ধর্ম ও জীবন

তাফসিরুল কুরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ২৫-০৫-২০১৮ ইং ০১:৫১:১৬ | সংবাদটি ৪০ বার পঠিত

[পূর্ব প্রকাশের পর]
সুরা ফাতেহা : সূরা ইবরাহীমে নবী ও রাসুলগণের এক দলের কথা উল্লেখিত হয়েছে। তাঁরা বলেছেন : অর্থাৎ, ‘কোন মুজেযা দেখানো আমাদের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে না। আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতিত কিছুই হতে পারে না।’ তাই কোনো নবী বা ওলী কোন মু’জেযা বা কারামাত যখন ইচ্ছা বা যা ইচ্ছা দেখাবেন, এরূপ ক্ষমতা কাউকেই দেয়া হয়নি।
রাসুল ও অন্যান্য নবীগণকে মুশরিকরা কতো রকমের মু’জেযা দেখাতে বলেছে, কিন্তু যেগুলোতে আল্লাহর ইচ্ছা হয়েছে সেগুলোই প্রকাশ পেয়েছে। আর যেগুলোতে আল্লাহর ইচ্ছা হয়নি, সেগুলো প্রকাশ পায়নি। কুরআনের সর্বত্র এ সম্পর্কিত তধ্য বিদ্যমান।
তাই এ বিশ্বাস রাখতে হবে যে, সব কিছুই একমাত্র আল্লাহ তা’আলার ইচ্ছাতেই হয়ে থাকে এবং এতদসঙ্গে নবী-রাসুল ও ওলী-আউলিয়াগণের গুরুত্বের বিশেষভাবে স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। এ বিশ্বাস এবং স্বীকৃতি ব্যতিত আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং তাঁর বিধানের অনুসরণ থেকে বঞ্চিত হতে হবে। যেভাবে কোন ব্যক্তি বাল্ব ও পাখার গুরুত্ব অনুধাবন না করে একে নষ্ট করে দিয়ে আলো-বাতাস পাওয়ার আশা করতে পারে না, তেমনি নবী-রাসুল ও ওলী আওলিয়াগণের গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্যের স্বীকৃতি ব্যতিত আল্লাহর সন্তুষ্টি আশা করা যায় না।
সাহায্য প্রার্থনা ও ওসীলা তালাশ করা এবং তা গ্রহণ করার প্রশ্নে নানা প্রকার প্রশ্ন ও সংশয়ের উৎপত্তি হতে দেখা যায়। আশা করা যায় যে, উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা সে সংশয় ও সন্দেহের নিরসন হবে।
সীরাতে মুস্তাকীমের হেদায়েতই দ্বীন-দুনিয়ার সাফল্যের চাবিকাঠি :
আলোচ্য তাফসিরে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে, আল্লাহ তা’আলা যে দোয়াকে সর্বক্ষণ সকল লোকের সকল কাজের জন্য নির্ধারিত করেছেন তা হচ্ছে সিরাতুল মুস্তাকীমের হেদায়েতপ্রাপ্তির দোয়া। এমনিভাবে আখেরাতের মুক্তি যেমন সে সরল পথে রয়েছে যা মানুষকে জান্নাতে নিয়ে যাবে, অনুরূপভাবে দুনিয়ার যাবতীয় কাজের উন্নতি-অগ্রগতিও সিরাতুল মুস্তাকীম বা সরল পথের মধ্যেই নিহিত। যে সমস্ত পন্থা অবলম্বন করলে উদ্দেশ্য সফল হয়, তাতে পূর্ণ সফলতাও অনিবার্যভাবেই হয়ে থাকে।
যে সব কাজে মানুষ সফলতা লাভ করতে পারে না, তাতে গভীর ভাবে চিন্তা করলে বুঝা যায় যে, সে কাজের ব্যবস্থাপনা ও পদ্ধতিতে নিশ্চয়ই কোন ভুল হয়ে থাকে।
সারকথা, সরল পথের হেদায়েত কেবল পরকাল বা দ্বীনী জীবনের সাফল্যের জন্যই নির্দিষ্ট নয়, বরং দুনিয়ার সকল কাজের সফলতাও এরই উপর নির্ভরশীল। এজন্যই প্রত্যেক মুমিনের এ দোয়া তাসবীহস্বরূপ সর্বদা স্মরণ রাখা কর্তব্য। তবে মনোযোগ সহকারে স্মরণ রাখতে ও দোয়া করতে হবে; শুধু শব্দের উচ্চারণ যথেষ্ট নয়।
[সূরা আল ফাতেহা সমাপ্ত]

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT