সম্পাদকীয়

ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ

প্রকাশিত হয়েছে: ২৩-০৫-২০১৮ ইং ০০:৩৮:৫৩ | সংবাদটি ১০৬ বার পঠিত

ট্রেনযাত্রীদের জন্য নতুন আতঙ্কের নাম পাথর নিক্ষেপ। চলন্ত ট্রেনের জানালা লক্ষ করে ঢিল ও পাথর ছুড়ে দুর্বৃত্তরা। এতে আহত হচ্ছেন অনেক যাত্রী। জানা গেছে, দেশের ২০টি জেলার ওপর দিয়ে চলতে গিয়ে শতাধিক স্থানে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে। এতে আহত হচ্ছেন যাত্রী ও রেল কর্মচারীরা। চলন্ত ট্রেনে ছোড়া ঢিলের আঘাতে গত এক বছরে দুই শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এতে ট্রেনের ক্ষতি হয়েছে দুই কোটি টাকা। এই অবস্থায় অপরাধ দমনে জরিমানাসহ অন্যান্য শাস্তি বাড়িয়ে বিদ্যমান আইন সংশোধনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞগণ। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয় ২০১৩ সালে ট্রেনে পাথরের আঘাতে এক প্রকৌশলীর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয় নির্দিষ্ট কয়েকটি স্থানে প্রতিনিয়ত পাথর ও ঢিল ছোড়ার ঘটনা ঘটছে। রেলওয়ের হিসাবে ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পাথর ছুড়ে ট্রেনের দরজা-জানালার কাঁচ ভাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে দুই হাজারের বেশি।
দেশের প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার রেলপথে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর জন্য রয়েছে নানা ধরনের ঝুঁকি। ত্রুটিপূর্ণ রেল লাইন, মেয়াদোত্তীর্ণ রেল সেতু ইত্যাদি সমস্যাগুলো মাথায় নিয়ে যাত্রীরা ভ্রমণ করছেন রীতিমতো সার্বক্ষণিক দুর্ঘটনার ঝুঁকির মধ্যেই। যাত্রীদের জন্য আরেকটি আতঙ্কের বিষয় হলো চলন্ত ট্রেনে ঢিল-পাথর ছুড়ে মারা। বিশেষ করে ২০টি জেলার ওপর দিয়ে চলার সময় ট্রেন লক্ষ করে পাথর ছোড়ার ঘটনা বেশি ঘটছে। রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের কমপক্ষে ২৭টি স্থানে প্রায়ই পাথর নিক্ষেপে আহত হচ্ছেন যাত্রী ও রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এই অপরাধ ইতোপূর্বে দিনের বেলায় বেশি সংঘটিত হতো। ইদানিং রাতেও ঘটছে এই ধরণের ঘটনা। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো, দুর্বৃত্তদের এমন দৌরাত্ম্যের পরও এই অপরাধ বন্ধে রেলওয়ের পক্ষ থেকে নেই জোরালো পদক্ষেপ।
জানা গেছে, ট্রেনে পাথর বা ঢিল ছুুঁড়ে মারার ঘটনার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মামলা হয় না। কোনো কোনো সময় রেলওয়ে পুলিশ একটা সাধারণ ডায়েরি করেই বসে থাকে। তাছাড়া, রেলওয়ের বিদ্যমান আইনে অপরাধের শাস্তি উল্লেখ করার মতো নয়। এই ধরণের অপরাধের সাজা হিসেবে সামান্য আর্থিক জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। আর ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কোনো প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে না। যে কারণে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে চলেছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশ রেলওয়ে পাথর ছোড়ার প্রবণতা বেশি, এমন সব অঞ্চলে জনসচেতনতা তৈরিতে প্রচারণায় নামছে। মাইকিং এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষকে সচেতন করে তোলা হবে। এব্যাপারে বিলি করা হবে প্রচারপত্র।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকার নিয়ন্ত্রিত একটি প্রাচীন প্রতিষ্ঠান। অতীতে রেলপথই ছিলো নিরাপদ ও সাশ্রয়ী ভ্রমণের জন্য যাত্রীদের প্রথম পছন্দ। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এখন সড়ক পথের যথেষ্ট উন্নতি সাধিত হয়েছে। রাস্তায় নেমেছে বিলাসবহুল যানবাহন। যাত্রীরা ঝুঁকছে সড়কপথের দিকে। তারপরেও ট্রেনের গুরুত্ব কমেনি। কিন্তু ট্রেন ‘নিরাপদ ভ্রমণের’ ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারেনি। অনেক ক্ষেত্রেই ট্রেনে ভ্রমণ এখন অনিরাপদ হয়ে ওঠেছে। চলন্ত ট্রেনে ঢিল বা পাথর ছুড়ে মারার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে সাধারণ মানুষকে। সচেতন হতে হবে রেলওয়ে পুলিশকে। তাছাড়া, এই সংক্রান্ত অপরাধের জরিমানা ও শাস্তির মাত্রা বাড়াতে হবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT