পাঁচ মিশালী সাইফুর রহমান

সিলেটের সাধক কবিগণ

প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-০৫-২০১৮ ইং ০০:৪৭:৪২ | সংবাদটি ৭৮ বার পঠিত

শায়খুল মাশায়েখ হযরত শাহজালাল (রহ.) সহ তিনশ’ ষাট আউলিয়ার পবিত্র পদরেনু ধন্য একটি ঐতিহাসিক জনপদের নাম। ‘ছিলটি নাগরী লিপিতে’ একটি প্রাচীন বন্দনা গীতিতে সিলেটের মাটি ও মানুষের পরিচয় পাওয়া যায় :
পত্রলা বন্দনা করি মালিক ছত্তার/ দুছরা বন্দনা করি নবী মছ্তফার/ যত নিয়ামত দিছৈন আল্লায় দুনিয়ার মাঝ/ বাশ্শাগিরি করা হৈল ছিলটীর কাজ।/ আরব দেশের মাটির লগে মিল ছিলটর/ এর লাগি বাস হেথা শা’জালালের।/ জালালী কৈতর উড়ে কাজল পাংখা দিয়া/ আল্লা আল্লা জিকির পড়ে তারা সবে বৈয়া।
প্রচীন লোক কবির উল্লিখিত পংক্তিমালাগুলোকে আমরা যদি কিঞ্চিৎ ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি রেখা চিত্র আঁকতে চেষ্টা করি, তাহলে দেখা যাবে আধ্যাত্মিক সাধনার কেন্দ্রিয় মরকজ সুপ্রাচীন সিলট ভূমির সুনাম ও সুখ্যাতি। মানব সভ্যতার আদিকাল থেকে হাল আমল পর্যন্ত সিলেটের সূফী সাধক ও মরমি কবিদের হৃদয় উৎসারিত কালজয়ী পংক্তিমালা আমাদের মরমী সাতিত্যের উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে। মরমি সাধকগণ সর্বদা আত্মার টানে উন্মাদ হয়ে পড়েন। দেহের মধ্যে বিদ্যমান এই আত্মাকে নিয়ে মরমি কবিগণ রচনা করেন আধ্যাত্মবাদী কবিতা। আত্মাকে কেন্দ্র করে এই সাধনা বলেই তাকে আধ্যাত্মবাদী সাধনা বলা হয়। মানব খাঁচায় বন্দী চির বিরহী ‘রূহ’ আল্লাহ পাকের হুকুম বৈ কিছু নয়।
হযরত রুমি (র.) এর ভাষায়Ñবুঁশনা আযনার এ্য চুঁ হেকায়েত মীকুনাদ/ অ-আযুদায়ী হা শেকায়েত মীকুনাদ। অর্থাৎ বাঁশি যখন বাজে তখন শোন দিয়া মন/ প্রাণ বন্ধুয়ার লাগি বাঁশি করিছে ক্রন্দন।
এখানে বাঁশের বাঁশীকে মানবদেহে বিদ্যমান ‘রূহ’ এর উপমা দেয়া হয়েছে। এরকম অসংখ্য সামা সংগীত রচনা করেছেন আমাদের দেশের অনেক সূফি সাধকগণ। সিলেটের আধ্যাত্মবাদী সাধকের মধ্যে সৈয়দ শাহ নূর, হাসন রাজা, শীতালং শাহ, শেখ ভানু শাহ, আরকুম শাহ ও দুর্বিনশাহ অন্যতম।
সৈয়দ শাহ নূর : মরমি কবি হযরত সৈয়দ শাহ নূর (রহ.) একজন সাধক ও সুফি বুজুর্গ ছিলেন। তিনি ১৭৩০ খ্রিস্টাব্দে হবিগঞ্জের রাজনগর ইউনিয়নের গড়গাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) এর অন্যতম শিষ্য হযরত শাহ সৈয়দ রুকন উদ্দিন (রহ.) এর বংশধর ছিলেন। সৈয়দ শাহ নূর (রহ.) মুর্শিদি, মারিফতি, দেহতত্ত্ব, পারঘাটা, খোদাপ্রেম, ভাটিয়ালি, নবীতত্ত্ব, সৃষ্টিতত্ত্ব ইত্যাদি বহু মরমি গান রচনা করেন। বিশিষ্ট দার্শনিক দেওয়ান মুহাম্মদ আজরফের মতে, সৈয়দ শাহ নূর (রহ.) ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সৈয়দপুরে আসেন। জানা যায়, বিধর্মীদের অত্যাচারে অতীষ্ট হয়ে সৈয়দ শাহ নূর (রহ.) জন্মস্থান গড়গাঁও ত্যাগ করে সৈয়দপুরে আসেন ১৮৪২ খ্রিস্টাব্দে। পরে কোনো এক সময় তাঁকে সৈয়দপুরে ১১টি তালুকের পক্ষ থেকে বর্তমান পীরের বাড়ি এবং আরো একটি বাড়ি ও কিছু জমি দান করা হয়। তাঁর আধ্যাত্মিক জীবনের বেশ কয়েক বছর সৈয়দপুরে অতিবাহিত হয়। ঐ বাড়িতে এখন তাঁর বংশধরেরা থাকেন। সৈয়দ শাহ নূর (র.) এর স্ত্রী সৈয়দা সামিমা বানু সিলেট বিভাগের প্রাচীনতম মহিলা কবি। বিশিষ্ট গবেষক মুহাম্মদ আসাদ্দর আলীল মতে, সামিমা বানু বাংলাদেশের প্রথম মুসলমান মহিলা কবি। পীরে কামিল সৈয়দ শাহ নূর (র.) সূফিশাস্ত্র ‘নূর নসিহত, রাগনূর, নূরের বাগান, মনিহারি, সাত কন্যার বাখান এর রচয়িতা। তাঁর রচিত বইয়ে আরবি, ফার্সি, উর্দু, সিলেটি নাগরী ও বাংলা ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি চৈত্র মাইয়া ইটার উপরেদি নাও দৌড়াইনছন। হবিগঞ্জ জেলার জালালসাপ গ্রামে তাঁর মাজার অবস্থিত।
হাসন রাজা : সিলেট অঞ্চলের মারিফতি গানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাধক হাসন রাজা ১৮৫৫ সালে সুনামগঞ্জ জেলার লক্ষণশ্রী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষরা থাকতেন অযোধ্যায়। তারা ভারদ্বাজ গোত্রীয় ক্ষত্রিয় ছিলেন। এ বংশেরই দুঃসাহসী যুবক বিজয় সিংহদের রামপাশা ও লক্ষণশ্রী মৌজায় আগমন করেন। বিজয় সিংহদেবের অধস্তন সপ্তম পুরুষ বীরেন্দ্র দেব ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বাবু খান নাম নেন। বাবু খান ছিলেন হাসন রাজার প্র-পিতামহ। একটি গানে হাসন তাঁর জন্ম ও নিবাসের পরিচয় দিয়াছেন। ‘হাসন রাজা মরিয়া গেলে/ মাটির তলে বাসা/ কোথায় রইবো লক্ষণশ্রী/ রঙের রামপাশা।
দার্শনিক কবি হাসন রাজা অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন। নশ্বর জগতের ভোগ-বিলাসের উর্ধ্বে ছিল তার দৃষ্টি। একবার দুই ইংরেজ দেখা করতে এলো রাজার সাথে। ইংরেজ দু’জন বিশ্বাস করতে চায়না এটা রাজার বাড়ি। এক পর্যায়ে তারা রাজাকে জিজ্ঞেস করল-আপনার কি অন্য কোথাও বাড়ি-ঘর আছে? রাজা হেসে বললেন-রামপাশাতেও কয়েকটি বাড়ি আছে। তবে তা আমার নয়। ইংরেজ দু’জন আরো অবাক। রাজা তার আপন বাড়িতে নিয়ে গেলেন সাহেব দু’জনকে। ইংরেজ দু’জন নির্বাক! ধবধবে সাদা কবর। রাজা বললেন-এটাই আমার আপন বাড়ি। হাসন রাজা চিশতিয়া তরিকায় মুরিদ ছিলেন। তাঁর পীর ছিলেন হযরত শাহ সৈয়দ মাহমুদ আলী (র.)। হাসন রাজার দু’খানি বই মুদ্রিত হয়েছিল। একখানা সামা সংগীত ‘হাসন উদাস’ এবং আর একখানা বইয়ের নাম ‘সৌখিন বাহার’ ১৯২৫ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতের দর্শন সভার অভিভাষণে এবং পরবর্তীতে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের হিবার্ট লেকচারে শ্রদ্ধার সঙ্গে হাসন রাজার নাম উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন-পূর্ববঙ্গের একটি গ্রাম্য কবির গানে দর্শনের একটি বড় তত্ত্ব পাই। সেটি এই যে ব্যক্তি স্বরূপের সহিত সম্বন্ধ সূত্রই বিশ্ব সত্য। বিশ্বকবি গাইলেন সাধক কবির বিখ্যাত গান। বিশ্বকবির এই উচ্চারণের পর প্রাচ্যও পাশ্চাত্যের মনীষা চোখ অর্পিত হয় তাঁর উপর। ক্রমে হাসন রাজা পরিচিত হয়ে ওঠেন মরমি কবি হিসাবে। ১৯২২ সালে হাসন রাজা মারা যান। কিন্তু রেখে গেছেন অনাগত কালের মানুষদের জন্য মর্মছেড়া সাধন সংগীত।
শীতালং শাহ : মারিফতি গানের একজন বিখ্যাত রচয়িতার নাম সূফী শিতালং শাহ। তিনি ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে চাপঘাট পরগনার শ্রীগৌরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লালন ফকিরের সমসাময়িক ছিলেন এবং লালনের মৃত্যুর এক বছর পূর্বে দেহত্যাগ করেন। ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে শীতালং শাহ চাপঘাট পরগনার বারঠাকুরী গ্রামে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স আনুমানিক ৯০-৯২ বছর হয়েছিল বলে অনেকের ধারণা। শীতালং শাহ একজন মস্ত বড় আউলিয়া ও সূফি সাধক ছিলেন। তাঁর নানা কারামতি আজো চাপঘাট পরগনার সর্বত্র শোনা যায়। কথিত আছে, তিনি বাঘের উপর ছওয়ার হয়ে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসতেন। তার আসল নাম ছিল মোহাম্মদ সলিম। শীতালং তাঁর স্বপ্রদত্ত নাম। শীতালং অর্থ পায়ের গোড়ালির হাড়। তাঁর লিখিত প্রায় ১২০০ পৃষ্ঠাব্যাপী একটি কবিতা ও গানের খাতা পাওয়া যায়। শিতালং ফকিরের বিখ্যাত গান : বন্ধু কালিয়া আইসো বন্ধু জগত বন্ধুরে/ ছাড়িয়া না যাও মোরে প্রেমানল দিয়া। হায়রে পিরিতের শেল বুকে যার কলঙ্ক তার অলঙ্কার/ কূলমানের ভয় নাইরে তার। সুয়া উড়িল, উড়িল, জীবেরও জীবন/ সুয়া উড়িলরে।
শেখ ভানু শাহ : হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলাধীন বামৈ ইউনিয়নের অন্তর্গত ভাদিকারা গ্রামের মুন্সি নাছির উদ্দিনের একমাত্র ছেলে সুফি দার্শনিক কবি শেখ ভানু শাহ। নির্ভরযোগ্য পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তাঁর জন্মের সময়কাল ১২৫৬ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দ। পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান শেখ ভানু শাহ প্রথম জীবনে একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। একদিন বড় নৌকায় ধান বোঝাই করে নদীপথে ভৈরব বাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন ভানু বেপারী। হঠাৎ চোখে পড়ল কয়েকটি কাক নদীতে একই স্থানে উড়াউড়ি করছে। কানলারবাগ নামক একটি বাঁকে গিয়ে দেখতে পান একটি মৃতদেহ নদীর ¯্রােতে ভেসে যাচ্ছে। লাশের বুকের উপর কাক বসে চোখ টেনে টেনে খাচ্ছে। দৃশ্যটি দেখে শেখ ভানু শাহ কেঁদে উঠলেন। তখন তাঁর জীবনের উপর জিজ্ঞাসা এলো। সোনার বরণ দেহ কেন কাকে খায়? মনে ভাবান্তর হলো। ‘হাউল বেমার’ অর্থাৎ অনিয়মিত হৃদকম্পন রোগের সৃষ্টি হলো। চিকিৎসায় কোনো কাজ হয়নি। অবশেষে মাহবুবে সোবহানী বড়পীর হযরত আব্দুল কাদির জিলানী (রহ.) এর দরগাহের খাদেম, বড় এক বুজুর্গ ওলী সৈয়দ নাছির উদ্দিন ওরফে মিরান শাহ’র সান্নিধ্য পেয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং মিরান শাহ’র শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। আধ্যাত্মিক সাধনায় মগ্ন হয়ে সুফি কবি রচনা করলেন বিখ্যাত সামা সংগীতÑ নিশিতে যাইও ফুলবনে রে ভ্রমরা/ নিশিতে যাইও ফুলবনে/ নয় দরজা করি বন্ধ লইও ফুলের গন্ধ/ অন্তরে জপিও বন্দের নামরে ভ্রমরা/ নিশিতে যাইও ফুল বনে।
এ গানের শেষাংশে কবি বলেছেনÑপদ্মা যেমন ভাসে গঙার জলেরে ভ্রমরা, নিশিতে যাইও ফুলবনে। কতো বড় সাধক হলে পদ্মাকে গঙার জলে ভাসানো যায় তা ভাবনায় বিষয়। পদ্মা তো ভাসে বিলে। শেখ ভানু শাহ পদ্মাকে গঙার জলে ভাসাতে সক্ষম হয়েছিলেন। শেখ ভানু শান ছিলেন নিঃসন্তান। ভাদিকারা গ্রামেই শেখ ভানু শাহ’র মাজার বিদ্যমান। মাজারের উত্তর পার্শ্বেই ভাদিকারা গ্রামের জামে মসজিদ। এই মসজিদেরই একজন নিয়মিত মুসল্লী ছিলেন শেখ ভানু শাহ। দেওয়ালে রাস্তার দিকে খোদাই করা ছোট করে লেখা ‘হযরত শেখ ভানু শাহ’র মাজার শরীফ।
আরকুম শাহ : আরকুম শাহ সিলেট জেলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাধক ফকির। হাজার হাজার লোক তাঁর মুরিদ এবং শিষ্য। তাঁর গুরু ছিলেন হযরত শাহ আব্দুল লতিফ (রহ.)। আরকুম শাহ অনেক গান রচনা করেছেন। তাঁর একটি গ্রন্থের নাম ‘হকিকতে সিতারা’। এই গ্রন্থে ৯৪টি গান রয়েছে। গ্রন্থটি বাংলা ১৩৪৭ সালের সিলেটের ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত। তাঁর অপর গ্রন্থের নাম ‘কবিনামা’। একই স্থান থেকে মুদ্রিত। ফকির আরকুমের বিখ্যাত গান : সোনার পিঞ্জিরা আমার, কইরা গেলায় খালি/ হায়রে! আমার যতনের পাখি/ ও মন সুয়ারে, একবার পিঞ্জিরায় আও দেখি। পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে সার জানিয়া মমিনে/ বাতুনী নামাযের ভেদ কে জানে।
দুর্বিন শাহ : জ্ঞানের সাগর ফকির দুর্বিন শাহ ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলাধীন নোয়ারাই গ্রামের তারামনি টিলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সফাত শাহ ছিলেন একজন প্রখ্যাত দরবেশ। মাতা হাসিনা বানু। একদিন সফাত শাহ উনার সকল মুরিদগণ নিয়ে বসেন এবং বলেনÑতিনি ফাল্গুন মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার ভোরে মারা যাবেন। দুর্বিন শাহ তখন অনেক ছোট। বৃহস্পতিবার ভোরে উনার স্ত্রীকে ডেকে বললেন উনার নাকি সময় হয়েছে। উনার স্ত্রী পাশে আসতে আসতে সফাত শাহ তাঁর চাদর দিয়ে শরীর ঢেকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ বলে দেহ ত্যাগ করেন। তাঁর কথামত তাঁকে নিজ ঘরে সমাহিত করা হল। তাঁর কবরকে শিথান দিয়ে হাসিনা বানু তার সন্তানদের নিয়ে রাত কাটাতেন।
বাঘ-বাঘিনীরা চতুপার্শে ঘুরে বেড়াত। সাধক ফকির দুর্বিন শাহ মাত্র ৭ বছর বয়সে নিজে গাছ কেটে একটি দুতারা তৈরি করেন এবং সঙ্গীত সাধনায় ব্রত হন। ১৯৬৮ সালের প্রথম দিকে দুর্বিন শাহ তাঁর সফরসঙ্গী বাউল স¤্রাট শাহ আব্দুল করিমকে নিয়ে লন্ডনে পাড়ি জমান। লন্ডনের বিভিন্ন স্থানে প্রবাসীদের আমন্ত্রণে দুর্বিন শাহ বিভিন্ন ভাষার মিশ্রণে গান গেয়ে ‘জ্ঞানের সাগর’ উপাধি লাভ করেন। সফরসঙ্গী শাহ করিমের গানে বিমোহিত হয়ে প্রবাসীরা তাকেও ‘রসের নাগর’ উপাধিতে ভূষিত করেন। কবি দুর্বিন শাহ’র সাথে কখনো কোনো বাউল মালজোড়া বা অন্যান্য গানে সফলকাম হতে পারেন নি। দুর্বিন শাহ ১৯৭৭ সালে মারা যান। দরগাহ-এ দুর্বিন টিলায় তার মাজার বিদ্যমান। সাধক ফকিরের বিখ্যাত গানÑআমার অন্তরায়, আমার কলিজায়/ প্রেম শেল বিঁধিল গো, বুক ছেদে পিঠ পার হইল। কে যাওরে মদিনার পথে ওহে মুসাফির/ আমার সালাম কইও দরবারে নবীর। তুই যদি হইতে গলার মালা চিকনকালা/ তুই যদি হইতে গলার মালা।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT