পাঁচ মিশালী

শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই পর্যটন ক্ষেত্র

মো. আশরাফুল আলম প্রকাশিত হয়েছে: ২৬-০৫-২০১৮ ইং ০১:৫১:৩২ | সংবাদটি ২৩২ বার পঠিত

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের এই বাংলাদেশ। পৃথিবীর খুব কম দেশের মানুষ বছরে প্রকৃতির ছয়টি রূপের সৌন্দর্য অবলোকন করতে পারে। অথচ ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কি.মি বাংলাদেশের ১৬ কোটি জনগণ বছরে প্রতি দুই মাস করে ছয় ঋতুর মাধ্যমে প্রকৃতির রূপ পরিবর্তন ও অপার সৌন্দর্য অবলোকন করতে পারে। এই দেশে যুগে যুগে প্রকৃতির কবি, পল্লী কবি, মানবতার কবি, রূপসী কবি, বিদ্রোহী কবি, বিশ্ব কবি সহ অসংখ্য জ্ঞানী, গুণী লেখক, চিত্রশিল্পী, গায়ক, সাংবাদিক, সাহিত্যিকের আর্বিভাব ঘটেছে। সৃষ্টিকর্তা আমাদের জন্মভূমিকে শিল্পীর রংতুলিতে আঁকা ছবির মত সাজিয়েছেন। তাই এই দেশ পর্যটকদের দৃষ্টিতে সৌন্দর্য্যরে প্রতিমূর্তিরূপে চিত্রিত হয়েছে। মরক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা ১৩৪৬ সালে এবং সপ্তম শতাব্দীতে প্রখ্যাত চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাং বাংলাদেশে ভ্রমণে এসে আনন্দে উল্লসিত হয়ে বলেছিলেন, ‘অ ঝষববঢ়রহম নবধঁঃু বসবৎমরহম ভৎড়স সরংঃং ধহফ ধিঃবৎ.’ তিনি কুয়াশা ও পানি থেকে উন্মোচিত ঘুমন্ত সৌন্দর্য হিসেবে এদেশের বর্ণনা করেছেন এবং এই দেশের রূপ সৌন্দর্য, সবুজের মেলা ও মানুষের অতিথিপরায়ণতার ভূয়সি প্রশংসা করেছেন। আমাদের দেশটা শহর থেকে আরম্ভ করে গ্রাম-গ্রামান্তর, অরণ্যানী-সর্বত্রই যে পর্যটনের স্থান। বাংলাদেশের অসংখ্য পর্যটন স্পট এর মধ্যে গোয়াইনঘাট উপজেলার অন্তগর্ত বিছনাকান্দি অন্যতম। বিছনাকান্দির পাথর, বালু ও পানির রসায়ন মিশ্রণে একটা যাদু আছে যা বারবার ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে টানে। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই বিছনাকান্দি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আমার এক ঘনিষ্ট বন্ধু সপরিবারে ঢাকা থেকে আমার বাসায় বেড়াতে আসে বিছনাকান্দি ঘুরতে যাবার উদ্দেশ্যে। পরের দিন আমার পরিবার সহ সবাই বিছনাকান্দির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি। গাড়ীর ড্রাইভার ক্যাসেট প্লেয়ারে গান ছাড়লেন। প্রয়াত প্রখ্যাত গায়ক বারী সিদ্দিকীর কন্ঠে গাওয়া ‘এই পৃথিবী যেমনই আছে, তেমনই ঠিক রবে, সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে একদিন চলে যেতে হবে রে মন, চলে যেতে হবে...’ এই গান শুনতে শুনতে আমরা আম্বরখানা ছেড়ে লাক্কাতুরা চা বাগানে প্রবেশ করার সাথে সাথে ভ্রমণের আনন্দটা বহুগুণ বেড়ে গেল। ইট ও পাথর দেওয়ালে বেড়ে উঠা ঢাকাবাসী বন্ধুর পরিবার যখন সকালে শিশির ভেজা চা পাতার উপর সূর্য কিরণ ও হিমশীতল আবহাওয়া এবং সতেজ ও স্নিগ্ধ চা পাতার গন্ধ নিচ্ছিল তখন জোয়ারের পানির মত তাদের পাঁচটি ইন্দ্রিয়ই সক্রিয় হয়ে গিয়েছিল। গাড়ীটা মনুষ্যহীন মনে হল। সবাই যেন স্বপ্নের দেশে হাবুডুবু খাচ্ছিল। স্বপ্ন দেখা মানুষগুলোর মনে প্রথম ভাটা পড়ল যখন আমাদের গাড়ীটা সালুটিকর রাস্তার মুখে প্রবেশ করল। গাড়ী যতই এগুচ্ছে সরলদোলকের মতন দুলছে। গাড়ী যেভাবে দুলছিল মনে হচ্ছিল, আমরা কোন ভূমিকম্পের দেশে প্রবেশ করেছি যার রিকটার স্কেল ৬-৭। রাস্তার কল্যাণে গাড়ীর ঝাকুনির সাথে সাথে আমাদের দেহও দুলছিল। ছোটবেলায় দোলনা চড়ার অনেক স্বপ্ন ছিল কিন্তু ব্যথা পাওয়ার ভয়ে দোলনা চড়ার অনুমতি ছিলনা। আজ রাস্তার আশীর্বাদে আমরা সবাই দোলছি। গাড়ী যতই এগোচ্ছিল দোলনকালও তত বেড়ে যাচ্ছিল। আবার কোন সময় গাড়ীর দেওয়ালের সাথে ধাক্কা লাগছিল। গাড়ীটির জন্য খারাপ লাগছিল যে আমরা সবাই মিলে তাকে মেরে যাচ্ছি আর সে খাচার মধ্যে আমাদের নিরাপত্তায় রেখেছিল তা না হলে আমরা সবাই ডানাহীন পাখি হয়ে আকাশে উড়ে যেতাম। এই রাস্তা দিয়ে গেলে মানুষ ডানাহীনভাবে উড়তে পারে। গাড়ি যতই এগুচ্ছিল ছোটবেলায় পঠিত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আষাঢ়’ কবিতাটি ততই মনে পড়ছিল- ‘ওগো, আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে।’ আমাদেরকে কে যেন বলছে, তোরা যাসনে আরও সামনে কারণ, সামনে আরও খানাখন্দে ভরা, পড়বি যে তোরা ধরা। বাস্তবে আমরা দেখতে পেলাম যে, গাড়ী যতই এগুচ্ছে, রাস্তার মধ্যে খানাখন্দের পরিমাণ ততই বাড়ছে। রাস্তার মধ্যে সৃষ্ট পুকুর দিয়ে আমাদের গাড়িটি যখন যাচ্ছিল তখন ভয়ে গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। কারণ সাইলেন্সারের মধ্যে পানি প্রবেশ করলে গাড়িটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তখন আমাদের সবাইকে রাস্তার মধ্যে সৃষ্ট পুকুরে নেমে গাড়ি ধাক্কা দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের গাড়িটি এগিয়ে যাচ্ছিল। এই সব পুকুরে পানি আছে কিন্তু মাছ নাই। এই সব ছোট ছোট পুকুরে যদি মাছ চাষ করা যেত তাহলে দেশে আমিষের চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যেত। মাছ রপ্তানিকারক হিসাবে চতুর্থ না হয়ে প্রথম হতে পারতাম। রাত যতই গভীর হতে থাকে, প্রভাত ততই নিকটে আসতে থাকে। অবশেষে বৃষ্টি ভেজা শরীর ও প্রতিকূল রাস্তার সাথে যুদ্ধ করে সাত সমুদ্র তেরো নদী পার হয়ে হাদারপার বাজার এলাকায় পৌঁছালাম। এখান থেকে নৌকাযোগে মেঘালয় পর্বত থেকে আসা পিয়াইন নদী দিয়ে বিছনাকান্দি মূল স্পটে যাওয়ার জন্য যাত্রা শুরু করলাম। এ সময় দেহের মধ্যে আনন্দের শিহরন অনুভব করলাম। এক নিমিষে পথের ক্লান্তি সব ভুলে গেলাম। আমরা বাঙ্গালী। আমাদের আবেগ, ভালোবাসা, মায়ামমতা, অতিথিপরায়ণতা, দেশপ্রেম অন্য যে কোন জাতি থেকে বহুগুন বেশি। যে দেশে আছে পাহাড়, নদী, পাথর, সমুদ্র, ম্যানগ্রোভ, সোয়াম্প ফরেষ্ট, ভাষাশহীদ, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, গোলা ভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ, আর আছে সোনালী ফসল সেই দেশে সোনার মানুষ ও ভ্রমণপিপাসু থাকবেই। স্থানীয় জনগণ যার যার সাধ্যমত দেশী ও বিদেশী পর্যটকদের সাহায্য ও সহযোগিতা করছে। নৌকা ভাড়া সহ অন্যান্য কাজে আমরা স্থানীয়দের অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। নৌকা দিয়ে নদীর আঁকাবাকা পথ দিয়ে যখন মূল স্পটের দিকে যাচ্ছিলাম তখন দৃষ্টি পড়ল আকাশের সাথে পাহাড়ের মিতালি। মেঘগুলো ফেরিওয়ালার মত ভেসে যাচ্ছে এদিক ও ওদিক। নদীর দুইধারে সোনালী ফসল, নদীতে ঝাপিয়ে পড়ছে ফটিকের মত দুরন্ত কিশোর। নদী থেকে বালু তুলছিল শ্রমিকেরা। রকেটের গতিতে আসা ও যাওয়া করচ্ছিল অসংখ্য নৌকা। ফিরতি পর্যটকদের মুখমন্ডল ছিল বিষন্নতায় ভরা। মনে হচ্ছিল, তারা কি যেন ফেলে এসেছে। অবশেষে আমাদের নৌকা পৌঁছল বিছনাকান্দির মূল স্পটে। পাহাড়ের পাদদেশে হাজার হাজার মানুষ। শত শত নৌকার ভিড়। এ যেন প্রকৃতির মিলনমেলা। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবাই পাথরের পানিতে স্নান করছে। পানির কলকল শব্দের সাথে সাথে ভ্রমণপিপাসুরা চিৎকার করে বলছে কি শান্তি! কত মজা! কত আনন্দ আকাশে-বাতাসে। কেউ কেউ বলছে, যাদু আছে পাথর ও পানিতে, শুধু কাছে টানে। কেউ কারো কথা শুনছে না। শুনছে না শাসন-বারণ, এ যেন প্রকৃতির সাথে মানুষের আত্মার বন্ধন। সবাই যেন মরুভূমির তৃষ্ণার্ত মানুষের মত পাহাড়ের বুক ছিন্ন করে হাজার হাজার মাইল দূর থেকে প্রবাহিত হয়ে আসা পাথর বেষ্টিত শীতল পানির দিকে ছুটছে। পানির স্পর্শ করার সাথে সাথে দেহের মধ্যে বিদ্যুৎ গতিতে মায়ার স্পন্দন ছড়িয়ে পড়ল। পাথর ও পানি রাসায়নিক মিশ্রণে আমরা সবাই মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পড়লাম। দূর থেকে আসা আসরের আযানের ধব্বনি কানে এসে লাগল। বুঝতে পারলাম চলে যাবার সময় এসেছে কিন্তু পাথর, পানি, দেহ ও মন চারটি উপাদান মিলিত হয়ে এমন একটি সংকর তৈরী হয়েছে যে একটি ছাড়া অন্যটি চলা বড়ই দায়। জীবনের তাগিদে এই মায়ার বন্ধন ছেড়ে নতুন প্রাণশক্তি, বুকভরা ভালোবাসা ও সুখময় স্মৃতি নিয়ে আসলাম। ভিজা কাপড়, মানসম্মত খাবার ও প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার ভালো ব্যবস্থা ছিল না। সবাই ভিজা কাপড় নিয়ে গাড়ীর দিকে যাত্রা শুরু করলাম। পর্যটক হিসাবে কর্তৃপক্ষের নিকট আমাদের প্রত্যাশা থাকবে যে, ১) নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা গেস্ট হাউস ব্যবস্থা করা ২) মানসম্মত খাবার রেস্টুরেণ্ট ও হোটেল এবং তা হতে হবে পর্যটকদের সাধ্যের মধ্যে ৩) সড়ক, বিমান ও নৌপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকরণ, সহজলভ্যও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আনন্দের বিষয় হচ্ছে যে, বিমানবন্দর থেকে কোম্পানীগঞ্জ পর্যন্ত আরসিসি রাস্তার নির্মাণ কাজ চলছে। নির্দিষ্ট সময়ে এই কাজ শেষ হয়ে আনন্দদায়ক ও নিরাপদ সড়ক হবে এটাই সবার প্রত্যাশা, ৪) ছিনতাইকারী ও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেই জন্য পর্যটন পুলিশ এবং কেউ অসুস্থ হলে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া জন্য ভ্রাম্যমাণ ডাক্তারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস এর ব্যবস্থা করা। ৫) যানবাহন ভাড়া নির্দিষ্ট করে দিতে হবে এবং সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে ৬) প্রাকৃতিক পরিবেশ ও পর্যট স্পটগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে ৭) পর্যটন স্পটগুলোর মত জাতীয় সম্পদগুলোকে রক্ষা করা এদেশের নাগরিক হিসেবে সকলের দায়িত্ব। এই ব্যাপারে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে ৮) দেশের দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক ক্ষেত্রে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকে আরো জোরাল ভূমিকা পালন করতে হবে ৯) প্রতিটি পর্যটন স্পটে পরিকল্পিত উপায়ে আধুনিক ও উন্নত মানের কুটির শিল্পের বাজার গড়ে তুলতে পারলে স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক হবে ১০) পর্যটন শিল্পকে পূর্ণরূপে বিকশিত করতে হলে সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে বেসরকারী বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। যেমন বিভিন্ন পর্যটন স্পটের পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য আবাসন, পরিবহন, খাদ্যসহ সকল ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রনোদনার ব্যবস্থা করতে পারলে উচ্চবিত্ত পরিবারের সাথে সাথে মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো ভ্রমণ করতে আগ্রহী হবে। যেমন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড এবং ইন্দোনেশিয়ায় পর্যটকদের গড়ে ১০% কম কর দিতে হয়। ভারত সরকার এই খাতে ২১০ বিলিয়ন ডলার প্রণোদনা ও কর কমানো পরিকল্পনা করছে। পৃথিবীর অনেক দেশই পর্যটন শিল্পের মাধ্যমে নিজেদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে করেছে। বিশ্বের প্রথম সারির পর্যটন দেশেরগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, ফ্রান্স, চীন, ইতালি, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, মরক্কো ও তুরস্ক রয়েছে। এশিয়ার মধ্যে চীনে প্রায় ৫৫.৬ মিলিয়ন, মালয়শিয়ায় ২৭.৪ মিলিয়ন, থাইল্যান্ডে ২৪.৮ মিলিয়ন, সিঙ্গাপুরে ১৫.০ মিলিয়ন, বাংলাদেশে মাত্র ৬ লক্ষ (২০১২) পর্যটক ভ্রমণ করে। এর ফলে এইসব দেশের হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন ও শপিং মলগুলো সারাবছর পর্যটক দ্বারা পরিপূর্ণ থাকে। এইসব দেশে প্রতিবছর প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। সেই সঙ্গে আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক চাকা ত্বরান্বিত হতে থাকে। পর্যটনের মাধ্যমে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয় বলে একে “ওহারংরনষব ঊীঢ়ড়ৎঃ” বলা হয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একমাত্র পথ এ পর্যটন শিল্প। বাংলাদেশ অঞ্চলে পর্যটন শিল্পের সূত্রপাত ঘটে ষাট এর দশকে। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু আধুনিকায়ন ও প্রচারের অভাবের কারণে এই শিল্পটি কাঙ্খিত মানে পৌঁছাতে পারেনি। জিডিপিতে পর্যটন শিল্পের অবদান মাত্র ৪.৩% অথচ ভারতে ৯.৬%, শ্রীলাঙ্গায় ১১.৪%, মালয়শিয়ায় ১১.৪%, থাইল্যান্ডে ২০.৬%। বাংলাদেশের মত একটি অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ পর্যটনের জন্য খুবই উপযোগী। যুগ যুগ ধরে দেশী বিদেশী পর্যটকদের নিকট বাংলাদেশ চির সবুজে ঘেরা এক স্বপ্নের দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু এবং প্রাচীন সভ্যতার একটি কেন্দ্র হিসেবে আকর্ষণ করার মত অনেক সম্পদ রয়েছে এদেশে। কিন্তু প্রতিবেশী ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপ পর্যটন শিল্পে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। ২০১৬ সালে ভারতে বাংলাদেশ থেকে ১.৩৭ মিলিয়ন লোক ভ্রমণে যায় এবং এছাড়া এ খাতের ৮৮ শতাংশই অভ্যন্তরীণ পর্যটক। তাই দেশীয় পর্যটকদের প্রতি আকুল আবেদন, বহু সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষা ও এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের মাতৃভূমির দর্শনীয় স্থানগুলো দেখুন, জানুন ও এর রূপসূধা পান করুন। নতুন প্রজন্মকে এ বিষয়ে উৎসাহিত করুন। ভ্রমণের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে যে উপলব্ধি, জ্ঞান-শিক্ষা-সৌন্দর্য, অনুপ্রেরণা সৃষ্টি হয় তা চির অমলিন, অনির্বাণ হয়ে থাকে ভ্রমণকারীর হৃদয়পটে। তাই সারাবিশ্বের ভ্রমণকারীদের উদ্দেশ্যে কবির ভাষায় বলতে চাই, ‘এমন দেশটি কোথাও খোঁজে পাবে নাকো তুমি, সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি’।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT