ধর্ম ও জীবন

তাফসিরুল কুরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ০১-০৬-২০১৮ ইং ০১:৪৭:০২ | সংবাদটি ১৪২ বার পঠিত

[পূর্ব প্রকাশের পর]
সূরা : আল বাক্বারাহ, মদিনায় অবতীর্ণ, আয়াত-২৮৬।
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
(১) আলিফ লাম মীম। (২) এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য। (৩) যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদেরকে যে রুজি দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে। (৪) এবং যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে সেসব বিষয়ের উপর যা কিছু তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং সেসব বিষয়ের উপর যা তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। আর আখেরাতকে যারা নিশ্চিত বলে বিশ্বাস করে।
সূরা বাক্বারার ফযিলত : এ সূরা বহু আহকাম সম্বলিত সব চাইতে বড় সূরা। নবী করিম (সা.) এরশাদ করেছেন যে, সূরা বাক্বারাহ পাঠ কর। কেননা, এর পাঠে বরকত লাভ হয় এবং পাঠ না করা অনুতাপ ও দুর্ভাগ্যের কারণ। যে ব্যক্তি এ সূরা পাঠ করে তার উপর কোনো আহলে বাতিল তথা জাদুকরের জাদু কখনও প্রভাব বিস্তার করতে পারে না।
নবী করিম (সা.) এ সূরাকে সেনামূল কুরআন ও যারওয়াতুল কুরআন বলে উল্লেখ করেছেন। সেনাম ও যারওয়াহ বস্তুর উৎকৃষ্টতম অংশকে বলা হয়। সূরায়ে বাক্বারায় আয়াতুল কুরসী নামে যে আয়াতখানা রয়েছে তা কুরআন মজীদের অন্যান্য সকল আয়াত থেকে উত্তম। (ইবনে কাসীর)
হযরত ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন যে, এ সূরায় এমন দশটি আয়াত রয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি সে আয়াতগুলো রাতে নিয়মিত পাঠ করে, তবে শয়তান সে ঘরে প্রবেশ করতে পারবে না এবং সে রাতের মতো সকল বালা-মুসীবত, রোগ-শোক ও দুশ্চিন্তা ও দুর্ভাবনা থেকে নিরাপদে থাকবে। তিনি আরো বলেছেন, যদি বিকৃতমস্তিষ্ক লোকের উপর এ দশটি আয়াত পাঠ করে দম করা হয়, তবে সে ব্যক্তি সুস্থতা লাভ করবে। আয়াত দশটি হচ্ছে : সূরার প্রথম চার আয়াত, মধ্যের তিনটি অর্থাৎ আয়াতুল কুরসী ও তার পরের দু’টি আয়াত এবং শেষে তিনটি আয়াত।
আহকাম ও মাসায়েল : বিষয়বস্তু ও মাসায়েলের দিক দিয়েও সূরা বাক্বারাহ সমগ্র কুরআনে অনন্য বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদার অধিকারী। এ সূরায় এক হাজার আদেশ, এক হাজার নিষেধ, এক হাজার হেকমত এবং এক হাজার সংবাদ ও কাহিনী রয়েছে।
আনুসাঙ্গিক জ্ঞাতব্য বিষয় :
হরূফে মুকাত্তাআত : অনেকগুলো সূরার প্রারম্ভে কতকগুলো বিচ্ছিন্ন বর্ণ দ্বারা গঠিত এক একটা বাক্য উল্লেখিত হয়েছে। যথা- আলিফ-লাম-মীম, হা-মীম, আলিফ-লাম-মীম-ছোয়াদ এগুলোকে কুরআনের পরিভাষায় ‘হরূফে মুকাত্তাআত’ বলা হয়। এ অক্ষরগুলোর প্রত্যেকটিকে পৃথক পৃথকভাবে সাকিন পড়া হয়। যথা- আলিফ-লাম-মীম।
কোনো কোনো তাফসিরকার এ হরফগুলোকে সংশ্লিষ্ট সূরার নাম বলে অভিহিত করেছেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন যে, এগুলো আল্লাহর নামের তত্ত্ব বিশেষ।
অধিকাংশ সাহাবী, তাবেয়ী এবং ওলামার মধ্যে সর্বাধিক প্রচলিত মত হচ্ছে যে, হরূফে-মুকাত্তাআতগুলো এমনি রহস্যপূর্ণ যার মর্ম ও মাহাত্ম্য একমাত্র আল্লাহ তা’আলাই জানেন। অন্য কাকেও এ বিষয়ে জ্ঞান দান করা হয় নি। [চলবে]

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT