ইতিহাস ও ঐতিহ্য

পার্বত্য তথ্য কোষ

প্রকাশিত হয়েছে: ৩০-০৫-২০১৮ ইং ০১:১৩:১৬ | সংবাদটি ৭৭ বার পঠিত

[পূর্ব প্রকাশের পর]
(তাং-বুধবার ১০ কার্তিক ১৪০৭ বাংলা ২৫ অক্টোবর ২০০০ খ্রিস্টাব্দ/ দৈনিক গিরিদর্পণ, রাঙ্গামাটি)
আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে আমি খুঁজে পাচ্ছি না, এতদাঞ্চলে আমরা কি ব্রিটিশ আমলে আছি, না বাংলাদেশ আমলে? এটা সঠিক যে, এখনকার প্রশাসন ও প্রশাসকরা বাংলাদেশী। তবে তাদের পদ পদবি ও প্রশাসনিক ক্ষমতা এবং স্থানীয় প্রশাসনিক ইউনিট, যা কখনো পার্বত্য চট্টগ্রাম, আর কখনো তিন পার্বত্য জেলা তথা রাঙামাটি, খাগড়াছড়িও বান্দরবান নামে অভিহিত, তা এখনো বিভ্রান্তি মুক্ত নয়। হিল ট্রাক্টস ইউনিট ও রেগুলেশন নং ১/১৯০০ এর অধীন রচিত পার্বত্য অঞ্চল শাসন আইন বজায় থেকে থাকলে, এতদাঞ্চল এখনো একটি জেলা এবং এটিকে নিয়ে আঞ্চলিক পরিষদ গঠন হবে যথার্থ। এর বিপরীতে তিন পার্বত্য জেলা মান্য নয়। এই পরিস্থিতিতে একক পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনই হতে পারে আঞ্চলিক পরিষদের ক্ষমতা ও সাংগঠনিক ভিত্তি এবং নামে আঞ্চলিক পরিষদ হলেও তা হবে বাস্তবে জেলা পরিষদ। এর বিপরীতে তিন জেলা প্রশাসন ও তিন পরিষদ গঠন আর তা পরিচালনা বিভ্রান্তিকর। আরো বিভ্রান্তি হলো : এখানে পালনীয় সর্বোচ্চ আইন কোনটি? রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ আইন হলো : বাংলাদেশ সংবিধান। কোন ক্ষুদ্র অঞ্চল বা কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত কেউই এর আওতামুক্ত নয়। প্রচলিত আইন আর নতুন প্রণীত স্থানীয় আইন সমূহের পাশাপাশি বাংলাদেশ সংবিধানের সর্বোচ্চ মর্যাদায় কার্যকরী হওয়া কি সাংঘর্তিক নয়? তখন সংবিধানের কি অমর্যাদা হবে না?
পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের ৬২/৬৪ সহ কিছু ধারায় বলা হচ্ছে :
‘আপাততঃ বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছু থাকুক না কেন’ এ বলার অর্থ পরিষ্কার যে সংশ্লিষ্ট আইনের মর্যাদা সর্বোচ্চ। অথচ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন হলো সংবিধান। অধিকন্তু এতদাঞ্চলের জন্য দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রচলিত আইন হলো, রেগুলেশন নং ১/১৯০০ এর অধীন রচিত হিল ট্রাক্টস ম্যানুয়েল। এটি রহিত করে ১৯৮৯ সালে সংসদীয় একটি আইন প্রণীত হলেও তার কার্যকারিতা দেয়া হয়নি। বরং উদ্ভুত বিভ্রান্তি কাটিয়ে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে নি¤েœাক্ত আদেশ জারি করা হয়েছে, যথা :
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়
আইন শাখা, নং ২১৫ আইন, তারিখ-০৩-০৫-৮৯ইং।
বিষয় : মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাম্প্র্রতিক ঘোষণার আলোকে বর্তমানে তিনটি পার্বত্য জেলায় (রাঙামাটি, বান্দরবন ও খাগড়াছড়ি) সিভিল মামলা ও সেসন মামলার বিচার সম্পর্কে।
নি¤œস্বাক্ষরকারী নির্দেশিত হইয়া উপরোক্ত বিষয় আপনার ২৯-০৪-৮৯ তারিখের স্মারক নং সাঃ/২-৮৭-৩৫২ এর আলোকে জানাইতেছি যে, রেগুলেশন নং ১/১৯০০ বাতিল করা হয় নাই। পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত নতুন আইনটি এখনো কার্যকরী করা হয় নাই। ফলে পুুরাতন অবস্থা এখনও বলবৎ আছে।
স্মারক নং সাঃ/২-৭-৮৭-৩৯০ স্বাক্ষর মোঃ মুজিবুর রহমান সহকারী সচিব’
এখানে উল্লেখ্য যে, বিষয়টি কেবল সিভিল ও সেসন মামলার ভিতর সীমাবদ্ধ নেই। এটা গোটা রেগুলেশন নং ১/১৯০০ এর কার্যকর থাকার কর্তৃপক্ষীয় দলিলও বটে। সুতরাং অবিভক্ত হিল ট্রাক্টস জেলা ইউনিট, তিন বিভক্ত পার্বত্য জেলা ইউনিট এবং চার পরিষদের অস্তিত্ব পারস্পরিকভাবে বিভ্রান্তিতে আবদ্ধ। কোনটি মান্য, না একাধারে সবটি? এটাই বিভ্রান্তির বিষয়। রেগুলেশন নং ১/১৯০০ বহাল ধরা হলে এখনো পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট একটি একক অখন্ড জেলা রূপে বিদ্যমান। তবে তার কোন জেলা প্রশাসক ও প্রশাসন নেই। এই একক ভিত্তিতে জেলা পরিষদ আইন প্রণীত হয় নি এবং জেলা পরিষদও এরূপ সার্বিক নয়। তিন জেলা প্রশাসন বর্ণিত রেগুলেশনের দ্বারা সমর্থিত নয় এবং সে অনুযায়ী রেগুলেশন সংশোধন ও করা হয় নি। তবে কি তিন জেলা বেনামীতে সাবেক তিন মহকুমা? তা হলে তো তিন জেলা পরিষদ আসলে মহকুমা পরিষদ। এ হিসাবে জেলা পরিষদের মর্যাদাটি আঞ্চলিক পরিষদেরই প্রাপ্য। এ না হলে আঞ্চলিক পরিষদের কোনো মর্যাদাই প্রাপ্য হয় না। সংবিধানের অনুচ্ছেদ নং ৫৯ অনুযায়ী জনপ্রতিনিধিত্বশীল স্থানীয় শাসন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষের ক্ষমতার ভিত্তি হবে কোন প্রশাসনিক ইউনিট। এতে প্রশ্ন : আঞ্চলিক পরিষদ আসলে কোন প্রশাসনিক ইউনিট নিয়ে গঠিত? সুতরাং এটা পরিষ্কার হতে হবে যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি প্রশাসনিক ইউনিট অথবা নয়, এবং রাঙামাটি খাগড়াছড়ি ও বান্দরবন তিন জেলা পরিষদ কিংবা মহকুমা পরিষদ। সারা বাংলাদেশে মহকুমা বিভাগ বিলুপ্ত। কোথাও পূর্বাবস্থা নেই। তবে ব্যতিক্রম হলো পার্বত্য চট্টগ্রাম। এখানে রেগুলেশন নং ১/১৯০০ বহাল রাখায় এর দ্বারা পূর্বাবস্থা বিদ্যমান। এই আইনে তিন জেলা পরিষদ, আঞ্চলিক পরিষদ আর স্বতন্ত্র আইনের কোন সংস্থান নেই।
এটাও বিভ্রান্তিকর যে, এখানে বাংলাদেশ সংবিধান, হিল ট্রাক্টস ম্যানুয়েল ও পরিষদ আইন এই তিনের একটা খিচুড়ি সংস্থান চলছে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ নং ১) দেশটিকে একটি বিশুদ্ধ ইউনিটারী ও স্বাধীন রাষ্ট্র রূপে ঘোষণা করে এবং ৭ নং অনুচ্ছেদ ঘোষণা করে সংবিধানই দেশের পালনীয় সর্বোচ্চ আইন। যে আইন এর সাথে সামঞ্জস্যশীল নয় তা বাতিল হবে। পুনরায় অনুচ্ছেদ নং ২৬ (২) এ বলা হয়েছে : রাষ্ট্র এই ভাগের (মৌলিক অধিকার) কোন বিধানের সাথে অসামঞ্জস্য কোন আইন প্রণয়ন করবেন না। অথচ আঞ্চলিক পরিষদ স্থাপন হলো অঘোষিত ফেডারেল ব্যবস্থা। অনুচ্ছেদ ৫৯ মতে কোন প্রশাসনিক ইউনিট ছাড়া স্থানীয় শাসন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা যায় না। সুতরাং আঞ্চলিক পরিষদ কোন স্থানীয় শাসন কর্তৃপক্ষ নয়। হিল ট্রাক্টস ম্যানুয়েলটিও সংবিধানের সাথে অসংগতিশীল। এবং জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদ আইনদ্বয় বিভিন্নভাবে সংবিধানের সাথে অসামঞ্জস্য। এমতাবস্থায় প্রচলিত, আর হালে প্রণীত এবং অধুনা প্রতিষ্ঠিত পার্বত্য আইন ও পরিষদ সমূহ মোটেও বিতর্ক মুক্ত নয়। এই বৈধতার বিতর্ককে এড়িয়ে প্রস্তাবিত ভূমি কমিশন, প্রতিষ্ঠিত আর পরিচালিত হতে পারে না, এবং তার এখতিয়ারভুক্ত এলাকাও সুনির্দিষ্ট হয় না। অধিকন্তু এটাও মান্য হতে পারে না যে, ভূমি কমিশনের রায় আপত্তিযোগ্য নয় এবং চূড়ান্ত। আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম কোন প্রশাসনিক অঞ্চল কিনা তার ফয়সালা হোক। তারপর তিন জেলা পরিষদের এখতিয়ার ও এলাকা সুনির্দিষ্ট হোক এবং এও সুনিশ্চিত হোক যে সরকারের প্রশাসনিক এখতিয়ার ও এলাকার যে পরীধি চুক্তি ও জেলা পরিষদ আইনে আছে তা কি ভূমি কমিশনের এখতিয়ারকে সুনির্দিষ্ট করে না? [চলবে]

 

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • বদর বাহিনীর হাতে শহীদ হন সাদেক
  • বানিয়াচংয়ের ভূপর্যটক রামনাথ
  • সিলেটের দ্বিতীয় সংবাদপত্র এবং বাগ্মী বিপিন
  • সিলেটের গৌরব : কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ
  • প্রকৃতিকন্যা সিলেট
  • ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রথম ক্ষেত্র
  • ইতিহাস সমৃদ্ধ জনপদ জামালপুর
  • সুনামগঞ্জের প্রথম নারী সলিসিটর
  • ইতিহাস-ঐতিহ্যের লীলাভূমি সোনারগাঁও
  • হারিয়ে যাওয়া বর্ণমালা
  • স্বামী হত্যার বিচার পাননি সাহার বানু
  • বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার একটি বর্ধিষ্ণু গ্রাম মিয়ারচর
  • বিভীষিকাময় একাত্তর শ্বাসরুদ্ধকর পাঁচঘণ্টা
  • সিলেটের প্রথম সংবাদপত্র এবং কবি প্যারীচরণ
  • সিলেটের প্রথম সাংবাদিক, প্রথম সংবাদপত্র
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • মুক্তিযোদ্ধা নজরুল এবং অন্যান্য
  • বানিয়াচং সাগরদিঘী
  • খুন ও ধর্ষণ করেছে চরমপন্থিরাও
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • Developed by: Sparkle IT