সম্পাদকীয়

গ্রামমুখী হচ্ছে ব্যাংক

প্রকাশিত হয়েছে: ০২-০৬-২০১৮ ইং ০২:১৪:৫৭ | সংবাদটি ৬৮ বার পঠিত

অবশেষে গ্রামমুখী হতে শুরু করেছে ব্যাংকের সেবা। বিশেষ করে বেসরকারী ব্যাংকগুলো এতোদিন গ্রামে ব্যাংক শাখা খুলতে খুব একটা আগ্রহ না দেখালেও ইদানিং তাদের সেই বন্ধ্যাত্ব ঘুচেছে। তারাও গ্রামে শাখা খুলতে এগিয়ে আসছে। অবশ্য সরকারী ব্যাংকগুলো এক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়- গ্রামীণ অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিতে গ্রামমুখী হচ্ছে ব্যাংকগুলোর সেবা। সরকারী ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি বেসরকারী ব্যাংকগুলোও গ্রামে শাখা খুলতে আগ্রহী হচ্ছে। গত মার্চ মাস পর্যন্ত সারাদেশে বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা ছিলো নয় হাজার নয়শ’৭৩টি। এর মধ্যে ৫৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ রয়েছে গ্রামে। এর বাইরে এজেন্ট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেও গ্রামের দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। তবে বিদেশী ব্যাংকের একটি শাখাও গ্রামে নেই।
ব্যাংকিং সেবাকে বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে। ২০১২ সালে ব্যাংকের নতুন শাখা খোলার ক্ষেত্রে শহরে একটি খোলা হলে গ্রামেও একটি শাখা খোলার ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। কিন্তু এই শর্ত মানতে নারাজ বেসরকারী ব্যাংকগুলো। তারা শর্ত শিথিল করার দাবী জানিয়ে আসছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক রয়েছে সিদ্ধান্তে অটল। বিগত পাঁচ বছরের বেশী সময় ধরে এই পরিস্থিতি অব্যাহত আছে। এতোদিন বেসরকারী ব্যাংকগুলো শহর-গ্রাম এক অনুপাত এক হারে ব্যাংক শাখা খুলেনি। তাদের বেশীরভাগ শাখাই শহরে। এর আগে ২০০৬ সালে শহরে চারটি শাখা খোলা হলে গ্রামে কমপক্ষে একটি শাখা খোলার শর্ত জুড়ে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরবর্তীতে সেই শর্তে পরিবর্তন এনে শহর-গ্রাম দুই অনুপাত এক এবং ২০১২ সালে এক অনুপাত এক নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ব্যাংকগুলো এইশর্ত মানতে বরাবরই উদাসীন।
বিশ্বায়নের এই যুগে শহর গ্রামের পার্থক্য ঘুচিয়ে সব মানুষকে একই ধরণের নাগরিক সুযোগ সুবিধা প্রদানই হচ্ছে সবচেয়ে জরুরী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সার্বিক ক্ষেত্রে গ্রাম-শহরের পার্থক্য নেই বললেই চলে। শুধু ব্যতিক্রম আমরা। এখানে শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামের উন্নতি আশানুরূপ হচ্ছে না। যদিও জনগোষ্ঠীর আশি ভাগেরই বসবাস গ্রামে। অতীতের তুলনায় বর্তমানে গ্রামীণ জনপদে যোগাযোগসহ অবকাঠামোগত নানা উন্নতি সাধিত হয়েছে, এটা ঠিক। তবে মানুষের জীবনমান উন্নত হয়নি। গতি আসেনি গ্রামীণ অর্থনীতিতে। অর্থনীতিবিদরা দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যাপারটির প্রতি জোর দিয়ে আসছেন। গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে হলে সবচেয়ে জরুরী হচ্ছে গ্রামে ব্যাংকিং কার্যক্রম জোরদার করা। সেই আলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারী-বেসরকারী ব্যাংকগুলোকে গ্রামীণ শাখা বাড়ানোর জন্য নির্দেশ দেয়।
অতি সম্প্রতি কিছুটা হলেও গ্রামমুখী হয়েছে ব্যাংকগুলো। গত মার্চ মাস পর্যন্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী বেসরকারী ব্যাংকগুলোর চার হাজার সাতশ’৭৬টি শাখা রয়েছে। এর মধ্যে গ্রামে রয়েছে এক হাজার নয়শ’৮৫টি শাখা। এর আগের বছর গ্রামীণ শাখা ছিলো আনুপাতিকহারে আরও কম, আর সরকারী ব্যাংকগুলোর পাঁচ হাজার একশ’ ২৮টি শাখার মধ্যে গ্রামীণ শাখার সংখ্যা তিন হাজার ছয়শ’ ৪৬টি। ব্যাংকগুলোর গ্রামীণ শাখা যতো বৃদ্ধি পাবে ততোই গ্রামীণ মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকা-ে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে। তাদের মধ্যে সঞ্চয় প্রবণতাও বাড়বে। যা জাতীয় বিনিয়োগে অবদান রাখবে। ব্যাংকের নতুন শাখা খোলার ক্ষেত্রে গ্রামকে অগ্রাধিকার দেয়ার নির্দেশনা কার্যকরের মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং এতে গ্রাম-শহরের পার্থক্য কমে আসবে। এই প্রত্যাশা আমাদের।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT