সম্পাদকীয় যা সংশয় আনয়ন করে তা বর্জন করো; যাতে তোমাকে বিবেকের তিরস্কার শুনতে না হয়। -আল হাদিস

নদী রক্ষায় ট্রাইব্যুনাল

প্রকাশিত হয়েছে: ২১-০৫-২০১৮ ইং ০১:৫১:৫৩ | সংবাদটি ৬৮ বার পঠিত

নদী রক্ষায় প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনাল গঠন করার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান। সম্প্রতি সিলেটে অনুষ্ঠিত সেমিনারে তিনি এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আলাদা কোর্ট করে দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নদীর জমিতে কখনও দলিল সম্পাদন করা যাবে না। বাংলাদেশে বিদ্যমান আইন অনেক কঠিন। এর সঠিক বাস্তবায়ন হলে কেউ ছাড় পাবে না। তিনি বলেন, নদীর জমি কাউকে বরাদ্দ দেয়া যাবে না। গৃহহীন বলে নদীর জমি দখলেরও কোন যৌক্তিকতা নেই। নদী রক্ষায় প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে। নদী দখলের রীতিমতো মহোৎসব চলছে এ দেশে। যে যেভাবে পারছে নদী দখল করে আমাদের পরিবেশের সর্বনাশ করে চলেছে। এই প্রেক্ষাপটে নদী রক্ষা কমিশন চেয়ারম্যানের ট্রাইব্যুনাল গঠনের ঘোষণা অত্যন্ত সময়োপযোগী। এখন এই ঘোষণা কার্যকর করাই জরুরি।
নদ-নদী মহান সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে মানবজাতির জন্য একটি অনন্য উপহার। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার জন্য নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত, সাগর, হাওর, বিল অবদান রাখে। কিন্তু নানা কারণে নদ-নদী কিংবা সাগর, পাহাড় পর্বত আজকাল বিপর্যয়ের সম্মুখীন। নদীর পানি দূষিত হচ্ছে, নদী ভরাট হচ্ছে, মরে যাচ্ছে অনেক নদী। নাব্যতা হারাচ্ছে নদী। বেদখলও হচ্ছে নদ-নদী। অতীতকাল থেকেই বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত হয়ে আসছে। কিন্তু আজকাল বাংলাদেশকে আদৌ ‘নদী মাতৃক’ বলা যাবে কিনা সেটাই বড় প্রশ্ন। কারণ, আমাদের ঐতিহ্যবাহী নদীগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ভরাট হয়ে নাব্যতা হারাচ্ছে নদী; অপরদিকে নদী হচ্ছে বেদখল। ফলে একসময়ের খর¯্রােতা নদী এখন শুষ্ক মওসুমে শুকিয়ে যায়। লাখ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেক নদীতেই এখন বর্ষায় পাল তুলে নৌকার ছুটে চলার দৃশ্য চোখে পড়ে না।
যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হিসেবে অতীতে নদীর ভূমিকা ছিলো অতুলনীয়। মৎস্য সম্পদের ভান্ডারও এই নদী। অথচ স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশে কমপক্ষে আট হাজার কিলোমিটার নৌপথ হারিয়ে গেছে। এখন বর্ষা মওসুমে নৌপথের পরিমাণ ছয় হাজার কিলোমিটারের বেশি নয়। আর শুষ্ক মওসুমে তা অর্ধেকে নেমে আসে। নদীর তীর ভাঙ্গা ও চর জেগে উঠাও একটা বড় বিপর্যয়। তাছাড়া, ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণেও দূষণের শিকার হচ্ছে নদী। বিশেষ করে শহর নগর এবং আশপাশ এলাকা দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলোতে অবাধে নিক্ষেপ করা হচ্ছে ময়লা আবর্জনা। অর্থাৎ মানুষই নানাভাবে ধ্বংস করছে নদী।
নদী রক্ষায় মানুষের সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি। নদী ধ্বংসকারী সবধরনের আচরণ পরিহার করতে হবে। সরকারকেও নিতে হবে কঠোর পদক্ষেপ। এ প্রসঙ্গে আমরা সাধুবাদ জানাই সরকারের নদী রক্ষা কমিশনকে। এই কমিশন গঠন একটি অতি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। কমিশনের চেয়ারম্যান সিলেটে বলেছেন নদী রক্ষায় কমিশন গঠন করার কথা। সিলেটের প্রায় সর্বত্রই নদী দখলের প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। দখলকারীরা বিত্তশালী ও প্রভাবশালী থাকায় তারা উর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে নদী দখল করে বসে আছে। অনেক সময় তারা আদালতের নির্দেশনাও অমান্য করে। আমরা আশা করবো, নদী দখলমুক্ত করার পাশাপাশি নদীদূষণ ও নদী ভরাট রোধেও নদী রক্ষা কমিশন ভূমিকা রাখবে। নদী রক্ষায় ট্রাইব্যুনাল গঠনের ঘোষণা বাস্তবায়ন হোক অচিরেই।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT