স্বাস্থ্য কুশল

  উন্নত পরিবেশে শিশুর বেড়ে ওঠা

জাহিদা চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ২১-০৫-২০১৮ ইং ০১:৫৩:৪৮ | সংবাদটি ২৪৯ বার পঠিত

শিশুর বেড়ে ওঠায় পরিবেশের প্রভাব অতি গুরুত্বপূর্ণ। শিশু যখন ভূমিষ্ট হয় তখন সে থাকে নিষ্পাপ। শিশুকে পূর্ণাঙ্গরূপে গড়ে তুলতে দরকার উন্নত পরিবেশের। প্রকৃতপক্ষে শিশু যে পরিবেশে জন্মগ্রহণ করে এখন সে থাকে ঐ পরিবেশের পারিপার্শ্বিকতায় আবদ্ধ। যে পরিবেশে শিশু সহজে স্বাচ্ছন্দে বেড়ে ওঠবে সে পরিবেশই তাকে অনন্য মেধার অধিকারী করে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
শিশুর আগ্রহ কৌতুহলকে মেনে নিয়ে তাকে স্বাধীনভাবে সব কিছু জানার আগ্রহ, কৌতুহল মেটানোর জন্য শিশুদের উপযোগি পরিবেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব বড়দের।
শিশুরা অন্যের ভাব ভঙিমা, আচরণ, অনুকরণ করতে পছন্দ করে। শিশুদের অনুকরণ করাকে কখনোই দোষারূপ করা উচিত নয়। এ সময় মা-বাবার উচিত তাদের সামনে ভালো আচরণ করা। তার স্বাভাবিক প্রকাশগুলি তাকে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠতে সাহায্য করে। শিশু বয়সেই নৈতিকবোধ এর সূচনা হয়।
এ বয়সে চাওয়া-পাওয়া ও জানার আগ্রহ বেশি থাকে বলে শিশুর আগ্রহের প্রতি মনোযোগি হওয়া উচিত। শিশুরা নানা রকম পশু-পাখি, গাছ-পালা ভালোবাসে। তাই বাড়ির অঙিনায় ফল ও ফুলের গাছ থাকলে তাদের মন মানসিকতা সুন্দর হয়ে গড়ে ওঠবে।
গাছ-পালা তাদের কৌতুলহ মেটাতে সাহায্য করে। শিশুরা স্বাধীনভাবে খেলাধুলা করতে চায়। খেলার মাধ্যমে শিশুরা অনেক কিছু জানতে পারে। খেলাধুলায় শিশুরা সহজে নিয়ম-শৃঙ্খলা শিখে নিতে পারে। শিশুদের জোড় করে কিছু শেখাতে গেলে তাদের মনের উপর চাপ পড়ে। ফলে তাদের আগ্রহ কমে যায়। শিশুদের আগ্রহকে প্রাধান্য দেয়া উচিত।
অনেক ছোট জিনিসের প্রতি তাদের আগ্রহ দেখা যায়। এ সময় তাদের হাতে নানা রকমের ছবি আঁকার বই, কাগজ, রং পেন্সিল দিলে তারা খুবই আগ্রহী হয় এবং আপনমনে তখন নানা ধরনের ছবি আঁকাআঁকি করতে থাকে। তাদের আগ্রহকে বাড়িয়ে দিতে নানা রকমের রঙিন ছড়ার বই প্রয়োজন। যার মাঝে শিশু খুঁজে পাবে আনন্দ।
শিশুরা ছড়া বলতে এবং শুনতে ভালোবাসে। ছড়া শিখতে ও ছবি আঁকতে আঁকতে ধীরে ধীরে বই-খাতার প্রতি মনোযোগি হয়ে ওঠে, আর তখনই বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য বায়না ধরে। বিদ্যালয়ে তারা পরিচিত হয় বাইরের জগতের সাথে। বিদ্যালয়ে সঙ্গী সাথীদের মাঝে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। ভ্রাতৃত্বের সেতুবন্ধনে জীবনও এগিয়ে চলে। এভাবেই গড়ে ওঠে বিশ্ব মানবতার পারিপার্শ্বিক সম্পর্ক। শিশুর মধ্যে তখন আচরণে অনেক পরিবর্তন আসে।
সুন্দর পৃথিবী তাদের অনেক আনন্দ দেয়। মনের আনন্দে তখন তাদের কাছে সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। শিশুর স্বাভাবিক আচরণে তখন যদি তারা বাধাগ্রস্ত হয় তাহলে সে শিশু হয়ে ওঠে অশান্ত জেদি। শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশে বড়দের আগ্রহী হওয়া উচিত। যাতে শিশুরা আপনমনে তাদের আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারে। শিশুর সার্বিক ও মানসিক বিকাশ হতে হবে আনন্দদায়ক ও অর্থপূর্ণ। শিশুকে মমতাপূর্ণ স্বাচ্ছন্দ পরিবেশে বেড়ে ওঠতে সহায়তা করতে হবে।
একমাত্র পরিবেশের প্রভাবই শিশুর বাড়ন্ত বয়সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সহায়ক হতে হবে। সৃষ্টিকর্তার শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে মানুষকে গড়ে তুলতে হলে উন্নত পরিবেশ গড়ে তুলে শিশুকে সেই পরিবেশে ছেড়ে দিতে হবে যেথায় পরিস্ফুটন হবে তার নব-জীবনের কুঁড়ি।

শেয়ার করুন
স্বাস্থ্য কুশল এর আরো সংবাদ
  •   গরম মশলার গুণাগুণ
  • ফুড সাপ্লিমেন্টের অবিশ্বাস্য কাহিনী
  • রমযানে সুস্থ থাকুন
  • রোগ নিরাময়ে লিচু
  • আগরের যত গুণ
  • উচ্চ রক্তচাপ মুক্তির উচ্চতর গবেষণা
  • নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবনে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে
  • ব্যথানাশক ওষুধ নাকি ফিজিওথেরাপি
  • রোগ প্রতিরোধে তরমুজ
  • কণ্ঠনালির সমস্যা ও প্রতিকার
  • পিত্তথলীর ভেষজ চিকিৎসা
  • ফুটপাতের শরবত আর চাটনি : সংকটে জনস্বাস্থ্য
  • স্মৃতিশক্তি সমস্যা : করণীয়
  • যক্ষ্মা নির্মূলের এই তো সময়
  • মলদ্বারের রোগে পেটের সমস্যা
  • ব্যথার ওষুধ খাবেন সাবধানে
  • অতিরিক্ত ওজন ও স্থুলদেহী প্রসঙ্গ
  • স্বাস্থ্য রক্ষায় খতনা
  • আপনিই সুস্থ রাখতে পারেন আপনার কিডনি
  • এ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্কতা
  • Developed by: Sparkle IT