সম্পাদকীয়

আবাসন সমস্যা নিরসনে

প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-০৫-২০১৮ ইং ০০:৪৪:৫৯ | সংবাদটি ৩০ বার পঠিত

আবাসন সংকটে এ দেশের লাখ লাখ মানুষ। মানুষের তিনটি মৌলিক চাহিদার অন্যতম হচ্ছে আবাসন। আর এই আবাসন সমস্যাই হচ্ছে আমাদের জাতীয় সমস্যাবলীর অন্যতম। দেশের অসংখ্য মানুষ বংশ পরম্পরায় অন্যের বাড়িতে বসবাস করছে। এদের একটা অংশ থাকছে ভাড়া বাড়িতে। আর এক অংশ থাকছে অন্যের দয়ায়। ফুটপাতে-বস্তিতে থাকছে বিপুল জনগোষ্ঠী। পরিসংখ্যানের তথ্য হচ্ছে, দেশের কমপক্ষে ২৭ ভাগ মানুষের নিজস্ব ঘরবাড়ি নেই। তাছাড়া শতকরা ৬২ ভাগ মানুষ ভূমিহীন। দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ বাস করে আধাপাকা বা টিনের ঘরে বা পাটখড়ি ও মাটির দালানে কিংবা বস্তিতে। আর মাত্র ১৩ শতাংশ মানুষ বাস করে পাকা বাড়িতে। এর বাইরে লাখ লাখ মানুষ রয়েছে গৃহহীন-ছিন্নমূল। আবাসন সমস্যা নিরসনে বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগ গ্রহণের খবর শোনা যায়। কিন্তু তার বাস্তবায়ন খুব একটা চোখে পড়ছে না।
দেশের জনসংখ্যা বাড়ছে। সেইসঙ্গে বাড়ছে আবাসন চাহিদা। আর এই আবাসন চাহিদা মেটাতে গিয়ে ফসলি জমি ধ্বংস করা হচ্ছে। জানা গেছে, আবাসন চাহিদা মেটাতে গিয়ে ফসলি জমিতে নির্মাণ করা হচ্ছে বসত বাড়ি। এর ফলে গত চার দশকে জমির পরিমাণ অর্ধেকে নেমে এসেছে। দেশের সাড়ে ১৪ কোটি মানুষ চার লাখ হেক্টর জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছে। এদেশে মাথাপিছু জমির পরিমাণ মাত্র ১৬ শতাংশ। বাড়িঘর দালান কোঠা নির্মাণ, সম্প্রসারণ, রাস্তাঘাট এবং শিল্প কারখানার জন্য বছরে প্রায় ১৯ লাখ একর আবাদি জমি ধ্বংস হচ্ছে। তারপরেও নিরসন হচ্ছে না আবাসন সমস্যা। বরং সমস্যাটি দিন দিন আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। দেশে সার্বিকভাবে নিজস্ব আবাসহীন মানুষের হার ৫০ ভাগ। শহর অঞ্চলে এই সংখ্যা আরও বেশী। রাজধানীসহ দেশের বিভাগীয় নগরীতে এই ভূমিহীনের সংখ্যা ৮০ ভাগ।
সমস্যা নিরসনে দরকার সময়োপযোগী পরিকল্পনা। এক্ষেত্রে বিভিন্ন শহরের আশেপাশে উপশহর গড়ে তোলার কথা চিন্তা করা যায়। আর সরকারীভাবেই এইসব উপশহরে গড়ে তুলতে হবে বহুতল আবাসন। মধ্যবিত্ত ও নি¤œ মধ্যবিত্ত এবং সীমিত আয়ের মানুষ যাতে এইসব ভবনে আবাসনের সুযোগ পায়, সেদিকে নজর দিতে হবে। বেসরকারী উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব আবাসিক প্রকল্প গড়ে ওঠেছে এগুলোতে প্লট বা ফ্ল্যাট কেনার সুযোগ পাচ্ছেনা মধ্যবিত্ত-নি¤œ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকজন। স্মরণ করা যেতে পারে, তিন চার বছর আগে গ্রামের গরীব মানুষকে আধুনিক নাগরিক সুবিধাসহ ফ্ল্যাট দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলো সরকার। এর নাম দেয়া হয় ‘‘পল্লী জনপদ’’। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের সাত উপজেলার সাতটি গ্রামে পল্লী জনপদ গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিলো। কিন্তু সেটি আজও আলোর মুখ দেখছেনা।
প্রথমত কৃষিজমি সুরক্ষা করতে হবে, দ্বিতীয়ত নিরসন করতে হবে আবাসন সমস্যা। এই ধরণের জটিল একটা সমীকরণের মধ্যে দরকার সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ। কৃষিজমি অকৃষি খাতে ব্যবহার বন্ধ করা সবচেয়ে জরুরী। কিন্তু সেটা হচ্ছেনা। এই সংক্রান্ত সরকার প্রণীত নীতিমালা কার্যকর করার কোন বিকল্প নেই। পাশাপাশি পল্লী জনপদ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা জরুরী। এতে কম জমিতে বেশী মানুষের আবাসন সুবিধা তৈরী করা যায়। পতিত সরকারী খাস জমিও এই খাতে ব্যবহার করা যায়। সেই সঙ্গে সব ধরণের আবাসিক ভবন নির্মাণে জোর দিতে হবে উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের দিকে। শহর-নগর-গ্রাম সব এলাকার বাসিন্দাদেরই এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। উন্নত বিশ্বের আদলে পরিকল্পিত পল্লী জনপদ গড়ে তোলা সম্ভব হলে মানুষ গ্রামীণ জনপদে পাবে নাগরিক সুবিধা এবং এতে কৃষিজমি সুরক্ষাসহ আবাসন সমস্যা নিরসন হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT