ইতিহাস ও ঐতিহ্য

ঐতিহ্যবাহী গাজীর মোকাম

বুরহান উদ্দিন প্রকাশিত হয়েছে: ৩০-০৫-২০১৮ ইং ০১:১২:১৭ | সংবাদটি ৩৫৪ বার পঠিত

 মুসলিম ঐতিহ্যের প্রাচীন এক নিদর্শন গাজীর মোকাম জামে মসজিদ। এটি বিশ্বনাথ থানার আমতৈল গ্রামে অবস্থিত। বহু শতাব্দীর পুরনো এই মসজিদ গৌরবময় এক ইতিহাসের স্মারক। মসজিদের সূত্রপাতে রয়েছে অলৌকিক ঘটনা।
তিনশত ষাট আউলিয়ার ধারাবাহিকতায় ইসলাম প্রচারের জন্য যে সব ওলি-আউলিয়া বৃহত্তর সিলেটে কীংবদন্তি হয়ে আছেন, তাদের একজন হচ্ছেন হযরত গাজী সাহেব (রাহ.) এ মসজিদের সাথে জড়িয়ে আছে এই সাধকের নাম।
প্রায় চারশত বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয় এ মসজিদ। মসজিদের চারপাশে ছিল গভীর জঙ্গল। লোক কাহিনীতে এখানে বাঘের পিঠে সওয়ার হয়ে আগমন করতেন গাজী সাহেব (রাহ.)। মসজিদের নিকটবর্তী আমতৈল ফকিহটিলার ফনামির্ধা নামের এক ধার্মিক ব্যক্তি স্বপ্নে দেখেন, গাজী সাহেব তাকে আদেশ করছেন পাশের জঙ্গলের চিহ্নিত জায়গায় একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য। পরপর তিন দিন এই স্বপ্ন দেখেন ফনামির্ধা। পরে তিনি চিহ্নিত জায়গাটি খোঁজে পান জঙ্গলে। এ জমির মালিক ছিলেন তারই পূর্ব পুরুষগণ। এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায় আমতৈল ফকিহটিলার নীরা বানু নামে এক মহিলা ছিলেন জঙ্গলের নিকটস্থ জমির মালিক। সেখানে তিনি পার্শ্ববর্তী এলাকার মুর্দাদের লাশ দাফনের সুযোগ দিতেন। তার বিনিময়ে নির্দিষ্ট হারে মূল্য গ্রহণ করতেন। এক সময় তার জায়গা বিক্রি হয়ে যায় জনৈক রমনঠাকুরের কাছে। রমন ঠাকুর পরপর কয়েক দিন স্বপ্নে আদেশ পান জায়গাটি সাবেক মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য। পরবর্তীতে তিনি জায়গা ফিরিয়ে দেন। নীরা বানু তারপর থেকে বিনামূল্যে সেখানে লাশ দাফনের সুযোগ দিয়ে দেন। তার পুত্র মহব্বত আলী, রহমত আলী ও নাজী শেরু মির্ধার পুত্র ছিলেন ফনা মির্ধা।
তাকে স্বপ্নে মসজিদের জন্য যে জায়গা দেখানো হয় তা ছিল গোরস্তানের নিকটে। সেখানে তিনি জঙ্গল পরিষ্কার করে মসজিদ তৈরি করেন।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ মসজিদ কেন্দ্রীক বহু অলৌকিক বিষয় লোকমুখে প্রচারিত হয়। বছরের নির্দিষ্ট একটি সময়ে মসজিদে বাঘের আগমন ঘটতো। শান্ত নিরীহ প্রাণীর মতো বাঘ এসে মসজিদের চার পাশ প্রদক্ষিণ করতো। অবশেষে তার মতো করে সেজদা দিতো। প্রাচীনকাল থেকে এ মসজিদ ভক্তদের বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। মোঘল স্থাপত্য রীতিতে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মেহরাবে ছিলো দৃষ্টিনন্দন কুফিরীতির ক্যালিগ্রাফি। গম্বুজে ছিলো বিভিন্ন ধরনের বিরল পাথরের কারুকাজ। যা ছিলো প্রাচীন নির্দশন হিসেবে সংরক্ষিত ঐতিহ্যের স্মারক। ফলে তা বিরল ও প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষিত হতে পারতো। কিন্তু সেই মেহরাবের প্রাচীন ঐতিহ্য সম্প্রতি মুছে ফেলা হয়েছে এবং গম্বুজ ভেঙ্গে নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদের সাবেক আয়তন কিছুটা সম্প্রসারিত হয়েছে। মসজিদের পাশের গোরস্তান এখনো বিদ্যমান। প্রাচীন বহু বৈশিষ্ট হারিয়ে গেলেও মসজিদের প্রতি মানুষের ভক্তিতে ভাটা পড়েনি।
বহুশতাব্দির ঐতিহ্যের নিদর্শন এ মসজিদের ব্যাপক উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে।

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • বিপ্লবী লীলা নাগ ও সিলেটের কয়েকজন সম্পাদিকা
  • গ্রামের নাম আনোয়ারপুর
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • বিবি রহিমার মাজার
  • তিন সন্তানের বিনিময়ে বঙ্গবন্ধুর স্বীকৃতি
  • হারিয়ে যাচ্ছে পুকুর ও দীঘি
  • শিক্ষা বিস্তারে গহরপুরের ছমিরুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • বিলুপ্তির পথে সার্কাস
  • জাতীয় স্মৃতিসৌধ
  • বাংলাদেশের লোকশিল্প
  • উৎলারপাড়ের পোড়া পাহাড় আর বুদ বুদ কূপ
  • চেলা নদী ও খাসিয়ামারা মোহনা
  • সিলেটে মুসলমান সম্পাদিত প্রথম সাহিত্য সাময়িকী
  • মুহররমের দাঙ্গাঁ নয় ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা যুদ্ধ
  • দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিচিতি
  • সিলেটের প্রথম মুসলমান সম্পাদক
  • কালের সাক্ষী পানাইল জমিদার বাড়ি
  • জনশক্তি : সিলেটের একটি দীর্ঘজীবী পত্রিকা
  • ঋতুপরিক্রমায় শরৎ
  • Developed by: Sparkle IT