প্রথম পাতা

রমযানুল মুবারক

শাহ নজরুল ইসলাম প্রকাশিত হয়েছে: ২১-০৫-২০১৮ ইং ০৩:৪৭:৫২ | সংবাদটি ৯০ বার পঠিত

 

আজ সোমবার, ৪ঠা রমযান ১৪৩৯ হিজরি। রহমতের দশকের চতুর্থ দিন। এ মাসের গুরুত্ব তাৎপর্য মাহাত্ম্য ও বরকত সম্পর্কে কম ও বেশি আমরা সকলেই অবহিত।

“রমযান মাস, এতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে তারা যেন এ মাসে সিয়াম (রোযা) পালন করে।” (সূরা বাকারা ২/১৮৫)

রোযা পালনে মহান আল্লাহর এ আদেশ সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তবে কিছু কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে ছাড় আছে। যদি কেউ এমন অসুস্থতায় আক্রান্ত হয় যে কারণে রোযা রাখতে সম্পূর্ণ অক্ষম হয়ে যান বা যে কারণে রোগ বেড়ে যাওয়ার প্রবল আশংকা হয় কিংবা রোগ মুক্তি বিলম্বিত হওয়ার আশংকা হয় তার জন্য এ আদেশ শিথিল করা হয়েছে। অবশ্য রোযা ছাড়তে হলে এ বিষয়গুলো অভিজ্ঞ দ্বীনদার ডাক্তারের পরামর্শক্রমে অথবা নিজস্ব অভিজ্ঞতার আলোকে প্রমাণিত হতে হবে। অন্যথায় শুধু ধারণাবশত রোযা ছাড়া যাবে না। তবে ওযরবশত ছেড়ে দেয়া রোযা পরে অবশ্যই কাযা করতে হবে।

গর্ভবতী ও নিজের সন্তানকে হোক বা অন্যের সন্তানকে দুগ্ধদায়িনী মহিলা রোযা রাখার কারণে যদি নিজের জীবন বা সন্তানের জীবনের ব্যাপারে আশংকা বোধ করে বা রোযা রাখলে দুধ শুকিয়ে যাওয়ার ভয় করে আর এতে সন্তানের কষ্ট হওয়ার প্রবল ধারণা করে, তার জন্য ছাড় আছে অবশ্য পরে এর রোযা কাযা করতে হবে।

শরয়ী মুসাফির, যে ব্যক্তি কমপক্ষে ৪৮ মাইল বা ৭৭.২৪৮ কি.মি. দূরত্বে সফরের নিয়তে ঘর থেকে বের হয়েছে তার সফরে থাকা অবস্থায় ছাড় আছে। এক্ষেত্রে কষ্ট না হলে রোযা রাখাই উত্তম। আর কষ্ট হলে রোযা না রাখা উত্তম। তবে রোযা না রাখলে পরে অবশ্য এর কাযা আদায় করতে হবে।

উল্লেখ্য, রোযা রেখে সফর শুরু করলে ঐ রোযা পূর্ণ করা আবশ্যক। আর রোযা না রাখা অবস্থায় সফর থেকে বাড়ি ফিরলে, দিনের বাকি অংশ পানাহার থেকে বিরত থাকা জরুরী। যদি কেউ পানাহার না করে সফর থেকে এমন সময় বাড়ি ফিরে যখন রোযার নিয়ত করা সহীহ হয়, তবে তার জন্য রোযার নিয়ত করা আবশ্যক। এগুলো হচ্ছে ইসলামের মানবিক দিক। তবে কোন প্রকারের ওযর ব্যতীত রোযা ছেড়ে দেয়া থেকে অবশ্যই বাঁচতে হবে।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘রোযা এবং কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোযা বলবে, হে আমার রব! আমি তাকে দিনের বেলা  পানাহার ও যৌনক্রিয়া থেকে বিরত রেখেছি। তার সম্পর্কে আমার সুপারিশ কবূল করুন। কুরআন বলবে আমি তাকে রাতের ঘুম থেকে বিরত রেখেছি। তার সম্পর্কে আমার সুপারিশ কবূল করুন। তখন এদের সুপারিশ কবূল করা হবে।’

হযরত সাহাল রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘জান্নাতে রাইয়্যান নামক একটি দরজা আছে। এ দরজা দিয়ে কিয়ামতের দিন কেবল রোযাদার লোকেরা প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা দেয়া হবে, ‘রোযদার লোকেরা কোথায়?  তখন তারা দাঁড়াবে, তাদের ছাড়া আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না। তাদের প্রবেশের পরই এ দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। যাতে এ দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ না করে।’

 

 মহান আল্লাহ রমযান মাসকে নিজের ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। সীমাহীন রহমত বরকত এ মাসে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য নির্ধারিত করে রেখেছেন। এ জন্যেই রজব মাস থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের অপেক্ষায় থাকতেন এবং দু‘আ করতেন ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফী রাজাবা ওয়া শা‘বান ওয়া বাল্লিগনা রামাযান।’ ‘হে আল্লাহ! আমাদের জন্য রজব ও শা‘বান মাসে বরকত দান করুন এবং আমাদেরকে রমযান পর্যন্ত পৌঁছে দিন। অর্থাৎ আমাদের হায়াত রমযান পর্যন্ত বৃদ্ধি করে দিন, যেন রমযান আমাদের ভাগ্যে নসীব হয়।

          এতে সৎ কাজের জন্য নিজের হায়াত বৃদ্ধির দু’আ করার বৈধতা প্রমাণিত হয়। কিন্তু মৃত্যু কামনা করা বৈধ নয়। যেমন কেউ প্রার্থনা করলো, ‘হে আল্লাহ! আমাকে দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নিন।’ অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ প্রার্থনা নিষেধ করেছেন।

 মানবজাতীর সর্বোত্তম আদর্শ হচ্ছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম । তিনি জীবনের জন্য যে প্রার্থনা করেছেন তা আমাদের সকলের জন্য অনুসরনীয়। তিনি প্রার্থনা করতেন, ‘হে আল্লাহ্! যতদিন পর্যন্ত আমার জন্য জীবন উপকারী প্রমাণিত হয়, ততদিন আপনি আমাকে জীবন দান করুন। আর যখন মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর প্রমাণিত হয়, তখন আমার মৃত্যু দান করুন।’ প্রেক্ষিতে ফক্বীহ আল্লামা তকী উসমানী বলেছেন, ‘এরূপ প্রার্থনা করাও জায়েয আছে যে, ‘হে আল্লাহ! আমার জীবন দীর্ঘ করে দিন, যেন আপনার সন্তুষ্টি মোতাবেক জীবন গোজরান করার তাওফীক হয়ে যায়। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং এরূপ প্রার্থনা করেছেন যে, হে আল্লাহ! রমযান পর্যন্ত আমার আয়ূ বৃদ্ধি করে দিন।’

          এখানে এ প্রশ্নটি আসতেই পারে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের জন্য এরূপ আকাঙ্খা এবং  অপেক্ষা কেন করতেন? এর উত্তর হচ্ছে, আল্লাহ রমযান মাসকে নিজের মাস বলে আখ্যায়িত করেছেন। আমরা যেহেতু স্থুল দৃষ্টির মানুষ তাই আমরা বাহ্যিকভাবে মনে করি রমযানের বৈশিষ্ট হলো এ মাসে রোযা ফরজ করা হয়েছে। এমাসে তারাবীহর নামায রয়েছে ইত্যাদি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এর তাৎপর্য এখানেই শেষ নয়। বরং রোযা তারাবীহ ইত্যাদি সবই ইবাদত। কিন্তু এসব ইবাদতের মূলে অন্য একটি মহান উদ্দেশ্য নিহিত আছে। আর তা হচ্ছে মহান আল্লাহ এ মাসকে নিজের মাস বলে ঘোষণা করেছেন। এর অর্থ হচ্ছে যে সকল বান্দা এগার মাস পার্থিব ব্যস্ততার মাঝে গাফলতির নিদ্রায় বিভোর থাকে এবং আমার থেকে দূরে থাকে, এই এক মাসে আমি তাদের নৈকট্য দান করি। ইবাদতের মূল উদ্দেশ্য মালিকের রেযামন্দী বা সন্তুষ্টি হাসিল করা। রমযান আমাদের জন্য সৌভাগ্যের সেই দরজা খোলে দেয়। এজন্য মহান আল্লাহ হাদীসে কুদসিতে বলেছেন, ‘রোযা আমার জন্য এবং আমিই তার প্রতিদান দেব/ আমিই তার প্রতিদান হবো।’ মহান আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি হাসিল করার তাওফীক দিন। আমীন।

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • সিলেটে মাজার জিয়ারতে স্পিকার
  • নয়াপল্টনে হেলমেট পরা লোকজন ছাত্রলীগের: ফখরুল
  • দলের সিদ্ধান্ত না মানলে আজীবন বহিষ্কার
  • কুয়াশার আঁচল উড়িয়ে, নতুন ধানের ঘ্রানে হবে নবান্ন
  • সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ডা. মোর্শেদ
  • মেজরটিলায় গ্রেফতার এড়াতে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আসামীর মৃত্যু
  • প্রফেসর এরহাসুজ্জামানের জানাজা আজ
  • সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সিইসির নির্দেশ
  • ডিসেম্বরের পর সংসদ নির্বাচন অসম্ভব: এইচ টি ইমাম
  • বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে দেখে ভারত আনন্দিত ---------শ্রিংলা
  • ৩ সপ্তাহ ভোট পেছানোর দাবি ঐক্যফ্রন্টের
  • ভিডিও দেখে হামলাকারীদের ধরা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে পুলিশের উপর হামলা: ওবায়দুল কাদের
  • নয়াপল্টনে পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষ
  • সিলেট বিভাগে এবার পরীক্ষার্থী ২ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ জন
  • তরুণদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ‘লেটস টক’ স্থগিত
  • জাপার নির্বাচন মহাজোট থেকে
  • এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না অর্থমন্ত্রী
  • ভোট পেছানোর দাবি নিয়ে ইসিতে যাবে ঐক্যফ্রন্ট
  • সিলেটে প্রথম শ্রেষ্ঠ প্রতিবন্ধী কণ্ঠশিল্পী প্রতিযোগিতার বাছাইয়ে ইয়েস কার্ড পেয়েছে ১৮ জন
  • Developed by: Sparkle IT