উপ সম্পাদকীয়

কাঁদো ফিলিস্তিন কাঁদো

আমীরুল হোসেন খান প্রকাশিত হয়েছে: ২৩-০৫-২০১৮ ইং ০০:২৭:০৫ | সংবাদটি ৫৪ বার পঠিত

দূর নিয়ন্ত্রিত স্নাইপার টিয়ারশেল ও ইসরাইলি বাহিনীর নির্বিচার গুলিতে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৬০ জন! এই নির্বিচার হত্যাযজ্ঞে আহত হয়েছেন ২৭০০ জন। যাদের বেঁচে যাওয়া তেমন কোন অর্থ বহন করে না। জীবনের বাকীটা সময় পঙ্গুত্ব অসহনীয় শারীরিক যন্ত্রণা আর মৃত্যুর চেয়ে ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন তাড়া করে ফিরবে। এবার ই যে প্রথম তা কিন্তু নয়। ফিলিস্তিনিদের এই দুর্দশার শুরু সেই ১৯৪৮ সাল থেকে। তাঁদের নিজস্ব ভূমি জবরদখল করে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠিত হয়। তারপর থেকে ই তাঁদের স্বাধীনতার সংগ্রাম চলছে। এত নগ্ন হামলা ও নৃশংসতা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। জাতিসংঘ সহ আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন করে যুগ যুগ ধরে নির্যাতন নিপীড়ন চলছে! ইসরায়েল এর সব কাজের প্রত্যক্ষ মদদদাতা যুক্তরাষ্ট্র ও তার দোসররা।
আমেরিকার অতীত সব প্রশাসনকে ছাপিয়ে ট্রাম্পের ইসরায়েল প্রীতি। তার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমেরিকান দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে স্হানান্তরের সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়ে গোটা পশ্চিম তীর। সাদা চোখে দেখলে বুঝা কঠিন যে এটা প্রকারান্তরে অবৈধ ইসরাইলের স্বীকৃতি! ফিলিস্তিন তাঁদের নিজস্ব ভূমি আবাস থেক বিতাড়িত। মুসলিম ইহুদী খ্রিস্টান সবার কাছে জেরুজালেম অত্যন্ত পবিত্র স্থান। সেই জেরুজালেম পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের জন্য ইহুদী চক্র তাদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছে। ১৯৪৮ এর যে দিনে ফিলিস্তিন অধিকৃত হয়েছিল সেদিন তার নাকাবা বা মহাবিপর্যয়ে দিবস পালন করে! লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনির রক্ত দুচোখে জল হয়ে ঝরে। পক্ষান্তরে গাজার অপর তীরে তখন ইহুদীরা তখন বিজয় উল্লাসে মাতে। জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর স্পষ্টত আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন। নিরাপত্তা পরিষদের ভোটে পরাজিত হয় এ সিদ্ধান্ত। তাদের দোসররা ভোটদানে বিরত থাকে। নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন মহাবিপর্যয়ের দিনকে বেছে নেয় ট্রাম্প ও ইসরায়েল প্রশাসন। ফোঁসে ওঠে বিক্ষুব্ধ জনতা! একদিকে পশ্চিম তীর রক্তের নদী বয়ে যাচ্ছে অপরদিকে “শান্তির জন্য আমাদের সর্বোচ্চ প্রত্যাশা” সুর লহরীর মুর্ছনায় সকল হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। মাত্র পঞ্চাশ কিলোমিটার দূরে শান্তির সুবাতাস পৌছুতে পারল না। সেখানে তখন ঠা-া মাথায় হত্যাযজ্ঞ! অপরাধ একটাই নিজের ভূমিতে নিজের মত করে বাস করার পূর্ণ স্বাধীনতা চেয়েছিল।
আর কত যুগ আর কত রক্ত দিলে স্বাধীনতা আসবে তা হয়তো ইতিহাস বলবে। একটা জিনিস সত্য যদি এই ফিলিস্তিনিরা তাঁদের সংগ্রাম চালিয়ে না যেত তাহলে এতদিনে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেত। অথচ মধ্যপ্রাচ্যের ই এমন অনেক দেশ আছে যারা ইহুদীচক্রের তাবেদার। আমেরিকান প্রভু ও তাদের কারসাজিতে শুধু ফিলিস্তিন নয় কত দেশ ধ্বংস্তুপে পরিণত হয়েছে। ইতিহাস ঐতিহ্য সমৃদ্ধশালী কত রাষ্ট্র শরণার্থী শিবিরে পরিণত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে শরণার্থীর স্বীকৃতি। আরব বিশ্ব এ সহজ সত্যটা যত শীঘ্র বুঝবে তত মঙ্গল। সব বিচার ব্যবস্থা নীতি নৈতিকতার উর্ধে উঠে যুগের পর যুগ নিষ্পেষণে প্রতিশোধ পরায়ণ হওয়া বিচিত্র কিছু নয়। যদিও ইসলাম কখনো সন্ত্রাসবাদ বা জঙ্গীবাদ সমর্থন করে না! কখনো কখনো বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার কারণে তুলকালাম হয়। বিশ্ববিবেক জাগ্রত হয়ে ছুটে আসে ইসলাম ও জঙ্গীবাদ কে সমার্থক করাতে। কেমন করে জঙ্গী বাননো হয় কেমন করে ইহুদীরা তাদের নিজ স্বার্থ হাসিল করতে ব্যবহার করে তা সমগ্র পৃথিবী জানে! পর্দার আড়ালে থাকা কুশীলবেরা ধরা পড়েছে বহুবার। বুকে পিঠে পতাকা জড়িয়ে প্রাউড টু বি এন এমেরিকান.. প্রাউড টু বি অন্যান্য দোসরদের জড়িয়ে দায়মুক্তির চেষ্টা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ সব মুখর। এ প্রচেষ্টায় আপাত নিরাপদ থাকলে কি হবে কে কখন পাতানো ফাদে ধরা পড়বে কে জানে!বাকী জীবন তৃতীয় শ্রেণীর অভিবাসী হয়ে থাকা নিয়তি নির্ধারিত। এটা কখনো পরিবর্তন হবে না। দখলদার ও তাদের দোসরদের নিয়ন্ত্রণে সব পেপার মিডিয়া। কোন রকমে দায়সারা প্রতিবাদ। সবাই দায়মুক্তি নিয়ে ব্যস্ত। ইতিহাস স্বাক্ষী! কেউ থাকুক না থাকুক নিজেদের অধিকার আদায় করার জন্য মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিরা চিরদিন লড়বে! মৃত্যুর কাছ থেকে জীবনের গান শুনবে। প্রাউড টু বি এ মুসলিম!!!
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • মৃত্যুই দিয়েছে তাঁরে চিরমুক্তি!
  • আমেরিকা : ট্রাম্প শাসনে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রভাব
  • ইলেকট্রনিক ও প্লাস্টিক বর্জ্যরে ক্ষতিকর প্রভাব
  • পরিবহন নৈরাজ্য
  • মাদকবিরোধী অভিযান : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ
  • ছড়াকার বদরুল আলম খান
  • একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিগত দশটি নির্বাচন
  • বইয়ের বিকল্প প্রযুক্তি নয়
  • আগুনের পরশমণি ছোয়াও প্রাণে
  • বাড়ছে প্রবীণের সংখ্যা
  • জনসচেতনতাই পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে পারে
  • এক শারীরিক প্রতিবন্ধীর কথা
  • এই অপসংস্কৃতির অবসান হোক
  • সৈয়দ সুমন আহমদ
  • পানিশূন্য তিস্তা
  • বিদ্যুৎ প্রিপেইড মিটারের গ্যাড়াকলে গ্রাহকরা : দায় কার?
  • পরিবহন ধর্মঘট এবং জনদুর্ভোগ
  • পানি সমস্যা সমাধানে নদী খনন জরুরি
  • শব্দসন্ত্রাস
  • মাধবপুর : যাতায়াত দুর্ভোগ
  • Developed by: Sparkle IT