উপ সম্পাদকীয়

আকাশ এতো মেঘলা

ইনাম চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ২৭-০৫-২০১৮ ইং ০১:৪৯:৪২ | সংবাদটি ৪৮ বার পঠিত

জাতীয় সংবাদপত্র সমূহ জানিয়েছে সারা দেশব্যাপী তুমুল কালবৈশাখীর ছোবল এবং তৎপরবর্তী ধ্বংস লীলার কথা। বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটিয়েছে সাম্প্রতিক এই কালবৈশাখী। হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার এলাকায় এটির তান্ডব ছিলো ব্যাপকতর। মৌলভীবাজার শহর ও সন্নিহিত এলাকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পুরো আঠারোটি ঘন্টা সারা শহর ও আশপাশ অন্ধকারে তলিয়ে ছিলো। শ্রীমঙ্গল আর হবিগঞ্জ থেকে আসা দুটো বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনই বিপর্যস্ত হয়ে যাওয়ায় মেরামত করে স্বাভাবিক সঞ্চালনে আসতে সময় লেগেছে বিস্তর। তাই এই দুরবস্থা। একজন দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তি (বিদ্যুৎ) বলেছেন যদি মৌলভীবাজার শহর বা সংলগ্ন এলাকায় একটি গ্রীড উপকেন্দ্র থাকতো তাহলে বোধহয় সমস্যাটি হতো না কারণ শ্রীমঙ্গল আর হবিগঞ্জ পর্যন্ত এতো লম্বা লাইনটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করে ত্রুটি বের করে তারপরে বিদ্যুৎ সরবরাহে স্বাভাবিকতা আনা সম্ভব হয়েছে। তার মতে এতো দীর্ঘ লাইন আবার তা এসেছে পাহাড়, জঙ্গল পেরিয়ে তাই এতো দুর্গতি। প্রকৃতির কাছে সকলেই অসহায় এটা মেনে নিতে হবেই।
অন্যদিকে যে সকল দুর্গতি মানবসৃষ্ট সে গুলি এড়ানো যায় সহজেই। সিলেট মহানগরীর যে সকল বিদ্যুৎ গ্রাহক প্রি-পেইড মিটার সংযোগ লাভ করেছেন তারা পড়েছেন মানবসৃষ্ট দীর্ঘ। লাইনের যন্ত্রণায়। সারা নগরীর গ্রাহকদের জন্য রয়েছে মাত্র একটি প্রি-পেইড কার্ড সংগ্রহ কেন্দ্র। সাকূল্যে একটি বিতরণ ও সংগ্রহ কেন্দ্র থাকায় নগরীর এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত সব জায়গায় বিদ্যুৎ গ্রহীতারা ভীড় জমান এই প্রি-পেইড মিটার কার্ড কেন্দ্রটিতে। লাইনটি আক্ষরিক না হলেও শাব্দিক অর্থে দীর্ঘ সময় লাগছে মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল লাইন মেরামত বাবদ ব্যয়িত সময়টুকু থেকে দীর্ঘ। ঘন্টাখানেক দাঁড়িয়েও একজন ভোক্তা বিতরণকারী ব্যক্তিদের ধারে কাছেও ভিড়তে পারছেন না বলে একজন গ্রহীতা ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে আমাকে ফোন করে জানিয়েছেন। একজন মহিলা দূর পথ পাড়ি দিয়ে এসে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে হাঁসফাঁস করছিলেন তার বাসায় রেখে আসা ছোট্ট বাচ্চাটির কথাটি ভেবে। কর্তা ব্যক্তিরা নিশ্চয়ই বিষয়টি ভেবে দেখবেন। প্রয়োজন মতো নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান সমূহে আরো আরো প্রি-পেইড কার্ড বিতরণ কেন্দ্র স্থাপনে অগ্রণী হবেন এবং সত্বর সেটি বাস্তবায়ন করবেন বলে আশা রাখি। রাজস্ব (সরকারি) প্রদানকারী ব্যক্তিরা দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশা রাখি। সত্বর ব্যবস্থাটি গৃহিত হোক সবার আকাক্সক্ষা সেটাই।
জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ এমনি বেশ কয়েকটি বিতরণ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কার্যালয় স্থাপন করেছেন গ্রাহকদের সুবিধার্থে। নগরী মধ্যস্থিত লামাবাজার এলাকার জন্য জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ যে কেন্দ্রটি স্থাপন করেছেন সেটি সেই তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে। গ্যাস বিল বই শেষ হওয়ার পরে নতুন বই সংগ্রহে যেতে হয় আখালিয়া পেরিয়ে অনেক দূর। তারপরেও হ্যাংগাম ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ছাপ, মোহর, স্বাক্ষর সবকিছু তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে বলেন আরও বিশদিন পরে আসুন কারণ তারা ব্যাংক হিসাব বিবরণীটা পেলে গ্রাহকের জাকান্দানী অবসানে তৎপর হবেন। সরকারের কাছে দেয় রাজস্ব প্রদানকারী গ্রাহক সবকিছু যথাযথভাবে সমাপ্ত করেও জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষের আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন পুরো একটি বা অর্ধেক দিন খুইয়ে যাতায়াত ও বিল জমা দেয়ার কাজে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাতে চাই নির্দিষ্ট ব্যাংক সমূহের কাছে বিল বই যথাযথ প্রক্রিয়া সমাপনান্তে বিতরণ কল্পে হস্তান্তর করলেই ল্যাঠা চুকে। না হয় গ্রাহকদের কাছ থেকে ফি বাবদ কিছু আক্কেল সেলামীর বিনিময়ে হলেও।
সিলেট মহানগরীর বারুতখানা এলাকায় বসবাসরত প্রথিতযশা আইনজীবী তথা ব্যবহারজীবি জনাব লুৎফুল মজিদ সাহেবের বাসায় যেতে চাইলেও যেতে পারছিনা দিনক্ষণ ঠিক করেও। কারণটি হলো তার বাসগৃহের ঠিক পেছনেই কারা অধিদপ্তরের বিভাগীয় পর্যায়ের সর্বোচ্চ পদাধিকারীর গোশালার অবস্থান। গোবর আর সেখানে উৎপাদিত মশা দুটোর উপদ্রব সহনীয় পর্যায়ের নয়। গোবর এর দুর্গন্ধ উৎকট। প্রতিকার চেয়েও তিনি পান নাই। হেন জায়গা নেই তিনি ধর্না দেন নাই কিন্তু তার নাগরিক অধিকারটি সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারেন নাই। এই ব্যর্থতার গূঢ় রহস্যটি কি এবং প্রতিকারবিহীন অবস্থায় কিভাবে গোশালাটি আবাসিক এলাকায় অবস্থান সুদৃঢ় ও নিশ্চিত করতে পেরেছে এটির মাজেজা যেমন লুৎফুল মজিদ চৌধুরী সাহেব বুঝতে অপারগ তেমনি আমাদের কাছেও তার অসহায়ত্ব ঢাকতে বেকারার। আমি দৃঢ়ভাবে দাবী জানাচ্ছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ত্বড়িৎ প্রতিকার নিশ্চিত করতে যে যে পদক্ষেপ নেয়ার তা গ্রহণ করতে।
আমি অনেক তত্ত্ব তালাশ করে দেখেছি বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে নিয়োগ পেতে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী যেন মরিয়া। তারা এ জাতীয় নিয়োগ লাভের জন্য বিস্তর অর্থকড়িও ব্যয় করেন। এখানে আবার রকমফের রয়েছে। দ্রুত নিয়োগ পেতে যে পরিমাণ শ্লথ গতিতে নিয়োগ লাভে অর্থ পরিমাণে কম। কারণ হিসাবে বলে দেয়া হয় অর্থের (ব্যয়িত) পরিমাণ অনুসারে সেটি নির্দিষ্ট সময়ের ভিতর ফেরত আসবে বা আদায় হবে। এটি কিন্তু পদ লাভকারীকেই সমাপ্ত করতে হবে এবং প্রয়োজনে জোরপূর্বক। জিজ্ঞাসা করে জানতে পেরেছি তারা জেনে শুনেই এটা করতে চান কারণ বৃহত্তর সিলেট নাকি বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকায় দ্বিতীয় লন্ডন নামে অভিহিত। তাদের একটা ধারণা রয়েছে এখানকার বাতাসে টাকা উড়ে আবার মানুষগুলিও সরল এবং সহজ। তাই একটু চোখ রাঙ্গানি বা ধমক দিলেই কাজটি সমাপ্ত হয় যথাশীঘ্র। জাতীয় পর্যায়ের সেবা খাতগুলির দায়িত্বশীলরা এ রকম মানসিকতা পোষণা করেন না সেটা বোধহয় বলা যাবে না। যে কোন সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করলেই (জরুরী) দায়সারা উত্তর পাওয়া যাবে নতুবা ফোনটিই কেউ ধরবেন না। আপনি নাছোড় বান্দা হয়ে পড়লে এক সময় ফোনটি ধরে কোন কিছু না শুনেই তেনারা বলে দেবেন বিষয়টি তাদের জানা এবং উল্লেখিত স্থানে যথারীতি চাহিদা মাফিক কাজটি চলছে। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর খোঁজ নিতে দেখা পাওয়া গেল নির্দিষ্ট স্থানে তাদের টিকিটিও নেই। কয়েকদিন আগে আমাদের পাড়ায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে এবং বার বার টেলিফোনে যোগাযোগে ব্যর্থ হওয়ার পর এক সময় বিরক্তভরে গৎবাঁধা উত্তরটি দেন অপর প্রান্তের কর্মীটি। তারপরে অবশ্য তিনি আর ফোনটি ধরার গরজ দেখান নাই। সন্ধ্যায় যোগাযোগ (সশরীরে) করা হলে বলা হল মীর্জাজাঙ্গাল উপকেন্দ্র থেকে লোক কাজ করছে। আমি নিজে ওই দিকে যাওয়ার সময় দেখলাম তাদের নিত্যসঙ্গী মইটি ঠেস দিয়ে রেখে কর্মীরা বেশ আমোদে পান-তামাকে মশগুল। খোশ গল্প যেন আর ফুরাতে চায়না।
জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষকে অবশ্য পাওয়া যায়। তারা আবার বিন্দুতে সিন্ধু খুঁজে বের করেন। অতি ক্ষুদ্রকে অতি বৃহৎ হিসাবে দাঁড় করাতে অবশ্য তাদের জুড়ি নেই। অসহায় ভোক্তা তাদের খড়গ তলে মাথা পেতে দিতে বাধ্য হন। এ ব্যাপারে অবশ্য সরকারেরও প্রচ্ছন্ন সহায়তা রয়েছে। দ্বিগুণ তিনগুণ জাতীয় মূল্যমান নির্ধারণ ব্যবস্থা একমাত্র গ্যাস ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেই রয়েছে। এই আইনটিকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে দ্বিতীয় লন্ডনবাসীদের জব্দ করা। পকেট খালি করা জাতীয় কর্মে সকল সেবা কর্তৃপক্ষই এক পায়ে খাড়া। জবাবদিহিতা আর স্বচ্ছতার অভাবই এ জাতীয় নিপীড়নমূলক কর্মকান্ডের মূল নিয়ামক হিসাবে আমার কাছে প্রতিভাত হচ্ছে। অবশ্য এ জাতীয় অপকর্মে নিয়োজিতরা এটাকে ব্যবসা হিসাবেই আখ্যায়িত করতে শ্লাঘা অনুভব করেন। বৃহত্তর সিলেটের বাইরে আবার ভিন্নতর অবস্থা। মাইক বাজিয়ে ঘোষণা করে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে স্থাপিত গ্যাস লাইন উৎপাটন করা হচ্ছে মাইলের পর মাইল। লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে কর্তৃপক্ষ এগুলির ধারণকৃত ছবি জাতীয় প্রচার মাধ্যমে প্রদর্শন করছেন। এটি যে নিজেদের কর্মে গাফিলতি, দুর্নীতি বা ব্যর্থতার প্রকাশ সেটি প্রমাণিত হলো এ জাতীয় প্রচার কর্মের দ্বারা। কতো আর বলা যাবে এ জাতীয় শেষ না হওয়া কাহিনী।
দ্বিতীয় লন্ডন সিলেট এর রেলস্টেশনে যান টিকেটটি পাবেন না। গাড়ী ছেড়ে দেয়ার পর দেখবেন বেশ কয়েকটি আসন খালিই যাচ্ছে। শোনা যায় বিলাসবহুল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসগুলি আগেই পূর্ণ হবার উদ্দেশ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় রেল টিকেট সংকট সৃষ্টি বা রেল যাত্রার সময়সূচী পরিবর্তন করে রাখা হয়। সিলেট থেকে বিমান যাত্রাকালীন সময়কার অবস্থাটাও ঠিক অনুরূপ। জুতার সুখতলা ক্ষয়ে যাবে। বিমান কর্তা আপনাকে দাঁড় করিয়ে টেলিফোনে ব্যক্তিগত আলাপ সারবে তারপরে ভ্রুকুঞ্চিত করে বলবে টিকেট নাই। আকাশে উঠার পর দেখা যাবে বেশীর ভাগ আসনই খালি।
সিলেট মহানগরীতে ফুটপাতে মোটর সাইকেল চলছে। অবৈধ বাহন চলছে। ধরাও পড়ছে। যানবাহন নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ এদেরকে পাকড়াও করে আবডালে সরিয়ে নিয়ে যান। পরবর্তী কাহিনী জানা নেই কিন্তু সি.সি ক্যামেরা থেকে সরিয়ে নেন এটাই জানা। যেন বা সুখ জাতম।
লেখক : অধ্যক্ষ, কলামিস্ট।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • তামাক : খাদ্যনিরাপত্তা ও উন্নয়নের পথে বাধা
  • প্রশাসনের দৃষ্টি চাই : শব্দদূষণ চাই না
  • যাতনার অবসান হোক
  • রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন জরুরি
  • যুবসমাজের অবক্ষয়ের কারণ ও প্রতিকার
  • বিশ্বকাপে অসহনীয় বিদ্যুৎ বিভ্রাট
  • মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই
  • মাদক থেকে দেশ উদ্ধারের অঙ্গীকার
  • পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগান
  • তোমাকে শ্রদ্ধা লেবুয়াত শেখ
  • সামাজিক অবক্ষয় এবং এর প্রতিকার
  • সোশ্যাল মিডিয়ার ভয়ঙ্কর রূপ
  • শিশুর জন্য চার সুরক্ষা
  • বিশ্ব ব্যবস্থায় গণতন্ত্রের সংকট ও প্রতিক্রিয়া
  • সম্ভাবনার অঞ্চল সিলেট
  • স্বপ্নের বাজেট : বাস্তবায়নই মূল চ্যালেঞ্জ
  • বাচ্চাটা একটা খেলনা ফোন চেয়েছিল
  • স্থানীয় সরকার প্রসঙ্গে কিছু প্রস্তাবনা
  • চাই দূষণমুক্ত পরিবেশ
  • সিরিয়ার আকাশে শকুনের ভীড়-সামাল দিবে কে!
  • Developed by: Sparkle IT