সাহিত্য

ষাঁড়ের লড়াই

মোঃ ইব্রাহীম খান প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০৫-২০১৮ ইং ০১:৪৮:৪৭ | সংবাদটি ১০৯ বার পঠিত

ধান তোলা শেষ। পানি আসার আগে ভাগেই একটু আনন্দ ফূর্তি করে নেয়া দরকার। সারা বর্ষায়ই ভাটির মানুষকে পানিবন্দী হয়ে থাকতে হবে। বুড়ো পোলা যুবা সবাই আনন্দ উল্লাসে ব্যস্ত। বিকেল বেলা মন্টু আমাদের নিয়ে গেল বিশাল এক মাঠে। এ মাঠে ষাড়ের লড়াই হবে। আশেপাশের গ্রাম থেকে বিরাট আকারের এক একটা ষাঁড় নিয়ে আসছে। ষাঁড়ের আগে পিছে অনেক লোক। অনেকের হাতে চিকন বাঁশের লাঠি। ষাড়কে জেতানোর জনে অনেক কারসাজি করা হয়েছে। যে কোন মূল্যেই হউক ষাঁড়কে জেতাতে হবে। প্রত্যেক ষাঁড়ের মালিক ষাঁড়কে জাদু-টুনা, টোটকা-ফোটকা করে ষাঁড়কে মাঠে নামিয়েছে।
একটা খুব বড় ষাঁড়ের পেছনে একজন লোক লাল সালু কাপড় পরে দাঁড়ানো। তার হাতে একটা লাঠি। লাঠিটা সাপের মত প্যাচানো। উপরে তিন মাথা এবং নীচে দুই মাথা। কয়েক প্রকার রঙ দিয়ে সাজানো লাঠিটা। দেখতে খুব অদ্ভুত লাগছে। আমি মুগ্ধ হয়ে লাঠি এবং লোকটার দিকে তাকিয়ে আছি। এ বিরাট বড় ষাঁড়টা মন্টুদের গাঁয়ের। মোটা অংকের টাকা দিয়ে এ টোটকাদারকে ভাড়া করে আনা হয়েছে। টোটকাদার কিছুক্ষণ নামজপ করে লাঠিতে ফু দিচ্ছে। তারপর লাঠিটা ষাঁড়ের শরীরে ছুঁড়ে দিচ্ছে। চুখা শিং এর আগায় ঘষে দিচ্ছে। মাঝে মধ্যে আকাশের দিকে তাকিয়ে বিড় বিড় করে কি সব বলছে। পরক্ষণে মাটিতে তাকিয়ে হাতের লাঠিটা শূন্যে ছুড়ে মারছে। আবার খপ করে ক্যাচ ধরছে। তার গলায় কয়েকটি মালা। মালাগুলো ছোটছোট সামুদ্রিক শামুকের তৈরি। মাথায় লম্বা চুল। ছোট খাট সুঠাম দেহের মানুষটাকে দেখতে ভুতুরে লাগছে। লোকটার সাথে আমার চোখাচোখি হতেই সে চোখ নামিয়ে নেয়। বুঝা যায় সে লজ্জা পাচ্ছে। তার চোখে মুখে লাজুক লাজুক ভাব ফুটে ওঠে। চোখের ভাষায় বুঝা যায় সে আমাকে চিনে এবং আমি তার পরিচিত একজন। আমি কখনও এর আগে এত বড় ষাঁড়ের লড়াই দেখিনি। ষাঁড়ে ষাঁড়ে লড়াই করতে দেখেছি। ঢাক ঢোল পিটিয়ে এমন আড়ম্বরপূর্ণ ষাঁড়ের লড়াই প্রথম দেখছি। আমি কৌতুহল মিটানোর জন্যে মন্টুকে জিজ্ঞেস করলাম, লোকটা কী করছে। সে আমাকে সাবধান করে বলল, খবরদার তার দিকে বেশি তাকাবি না। সে হলো এক নম্বর টোটকাদার। সে যে ষাঁড়কে টোটকা করবে সে ষাঁড় জিতবেই। আমাদের এখানে নতুন এসেছে। আর শুন ওই তিন মাথার বাঁকা লাঠির দিকে ভুলেও তাকাবি না। কয়েকবার তাকালে টোটকা ছুটে এসে তোর শরীরে লেগে যেতে পারে।
আমি ভয়ে ভয়ে মন্টুকে জিজ্ঞেস করলাম, টোটকা ছুটে এসে আমার শরীরে লাগলে কী হবে?
মন্টু চো কুচকে বলল, তুই ষাঁড়ের মত পাগল হয়ে যাবি। আমি আতঙ্কিত গলায় বললাম, ষাঁড়ের মত পাগল হলে আমার কী হবে?
ষাঁড়ের মত তোর শরীরে শক্তি বেড়ে যাবে। তুই ষাঁড়ের মত মাথা দিয়ে গুতাগুতি শুরু করবি। যাকে সামনে পাবি তাকে গুতো মারতে ইচ্ছে করবে।
আমি মনে মনে বললাম, সর্বনাশ ধ্যান করে অনেকক্ষণ লাঠির দিকে তাকিয়ে ছিলাম। নিশ্চয় টোটকা আমার শরীরে এসে গেছে। কেন জানি মনে হচ্ছে আমার ঘাড়ে ষাড়ের মত শক্তি বাড়ছে। লড়াই শুরু হয়ে গেছে। মাঠে বিরাট উত্তেজনা। দর্শকগণ গলা ফাটিয়ে উল্লাস প্রকাশ করছে। মাইকে ভাষ্যকার শ্রুতিমধুর ভাষায় হার জিতের ফলাফল প্রকাশ করে যাচ্ছে। ঝন্টু মন্টু গভীর মনোযোগ দিয়ে লড়াই দেখছে। আমার কেন জানি মনে হচ্ছে আশেপাশে দাঁড়ানো সবাইকে গুতো মারতে। পাশে দাঁড়ানো ঝন্টুকে মাথা কাত করে একটা গুতো দিলাম। ঝন্টু ঘাড় বাঁকা করে আমার দিকে একবার তাকাল। মাঠে দুটো ষাঁড় প্রাণপণ লড়াই করছে। একটা ষাঁড়ের পায়ের খুর মাটিতে পিছলে যায়। অন্যটা লড়াই ছেড়ে তার পেঠে ঘা মারে। মাঠে চরম উত্তেজনা। ঝন্টু মন্টু দুই হাত উচিতে করতালি দিচ্ছে। জিতা ষাড়কে নিয়ে তাদের গাঁয়ের লোকজন মাঠের চারদিকে চক্কর দিচ্ছে। দর্শকরা জিতা ষাঁড় ও তার মালিককে একনজর দেখার জন্যে পেছন থেকে উঁকি ঝুঁকি মারছে। দেখতে গিয়ে কেউ কেউ একে অন্যের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ছে।
আমার মন লড়াইয়ের প্রতি মোটেই আকর্ষণ বোধ করছে না। আমার শুধু সবার সাথে গুতোগুতি খেলতে ইচ্ছে করছে। মনে হচ্ছে ষাঁড়ের মত আমিও লড়তে পারব। ভাবছি টোটকা হয়ত ছুটে এসে আমার শরীরে এ্যাকশন শুরু করছে।
এবার শুরু হবে শেষ এবং আসল লড়াই। মন্টু ও তাদের গাঁয়ের কম বয়েসী ছেলেপোলেরা গায়ের জামা খোলে আকাশে শূন্যে ছুড়ে মারছে। নাচানাচি করে আনন্দ করছে। ষাঁড় জেতার আগেই তারা উল্লাসে ফেটে পড়ছে। তিন মাথার বাঁকা লাঠি হাতে টোটকাদার ষাড়ের পেছনে পেছনে মাঝ মাঠ পর্যন্ত গেল। শুরু হয় লড়াই। দুই ষাঁড়ের পছনে চিকন বাঁশের লাঠি হাতে অনেক লোক। লড়াই চলছে। বড় বড় চুখা শিং এর ঠাস ঠাস শব্দ। শিং এর চুখা আগা অংশের ঘা খেয়ে ষাঁড়ের ঘাড় গলা রক্তাক্ত। ষাঁড় দুটোর শ্বাস প্রশ্বাসের শব্দ ভয়ংকর শুনা যাচ্ছে। মরিয়া হয়ে ষাঁড়গুলো লড়ছে। কেউ কাউকে নাহি ছাড়ি। মাঠে দর্শকদের মাঝে চরম উত্তেজনা। ‘হইহল্লা চিল্লাচিল্লি আর করতালিতে মাঠ মুখরিত হয়ে ওঠে।
টোটকাদার বাঁকা লাঠি বিভিন্ন ভঙ্গিতে নাচাচ্ছে। সে নিজেও নানা রকম অঙ্গভঙ্গি করছে। নাম জপ করছে। কিন্তু শেষ মেষ কিছুতেই কিছু হলো না। তার টোটকা করা ষাঁড় জান বাঁচাতে দৌড় দেয়। মাঠ ভেঙ্গে সে বাইরে পলায়ন করে। মন্টুদের গাঁয়ের পরাজিত ষাঁড়কে প্রতিপক্ষের ষাড় পেছন থেকে ধাওয়া করে। ষাড়ের পায়ের খুরের চাপে টোটকাদারের পা জখম হয়ে যায়। সে-ই চিৎ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। মন্টুদের গাঁয়ের লোকজন টোটকাদারের প্রতি ক্ষেপে যায়। তারা তাকে নানা ভাষায় গালাগাল দিচ্ছে। কেউ কেউ তার লাল সালু কাপড় ধরে টানতে শুরু করে। টানা হেচড়ার এক পর্যায়ে তার মাথার উপর লাগানো নকল চুল খসে পড়ে। বের হয়ে আসে তার আসল চেহারা। একজন তাকে চিনে চিৎকার করে বলে ওঠে শালার পুত তারার টোটকাদার। নকল সেজে আমাদের ডেকারে হারাইছে। দুই পক্ষের টাকা খাইছে। মার শালার বেটারে। খবর পৌঁছে যায় ষাঁড় জেতার গাঁয়ের লোকজনের কাছে। তাদের টোটকাদারকে মেরে তক্তা বানিয়ে ফেলেছে। শুরু হয় দুই গাঁয়ের লোকজনের মাঝে মারামারি। হাঁক ডাক চিল্লা চিল্লী। চিকন বাঁশের লাঠি উচিয়ে এক গ্রামের মানুষ অন্য গ্রামের মানুষকে মারছে। ধাওয়া করছে। একটু আগের উল্লসিত মাঠ এখন যুদ্ধের ময়দানের রূপ ধারণ করে।
মন্টুদের গাঁয়ের ষাঁড় হেরেছে। তাদের গ্রামের লোকজনের মনে জ্বালা একটু বেশি। মন্টুর চাচা দৌড়ে বাড়ি হতে বন্দুক নিয়ে আসেন। কয়েকটা ফাঁকা গুলি ছুড়তেই মাঠ ফাঁকা। গুলির শব্দ শুনে সবাই যার যার গ্রামে ফিরে যায়। শূন্য মাঠে টোটকাদার কাতরাচ্ছে। ঝন্টু মন্টুও মাঠে নেই। মারামারি বাঁধার পর কে কোথায় গেছে কোন হদিস নেই। আমি একা মাঠের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছি। বাবা পিন্টু। একটু এদিকে এসো। আমাকে ডাকছ। টোটকাদার আমারে ডাকছে। আমার খাবি খাওয়ার মত অবস্থা। আমি ভয়ে ভয়ে ধীর পায়ে তার কাছে এগিয়ে যাই। বাবা পিন্টু ভয় পেয়ো না। আমি সোনা মিয়া। আমারে একটু ধর। আমারে ওঠাও। আমি একটু বসি। মার খাইতে খাইতে আমার জান শেষ। অতি কষ্টে কথাগুলো বলল টোটকাদার। পিন্টু। এ্যাই পিন্টু। তুই কোথায়? ব্যাকুল গলায় মন্টু আমাকে ডাকছে। আমি মাঠের মাঝখানে। তুই ঝন্টুকে নিয়ে চলে আয়। আমি চিৎকার করে বললাম।
ঝন্টু মন্টু দু’জন দৌড়ে ছুটে আসে আমার কাছে। তারা টোটকাদারকে এমন বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখে ভুত দেখার মত চমকে ওঠে।
বাবা ঝন্টু আমি সোনা মিয়া। দরদমাখানো গলায় বলল সোনা মিয়া। চাচা তোমারে চিনতে পারছি। তোমার এমন অবস্থা কেমন করে হলো। ভাগ্যের লিখল বাজান। পরে সব বলমুনে। বাবা। এখন আমারে বাবুপুর বাজারে লইয়া যাও। ডাক্তার আমির উদ্দিনের কিছু ঔষধ খাই। আগে শরীর ভালো হউক।
কথায় আছে মায়ের জন্যে জান আর গাঁয়ের জন্যে প্রাণ। মন্টুর মনে অনেক কষ্ট। টোটকাদার ছলচাতুরি করে তাদের গাঁয়ের ষাঁড়কে হারিয়েছে। কিন্তু সে সোনা মিয়াকে ভাল জানে। সোনা মিয়াকে এমন বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখে তার মনের ক্ষোভ কমে যায়। তার কিশোর কোমল মনটা সোনা মিয়াকে সারিয়ে তুলতে তাড়া অনুভব করে। মাঠের পাশ ঘেষে একটা গরুর গাড়ি যাচ্ছিল। মন্টুর পরিচিত। মন্টু গরুর গাড়ি থামায়। সোনা মিয়াকে গরুর গাড়িতে তুলে আমরা বাবুপুর বাজারে নিয়ে যাই। পল্লী চিকিৎসক আমির উদ্দিন তাকে কিছু ঔষধ দেন। ঔষধ খেয়ে সোনা চাচার মুখে হাসি ফুটে ওঠে।ষাড়ের লড়াইকে কেন্দ্র করে বাজারে সালিশ বসে। চেয়ারম্যান সহ প্রত্যেক গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ সালিশে উপস্থিত হন। গ্রাম থেকে অসংখ্য সাধারণ মানুষ এসেছেন। মন্টু আমাদেরকে রেখে সালিশ বিচার শুনতে চলে যায়।
সোনা মিয়া কিশোর বয়সে আমাদের গ্রামে আসে। কাজ কাম করে। আজ এ বাড়ি কাল ও বাড়ি। একদিন দু’দিন কাজ করল। তিন দিন নেই। ভবঘুরে চলাফেরা। তার বড় গুণ হলো গ্রামে কারো বাড়িতে অনুষ্ঠান হলে সে দিনরাত খাটবে। বিয়ে সাদী, জন্ম মৃত্যু শিন্নী এসব বিষয়ে সোনা মিয়ার দিনরাত পড়ে থেকে কাজ করবে। গ্রামের সবাই সোনা মিয়াকে ভালবাসে। বিপদে আপদে সোনা মিয়া হাজির । কৃষি কাজে তার মন বসে না। কায়িক শ্রম দিয়ে টাকা পয়সা দিয়ে সে সবাইকে সাহায্য করে। সারাদিনে দুবেলা খেতে পারলেই হলো। দরদাম করে সে কোন কাজ করে না। যে যা দেয় তাতেই সে খুশি। সে টাকা পয়সা জমায় না। টাকা পয়সা বেশি হলে সে গরিব ছোট ছোট বাচ্চাদের কাপড় চোপড় কিনে দেয়। পড়–য়াদের খাতা কলম বই কিনে দেয়। গ্রামের সব বাংলা ঘরই তার দখলে। যেদিন যেখানে ইচ্ছে সেদিন সেখানে ঘুমোয়। সোনা মিয়া আমাদের গ্রামের সব পরিবারের সদস্য। সে কথা কম বলে। মাঝে মধ্যে চুপচাপ বসে ধ্যান করে। কেউ কেউ বলে সংসারবিহীন সোনা মিয়া আজকাল টোটকার সাধনা শুরু করেছে। সালিশী লোকজন হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে ওঠে। শোরগোল শুনে ডাক্তার ও ঝন্টু বের হয়ে যায়। ফার্মেসীর পেছনে ধবধবে সাদা চাদরের বিছানায় সোনা চাচা শুয়ে আছে। আমি তার শিয়রে বসা। বাবা পিন্টু তোমারে একটা সত্য কথা বলি। কাউকে বলো না।
জি চাচা কাউকে বলব না।
জাদু-টাদু, টোটকা ফোটকা বলে কিছু নাই। পুরো ব্যাপারটা হলো এক ধরনের ধান্দাবাজি।
তুমি কেন এমন কাজে নামলে চাচা।
পরের উপকারের জন্যে বাবা।
প্রতারণা করে পরের উপকার করা ঠিক না।
ঠিক বেঠিক জানি না। জীবনকে যদি কেউ সুন্দর করতে চায় পরের উপকার করে করতে হবে।
চাচা তুমি তো তোমার জীবনের সারা বেলাই আমাদের গ্রামের মানুষের উপকার করে বেড়ালে। ভাটি অঞ্চলের সরল বিশ্বাসী সাদাসিধে মানুষের সাথে এমন প্রতারণার জাল ফেললে কী জন্যে।
আমার পুরো জীবনটাই পরের উপকারের জন্যে। সব টোটকাদার টোটকার টাকায় জুয়া খেলে নেশা করে। আমি এ টাকায় গরিবের ঘর নির্মাণে বিয়ে সাদিতে সাহায্য করি। মানুষকে সাহায্য সহযোগিতা করা আমার নেশা এবং পেশা।
চাচা, তুমি কেমন করে কী কর একটু খোলে বল শুনি।
আমাদের গ্রাম বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য হলো ষাঁড়ের লড়াই। ষাঁড়কে বিজয়ী করার জন্যে তারা যে কোন মূল্য দিতে প্রস্তুত। আমি গ্রামের ধনি ষাঁড়ের মালিকদের কাছ থেকে এ দুর্বল আবেগময় মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে কিছু টাকা কামাই করি। ভেলকি টেলকি করি। হাবভাব দেখাই। বিরাট কিছু বলে নিজেকে জাহির করি। আমি কৌশলে দুই পক্ষের নিকট থেকে টাকা নেই। যে পক্ষ জিতল সে পক্ষের কাছে আমার খ্যাতি যশ সুনাম বেড়ে যায়। যারা হারে তাদের কাছে ধরা পড়লে কিছু উত্তম মধ্যম খেতে হয়। কিন্তু যখন দেখি জরিনার মেয়ের বিয়ে হচ্ছে টাকায়। খুড়া খালেকের কুঁড়ে ঘরে নতুন টিন রোদে ঝলমল করছে। তখন দেহ মনের সব দুঃখ কষ্ট দূর হয়ে যায়। তুমি তো দেখি চাচা বাস্তব দস্যু বনহুর।
বনহুর কে ভাতিজা?
রোমেনা আফাজের রচিত কাল্পনিক চরিত্র বনহুরের সাথে তোমার অনেক মিল আছে। এসব থাক চাচা। এখনৈ বল তোমার লাঠির ব্যাপার কি? লাঠিতে জাদু টাদু কিছু নাই। এটা একটা গাছের জড়। আগুনে সেকে সেকে সিধা শিকড় বাঁকা করেছি। উপরে নীচে দুইটা তেড়া ডাল ছিল। ছিলে ছিলে সুন্দর করে লোহা গেঁথে মাঝখানে আর একটা মাথা লাগিয়েছি। রঙ করে ঢঙ লাঠি সাজিয়েছি। আমি লাঠির কেরামতির কথা কিছু বলি না। লোকজন ধারণা করে নানা কথা প্রচার করে। আমি এসব আজগুবি কথাবার্তা শুনে মনে মনে হাসি মানুষের সরল বিশ্বাস দেখে।
চাচা, তুমি সহজ সরল সাদা মাটা মনের মানুষের সাথে প্রতারণার ব্যবসা ছেড়ে দাও।
আমি না করলে অন্যজন করবে। তারা টাকা আজে বাজে কাজে ব্যয় করবে। আমি ধনিকে ঠকিয়ে গরিবের উপকার করছি।
চাচা মানুষ এখন শিক্ষার আলোয় আলোকিত হচ্ছে। মানুষ শিক্ষিত হলে কুসংস্কার দূর হবে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষের ছেলেমেয়েরা শিক্ষা দীক্ষা লাভ করছে। তারা সচেতন হয়ে উঠলে তোমার এসব ধান্দাবাজি ঠকবাজি চালবাজি বেশি দিন চালাতে পারবে না। চেয়ারম্যান সাহেব বিবাদ আপোস মিমাংসা করে দেন। বিচার শেষ হতেই মন্টু ঝন্টু ফিরে এলো।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT