পাঁচ মিশালী

মনের সীমারেখা

সৈয়দ আছলাম হোসেন প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-০৫-২০১৮ ইং ০০:৪৭:০৩ | সংবাদটি ৭০ বার পঠিত

পুরাতন ডায়েরী থেকে খুঁজে বের করে মোবাইল নাম্বারটি ডায়াল করে আমার এক বন্ধুকে ফোন দিলাম। ফোনটি রিসিভ হলো, আমি জিজ্ঞেস করলাম কেমন আছ? জবাব আসলো, ভালো আছি। কয় মন লাগবে। আমি ব্যাপারটি বুঝতে পারি নাই, বন্ধু চাকুরিজীবী, সে কয় মন লাগবে এই কথা বলার কারণ কি? পরে আবার প্রশ্ন করলাম, আপনি কি আমাকে চিনতে পেরেছেন? জবাব এলো, চিনেছি। সেদিন আপনি যে দশ মন নিয়েছিলেন। মনে মনে ভাবলাম হয়তো অন্য নাম্বারে চলে গেছে। কথার ফাঁকে মোবাইল নং চেক করে দেখি এটি বন্ধুর নাম্বার নয়, একটি সংখ্যা ভুল ডায়েল করায় অন্যজনের কাছে চলে গেছে। তখন বুঝতে পারলাম যার নাম্বারে ফোন দিয়েছি তিনি নিশ্চয় ব্যবসায়ী। তখন ফোনে জিজ্ঞেস করলাম। আপনি এখন কি করেন। জবাব এলো আমি আর কি করবো, গাছের ব্যবসা ও কাঠের ব্যবসা করি। তখন ধন্যবাদ ভাই রং নাম্বারে চলে গেছে বলে মোবাইলের লাইন কেটে দিলাম। তখন বুঝতে পারলাম ব্যবসায়ী ভাই কোনো ফোন পেলেই মনে করেন কেহ কাঠ কেনার জন্য যোগাযোগ করছে। তাই পরিচয় নেয়ার দরকার মনে করেননি শুধু জানতে চেয়েছেন কতোটুকু লাগবে।
আমরা যে পেশায় নিজেকে ব্যস্ত রাখি বেশিরভাগ সময় ঐ বিষয়গুলো প্রথমেই মাথায় আসে। আমি এ ব্যাপারে কয়দিন থেকে লক্ষ্য করে দেখেছি যেন প্রতিটি মানুষের মনের সীমারেখা আছে। প্রথমেই নিজের মন থেকে যা বলে বা যা অনুভব করে তাই সঠিক বা প্রয়োজন বলে মনে করি। তাই আমরা কে কি করি বা কিভাবে দেখতে চাই তার জবাব আমাদের কথাবার্তার মাধ্যমে ও আচার আচরণের মাধ্যমে ফোটে ওঠে।
সেদিন এক মুচির দোকানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তার মনের সীমারেখার কথা চিন্তা করে একটু দৃষ্টি রাখলাম তার দিকে। দেখতে পেলাম যে আমার দিকে তাকানোর আগে আমার জুতার দিকে তাকাচ্ছে। হয়তো ভাবছেন জুতাটির দাম কতো হবে, কোন কোম্পানীর হবে, এটি সেলাই করার দরকার কি না, এটি কালার করার দরকার কি না? এসব চিন্তা করছেন আর আমি ভাবছি আমার ধারণা সঠিক কি না। আমি উনার দোকানের পাশে গিয়ে ইচ্ছে করে একটু আস্তে আস্তে হাটতে লাগলাম। তখন তিনি প্রশ্ন করে ফেললেন। স্যার জুতা কালার করাবেন নাকি? আমি জবাব দিলাম সকালেতো একবার কালার করলাম। ধুলাবালুর যে অবস্থা। সামান্য সময়েই কালার চলে যায়। এখন আর কালার করাবো না। তখন তিনি আমার দিকে আর দৃষ্টি না রেখে অন্য এক যাত্রীর জুতার দিকে ফলো করতে লাগলেন। আমি তা অনুভব করে চলে এলাম। তখন নিজে বুঝে নিলাম উনার পেশা যেহেতু জুতা সেলাই ও কালার করা তিনি সারাদিন এভাবে মানুষের জুতা দেখে দেখে সময় কেটে যায়।
আমি কোন পেশাকে ছোট করে দেখছি না। কারণ আমি নিজেও ছোট খাটো চাকুরি করি। তাই চাকুরির ফাঁকে আমার নেশাটুকু সমাজের মানুষের মনে আনন্দ দিতে ও উপকার করার মন নিয়ে কিছু লেখার চেষ্টা করি। যখন সেলুনের পাশ দিয়ে আমরা কেহ হেটে যাই তখন সেলুনের দায়িত্বশীল আপনার মুখের দিকে তাকানোর আগে চুলের দিকে তাকাবেন। ভাববেন আপনার চুল কতো দিন আগে কেটেছেন। এখন কাটার উপযুক্ত হয়ে গেছে নাকি? চুলগুলো কি রকম রাখলে আপনাকে মানাবে ইত্যাদি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT