সম্পাদকীয়

জলবায়ুর বিচিত্ররূপ

প্রকাশিত হয়েছে: ৩০-০৫-২০১৮ ইং ০১:১৩:৫৩ | সংবাদটি ২৭ বার পঠিত

এই রোদ এই বৃষ্টি, কখনওবা প্রচ- ঝড়, শিলা বৃষ্টি, একটানা মেঘের গর্জন প্রকৃতির এমনি খামখেয়ালীপনা এখন প্রায় প্রতিদিনের ব্যাপার। অথচ এই সময়ে আবহাওয়ায় এমনি বিচিত্র রূপ ধারণ করার কথা নয়। চলছে এখন গ্রীষ্মকাল। এই সময়ে থাকবে কাঠফাটা রোদ; মাঝে মধ্যে দমকা হাওয়ার সাে হালকা বৃষ্টি স্বস্তি এনে দেবে তীব্র উত্তাপে অতিষ্ট মানুষদের। কিন্তু তার বদলে প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে, কোনো কোনো দিন সূর্যের দেখাও পাওয়া যাচ্ছে না। ঋতুচক্রের আবর্তে বর্ষা শুরু হতে তিন সপ্তাহ বাকি। তাই শুরু হয় নি এখনও মওসুমী বায়ু। তার আগেই এই অস্বাভাবিক ঝড় বৃষ্টি আগামে বন্যারই সংকেত দিচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞগণ আশঙ্কা করছেন। আর এই বন্যাও গত বছরের মতো দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আবহাওয়ার এই অস্বাভাবিক আচরণের কারণ সম্বন্ধে বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য হচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে বায়ুম-লে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব স্পট হয়ে উঠছে ‘বলেই আবহাওয়া এমন অস্বাভাবিক আচরণ করছে। বিরূপ প্রভাব ও পড়ছে প্রকৃতিতে। সম্প্রতি নামার প্রতিবেদনে বলা হয় গ্রিন হাউসের ক্ষতিকারক প্রভাবে প্রতি বছর বাড়তে থাকে বৈশ্বিক উষ্ণতা। আর এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে জলবায়ুর ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলার পাশাপাশি বাড়ছে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা। অবশ্য ফেব্রুয়ারি মাসের উষ্ণতা গত তিন বছর ধারাবাহিকভাবে কমেছে। অর্থাৎ এই সময়ে ফেব্রুয়ারি মাসের তাপমাত্রা কমেছে শূন্য দশমিক ৫৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গড়ে তাপমাত্রা কমার ক্ষেত্রে গত একদশকে এটিই সবচেয়ে বড় ঘটনা।
সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে যে তথ্যটি বেরিয়ে আসে তা হলো, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বর্তমানে ‘বৃষ্টিবহুল’ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। গত বছর থেকে শুরু হয়েছে এই ধারা। গত বছর মার্চ-এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিলো বলা যায় অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময়ে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে এবারও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হবে। গত মার্চ থেকে এ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। এই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে আগামী সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত। আর অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে তাপমাত্রায়ও তারতম্য লক্ষ করা যাচ্ছে। অর্থাৎ গড় তাপমাত্রা হচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে কম। ইতোপূর্বে মে মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ছিলো। এবছর মে মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে নি।
পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রভাবে অসময়ে অতিবৃষ্টির কবলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। আবহাওয়ার এই অনিশ্চয়তার মাত্রা আগামীতে আরও বেড়ে যাবে বলেই মনে করছেন আবহাওয়া বিজ্ঞানীগণ। সুতরাং এর বিরূপ প্রভাব থেকে কীভাবে বাঁচা যায় সেই পথ খুঁজে বের করতে হবে। পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রভাব মানুষের ওপর যতোটা পড়েছে, তার চেয়ে বেশি পড়েছে পরিবেশের ওপর। কৃষি উৎপাদনেও বিপর্যয় নেমে আসবে অদূর ভবিষ্যতে। এখন হচ্ছে অতিবৃষ্টি; আগামীতেও যে বৃষ্টির মওসুমেই অনাবৃষ্টির কবলে পড়তে হবে না, সেই নিশ্চয়তা নেই। তাই সব ধরনের বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে হবে আমাদের।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT