ধর্ম ও জীবন

শরীয়তের উৎস : একটি পর্যালোচনা

মাওলানা আব্দুল হান্নান তুরুকখলী প্রকাশিত হয়েছে: ২৫-০৫-২০১৮ ইং ০১:৫০:৫৬ | সংবাদটি ৩৮ বার পঠিত

মানবজীবন ও সমাজ সতত পরিবর্তনশীল। এই পরিবর্তন ও বিবর্তনের ধারায় জগতে নতুন নতুন সভ্যতা ও সংস্কৃতির উন্মেষ ঘটে। ফলে নতুন নতুন জিজ্ঞাসা, সমস্যা ও জটিলতার সৃষ্টি হয়। এ সমস্ত সমস্যার সমাধান সভ্যতা ও সংস্কৃতির আলোকেই করতে হয়। ইসলাম অত্যন্ত বিজ্ঞান সম্মতভাবে এসব সমস্যার সার্থক সমাধান করতে সক্ষম। কারণ ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ও সর্বজনীন জীবন বিধান এবং এটি একটি গতিশীল জীবন ব্যবস্থা। কিয়ামত পর্যন্ত আগমনকারী সকল মানুষের জন্য পূর্ণ দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে এই ইসলামে। কুরআন-হাদিসে শরীয়তের বিষয়গুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে এগুলোর দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে সর্বযুগে সর্বকালের মানুষের পক্ষে সকল সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়। ইসলামী শরীয়তের প্রথম ও প্রধান উৎস হচ্ছে মহাগ্রন্থ আল কুরআন। এতে রয়েছে মানবজীবনের সকল সমস্যার সার্থক ও সুস্পষ্ট সমাধান। এ সম্পর্কে ইরশাদ হচ্ছেÑ ‘আমি তোমার প্রতি কিতাব (কুরআন) নাজিল করেছি যাতে রয়েছে সকল সমস্যার সুস্পষ্ট সমাধান।’ (সূরা : নাহল, আয়াত : ৮৯)
অন্য আয়াতে ইরশাদ হচ্ছেÑ ‘এভাবেই অবতীর্ণ করেছি তোমার হৃদয়কে (কুরআন) উহা দ্বারা মজবুত করার জন্য এবং ক্রমে ক্রমে স্পষ্টভাবে আবৃত্তি করেছি। উহারা তোমার নিকট এমন কোনো সমস্যা উপস্থিত করে নাই যার সঠিক সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্যা আমি তোমাকে দান করি নাই।’ (সূরা : ফুরকান, আয়াত : ৩২-৩৩)
ইসলামী শরীয়তের সব ধরনের ব্যাখ্যা, মানবজীবনের সব সমস্যার সার্থক সমাধান পবিত্র কুরআনেই রয়েছেÑ এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে পবিত্র কুরআনের কোনো কোনো আয়াতের অর্থ ও মর্ম সুস্পষ্ট, যা সকলের নিকট বোধগম্য। আবার কোনো কোনো আয়াতের অর্থ ও মর্ম অস্পষ্ট, যা অনেকের নিকট বোধগম্য নয়। পবিত্র আল কুরআনের কোনো কোনো আয়াতে অর্থ ও মর্ম যে সুস্পষ্ট এবং কোনো কোনো আয়াতের অর্থ ও মর্ম যে সুস্পষ্ট নয় এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের ইরশাদ হচ্ছে- ‘তিনিই তোমার প্রতি এই কিতাব (কুরআন) নাযিল করেছেন যার কতক আয়াত সুস্পষ্ট দ্ব্যর্থহীন : এগুলিই কিতাবের মূল অংশ। আর অন্যগুলি রূপক : যাদের অন্তরে সত্য লংঘন করার প্রবণতা রয়েছে শুধু তারাই ফিতনা এবং ভুল ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে যা রূপক তার অনুসরণ করে। আল্লাহ ব্যতিত অন্য কেহ ইহার ব্যাখ্যা জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর তারা বলে- আমরা ইহা বিশ্বাস করি, সমস্তই আমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে আগত : এবং বোধশক্তি সম্পন্ন লোক ব্যতিত অপর কেহ শিক্ষা গ্রহণ করে না’ (সূরা : আল-ইমরান, আয়াত : ৭)
