় নি। ফলে পরিষদে আর প্রশাসনে নীরব লড়াই চলছে। মাঝখানে স্থগিত আছে ভূমি সংক্রান্ত সব কার্যক্রম। এ ক্ষেত্রে নিরীহ জনসাধারণ হলো বলির পাঠা। [চলবে]

 

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • বদর বাহিনীর হাতে শহীদ হন সাদেক
  • বানিয়াচংয়ের ভূপর্যটক রামনাথ
  • সিলেটের দ্বিতীয় সংবাদপত্র এবং বাগ্মী বিপিন
  • সিলেটের গৌরব : কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ
  • প্রকৃতিকন্যা সিলেট
  • ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রথম ক্ষেত্র
  • ইতিহাস সমৃদ্ধ জনপদ জামালপুর
  • সুনামগঞ্জের প্রথম নারী সলিসিটর
  • ইতিহাস-ঐতিহ্যের লীলাভূমি সোনারগাঁও
  • হারিয়ে যাওয়া বর্ণমালা
  • স্বামী হত্যার বিচার পাননি সাহার বানু
  • বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার একটি বর্ধিষ্ণু গ্রাম মিয়ারচর
  • বিভীষিকাময় একাত্তর শ্বাসরুদ্ধকর পাঁচঘণ্টা
  • সিলেটের প্রথম সংবাদপত্র এবং কবি প্যারীচরণ
  • সিলেটের প্রথম সাংবাদিক, প্রথম সংবাদপত্র
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • মুক্তিযোদ্ধা নজরুল এবং অন্যান্য
  • বানিয়াচং সাগরদিঘী
  • খুন ও ধর্ষণ করেছে চরমপন্থিরাও
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • Developed by: Sparkle IT