সম্পাদকীয়

বাড়ছে বায়ু দূষণ

প্রকাশিত হয়েছে: ২২-০৫-২০১৮ ইং ০০:৩৯:২৭ | সংবাদটি ৪০ বার পঠিত

বায়ু দূষণ বাড়ছে। প্রতিনিয়ত এর মাত্রা প্রকট হচ্ছে। শহরাঞ্চলের বায়ু দূষিত হচ্ছে বেশি। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মতে দেশের আটটি শহরের বায়ু সবচেয়ে বেশি অস্বাস্থ্যকর। এর মধ্যে সিলেটও রয়েছে। তাদের মতে- দেশের ছয়টি মহানগর এবং ঢাকার পাশের দু’টি শহরের বাতাস এখন অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। আর এই অবস্থায় বেঁচে থাকার জন্য শ্বাস নিতে গিয়ে মানুষের ফুসফুসে যা ঢুকছে, তা শুধু মৃত্যুকেই ত্বরান্বিত করছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকগণ। তাদের মতে, প্রতিদিন মানুষ দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করে। কিন্তু ফুসফুসে নেয় দুই হাজার লিটার বাতাস। আর এই শ্বাস গ্রহণের সময়ই ফুসফুসে ঢুকে পড়ছে অস্বাস্থ্যকর বস্তুকণা। পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট, ঢাকাসহ ছয়টি মহানগরীর বায়ু পরীক্ষা করার জন্য প্রতিটি নগরীতে একটি করে নির্মল বায়ু পরীক্ষা কেন্দ্র চালু করেছে। প্রতিদিনই এইসব কেন্দ্রে বায়ু পরীক্ষা করে তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
শুধু বাংলাদেশই নয়, বায়ু দূষণের শিকার হচ্ছে বিশ্বের আশি শতাংশ শহরবাসী। এর ফলে তাদের ফুসফুস ক্যান্সারসহ নানা প্রাণঘাতি রোগে আক্রান্ত হওয়ায় ঝুঁকি বাড়ছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, দরিদ্র দেশগুলোর শহুরে বাসিন্দাদের অবস্থা সবচেয়ে বেশি শোচনীয়। নি¤œ ও মধ্য আয়ের দেশগুলোর ৯৮ শতাংশ শহর বায়ুর বিশুদ্ধতা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিত মাত্রা বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। ধনী দেশগুলোরও ৫৬ শতাংশ শহর সেই মাত্রা বজায় রাখতে ব্যর্থ। সংস্থার মতে শহর এলাকায় বায়ু দূষণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে। এটি জনস্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতি করছে। দেখা গেছে, বিগত পাঁচ ছয় বছরে শহর এলাকায় বায়ু দূষণ বেড়েছে কমপক্ষে আট শতাংশ। আর বায়ুদূষণে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর ৩০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে। শিশু, বৃদ্ধ ও দরিদ্ররাই সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণ বলছেন, বায়ু দূষণের কারণে সৃষ্টি হওয়া রোগ বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ। ‘ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ’ নামক এই রোগটির প্রকোপ বিশ্বের পাঁচটি দেশে বেশি। তার একটি হলো বাংলাদেশ। বিজ্ঞানীদের মতে ধূমপান, সড়ক দুর্ঘটনা এবং ডায়াবেটিস এই তিনটি কারণে প্রতি বছর যতো মানুষ মারা যায় বায়ু দূষণের কারণে মারা যায় তার চেয়ে বেশি মানুষ। বায়ু দূষণ ঘটায় সাধারণত মাত্রাতিরিক্ত কার্বন মনোক্সাইড, সিসা, নাইট্রোজেন অক্সাইড, বস্তুকণা ও সালফার ডাই অক্সাইড। শহরগুলোতে নিয়ম কানুন না মেনে রাস্তাঘাট খুঁড়াখুঁড়ি করা হয় এবং ভবন নির্মাণ করা হয়। তাছাড়া রাস্তায় পুরনো অনেক যানবাহন চলাচল করে। সেগুলোর ইঞ্জিন পুরোপুরি শোধন করতে পারে না গাড়িতে ব্যবহৃত তেল। ফলে বাতাসে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়ায়। তাছাড়া, নগরীগুলোর আশেপাশে রয়েছে অসংখ্য ইট ভাটা। এই ইট ভাটাগুলোও নগরীর বাতাস দূষিত হওয়ার জন্য দায়ী।
বায়ু দূষণরোধে নির্দিষ্ট আইন ও বিধিমালা আছে। আছে শাস্তির বিধানও। কিন্তু সেই আইন কার্যকর নেই। বাতাসের মান বৃদ্ধি ও জনজীবনের ক্ষতির মাত্রা কমানোর ব্যাপারে জনসচেতনতা গড়ে তোলায় গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে, কোন নির্মাণ কাজের সময় চারপাশ ঢেকে রাখা ও পানি ছিটানো, রাস্তা খোঁড়ায় সময় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঢেকে রাখা, স্টিল রিবোলিং মিলস ও সিমেন্ট কারখানাগুলোর বস্তুকণা নিয়ন্ত্রণমূলক যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও ধুলোবালি কমাতে বাড়ির চারপাশে সবুজায়ন, ইটভাটায় পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি ব্যবহার এবং যানবাহনের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে বায়ু দূষণের মাত্রা অনেকটাই কমে আসবে। সর্বোপরি বায়ু দূষণ রোধে প্রচলিত আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সক্রিয় হতে হবে পরিবেশ অধিদপ্তরকেও।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT