সম্পাদকীয়

বাজার নিয়ন্ত্রণে টিসিবি

প্রকাশিত হয়েছে: ২৯-০৫-২০১৮ ইং ০২:০১:৫৭ | সংবাদটি ৩৯ বার পঠিত

বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবি। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়- সার্বিকভাবে চাহিদার তুলনায় বিভিন্ন পণ্যের মজুদ অনেক বেশি রয়েছে। তাই রমজানের চাহিদাকে পূঁজি করে কেউ যাতে অস্বাভাবিকভাবে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করতে না পারে, সেই লক্ষে বাজারের দিকে তীক্ষè নজরদারি রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে টিসিবি’র অবদান যৎসামান্য। বিশেষ করে, রমজান মাসে নির্দিষ্ট কয়েকটি পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও বেড়ে যায়। এই দাম নিয়ন্ত্রণ করার জন্য টিসিবি ওই পণ্যগুলো আমদানী করে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করে। অথচ চাহিদার খুব সামান্য অংশই তারা আমদানী করে। ফলে তাদের এসব পণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করার পরও বাজারে এর খুব একটা প্রভাব পড়ে না।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী শুধু রমজান মাসে ছোলার চাহিদা ৮০ হাজার মেট্রিকটন। অথচ টিসিবি আমদানী করেছে এবার মাত্র দুই হাজার টন। রমজান মাসে খেজুরের চাহিদা ১৮ হাজার মেট্রিকটন। আর টিসিবি আমদানী করেছে মাত্র একশ টন। তেমনি ভোজ্যতেল, চিনি ও ডাল আমদানী করেছে টিসিবি চাহিদার তুলনায় খুবই নগণ্য। এতো স্বল্প পণ্য নিয়েও পবিত্র রমজান মাসে সারা দেশে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে এই সরকারি বিপণন প্রতিষ্ঠান টিসিবি। সারা দেশে একশ ৮৪টি ভ্রাম্যমান ট্রাকে এই পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া, সারা দেশে টিসিবি’র দুই হাজার সাতশ’ ৮৪ জন ডিলার এবং নিজস্ব দশটি খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষে টিসিবি ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করে। তারা বেশি মূল্যে পণ্য কিনে বিক্রি করে কমমূল্যে। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ভর্তুকি দিতে হয় সরকারকে। কিন্তু তারপরেও বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণে টিসিবি খুব একটা ভূমিকা রাখতে পারে না। কারণ, চাহিদার তুলনায় খুব কম পরিমাণে পণ্য বিক্রি করে টিসিবি। তাছাড়া, অনেক সময় যে দামে তারা পণ্য বিক্রি করে তার চেয়ে কম দামে খোলা বাজারেই বিক্রি হয় পণ্য। এছাড়া, নি¤œমানের পণ্য বিক্রির অভিযোগও রয়েছে টিসিবি’র বিরুদ্ধে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজার নিয়ন্ত্রণে টিসিবি এই সীমিত মজুদ দিয়ে কিছুই করতে পারবে না।
বাজার নিয়ন্ত্রণে টিসিবিকে কার্যকর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। আর সে জন্য দরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ গড়ে তোলা। বিশেষ করে স্থানীয়ভাবে পণ্য ক্রয় করে তা ভোক্তা পর্যায়ে বিপণনে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে টিসিবিকে। এজন্য দরকার নিজস্ব মূলধন। এই সরকারি প্রতিষ্ঠানটিকে টিকিয়ে রাখতে হলে এর চেয়ে বিকল্প নেই। বিদ্যমান বাজার ব্যবস্থা দিন দিন বড় হচ্ছে। এই বাজার চাহিদা পূরণ সীমিত মজুদ দিয়ে কিছুতেই সম্ভব নয়।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT