সম্পাদকীয় বিদ্যা সমাজের অলঙ্কার স্বরূপ এবং শত্রুর সম্মুখীন হওয়ার জন্য অমোঘ কবচ। - আল হাদিস

নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ২৮-০৫-২০১৮ ইং ০১:৫৪:৩৩ | সংবাদটি ৬৭ বার পঠিত

নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করার লক্ষে আজ দেশে পালিত হচ্ছে নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস। প্রতি বছরই আজকের এই দিনে দিবসটি পালিত হয়ে থাকে। মূলত গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় উদ্বুদ্ধ করতে পালিত হয় নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস। এই উপলক্ষে বরাবরের মতো আজও অনুষ্ঠিত হবে র‌্যালি, আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি। আর এগুলো অনুষ্ঠিত হবে প্রধানত শহর অঞ্চলেই। অথচ স্বাস্থ্য সচেতনতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে গ্রামীণ মায়েরা। তাদের কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে না নিরাপদ মাতৃত্বের আহ্বান। আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশে সার্বিকভাবে মায়েদের অবস্থা ভালো নয়। নিরাপদ মাতৃত্ব এখানে নিশ্চিত হচ্ছে না। প্রতি বছর নিরাপদ মাতৃত্ব দিবসে পালিত নানা কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নেই। দারিদ্র্য পীড়িত অবহেলিত মায়েদেরকে এই দিবসের তাৎপর্য বিষয়ে অবহিত করা উচিত। তা না হলে প্রতি বছর এভাবে গতানুগতিক কর্মসূচির মাধ্যমে নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস পালনে খুব একটা সুফল বয়ে আসবে না, এটা নির্দি¦ধায় বলা যায়।
আমাদের দেশে গর্ভবতী মায়েদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে পরিচালিত জরিপে জানা যায়- সন্তান জন্মদানের সময় বছরে এক লাখ মায়ের মধ্যে তিনশ’ জনের বেশি মারা যায়। ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সের মা সন্তান জন্মদানের সময় মারা যাচ্ছে প্রতি হাজারে একশ’ ২০ জন। প্রতি তিনজন কিশোরীর মধ্যে মা হচ্ছে একজন। অর্থাৎ পাঁচ শতাংশ মেয়ে কিশোরী বয়সেই প্রথম গর্ভধারণ করছে। প্রতি দশ জনের একজন গর্ভবতী মায়ের সন্তান প্রসব করানো হয় বাড়িতেই। যারা বেশির ভাগ ধাত্রী ও আত্মীয় স্বজনের হাতেই সন্তান প্রসব করে। শতকরা মাত্র একজন গর্ভবতী নারী সন্তান জন্মদানের সময় সরকারি অথবা বেসরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যায়। এছাড়া প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক গর্ভবতী নারী গর্ভকালীন অথবা সন্তান জন্মদানের সময় নানা জটিলতায় ভুগেন। আর এসব সমস্যার মূল কারণ হলো গর্ভবতী নারীর নি¤œমানের জীবন যাপন। এই নি¤œমানের জীবন যাত্রার মূলে রয়েছে বস্তি বা গ্রামে বসবাসের কারণে পরিবেশগত সমস্যা, সচেতনতার অভাব এবং অর্থনৈতিক দৈন্যতা।
সমস্যাটি এখানেই। বাংলাদেশে বেশির ভাগ জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যপীড়িত। শহর-গ্রাম সর্বত্র বেড়ে চলেছে দারিদ্র্যের সংখ্যা। দারিদ্র্য দূরীকরণে নানা প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। কিন্তু দারিদ্র্য দূর হচ্ছে না। দারিদ্র্য এবং অসচেতনতার জন্য জনগোষ্ঠীর জীবনমানেরও উন্নতি হচ্ছে না। বিশেষ করে নারীরা হয়ে পড়েছে বেশি অবহেলিত। একদিকে সামাজিক নানা বিধিনিষেধের কারণে তাদের লেখাপড়া বিঘিœত হচ্ছে; অপর দিকে স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টির জন্য তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে না। গ্রামীণ কিছু কিছু নারী গর্ভধারণ, সন্তান প্রসব ইত্যাদি বিষয়ে সচেতন থাকলেও তাদের পরিবার সচেতন নয়। ফলে লজ্জা ও জড়তায় তারা অনেক সমস্যার কথা মুখে বলতেও পারে না। আবার অনেক সময় মহিলা ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীর দেখাও পাওয়া যায় না। এই ধরনের সমস্যা শুধু গ্রামে নয়, শহরেও রয়েছে। মহিলা চিকিৎসকের অভাবে অনেক প্রসূতি নানা জটিলতায় ভুগে থাকেন। তারা চিকিৎসার সুযোগ পান না।
নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করার জন্য সর্বপ্রথম দরকার সচেতনতা সৃষ্টি করা। আর সেই সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে সর্বপ্রথম মায়েদের মধ্যেই। পর্যায়ক্রমে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও সচেতন করে তুলতে হবে। এখানে উল্লেখ করা জরুরি, শিক্ষিত মায়েদের সচেতন করা যতো সহজ, অল্প শিক্ষিত বা অশিক্ষিত মায়েদের সচেতন করা ততোই কঠিন। আর সমাজে এই শ্রেণির মায়েদের সংখ্যাই বেশি। তাই এদেরকে গুরুত্ব দিয়েই কর্মসূচি নিতে হবে। পাশাপাশি নিরাপদ মাতৃত্ব বিষয়ে সমাজের তৃণমূল জনগোষ্ঠীকে সচেতন করে তুলতে বেতার, টেলিভিশন, প্রিন্টমিডিয়াসহ অন্যান্য প্রচার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালাতে হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মাঠকর্মীদের তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে। সেই সাথে গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালগুলোতে প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসার সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার ঘোষিত মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান কর্মসূচি সম্প্রসারিত করে ভাতার পরিমাণ বাড়ানো জরুরি। আর এভাবেই নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস পালনের সার্থকতা আসবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT