শিশু মেলা

যাত্রা

জাহিদা চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ১৭-০৫-২০১৮ ইং ০২:২৫:২১ | সংবাদটি ৩১ বার পঠিত

লিজা মেয়েটি ছোট বেলা থেকেই ছিলো বেশ শান্তশিষ্ট। কথাবার্তা বলতো কম। তবে খুব হাসতে পারতো। হাসির মতো কিছু হলে সবাই না হাসলেও সে একা একা আপন মনে হাসতো। ভাই বোন তাকে এ হাসির জন্য আদর করে অনেক নামে ডাকতো।
সে ছিলো কিছুটা মেজাজী এবং জেদি স্বভাবের। কেউ কিছু বললে এবং তার মন মতো না হলে ভীষণ ক্ষেপে যেতো। লিজার মা বলতেন মেয়েদের এতো জেদ ভালো না। মেয়ে হয়ে জন্মেছো? মেয়েদের অনেক কিছু সহ্য করতে হয়। লিজার একই উত্তর: মেয়ে হয়ে জন্মেছি তো কি হয়েছে?
লিজার একটি ছোটবোন ছিলো। সে আবার লিজার বিপরীত। সে গম্ভীর চুপচাপ থাকতো। দু’বোনে এই ঝগড়া এই ভাব। মা-বাবা ভাই-বোনের সংসারে লিজার আস্তে আস্তে স্কুল ফাইন্যাল পরীক্ষা এসে গেলো। আর ঠিক তখনই বাড়িতে চললো ঘটকের আনাগোনা।
লিজার বোন বলতো আপু, তুই-তো পরের ঘরে চলে যাবে, আমাদের কিন্তু খুব খারাপ লাগবে। সুখ দুঃখের মাঝে হঠাৎ করেই একদিন লিজার বিয়ে ঠিক হলো। কারোরই তখন কথা বলার কিছু ছিলো না। ভালো কি মন্দ চিন্তার সুযোগ পাওয়া না গেলেও বিয়ের পর লিজাকে শ্বশুরবাড়ি যেতে হলো। দিন কয়েক যেতে না যেতে লিজার বরের আচার-ব্যবহার, রীতিনীতি সবই লিজার কাছে খারাপ ঠেকে।
তার জীবনে সুখ বা শান্তি কোনটাই আসবে না বলে নিজে থেকেই লিজা তাকে মুক্তি দিয়ে দেয়। সেই থেকে আজও তার দিন কাটছে বাপের বাড়ি। বয়সের সাথে সাথে সবকিছু এখন সে বুঝতে পারে জানতে পারে, কিন্তু কি করবে সে।
লিজা ভাবে মেয়েরা কতো অসহায়, কতো দুর্বল চাইলেও তারা কিছু করতে পারে না। মনে পড়ে মায়ের কথা। কিন্তু তার অপরাধ কি? এ সমাজ ব্যবস্থার ধারা এমন কেনো? এর কি পরিবর্তন নেই?
লিজার জীবনে আজ সবকিছু ওলট-পালট হয়ে গেছে। অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ মিলিয়ে এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যেখান থেকে সে না পারছে এগুতে, না পারছে পিছাতে। অসহ্য যন্ত্রণার নীল সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে সে। কি করতে পারে সে? তার অপরাধ সে একজন নারী।
যে জীবন শুরু হতে না হতে ভেঙ্গে গেলো সে জীবনে কেনই বা বেঁচে থাকা? যে জীবনে আছে সুর, আছে ¯েœহ ভালোবাসার গান সে জীবন তো তার নয়।
এতো বড় পৃথিবীতে আজ সবার মাঝে থেকেও সে বড় একা। না পেতে পেতে এখন তার মনটা বিষিয়ে উঠেছে। পারে না সে নিজেকে সব সময় সংযত রাখতে। সে পারছে না আলাদা কিছু একটা নিয়ে বেঁচে থাকতে। তার পরেও জীবন নামের শব্দটার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে সে।
তার জীবনে নেই কোন ¯েœহ ভালোবাসা, নেই কোন পূর্ণতা, নেই কোন পরিতৃপ্তি।
ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। চাইলেই তো সব পাওয়া যায় না। এ জন্য দায়ী কে? তার কর্ম, না তার জন্ম? না তার অদৃষ্ট? কোনটা এর জন্য দায়ী। এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া অসম্ভব জেনেও সে প্রশ্নের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে।
রূপ রসে গন্ধে ভরা পৃথিবীটা কেনো এতো শূন্যতায় ভরা? ক্লান্ত অসহায় জীবন নিয়ে এভাবে আর কতো পথ তাকে চলতে হবে, সে নিজেই জানে না।
তবুও জীবন থেমে থাকেনি। সে এগিয়ে যাচ্ছে তার নিজস্ব গতিতে, যে গতিকে রুখবার সাধ্য কারো নেই।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT