মহিলা সমাজ

মায়ের জন্য ভালোবাসা

জাহিদা চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ২২-০৫-২০১৮ ইং ০০:৪৬:১০ | সংবাদটি ৬৫ বার পঠিত

বিশ্ব মা দিবস, ১৩ মে। আসলে মায়েদের জন্য কোনো দিবস নেই। সব দিবসই মায়েদের জন্য। মায়েরা আছেন, মায়েরা থাকবেন। প্রতিদিন প্রতিনিয়ত চির জাগরুক আছেন আমাদের মা। সুখে দুঃখে মনের মণিকোঠায় মা সব সময় বিরাজ করছেন। মায়ের আঁচলের ঘ্রাণ, শরীরের ঘ্রাণ কোনো দিনও ম্লান হবে না। আমাদের মা পৃথিবীতে বেঁচে নেই, কিন্তু সব সময় অনুভবে চিন্তা, চেতনায় এখনো মা আছেন। সারা হৃদয় মন জুড়ে প্রতিনিয়ত প্রতিক্ষণ। মা দিবসে সকল মায়েদের প্রতি আমার শশ্রদ্ধ সালাম, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। কোনো কিছুর তুলনা হয় না মায়ের সাথে। মায়ের তুলনা মা নিজেই। মায়েরা সবার সেরা।
আমি আমার মাকে সব চাইতে বেশি কাছে পেয়েছি। খুব ভালোবাসি মা আমি তোমাকে। আমার মাকে নিয়ে আমার সারা জীবন কটিয়ে দিয়েছি। মাকে সেবাযতœ দিয়ে, মায়ের খেদমত করে, সাথে চাকুরি জীবন নিয়ে এতোগুলো বছর আমি পাড় করে এসেছি। মা ছিলেন আমার সুখে দুঃখে সবসময় কাছে। আজ আমার মা-এ পৃথিবীতে বেঁচে নেই। তিনি ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন)।
জীবনের এতোগুলো বছর কিভাবে যে কেটে গেলো মায়ের সান্নিধ্যে টেরই পাইনি। আজ মা ছাড়া আমি বড় একা। মায়ের স্বাদ, আহলাদ, শাসন, সোহাগ পৃথিবীর আর কোথাও খুঁজে পাই না। আমি যখন সকাল বেলা কাজে বের হতাম তখন মায়ের হাসিমাখা মুখখানাতে আদর দিয়ে ঘর থেকে বের হতাম। মা আমার মাথায় হাত রেখে দোয়া দিয়ে বলতেন নিরাপদে যাস। বলতেন মা গো তুই ফিরে এলে আমি খাবো, ঘুমাবো। মায়ের এ যে দোয়া, এটা কোটি টাকা দিয়ে কোথাও পাওয়া যাবে না। আমার সারা মন ও শরীর জুড়িয়ে যেতো মায়ের এ দোয়াতে।
মা অনেকগুলি বছর বিছানায় শয্যাশায়ী ছিলেন। তিনি অপেক্ষায় থাকতেন কখন আমি ফিরে আসি কাজ থেকে। ঘরে ঢুকেই মায়ের হাসিমাখা মুখখানা দেখতাম, মাকে আদর দিতাম, মা খুবই খুশি হতেন এতে। মায়ের এ খুশি দেখে মনে হতো সারা পৃথিবীটা মায়ের খুশিতে আনন্দে ভরে গেছে। সে মুহূর্তের স্মৃতি আজ সোনার টুকরো দিয়ে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। মায়ের স্মৃতি, মায়ের ভালোবাসা চির অম্লান চির জাগরুক থাকবে। মাকে নিয়ে আমি ছিলাম সবচেয়ে সুখি ও শান্তিতে। মা আমাকে একটি মুহূর্তের জন্যও কাছ ছাড়া হতে দিতেন না। সুখে দুঃখে মায়ের পাশে ছিলাম। সেবাযতœ, ভালোবাসা দিয়ে মায়ের খেদমত করেছি। মায়ের এতোটুকু কষ্ট হতে দেইনি। মাকে নিয়ে সব সময় ব্যস্ত সময় কাটিয়েছি। একটা বাচ্চা যেমন মায়ের কোলে মাথা আগলে ঘুমায়, আমার মাও ছিলেন আমার কাছে তেমনি। মায়ের পাশে শুতাম।
রাতের বেলা মাকে জড়িয়ে ঘুমাতাম। মায়ের কোমল মসৃণ হাতখানা আমার মাথায় রাখতেন। মা মেয়ের অনেক কথা হতো। পরম শান্তিতে মা মেয়ে ঘুমিয়ে রাত কাটাতাম। কখনো কোনো অসুবিধা হতে দেইনি মায়ের। আজ আমাদের মা আমাদের সবাইকে ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। তার ছেলে-মেয়েদের জন্য রেখে গেছেন অসংখ্য স্মৃতি, ভালোবাসা, ¯েœহ ও দোয়া। যা কিনা সারা পৃথিবীতে বিরল। মায়ের স্মৃতি, মায়ের অনুভূতি নিয়ে দিনগুলো কাটছে। মায়ের খাওয়া-দাওয়ার প্রতি খুব খেয়াল ছিলো না। গায়ের রং ছিলো দুধে আলতা। পান খেতেন সারাদিন। চিকর সরু ঠোঁট দু’খানা পান খেলে লাল হয়ে থাকতো। সুন্দর ছিলেন তিনি। সব ছেলে-মেয়েদের জন্য প্রাণ ভরে দোয়া করতেন। ছেলে-মেয়েদের কাউকে কাছ-ছাড়া হতে দিতেন না। ভাই-বোন সবাই সময় ও সুযোগ পেলে মা’কে ঘিরে বসে থাকতাম।
মায়ের স্মৃতি শক্তি এতো তীব্র ছিলো যে, আমাদের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবার নাম ঠিকানা বাড়ি-ঘরের খবর রাখতেন এবং জানতেন। সুন্দর সুন্দর ছড়া, কবিতা, গীত বলতে পারতেন। আমাদের সবাইকে এগুলি শোনাতেন। হাসি-মুখে থাকতেন সারাক্ষণ। মায়ের স্মৃতি, মায়ের ভালোবাসা সাথে নিয়ে পথ চলছি। মায়ের গর্ভে জন্ম নিয়েছি বলে আমরা এ পৃথিবীর আলো দেখতে পাচ্ছি। মা আমাদের জন্ম দিয়ে আমাদের পেছনে দিন-রাত সেবা দিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রমে আমাদের বড় করে তুলেছেন। সন্তানদের জন্য পারেন না, এমন কোনো দৃষ্টান্ত মায়েদের নেই। সন্তানদের ভরণপোষণ, লেখাপড়া শিখিয়ে সমাজে সন্তানকে সু-প্রতিষ্ঠিত করতে কোনো মায়েরা পিছ পা হন না। মায়ের এ ঋণ কোনো দিনও শোধ হবার নয়।
মায়ের স্থান সবার উপরে। জন্মের পর মায়ের কোলই সন্তানের প্রধান আশ্রয়স্থল। মায়ের মতো প্রিয় শ্রদ্ধাভাজন আর কেউ হন না। মায়েরা সন্তানের জন্য সবচেয়ে বড় শুভাকাক্সক্ষী ও আপনজন। সন্তানের অসুখ-বিসুখে মা আহার নিদ্রা ছেড়ে সন্তানের পাশে বসে থেকে নিরলস কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করেন। আজ মায়ের শেখানো বোলে বলতে শিখেছি। মায়ের সততা, সহনশীলতা আর নিষ্টাকে পাথেয় করে সুন্দর একটা মন এবং মননশীলতা নিয়ে জীবন কাটাচ্ছি। মায়ের অভাব পূরণ হবার নয়। মা’কে খুব ভালোবাসি, প্রতিনিয়ত, প্রতিমুহূর্ত।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT