সম্পাদকীয়

ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর

প্রকাশিত হয়েছে: ২৬-০৫-২০১৮ ইং ০১:৫০:১৬ | সংবাদটি ৫৫ বার পঠিত

দ্রব্যমূল্য আকাশচুম্বি, তার ওপর বিদ্যুৎ বিভ্রাট, বিভিন্ন সেবাখাতের মূল্যবৃদ্ধি। এই সবকিছুই কাবু করে ফেলেছে দেশের সাধারণ মানুষকে। এই অবস্থায়ই আরেকটি দুঃসংবাদ হচ্ছে ‘পানি’। বিশুদ্ধ পানির অভাব। যে নলকূপ থেকে পাওয়া যায় বিশুদ্ধ পানি, সেই নলকূপ এখন নিরাপদ নয়। নলকূপের পানিতে আর্সেনিক নামক ‘বিষ’। তাছাড়া নলকূপের পানিও পাওয়া যাচ্ছে না। সারা দেশে কমপক্ষে ৩০ লাখ নলকূপে পানি উঠছে না। এতে বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্রতর হচ্ছে। একদিকে আর্সেনিক দূষণের জন্য অসংখ্য নলকূপ থেকে পানি উত্তোলন বন্ধ রয়েছে, অপরদিকে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাচ্ছে নীচে। কোথাও কোথাও এক দেড় হাজার মিটার নীচেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশুদ্ধ পানির প্রধান উৎস নলকূপ। ভূ-গর্ভস্থ পানি নলকূপের মাধ্যমে উত্তোলন করে ব্যবহার করা হচ্ছে গৃহস্থালীর সব কাজে এবং সেচে। দীর্ঘদিন ধরে এই ধারা অব্যাহত থাকলেও ইদানিং নলকূপের পানিকে সেভাবে ‘‘বিশুদ্ধ’’ বলা যাচ্ছে না। কারণ দেশের প্রায় ৬১টি জেলায়ই নলকূপের পানিতে ধরা পড়েছে বিষাক্ত আর্সেনিক। আর্সেনিকে আক্রান্ত পানি ব্যবহার করলে মানব দেহে মারাত্মক রোগের জন্ম হয়। আর্সেনিক থেকে বাঁচার জন্য কিংবা পানিকে আর্সেনিক মুক্ত করার কোন উপায় এখনও বের হয়নি। আর এই আসের্নিকের সঙ্গে রয়েছে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, গড়ে প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পানির স্তর ১২ থেকে ১৪ মিটার, অর্থাৎ ৩৫ থেকে ৪০ ফুট করে নীচে নেমে যাচ্ছে। কোথাও তারও বেশী। সারাদেশে অগভীর ও হস্তচালিত নলকূপের সংখ্যা ৯০ লাখের ওপরে। এর মধ্যে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নলকূপ হচ্ছে ১২ লাখ। বাকি নলকূপ বেসরকারী। এইসব নলকূপের ৯০ ভাগেরই পানির স্তর নেমে যাচ্ছে নীচে।
ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ার সমস্যাটি দেখা দেয় প্রতি শুষ্ক মওসুমে। তা অব্যাহত থাকে বর্ষা শুরুর পূর্ব পর্যন্ত। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় নলকূপে পানি ওঠে না। সেইসঙ্গে রয়েছে আর্সেনিক। এই দুই সমস্যা মিলিয়ে একটা দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে রয়েছে দেশের মানুষ। ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের আগে পুকুর-ডোবা, নদ-নদীর পানি ব্যবহার করা হতো সকল কাজে। একে পানীয়জল হিসেবেও ব্যবহার করা হতো। ৭০ এর দশকে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলন শুরু হওয়ার পর মানুষ বিশুদ্ধ পানির জন্য নলকূপের পানির ওপরই হয়ে পড়ে নির্ভরশীল। কিন্তু ইদানিং আর সেই ভরসা থাকলো না। নলকূপের পানি এখন তোলাই মুশকিল হয়ে পড়েছে। আর উত্তোলন করতে পারলেও তাতে রয়েছে আর্সেনিক নামক বিষ।
বিশুদ্ধ পানির প্রধান উৎসই যখন নিরাপদ থাকলো না, তখন তো বিকল্প খুঁজে বের করতেই হবে। আর সেই বিকল্প হিসেবেই বৃষ্টির পানির ওপর ভরসা করছে অনেকে। সরকারও যখন আর্সেনিক মুক্ত পানি সরবরাহ করতে এবং ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিক রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন তারাও বৃষ্টির পানির ওপর ভরসা করতে পরামর্শ দিচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষকে। নানা পদ্ধতি আবিষ্কার করা হচ্ছে বৃষ্টির পানির সংরক্ষণের। নতুন নতুন ভবন নির্মাণের সময় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এছাড়া, পুকুর-ডোবা, নদ-নদীর পানিও বিশুদ্ধ করে ব্যবহার করার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। যা ভারত-মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চালু হয়েছে। এসব ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং আর্থিক সহায়তা দিতে হবে জনসাধারণকে। আর তাই এগিয়ে আসতে হবে সরকারসহ বিভিন্ন এনজিওকে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT