সম্পাদকীয় আল্লাহকে ভালোবাসার ইচ্ছা থাকলে আগে মানুষকে ভালোবাসো। -আল হাদিস

তরল দুধ পরীক্ষার নির্দেশ

প্রকাশিত হয়েছে: ২৫-০৫-২০১৮ ইং ০১:৪৭:২৪ | সংবাদটি ৮২ বার পঠিত

বাজারের পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। জনস্বার্থে দাখিলকৃত রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানী শেষে হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এতে বাজারের পাস্তুরিত দুধ নিরাপদ কি-না, তা বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। খাদ্য সচিব, স্বাস্থ্যসচিব ও বিএসটিআই-এর মহাপরিচালককে এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া, নিরাপদ পাস্তুরিত দুধের নিশ্চয়তা দিতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে একটি রুলও জারি করেছেন হাইকোর্ট। বাজারের পাস্তুরিত দুধ নিয়ে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের গবেষণা প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এই রিট দাখিল করা হয়।
গত সপ্তাহে উল্লিখিত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় বিভিন্ন পত্রিকায়। প্রতিবেদনে বলা হয়- দুগ্ধ খামার থেকে শুরু করে বিক্রয়ের দোকান পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে দুধ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা দূষিত: যা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়। তবে এটি শুধুমাত্র বিপদজনক হতে পারে যদি এই দুধ না ফুটিয়ে পান করা হয়। কিন্তু উদ্বেগের বিষয়, বাংলাদেশে প্রায়ই কাঁচা দুধ পানের প্রবণতা দেখা যায়। গবেষণায় পাওয়া গেছে, প্রাথমিক দুধ উৎপাদনকারী পর্যায়ে ৭২ শতাংশ, কোন কোন ক্ষেত্রে ৫৭ শতাংশ নমুনা নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়া দ্বারা দূষিত। অর্থাৎ বাজারের পাস্তুরিত কাঁচা দুধে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তাই এগুলো ভালোভাবে না ফুটিয়ে খাওয়া উচিত নয়।
বাজারের পাস্তুরিত দুধের ব্যাপারে গবেষকদের মন্তব্য হচ্ছে- দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণের বিভিন্ন পর্যায়ে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি দেখে এটি স্পষ্ট বোঝা যায় যে, দুধের পুষ্টিগত গুণাগুণ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। যে কারণে বাজারের ৭৫ শতাংশের বেশি পাস্তুরিত দুধ সরাসরি পানের অযোগ্য। বাজারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পাস্তুরিত দুধসহ প্যাকেটজাত গুড়ো দুধ পাওয়া যায়। এই সব ধরনের দুধেই জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নানা উপাদান পাওয়া গেছে ইতোপূর্বে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণায়। বিশেষ করে আমদানীকৃত গুঁড়োদুধে মারাত্মক ক্ষতিকর নানা পদার্থ ধরা পড়েছে। অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে গুঁড়ো দুধে এই ধরনের ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যায় নি। তবে সম্পূর্ণ দেশে উৎপাদিত তরল দুধে যে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে, তা সত্যি উদ্বেগজনক।
বাজারে ভেজাল-নি¤œমানের পণ্যের সয়লাব। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যে ভেজালের মাত্রা বেশি। কাঁচামাল থেকে শুরু করে ফলমূলে মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ। এ ধারাবাহিকতায় যুক্ত হয়েছে পাস্তুরিত দুধ। তবে এই দুধে প্রক্রিয়াকরণের বিভিন্ন পর্যায়ে মিশে যাচ্ছে ক্ষতিকর পদার্থ। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, পণ্যের মান নির্ণয়কারী সরকারি প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই-এর চোখ ফাঁকি দিয়ে এই দুধসহ অন্যান্য ভেজাল মিশ্রিত পণ্য বাজারে দিব্যি বিক্রি হচ্ছে। আমরা আশা করি হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী বাজারের তরল দুধ পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে এর গুণগত মান নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হবেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT