উপ সম্পাদকীয়

এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ

ড. মুহম্মদ ইদ্রিছ ভুঁইয়া প্রকাশিত হয়েছে: ২৭-০৫-২০১৮ ইং ০১:৫২:৪১ | সংবাদটি ৫৮৫ বার পঠিত

বাংলাদেশ। এই দেশের মাটিতে আমরা জন্মগ্রহণ করেছি। আবাস নির্মাণ করেছি। একে অন্যকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছি। এসব করেছি অনেক প্রতিকূল অবস্থা ও পরিস্থিতির মধ্যে। আমরা এতোসব অচলাবস্থার মধ্যে শুধু বেঁচেই থাকিনি, অনেক উন্নতি করেছি। তাই প্রতিটি বাঙালি গৌরব বোধ করতে পারে। আমাদের যারা পূর্বসূরি যারা এই দেশ গঠনে যুগে যুগে আত্মাহুতি দিয়েছেন, বিশেষ করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ’৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছেন এবং যারা নিঃশেষে প্রাণ দিয়েছেন, যারা অনেক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করেছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন আজকের বাংলাদেশ গড়তে, তারা সকলেই আমাদের অকৃত্রিম শ্রদ্ধার পাত্র। আমরাও তাদের বিশ্বাস ও চেতনার ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়বো। আমাদের কাজ চলতে থাকবে একটি ন্যায্য ও ন্যায়পরায়ণ পরিকল্পিত সমাজ গড়তে। যে সমাজে কিশোর বয়সের একটি ছেলে বড় হতে থাকবে। স্বাধীনভাবে বিচরণ করবে। সমাজ সঠিক সিদ্ধান্ত দেবে বড় হয়ে সে কী হবে। যে সমাজ হবে স্বচ্ছ, যেখানে বর্ণ, গোত্র, ধর্ম নিয়ে বিরোধ থাকবে না। যেখানে আমাদের জাতীয় সুখ-সমৃদ্ধি জীবনের প্রশান্তি হবে আমাদের মূল উদ্দেশ্য। আমাদের ভিত্তি হবে হিংসা, ঘৃণা, মিথ্যাচার পরিহার। ক্ষমতা প্রদর্শনের পরিবর্তে দায়িত্ববোধের পরিচয়। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবো। আমাদের চিন্তা-চেতনা সর্বোচ্চে স্থান পাবে। জীবনকে ভালোবাসা যখন স্বদেশকে ভালোবাসায় প্রসারিত হবে, তখন আর তাতে কোনো খাদ থাকে না, অনাবিল আদর্শবাদে তখন তা মহিমান্বিত রূপ ধারণ করে।
আমাদের নিরাপত্তা বলয় ক্রমশ দৃঢ় ও মজবুত হবে। অসহায় ও বয়স্কদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ভাগ্য পরিবর্তনে বয়োজ্যেষ্ঠদের উত্থান-পতন থেকে শিক্ষা নিতে হবে। জীবনের শেষ দিনগুলোতে তারা যেন হাসি আনন্দে থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। তারা প্রশান্তি নিয়ে জীবনের শেষ কটা দিন যাতে অতিবাহিত করতে পারে সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
আমাদের এক সময়কার শক্তিশালী সামাজিক বন্ধনকে অবক্ষয়জনিত অবস্থা থেকে উদ্ধার করে, আরো দৃঢ় করতে হবে, যাতে জীবনের মূল্যবোধ জীবনের অনিবার্য অংশ হয়ে থাকে, আমরা সকল বাংলাদেশী মানসম্পন্ন জীবনযাপন করতে পারি। যেখানে থাকবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সঙ্গে উন্নত শহরগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা, চিত্ত বিনোদনের জন্য উন্নত পরিবেশ, স্বাস্থসেবা, বয়স্করা তারুণ্য মতো দুশ্চিন্তামুক্ত ফুরফুরে মেজাজে থাকতে পারে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না; আমাদের সকলেই আবার মূলের টানে প্রকৃতির কাছে ফিরে যেতে হবে আজকে বা অন্য যে কোনো সময়।
আমরা তৈরি করবো শ্রম প্রদানে নিয়োজিত যুবকদের নিয়মিত ক্যারিয়ার। ফলে তারা জীবন সম্পর্কে শিক্ষা পাবে। তারা জীবনের স্বপ্ন ও আশা-আকাক্সক্ষা বাস্তব রূপ দেখতে পাবে। বাংলাদেেেশর যুবকদের যোগ্যতা, জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের স্বপ্ন তাদের আগ্রহ বাস্তবায়ন দেখতে পাবে। আমাদের পরিবেশ ও পারিপার্শি¦কতার পরিবর্তন হয়েছে। জাতীয় জীবনের সেই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সার্বিক পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারকে নতুন কৌশল নিতে হবে নাগরিক জীবনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে। আমাদের ভালোবাসা ছড়াতে হবে, এইডস-এর জীবাণু নয়। আমাদের হৃদয় দিয়ে হৃদয়ের অনুভব করার শক্তি অর্জন করতে হবে। আমাদের থাকতে হবে আত্মার সঙ্গে আত্মার যোগাযোগ রাখার ক্ষমতা এবং অন্যের কষ্ট বা সুখ নিজের মধ্যে অনুভব করতে পারার ক্ষমতা। সহানুভূতিতেও থাকবে সমতা।
সুষ্ঠু প্রশাসন চালানোর জন্য বিভিন্ন ধাপ থাকবে, কিন্তু মানুষকে প্রশাসনিক ধাপের নিরিখে দেখার অবকাশ থাকবে না। আমরা স্বাধীন সার্বভৌম দেশের নাগরিক। জাতীয় বিষয়ে আমরা বিতর্ক করবো এটা স্বাভাবিক। আলোচনা সমালোচনা হবে উন্নতির চিন্তা মাথায় রেখে। আলোচনা বিতর্ক শেষে আবার এক জায়গায় ফিরে আসবো এটা স্বাভাবিক। কিন্তু বিতর্ক করলাম বলে আর কথা হবে না মুখ দেখাদেখি হবে না, এটা অস্বাভাবিক। যেটা আমার দেশে রাজনীতির শীর্ষ নেতাদের চরিত্রের দু:খজনক বৈশিষ্ট্য। আমাদের বর্তমান রাজনীতির পথে পথে অবিশ্বাস, অলক্ষ্মী আর সংঘর্ষ। নতুন প্রজন্মের জন্য কোনো দিকনির্দেশনা বা জীবনবোধ এতে দেখা যায় না। বঙ্গবন্ধু সকল পরিস্থিতিতে জনগনকে বিশ্বাস করতেন সেই চেতনায় এইগুলি পরিহার করতে হবে।
সমাজে একদল লোক থাকে যারা প্রায় সব কথাই খারাপ ভঙ্গিমায় বলেন। তারা নেতিবাচক অবস্থায় কথা বলে মজা পান। তারা অন্যের ভালো কাজের প্রশংসা দূরে থাক নামই শুনতে পারেন না। কিন্তু ভুলের নিন্দায় মুখর থাকেন। এই ধরনের মানুষ সংসারে, কর্মস্থলে, রাজনীতিতে এবং সবখানে সমস্যা তৈরি করে বিপদ ডেকে আনেন।
আমার এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের পরামর্শক হিসেবে নগর উন্নয়ন বিষয়ে একটি প্রকল্পে ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সুশাসনের জন্য স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার অভাব’ শীর্ষক গবেষণায় তৎকালীন প্রধান স্থপতির সঙ্গে কথা বলেছি। গবেষণার প্রাথমিক ফলাফলে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন বিষয়ে পৃথক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে। তিনি পৃথক ব্যবস্থার কথা বাদ দিয়ে নগর উন্নয়নের জন্য তাদের স্ব-স্ব অবস্থান আরো শক্তিশালী আরো ক্ষমতায়নের বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়েছেন। চাকরি থেকে অবসর হওয়ার পর মতামত দিতে গিয়ে তিনি আগের বক্তব্য থেকে সরে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন বিষয়ে পৃথক ব্যবস্থাপনার কথা স্বীকার করেছিলেন। জাতীয় প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত এইরূপ কর্মকর্তাদের নিয়ে জাতিকে এক জায়গায় ঘুরপাক খেতে হয়। একই বিষয়ে পদে থাকতে একচোখে দেখা পদ ছাড়লেই অপর চোখে দেখা ও ভিন্নভাবে বিশ্লেষণ। এসব কর্মকর্তা জাতির কা-ারি হতে পারে না।
আরেকবার বস্তিবাসীদের ভূমিস্বত্ব নিশ্চিতকরণ ইউএনডিপির একটি প্রকল্পে আমি পরামর্শক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে নগরে গরিবদের প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে তাদের ভূমিস্বত্ব নিশ্চিত করা যায় কিনা এ ধরনের একটি সেমিনারে গবেষণার চিন্তা-চেতনাকে বাধাগ্রস্ত করে তদানীন্তন অর্থ সচিবকে বলতে শুনেছি এ দেশে গরিবরা গরিবকে শোষণ করে। অবসর করে তিনি বুদ্ধিজীবী হিসেবে অবসরে টিভি টকশোতে দারিদ্র্য বিমোচন নিয়ে দরিদ্রদের উন্নতির বিষয়ে ক্ষমতায় থাকা তখনকার অবস্থান থেকে সরে বক্তব্য দিতে। চাকরিতে থাকাকালে এক রকম ছেড়ে আসলে অন্যরকম বলার কারণ চাকরির ক্ষমতার মোহ ও সুবিধার স্বার্থের কাছে তাদের বিবেক বা জাতীয় স্বার্থ বলে কিছু থাকে না। এরা আবার ‘সেলিব্রেটি’ হিসেবে সমাজের সামনের কাতারে থাকেন।তখন আয়োজকদের চাহিদা মত বক্ত্যব দিয়ে। এদের নিয়ে জাতি এক জায়গায় ঘুরপাক খেতে থাকে। যতো দ্রুত এসব বন্ধ হবে ততো দ্রুত জাতি মুক্তি পাবে। সরকারি পদের আরাম আয়েশ কি এতোই প্রিয়, আর এতে কি এতোই শান্তি, এতোই মধুর যে, মানবিক মূল্যবোধ বিসর্জন দিয়ে মানবসভ্যতা এগিয়ে নেয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করে শিকল আর দাসত্বের দামে পদ কিনতে হবে? মনে রাখা দরকার উন্নয়নে অগ্রসরমান নতুন প্রজন্মের চোখে এসব শিকলে জং ধরে গেছে।
রাজনীতির নামে হিংসা, ঘৃণা, মিথ্যাচার ও বিভেদ বিভক্তি পরিহার করতে হবে। ক্ষমতা প্রদর্শনের পরিবর্তে দায়িত্ববোধের রাজনীতি ও জবাবদিহিতা বাস্তবায়ন, মেধাবী গণতন্ত্রমনা দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বের সুযোগদান, প্রশাসন, রাজনীতি ও ব্যবসা অঙ্গনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। হইচই না করে জনগনকে বুঝাতে হবে জীবন থেকে সংগ্রামকে আলাদা করার সুযোগ নেই। সমস্থ প্রতিকুলতা মোকাবেলা করে মানুষ নিজকে সুসভ্য হিসাবে প্রতিষ্টিত করবে এটাই হচ্ছে মানব সভ্যতার ইতিহাস।
আমাদের বাংলাদেশের সংবিধানের কিছু অংশ সামরিক আইনের ফরমানে পরিবর্তন করা হলেও মৌলিক অধিকার অংশ বিশ্বের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল মাইলফলক। আমাদের সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি গণতন্ত্র ও মানবাধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা, কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ। ধর্মীয় স্বাধীনতা, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, আইনের দৃষ্টিতে সমতা, জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার রক্ষণ, এর মৌলিক অধিকার আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের অঙ্গীকার নিয়ে নীরবে নিভৃতে দাঁড়িয়ে আছে Ñএই অঙ্গীকার থাকবে অনন্তকাল।
আমরা নিরাশ হতে চাই না। আমাদের সামনে উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ। আমাদের উপলব্ধি না করে উপায় নেই। কাদা পানিতে ডুব দিয়ে বেশিদিন থাকা যাবে না। হয়তো আজ অথবা আগামীকাল আমাদের জন্য সংকটময় হবে। তবু আমরা স্বপ্ন দেখিÑ এ স্বপ্নগাথা আছে বাঙালির অস্তিত্বে। আমরা স্বপ্ন দেখি, একদিন মানুষ জাগ্রত হবে মানুষের বিশ্বাসের মূল্যায়ন হবে।
প্রায় একযুগ পরে ভিজিটর হয়ে দেখে গেলাম আমার প্রিয় সিলেট সহর। আমার ছেলে মেহেদী মাহমুদুল হাসান সিলেট ক্যাডেট কলেজে লেখাপড়া করে বর্তমানে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছে। আমি দীর্ঘ ছয় বছর প্রায় প্রতিমাসে এখানে এসেছি। আমার খুশি লাগল কিছু অসুবিধা ও অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে সিলেটের উন্নয়নের কাজ জোর গতিতে এগিয়ে চলছে। অর্থনৈতিক মানদন্ডের অনেক সূচকে বাংলাদেশ এখন অন্যান্য দেশগুলির তুলনায় এগিয়ে আছে । বিশ্বব্যাংকের মতে বাংলাদেশের জিডিপি মাথাপিছু আয় ২০১৬ সালে ছিল ১৩৫৮.৭৮ মার্কিন ডলার (এই সংখ্যা ২০১৩ সালে ছিল ৯৫১.৮৯। ২০০০ সালে ছিল ৪০৫.৬ আর ১৯৭২ সালে ছিল মাত্র ৯৩.০২ মার্কিন ডলার)। দ্রুত গতিতে অগ্রসরমান একটি রাষ্ট্রে যা হয় তার অনেক কিছুই এখন বাংলাদেশে পরিলক্ষিত হচ্ছে। পজেটিভ ভাইব্রেশন মধ্যে দিয়ে সমাজ উন্নয়নের মনস্তাত্ত্বিক সমাজ উত্তরণের ধাক্কার ভিতর দিয়ে যাচ্ছে দেশের অধিকাংশ মানুষ। বলা যায় অগ্রগতির প্রসব বেদনায় ভুগছে বাংলাদেশ। স্বাভাবতই বিভিন্ন মাত্রায় উঠানামা করতে দেখা চাচ্ছে সমাজের বিভিন্ন অংশে। হাতখোলা পুজি বাজারে হঠাৎ গজিয়ে উঠা অর্থনৈতিক সচল মানুষগুলি চায় সমাজের উচু আসন ধরে রাখতে। এক অর্থে এই প্রবণতাকে বলা যেতে পারে ক্রয় ক্ষমতার সামাজিক মর্যাদা। সিলেট ওসমানী বিমান বন্দর থেকে হযরত শাহপরান (র) মাজার পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে প্রচুর আধুনিক দালানকোঠা হয়েছে এবং হচ্ছে। হযরত শাহজালাল (র) মাজার প্রাঙ্গন কত সুন্দর পরিষ্কার, প্রাণভরে প্রার্থনা করার সুযোগ করে দিয়েছে ভিআইপি সহ অতিসাধারণ মানুষ যারা দুর দুরান্ত থেকে আসেন সকলকে। আছর নামাজের পর মাজার প্রাঙ্গনটি যেন এক মিলনমেলা। কতনা প্রয়োজনীয় ব্যাক্তির সাথে দেখা হয়ে যায়। এমনই একজনের সাথে হলো, যিনি আমাকে তার শ্বশুর দিকের আত্মীয় বলে জড়িয়ে ধরলেন, আমিও যার সাথে দেখা করার অপেক্ষায় ছিলাম,দেখা হয়ে গেল। তিনি এডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান, ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হত্যাকান্ড বিচারে রাষ্ট্রপক্ষে প্রধান কৌশলী। সম্প্রতি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে বিপুল ভোটে সদস্য নির্বাচিত হয়ে এখানে এসেছেন মহাপ্রাণের দোয়া নিয়ে কাজ আরম্ভ করতে।
শহরের ব্যস্ততম অংশে সিলেটের ডাক দৈনিক সংবাদপত্রের অফিস। লিফটে উঠা নামা করছে সবাই। সুপ্রশস্ত করিডোর সুন্দর পরিপাটি প্রতিটি কক্ষ। পথে চলতে মীরা বাজার এলাকা উন্নয়নের ছোঁয়ায় চেনাই যায় না। এম.সি কলেজ থেকে খাদিম এলাকা রাস্তার দুপাশে অফুরন্ত দালানকোঠা, সরকারের অগণিত প্রকল্পের অফিস। শাহপরান (র.) এর মাজারের গোড়াতে সুপ্রশস্ত আঙ্গিনায় একটি আধুনিক বিল্ডিং ও ক্যাম্পাস অনেক বেসরকারী বিশ্বদ্যিালয় থেকে উন্নত বললে বেশি বলা হবে না। বাংলাদেশের শত্রুও এখন অস্বীকার করতে পারবে না বিভিন্ন দিক দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে। এই উন্নয়নের কাজে জড়িত হয়েছে দেশের অগণিত মানুষ। সমাজে এক দল নিন্দুক মানুষ থাকে যারা পরনিন্দায় পটু। এদের কর্মকান্ড মাঝে মাঝে সংবাদ শিরোনাম হয়। এরা মানুষকে কাদায়, মানুষকে ভোগায়। তবুও বলব উন্নয়নের সার্বিক চিত্রে এরা অনাকাঙ্খিত, আবহমান কাল থেকে ছিল, থাকবে ওদের যায়গায়। কিন্তু স্বীকার করতেই হবে গত একযুগে সিলেট তথা বাংলাদেশের অনেক অনেক অগ্রগতি হয়েছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক উন্নয়ের সূচকে বাংলাদেশ ৩৪তম অবস্থানে আছে ভারত, শ্রীলংকা, পাকিস্তানের অনেক উর্ধে। এই ধারাবাহিকতায়, বিশ্বাস করি বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যাবে।
লেখক : মুক্তিযোদ্ধা, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী, এডিবির সাবেক কনসালটেন্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • মৃত্যুই দিয়েছে তাঁরে চিরমুক্তি!
  • আমেরিকা : ট্রাম্প শাসনে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রভাব
  • ইলেকট্রনিক ও প্লাস্টিক বর্জ্যরে ক্ষতিকর প্রভাব
  • পরিবহন নৈরাজ্য
  • মাদকবিরোধী অভিযান : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ
  • ছড়াকার বদরুল আলম খান
  • একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিগত দশটি নির্বাচন
  • বইয়ের বিকল্প প্রযুক্তি নয়
  • আগুনের পরশমণি ছোয়াও প্রাণে
  • বাড়ছে প্রবীণের সংখ্যা
  • জনসচেতনতাই পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে পারে
  • এক শারীরিক প্রতিবন্ধীর কথা
  • এই অপসংস্কৃতির অবসান হোক
  • সৈয়দ সুমন আহমদ
  • পানিশূন্য তিস্তা
  • বিদ্যুৎ প্রিপেইড মিটারের গ্যাড়াকলে গ্রাহকরা : দায় কার?
  • পরিবহন ধর্মঘট এবং জনদুর্ভোগ
  • পানি সমস্যা সমাধানে নদী খনন জরুরি
  • শব্দসন্ত্রাস
  • মাধবপুর : যাতায়াত দুর্ভোগ
  • Developed by: Sparkle IT