উক্ত আয়াত দ্বারা দিবালোকের ন্যায় প্রমাণিত, পবিত্র কুরআনের সকল আয়াতের অর্থ, মর্ম ও ব্যাখ্যা সুস্পষ্ট নয় একথাটি স্বয়ং আল্লাহপাক বলে দিয়েছেন। প্রশ্ন হলো- যেসব আয়াতের অর্থ ও মর্ম সুস্পষ্ট নয় সেসব আয়াতের অর্থ ও মর্ম জানার জন্য, বুঝার জন্য আমরা যাব কোথায়? ইসলামের বিধান অনুসারে জীবনযাপন করতে হলে তো কুরআনের আয়াতসমূহের সঠিক অর্থ, মর্ম ও ব্যাখ্যা জানতে হবে। সেই জানার জন্য আমরা কার কাছে যাব? হাদিসের বেলায়ও একই কথা। কোন হাদিসের অর্থ ও মর্ম সুস্পষ্ট আবার কোন হাদিসের অর্থ ও মর্ম সুস্পষ্ট নয়। সেই হাদিসের (যে হাদিসের অর্থ ও মর্ম সুস্পষ্ট নয়) অর্থ ও সঠিক মর্ম জানা-বুঝার জন্য আমরা কোথায়, কার কাছে যাব? আল্লাহর বিধান সম্পর্কে জানতে হলে, বুঝতে হলে বা আল্লাহর বিধান অনুসারে জীবনযাপন করতে হলে কাদের অনুসরণ করতে হবে সে সম্পর্কে আল্লাহপাক ইরশাদ করেন- ‘যে রাসূলের আনুগত্য করল সে আল্লাহরই আনুগত্য করল’ (সূরা : নিসা, আয়াত : ৮০)
উক্ত আয়াত দ্বারা প্রমাণ হলো রাসূলের আনুগত্য মানেই আল্লাহর আনুগত্য অর্থাৎ রাসূল (সা.) ইসলামী বিধানের কুরআনের আয়াতের যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সেই ব্যাখ্যাই সঠিক ব্যাখ্যা এবং সেই ব্যাখ্যার অনুসরণ মানেই হল আল্লাহর অনুসরণ। কুরআনের আয়াতের যেসব ব্যাখ্যা রাসূলে পাক (সা.) দিয়েছেন সেসব ব্যাখ্যার বিরোধীতা করা মানেই আল্লাহর বিরোধীতা করা। কারণ রাসূল (সা.) হচ্ছেন ইসলামী শরীয়তের মূল ব্যাখ্যা দাতা। এজন্য রাসূল (সা.) এর আরেক নাম হচ্ছে- ‘শারেহ আলাইহিস সালাম’। অন্য আয়াতে আল্লাহপাক ইরশাদ করেন- ‘হে ঈমানদার! যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস কর তবে তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর, আনুগত্য কর রাসূলের এবং তাদের, যারা তোমাদের মধ্যে উলিল আমর (যা ইলমে শরীয়ত ও ইলমে মারিফতে অগাধ পান্ডিত্যের অধিকারী) কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হলে উহা উপস্থাপন কর আল্লাহ ও রাসুলের নিকট। ইহার উত্তম এবং পরিণামে প্রকৃষ্টতর (সূরা : নিসা, আয়াত : ৫৯)
এ সম্পর্কে আরো ইরশাদ হচ্ছে- ‘যখন শান্তি অথবা শংকার কোনো সংবাদ তাদের নিকট আসে তখন তারা উহা প্রচার করে থাকে। যদি তারা উহা রাসুল কিংবা তাদের মধ্যে যারা ‘উলিল আমর’ (মুজতাহিদ আলেম) তাদের গোচরে আনত, তবে তাদের মধ্যে যারা তথ্য অনুসন্ধান করে তারা (মুজতাহিদ আলেমগণ) উহার যথার্থতা নির্ণয় করতে পারত।’ (সূরা : নিসা, আয়াত : ৮৩)
উক্ত আয়াতগুলো দ্বারা দিবালোকের ন্যায় প্রমাণিত কুরআনের কোনো বিধান বা আয়াতের অর্থ ও মর্ম অস্পষ্ট হলে অথবা কোনো সমস্যা দেখা দিলে তার সমাধানের ভার রাসুল (সা.) এর উপর ন্যাস্ত করতে হবে। রাসুল (সা.) যেভাবে সমাধান দেন সেটা অবশ্যই মেনে নিতে হবে। আর রাসুল (সা.) এর কথা, কাজ ও সমর্থনই হচ্ছে হাদিস। আর রাসুল (সা.) এর অবর্তমানে এইসব সমস্যার সমাধানের ভার ন্যস্ত করতে হবে ইলমে শরীয়ত ও ইলমে মারিফতে অগাধ পান্ডিত্যের অধিকারী মুজতাহিদ আলেমের উপর। মুজতাহিদ আলেমগণ এসব সমস্যার যে সমাধান দিবেন তা অবশ্যই মেনে নিতে হবে। উক্ত আলোচনা থেকে একথাই পরিষ্কার হয়ে গেল কোনো সমস্যা দেখা দিলে প্রথমে এর সমাধান কুরআন দ্বারা করতে হবে। পবিত্র কুরআনে সমাধান সরাসরি না থাকলে হাদিস দ্বারা এর সমাধান করতে হবে, হাদিসে এর সমাধান সরাসরি না থাকলে মুজতাহিদ আলেমগণ ইজতেহাদ করে যে সমাধান দেন তা অবশ্যই মেনে নিতে হবে। ইহা স্বয়ং মহাগ্রন্থ আল কুরআন বলে দিয়েছে। অন্য আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে- ‘যদি তোমরা না জানো তাহলে তোমরা আহলে জিকির বা মুজতাহিদ আলেমদের নিকট থেকে জেনে নাও।’ (সূরা : নাহল, আয়াত : ৪৩ ও সূরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৭)
উক্ত আয়াতেও ইসলামের বিধান সম্বলিত সমস্যায় সমাধান মুজতাহিদ আলেমগণের নিকট থেকে জেনে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মুজতাহিদ আলেমগণকে ইজতেহাদ কিয়াস করে সিদ্ধান্ত দেয়ার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহপাক ইরশাদ করেন- ‘হে চক্ষুষ্মানগণ! তোমরা (ইজতেহাদ করে) শিক্ষা গ্রহণ কর।’ (সূরা : হাশর, আয়াত : ২)
কোনো জটিল ও কঠিন বিষয়ে মুজতাহিদ আলেমগণ সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য পরামর্শ সভাও ডাকতে পারেন। কঠিন বিষয়ে পরামর্শ সভা করে মুজতাহিদ আলেমগণকে সিদ্ধান্ত নেয়ার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহপাক ইরশাদ করেন- ‘আর তাদের কাজকর্ম সম্পাদিত হয় পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে।’ (সূরা : শুরা, আয়াত : ৩৮)
অন্য আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে- ‘কাজে কর্মে তুমি তাদের সাথে পরামর্শ কর।’ (সুরা : আল ইমরান, আয়াত : ১৫৯)
উক্ত আয়াতগুলোতে কোন কঠিন বিষয়ে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোন বিষয়ে ইজতেহাদ করে মুজতাহিদ আমেগণ ঐক্যমত হলে ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় এই ঐক্যমত হওয়াকে ‘ইজমা’ বলে। যেমন হযরত আবু বকর (রা.) এর সময়ে সাহাবায়ে কেরামের ঐক্যমতের মাধ্যমেই কুরআন সংকলনের কাজ শুরু করা হয়। দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.) এর সময়ে বিশ রাকাত তারাবীর নামাজ জামাআতের সাথে আদায়ের ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরামের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়। এভাবেই পরবর্তী যুগগুলোতে ইজমার মাধ্যমে নানা ধরনের কঠিন সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান করা হয়েছে। ইসলামী শরীয়তের তৃতীয় উৎস হচ্ছে ইজমা। ইসলামী শরীয়তের চতুর্থ উৎস হচ্ছে- কিয়াস। কুরআন, হাদিস ও ইজমাতে যে সমস্যার সমাধান পাওয়া যায় না, ইজতেহাদ করে সেই সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান করাকে ‘কিয়াস’ বলে। উক্ত আলোচনা থেকে সুস্পষ্টভাবে এটাই প্রমাণ হলো- ইসলামী শরীয়তের উৎস হলো ৪টি। আর তা হচ্ছে- (১) কুরআন। (২) হাদিস। (৩) ইজমা। (৪) কিয়াস। কোন বিষয় উক্ত চার উৎসের যে কোন একটিতে পাওয়া গেলে সেটাই শরীয়ত সম্মত বলে গণ্য হবে।
আমাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে থাকেন- ‘আমরা কুরআনে যা পাব তা মানব, অন্য কিছু মানবনা’। এমনকি এরা কুরআন ছাড়া অন্য কিছু মানি না মানব না বলে স্লোগান দিয়ে থাকেন। এরা ইসলামী শরীয়তের তৃতীয় উৎস ইজমা ও চতুর্থ উৎস কিয়াসকে তো অস্বীকার করেন এমনকি এরা নবীজির হাদিসকেও অস্বীকার করেন। আমার প্রশ্ন হলো এরা হাদিস, ইজমা ও কিয়াসকে অস্বীকার করে পবিত্র আল কুরআনের সঠিক ব্যাখ্যা পাবে কোথায়? এরা হাদিস, ইজমা ও কিয়াসকে অস্বীকার করে সঠিক ইসলামী আইন, সঠিক ইসলামী শরীয়ত দাবী করে কেমন করে? যারা বলেন- কুরআন ছাড়া অন্য কিছু মানিনা মানব না’ তাদের প্রতি আমার কয়েকটি প্রশ্ন- (১) ইসলামের প্রথম রোকন হচ্ছে- কালিমা। আমরা যে ‘কালিমা তাইয়্যিবাহ’ পাঠ করি তা কি কুরআনে আছে? (২) ইসলামের খুঁটি হচ্ছে নামাজ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সতের রাকাত ফরজ নামাজ। একথা কি কুরআনে আছে? অসুস্থ হলে আমরা ইশারায় নামাজ আদায় করি, বিমানে আরোহণ করেও নামাজ আদায় করতে হয়। ইশারায় নামাজ, বিমানে আরোহন করে নামাজ আদায় করার নিয়মটি কি কুরআনে আছে? নামাজের কাজা করা, কাফফারা দেয়ার বিধানটি কি কুরআনের কোথাও আছে? (৩) আগের মানুষ পায়ে হেটে হজ্জে গমন করতেন। এখন হজ্বে গমন করেন বিমানযোগে। এই বিমানযোগে হজ্বে গমনের বিষয়টি কি কুরআনের কোথাও আছে? (৪) কুরআন শরীফে যের, যবর, পেশ, রুকু ও কুরআনকে ত্রিশ পারায় বিভক্ত করা হয়েছে কুরআন নাযিলের অনেক পরে। প্রশ্ন হলো- কুরআনে যের, যবর, পেশ দেয়া বা কুরআনকে ত্রিশ পারায় বিভক্ত করার নির্দেশ কি পবিত্র কুরআনের কোথাও আছে? এভাবে আরো অগণিত প্রশ্ন। এসকল প্রশ্নের যদি আমরা ‘না’ সূচক জবাব দেই তাহলে স্বাভাবিক প্রশ্ন আসবে এসব করি আমরা কিসের ভিত্তিতে? এর জবাবে আমি নির্দ্ধিধায় ও নিঃসংকোচে বলবো- আমরা এসব করি কুরআন সমর্থিত হাদিস, ইজমা ও কিয়াস অনুসারেই। কারণ হাদিস, ইজমা ও কিয়াস এর অনুসরণ করার কথা পবিত্র কুরআনেই রয়েছে। কুরআন, হাদিস ইজমা ও কিয়াস হচ্ছে একটি অপরটির পরিপূরক। মুজতাহিদ আলেমগণ কুরআন হাদিসের আলোকে ইসলামী বিধানের সঠিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আর এর উপরই আমরা আমল করে থাকি। হযরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) কে ইয়ামনের শাসক হিসেবে নিযুক্ত করে পাঠানোর সময় রাসুল (সা.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন- ‘হে মুআ’জ! যখন কোনো সমস্যার উদ্ভব হবে তখন এর সমাধান কীভাবে করবে? হযরত মুআ’জ (রা.) বললেন- কুরআন অনুসারে। রাসুল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন- হে মুআ’জ! যদি কুরআনে এর সমাধান না পাও, তখন এর সমাধান কীভাবে করবে? হযরত মুআ’জ (রা.) বললেন- নবীজির সুন্নাহর আলোকে। রাসুল (সা.) আবার জিজ্ঞাসা করলেন- হে মুআ’জ! যদি তাতেও না পাও, তখন এর সমাধান কীভাবে করবে? হযরত মুআ’জ (রা.) বললেন- আমি ইজতেহাদ করে এর সমাধান করব। রাসুল (সা.) হযরত মুআ’জ (রা.) এর কথা শুনে অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে বললেন- ‘সকল প্রশংসা সেই আল্লাহ যিনি তাঁর রাসুলের দূতকে রাসুলের সন্তুষ্টি মোতাবেক কথা বলার তৌফিক দান করেছেন।’ (আবু দাউদ শরীফ, পৃষ্ঠা : ৫০৫, মিশকাত শরীফ : পৃষ্ঠা-৩২৪)
উক্ত হাদিস দ্বারা দিবালোকের ন্যায় প্রমাণ হলো- যে বিষয়টি সরাসরি কুরআন হাদিসে নেই এমন বিষয়ে ইজতেহাদ করে আমল করতে হবে। আর ইজতেহাদ করবেন সেই মুজতাহিদ উলামায়ে কেরামগণ। ইজতেহাদের দ্বার কিয়ামত পর্যন্ত খোলা থাকবে। ইজতেহাদের দ্বার কখনও বন্ধ হবে না।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT