শিশু মেলা

ভাত

ধীরেন্দ্র কুমার দেননাথ শ্যামল প্রকাশিত হয়েছে: ১৭-০৫-২০১৮ ইং ০২:২৪:৫৬ | সংবাদটি ৪৭ বার পঠিত

গ্রীষ্মকালীন ছুটি। আমি ব্যতীত সবাই বেড়াতে গেলো। যাবার আগে সবারই একটি চিন্তা। বেড়াতে গেলে আমি কীভাবে ভাত খাবো? আমি বললাম, ‘ভাত রান্না করে খাবো। শেষ পর্যন্ত তাই হলো। সমস্যা হলো রান্না নিয়ে, হুজুগে বলে ফেলেছি ভাত রান্না করে খাবো। বড় সমস্যা আগুন জ্বালানো নিয়ে। রান্না থেকে আগুন জ্বালানো বড় কঠিন। কিছুতেই আগুন জ্বালাতে পারছি না। রান্না করা বন্ধ।
শ্যামলীকে একটা ফোন দিলে কেমন হয়? মন্দ না। হ্যালো- শ্যামলী, ভালো আছিস। ও দাদা, আমি ভালো। কি খবর দাদা। সকাল দশটায় বাড়ি আসবি। বাড়িতে কেউ নেই, ভাত ও মুরগী পাক করবি। ভাই-বোন মিলে মজা করে খাবো।
ঠিক আছে, আসবো।
এবার রাখি, ভালো থেক।
শাপলা, আমার বোন সুমাকে বলবি ১২ টার সময় দেখা করতে।
কেন? দাদা।
ভাত রান্না করবে। ভাই-বোন মিলে খাবো।
আচ্ছা, বলব।
হ্যালো- বান্ধই ভালো, আছ।
ও- দাদা, আমি, ভালো। আপনি কেমন?
আমি ভালো। তোমার বৌদির সাথে কথা বলো।
হ্যালো- বৌদি।
কাল সকাল বেলা আমার এখানে খাবে।
কি দিয়ে খাবো।
ডাল-ভাত।
ডাল-ভাত, খাবো না। আমার এখানে মুরগীর মাংস আছে। আপনি খেয়ে যান।
ডাল-ভাত নয় শুধু, খাসির মাংস আছে।
আসব, তবে বারোটার সময়।
আসবে, কিন্তু।
আরে, আসব, আসব।
রাখি।
পরদিন সকাল দশটায় শ্যামলী আসে। দাদা, আমি এসে গেছি। কি, কি, রান্না করতে হবে।
ভাত ও মুরগীর মাংস।
কি, কি, ভাত রান্না করতে পারিস।
ভাত-তো ভাত-ই, প্রকার কি?
আছে। তবে শুন- কটক তারা, সূর্যমুখী, পানি বিড়া, ধারিয়াল, হাসি কলমি, চারনক, আটলাই কুমারী, দুলার, ধলাসাইটা, মরিচবটি, নাইজার শাইল, লতি শাইল, ইন্দ্রশাইল, দুধসর, তিলক কচোরী, বালাম, হাতিশাইল, ঝিঙ্গা শাইল, ভাষা মানিক, বাদশা ভোগ, রাজা শাইল, বাঁশ ফুল, পাট নাই, কাটারী ভোগ, বিরুই বাইশ বিশ, গাবুরা, ধলা আমন, মালিয়া ভাঙ্গর, কাতিয়া বাগদার, গদালাকি, দুধ লাকি, টেপী বেরো, বান জিরা, খাইয়া বোরো, হবিগঞ্জ-৭, হবিগঞ্জ-৮, তাইপাই, পশু শাইল, আই, আর-৫, আই, আর-৮, আই, আর-২০, চান্দিনা, মালা, বিপ্লব, ব্রিশাইল, দুলা ভোগ, ব্রি বালাম, আশা, সুফলা, পূর্বাচী, গচী, ২৮, ২৯, কাল জিরা, মালতি, পোলাওর চাল....।
সজল দা, আর নয়, আমার মাথা ধরেছে। কয়টা নাম শুনেই মাথা ধরা।
থাক আর ভাত রান্না করতে হবে না।
তুমি রাগ করলে সজলদা।
রাগের কিছু নয়। নাম, শুনেই ভয়। কেমন রাঁধুনী আমার বোন।
চাল দেও রান্না করি।
রান্না করতে হবে না, দুপুরে নিমন্ত্রণ আছে, তাই।
আম আছে, ভর্তা বানাও।
আচ্ছা।
সাড়ে বারোটা বাজে এখন পর্যন্ত সুমা এলো না। না শাপলা সুমাকে বলেনি। না-বলার তো কিছু নেই। ওতো এরকম করেনি। নানান চিন্তা সজলের মাথায় গিজ গিজ করছে। কোন সৎ উত্তর খোজে পাচ্ছে না। পায়চারি করছে আর বিড়বিড় করে কি যেন বলছে। একটা বাজে নিমন্ত্রণে যাবার কথা। তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নেয় সজল।
হ্যালো- বান্ধই, তুমি কোথায়?
আসছি দাদা, আসছি।
বৌদি, আমি এসেছি।
বসো। শুধু কষ্ট করবে!
কষ্টের কী আছে? আমার প্রিয় খাবার। (বিন্নি ভাত আর খাসির মাংস)
এবার আসি বৌদি, আসি দাবু (দাদাবাবু)
এসো! আবার আসবে।
বিকাল তিনটা বাজে। সুমাতো আসল না। মাংস পাক (রান্না) না করলে নষ্ট হয়ে যাবে। কি করি? সঙ্গীতাকে ফোন দিলে কেমন হয়। ও আসলে রান্না করলে মজা করে খাওয়া যাবে।
হ্যালো- সঙ্গীতা, ভালো আছিস।
আমি সঙ্গীতা না, শান্তা।
ও, শান্তা, ভালো আছিস।
তুমি, কেমন আছো বড়দা।
আমি, ভালো। বাড়িতে একা। মুরগীর মাংস আছে। সঙ্গীতাকে বলনা রান্না করে দিয়ে যাক। সঙ্গীতার রান্না কয়দিন খেয়েছ, ভারি মজা, তাই না। শান্তা এভাবে কথাগুলো বললে। আমি খুবই দুঃখিত। ও ধস াবৎু ংড়ৎৎু. বলে লাইনটা কেটে দেয় সজল। মনে ভীষণ কষ্ট পেয়েছে। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে মা না আসা পর্যন্ত ভাত খাবে না রান্নাও করবে না। বিকাল চারটার সময় সজল মুরগী রান্না করে। ভাত রান্না করবে না। বাজারে রুটি পেলে মজা হবে। বাজারে কোন দোকানে রুটি নেই। একটি স্টোরে ব্রেড পাওয়া গিয়াছে। রাতে ব্রেড আর মুরগীর মাংস খেল। পরদিন সকাল বেলা দিদি এসে ঘর দোর ঝাড়– দিয়ে যায়। উনি রান্না করার কথা বলেন। সজল উত্তর দেয় লাগবে না। তুই পারসও বটে। পাড়াপড়শি সবাই মনে করে সজল রান্না করে খাওয়া দাওয়া করে। অনেকেই তাকে জিজ্ঞেস করে-
সজল- রান্না হচ্ছে।
সব ঠিক আছে।
ভালো।
পরদিন সকাল বেলা চা-স্টল থেকে রুটি এনে মাংস দিয়ে সকাল বেলা চালিয়ে দেয়। দুপুর বেলা হাবিজাবি দিয়ে শেষ করে। সকাল বেলা পাশের বাড়ির দিদি চা দিয়ে যান। ঐ দিন ¯েœহের ছোট ভাই ডিম তরকারি দিয়ে যায়।
দাদা, ভালো আছো, বলল- সুমা।
আমি ভালো, গত পরশু আসিস নাই কেন?
মুরগীর মাংস তোর জন্য রেখেছিলাম।
মনে নেই দাদা।
আমি বলেছি, দাদা, ও আসে নাই- শাপলা উত্তর দিল।
শাপলা, আম কাট।
কাটছি।
এই, পাগলী, জানিস- সেদিন, তুইও আসিস না। সঙ্গীতাকে বললাম আসতে, শান্তার কথা শুনে আমি আক্কেল গুড়–ম। মা-না আসা পর্যন্ত ভাত খাব না, প্রতিজ্ঞা করেছি।
আমার প্রতি, রাগ করো না, লক্ষ্মী দা-দা। তুমি জান তো, কত কষ্ট করে তোমার সাথে দেখা করি। পথে পথে বিপদ আমার, শাপলা, তাড়াতাড়ি কর। দা-দা, তুমিতো, আমার ভগবান। তোমার কথা সব সময় পালন করব। তুমি আশীর্বাদ করো যেন আমি ভালো ফলাফল করতে পারি।
আমার আশীর্বাদ সব সময় আছে-রে পাগলী। ভালোভাবে পড়াশুনা করো। ভগবান তোর মঙ্গল করবেন।
তাই যেন হয় দাদা।
দাদা, এই নেও আম।
একটু-হা- করো, আমার লক্ষ্মী বোন। সুমার মুখে আম দিল।
দা-দা।
দাদা, এবার আসি, ভালো থেক।
দাদা, রাতে আমাদের বাড়িতে খাবে। বলল পলাশ।
বাড়িতে আমি একা, পারবো না যেতে। অন্য দিন খাবো নে।
না, দাদা যেতে হবে ‘ও নাছোরবান্দা’ আরে, পাগল দেখতে পাচ্ছিস না, বাড়িতে কেউ নেই, খালি বাড়ি ফেলে কী যাওয়া যায়।
আমি ভাত নিয়ে আসব।
প্রয়োজন নেই। আমি আনব দাদা।
দাদা, বাড়িতে নাকি কেউ নেই, আমি তোমাকে ভাত রেঁধে দেই, বলল- শিল্পী।
তুকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমি রাঁধতে পারি তুকে রান্না করতে হবে। ঘরে আম আছে আম খেয়ে যা।
আচ্ছা।
হ্যালো, সজল।
ও-মা।
কাল, আমি আসছি। কোন চিন্তা করো না।
ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করছো তো।
সব ঠিক আছে মা।
কাকু, ভালো আছেন।
ও-বা, ভালো আছি। তুমি কেমন আছো? তুমিতো বাড়িতে একা, রান্না-বান্না কে করছে?
আমি তো কাকু, ভাবছি এ সপ্তাহ ভাত না খেয়ে থাকবো। সকাল-বিকাল রুটি, দুপুরে একটা কিছু।
তোমার বয়স ভালো, পারবে, তবে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। কথায় আছে না ‘মাছে ভাতে বাঙালি’।
আমার তো ভালো লাগছে কাকু।
ও-বা, চা-খাই।
চা- খাওয়া যায়।
ভালো, লাগছে না কাকু- একটু হাঁটি।
আচ্ছা।
বৌদি ভালো আছেন?
ভালো আছি।
বৌদি, আগের মতো আমাকে ভাল পাননি।
কে, বলেছে?
আমি! কারণ এক সপ্তাহ যাবৎ একা, কি খাই, না খাই তার তো খোঁজ-খবর নিতে পারতেন?
শুনলাম মুরগীর মাংস খাসির মাংস দিয়ে তুমি খাচ্ছ। রান্না করে খাও। ভালোই আছ।
শুনা, কথার দু’না দুষ। আসলে রান্নার আলস্যের জন্য ভাতই খাইনি।
কাকিমা আসেন নাই।
না, মা- কাল আসবেন।
হ্যালো- দাদা রাতে পলাশ’রা বাড়ি এসো।
বলল- প্রাণেশ।
বাড়ি খালি, আসতে পারবো না।
আগে জানলে প্রোগ্রাম বাতিল করে দিতাম।
তুই- যা, আমি অন্য দিন যাবো নে-।
তা, হয় না।
পলাশের বাবার সাথে কথা বলো।
কিতা বা মাস্টার বেটা রাতে আমার বাড়ি এসো না, কাকু পারবো না, বাড়িতে কেউ নেই।
ভাত পাঠিয়ে দেই।
না, লাগবে না।
রাতে, দুই টিফিন ক্যারিয়ার নিয়ে পলাশ আসে প্রচুর খাবার দাবার। রাত নয়টার সময় প্রাণেশ ও পলাশের বাবা আসেন। বৃষ্টি এসে যায়। প্রায় ঘন্টা খানেক তিন জনে গল্প গুজব চলে। যাবার সময় একটি গিফট বক্স দিয়ে যান।
আমার বোনের কোন অভাব নেই। অসময়ে আমার খবর কেউ নেয়নি।
দাদা, যে কথাটা বললেন ওটা, ঠিক নয় বলল শোভা। আমরা জানি আপনার আত্মীয় স্বজনের অভাব নেই।
বেশি বাড়ি নিমন্ত্রণ থাকিলে উপোশ করতে হয়।
মামিমা কবে আসবেন।
আজ মা আসবে।
হ্যালো- সজল গাড়ি বৃষ্টির জন্য বিলম্বে ছেড়েছে। আজ মনে হয় আসতে পারবো না।
কাল সকাল আসবো। কোন চিন্তা করো না।
আচ্ছা, মা।
পরদিন সকাল বেলা মা আসেন। মা, নাস্তা আনি। নাস্তা খেয়ে আস্তে আস্তে রান্না করো।
মা-ছেলে নাস্তা সেরে।
মা, ফ্রেস হয়ে ইলিশ মাছের ভাজি, ইলিশ মাছের তরকারি রান্না করেন।
¯œানাদি সেরে সজল ইলিশ মাছের ভাজি ইলিশ মাছের তরকারি দিয়ে পেট পুরে ভাত খেলো। পরে লম্বা একটা ঘুম।
সমাপ্ত

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT