উপ সম্পাদকীয়

কৃষিতে শ্রমিক সংকট নিউটন মজুমদার

প্রকাশিত হয়েছে: ২৭-০৫-২০১৮ ইং ০১:৪৮:৫৭ | সংবাদটি ৪৮ বার পঠিত

বাংলাদেশ জনবহুল কৃষিনির্ভর উন্নয়নশীল এক রাষ্ট্র। এদেশের অভ্যন্তরীণে রয়েছে বিপুল খাদ্য চাহিদা। তাই এদেশে কৃষিখাত কোনোভাবেই অবহেলার নয়। তারপরও প্রাকৃতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কারণে এদেশের কৃষি ও কৃষকসমাজ আজ নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন।
গতবছর এই ধানকাটা মৌসুমেই পাহাড়ি ঢলে ভেসে যায় সিলেটের হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত, নিঃস্ব হয় লাখ লাখ কৃষক। তবে এবার প্রকৃতি এতটা রুষ্ট না হলেও ঝড়-বৃষ্টি ব্যাপক হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন বৃষ্টির পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি এ পানিতে ফসল ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। তবে আশার কথা হলো, প্রায় নব্বই ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে হাওর অঞ্চলে। এরপরও কৃষকদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। কিন্তু এবার কৃষিতে সবচেয়ে বড় অন্তরায় কৃষি শ্রমিক! ফসল দ্রুততার সহিত কেটে ঘরে তুলতে যে পরিমাণ কৃষি শ্রমিক প্রয়োজন, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। আবার যে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে তাদের বাজারমূল্য অত্যন্ত উচ্চ। সরেজমিনে দেখা যায়, এখন একজন ধানকাটা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি স্থানভেদে ৬শ থেকে ৯শ টাকা পর্যন্ত, যা এক মণ ধানের বাজারমূল্য থেকেও অধিক। এ বছর ধানকাটা মৌসুমে এক মণ মোটা চাউলের ধানের বর্তমান বাজারমূল্য মানভেদে ৫শ থেকে ৬শ ৫০টাকা পর্যন্ত এবং চিকন চাউলের ধান মানভেদে ৬শ থেকে সর্বোচ্চ ৭শ ৭৫টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, যা কৃষকদের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একজন কৃষি শ্রমিক দৈনিক সর্বোচ্চ ১০-১২ শতক জায়গার ধান কাটতে পারেন। কিন্তু তার জন্য তাকে এত উচ্চমূল্য প্রদান করে কৃষকদের প্রকৃতার্থে লোকসান ছাড়া লাভ খুব কমই হয়। তাছাড়া জমি যদি বর্গা করা হয়, তাহলে কৃষকের অবস্থা আরো ভয়াবহ হয়। অপরদিকে, এ বছর এত গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে কৃষকেরা ধান কেটে বাড়িতে এনেও সেগুলো শুকিয়ে ঘরে তুলতে পারছেন না। এছাড়া বজ্রপাতের তীব্রতা বৃদ্ধির দরুন একটু মেঘ-বৃষ্টি হলেই ভয়ে তারা বাড়ি ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে একদিকে কৃষকেরা চড়ামূল্যের শ্রমিক নিয়ে কাজ করে অগ্রসর হতে পারছেন না, অন্যদিকে ধান বেশি পাকার ফলে জমিতেই তা অঙ্কুরিত হয়ে যাচ্ছে, আর পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার ভয় তো থাকছেই।
অবশ্য এ বছর কৃষি বিভাগের আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং ব্যাপক সহযোগিতা ও তত্পরতায় সিলেটের হাওরাঞ্চলের ধানকাটা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলেও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে কৃষি শ্রমিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর প্রথম কারণ হচ্ছে কৃষিতে বার বার লোকসান করার কারণে কৃষিশ্রেণি পেশার মানুষ তাদের এ পেশায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন এবং তারা পেশা পরিবর্তন করছেন। ফলে তারা শহরমুখী হচ্ছেন এবং সেখানে যেয়ে নগদ রোজগারের পন্থা হিসেবে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। নতুবা রিকশাচালক বা মজুরের পেশা বেছে নিচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির অভাব এবং আধুনিক চাষাবাদে অদক্ষতা। তাই কৃষিপদ্ধতির এসকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে নিম্নোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে “কৃষির আধুনিকায়ন নিশ্চিত করা এবং কৃষি অধিদপ্তর হতে কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা; কৃষি মন্ত্রণালয় হতে বিনা সুদে কিস্তি ভিত্তিক ঋণ পদ্ধতিতে কৃষকদের আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা, কারণ এ যন্ত্রগুলো ক্রয় অনেক ব্যয়বহুল; ভূমিহীন বর্গা বা ভাগ চাষিগণ যাহাতে ব্যাংকের ঋণ সুবিধা পেতে পারে তার ব্যবস্থা করা, কারণ বর্তমান কৃষি ঋণের সুবিধা আমাদের দেশের ভূমিহীন চাষিরা পান না; উচ্চফলনশীল আগাম জাতের ধান চাষে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা, কারণ ধান কাটতে বেশি দেরি হলে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থাকে; সারের বাজার উন্মুক্ত করা, যাহাতে কৃষকেরা সুবিধামত যেকোন স্থান থেকে সময়মত পর্যাপ্ত সার ক্রয় করতে পারেন; কৃষিক্ষেত্রে সার, কীটনাশক, বীজ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক জিনিসে ভর্তুকি প্রদান বৃদ্ধি করা; প্রয়োজনীয় বাঁধ, স্লুইচগেট নির্মাণ করে পানির তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ করা, যেন ফসলগুলো অসময়ে ডুবে যেতে না পারে; সর্বোপরি কৃষকদের উত্পাদিত পণ্যের যথাযথ বাজারমূল্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা প্রদান করা, তাহলে কৃষকেরা তাদের এ পেশায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন না।” মনে রাখতে হবে‘আজ কৃষাণ-কৃষাণির মুখে হাসি, জাতির জন্য অতি জরুরি।’ এবং ‘কৃষক বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, আর কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে।’
লেখক : শিক্ষার্থী।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ডা. দেওয়ান নূরুল হোসেন চঞ্চল
  • দেশীয় চ্যানেল দর্শক হারাচ্ছে কেন?
  • বিশ্ব বরেণ্যদের রম্য উপাখ্যান
  • আশুরা ও কারবালার চেতনা
  • জলবায়ু পরিবর্তন ও সংকটাপন্ন বন্যপ্রাণী
  • অধ্যাপক ডাক্তার এম.এ রকিব
  • শিশু নির্যাতন ও পাশবিকতা
  • প্রবীণদের প্রতি নবীনদের কর্তব্য
  • রাজনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে আগস্টের শোকাবহ ঘটনাবলী
  • সংযোগ সেতু চাই
  • টিবি গেইট ও বালুচরে ব্যাংকিং সুবিধা চাই
  • হাসান মার্কেট জেল রোডে স্থানান্তর হোক
  • ২৭নং ওয়ার্ডের কিষণপুর-ঘোষপাড়ার রাস্তা মেরামত প্রসঙ্গে
  • প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ
  • দেশীয় রাবার শিল্প বাঁচান
  • পরিবর্তিত হও : ছকের বাইরে ভাবো
  • শিক্ষা ও চিকিৎসায় প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর পরিবেশ
  • কতটা ভালোবাসি দেশ?
  • রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান আন্তর্জাতিক চাপেই সম্ভব
  • শুধু একবার বলুন : আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি
  • Developed by: Sparkle IT