পাঁচ মিশালী

তার মূলধন ছিল তিনশো’ টাকা

এম. আহমদ আলী প্রকাশিত হয়েছে: ০২-০৬-২০১৮ ইং ০২:৩৪:১২ | সংবাদটি ৩৯ বার পঠিত

নিজের উদ্ভাবনী শক্তি, প্রতিভা ও অক্লান্ত পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে স্বল্পতম পুঁজি দিয়ে আধুনিক কৃষিযন্ত্রপাতি উদ্ভাবন, গবেষণা, উন্নয়ন ও উৎপাদনকারী, শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিকাশ ঘটিয়ে রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার-২০১৬ পেলেন সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের চর মোহাম্মদপুর গ্রামের মেসার্স আবুল ইন্ডাষ্ট্রিজ এর স্বত্ত্বাধিকারী তরুণ উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবক আবুল মিয়া। জাতীয় অর্থনীতিতে শিল্পখাতে অবদানের স্বীকৃতি, প্রণোদনা সৃষ্টি এবং সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করতেই এ পুরষ্কার। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এই কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য স্বীকৃতি সনদ ও পুরস্কারটি ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে গত ২২ মে প্রদান করেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ। এই স্বীকৃতি ও সম্মানের অনুপ্রেরণায় মেসার্স আবুল ইন্ডাষ্ট্রিজ ভবিষ্যতে আরো অন্যান্য অবদান রেখে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আরো উত্তোরত্তর সমৃদ্ধি করবে। কেমন ছিল বাস্তবতা সাফল্যতার ভাবনা।
বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কৃষি ভিত্তিক শিল্পের মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতি অর্জনের লক্ষ্যে খামার যান্ত্রিক করণের মাধ্যম আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি বিকাশে ও যান্ত্রিক চাষাবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করণে নিরলস শ্রম ও সাধনা কৃষি যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন ও উৎপাদন কাজে সদা ব্যস্ত এক তরুণের নাম আবুল মিয়া। তিনি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের চর মুহাম্মদপুর গ্রামের মৃত মোঃ মতছির আলীর পুত্র মোঃ আবুল মিয়া। লেখাপড়ার ইতি টেনে শহরের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে মেকানিজ হিসেবে কাজ শুরু করেন ১৯৮৭ সনে। সেখান থেকেই আবিষ্কারের নেশা পেয়ে যায় থাকে এবং একজন সফল আত্মপ্রত্যয়ী যুবক হিসাবে আবিষ্কারে আত্মনিয়োগ করেন। কর্মজীবনে তিনি বিদেশে চলে গেলেও আবিষ্কারের নেশা ছাড়েন নি। তিনি প্রবাসে নির্ধারিত কাজের ফাকে ফাকে মেকানিকেল ওয়ার্কশপে চলে যেতেন। মেকানিক্যাল কাজে আত্মনিয়োগ করতেন। সঞ্চয় করতেন বিদেশী মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপগুলোর নানা কর্মকান্ড। অভিজ্ঞতা ও বিদেশী কারিগরী শিক্ষাকে কাজে লাগাতে নিজ উদ্যোগে ১৯৯৯ সনে মেসার্স আবুল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস নামে একটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করান। দক্ষিণ সুরমার বঙ্গবীর রোডে এবং ২০০৪ সালে মেসার্স আবুল ইন্ডাষ্ট্রিজ ইন্ডাষ্ট্রিজ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করান। ঐ দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে দেশীয় প্রযুক্তিতে খামার যান্ত্রিককরণের লক্ষে দেশিয় কাচাঁমাল ব্যবহার করে আমদানির বিকল্প আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন গবেষণা ও প্রস্তুত করতে নিয়োজিত থাকেন। তার প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ করেন বেশ কয়েকজন আত্মপ্রত্যয়ী যুবককে।
মোঃ আবুল মিয়া একগ্রচিত্তে কাজ করেন ও সহযোদ্ধা হিসাবে তারই ছোট ভাই মোঃ সাবুল মিয়া কাজ করেন। এ পর্যন্ত কৃষি কাজে যান্ত্রিক চাষাবাদে ব্যবহার উপযোগী ও উৎপাদিত কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাত করণে বিভিন্ন মেশিনারীজ ও যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন এবং তার উদ্ভাবিত কৃষি যন্ত্রপাতিগুলো স্থানীয়ভাবে বাজারজাত করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। কৃষি কাজে ও প্রক্রিয়াজাত শিল্পের তাঁর উদ্ভাবিত যন্ত্রপাতিগুলো হলো- আবুল পাওয়ার টিলার, আবুল ধান মাড়াই কল, আবুল খাদ্যপ্রক্রিয়াজাত করণ মিক্চার মেশিন, আবুল ব্লাইন্ডার মেশিন, আবুল চিনি মাড়াই কল।
আবুল মসলা প্রক্রিয়াজাতকরণ মেশিন এসব যন্ত্রপাতি জেলা কৃষি যন্ত্রপাতি মেলায় বিভিন্ন সময় প্রদর্শিত হয়েছে এবং কৃষকদের প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প প্রতিষ্ঠান সমূহকে উদ্বুদ্ধকরণে সফল হয়েছে। মোঃ আবুল মিয়ার প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সময়ে অনেক উর্ধ্বতন সরকারি ও বেসরকারী কর্মকর্তা প্রতিনিধিদল পরিদর্শন করেছেন। তারা কৃষিজাত উদ্ভাবিত যন্ত্রপাতির বিশেষ প্রশংসা করেছেন এবং দৈনিক ও জাতীয় পত্র-পত্রিকায় তার উদ্ভাবনী যন্ত্রপাতির প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। আবুল মিয়ার সাফল্যের প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে দৈনিক সিলেটের ডাক পত্রিকায়।
তাঁর উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ১৯৯৯ সনে আবুল মিয়া মাত্র ৩০০ টাকা মূলধন দিয়ে অগ্রযাত্রা শুরু করেন। যান্ত্রিক চাষাবাদের কৃষি কাজে দেশের পরিবেশ ও মানুষের ব্যবহার উপযোগী যন্ত্রপাতি ও উৎপাদিত কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ মেশিনারীজ গবেষণার মাধ্যমে লাকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে সফলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন এবং তার প্রতিষ্ঠানে বেশ কয়েকজন লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও আর্থ সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখছেন। এখন শুধু সরকারী সহযোগীতা পেলে আরও নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে কৃষি বিপ্লব ঘটাতে পারবেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় কৃষি শিল্প, কৃষি গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে ১৪১৭ বাংলা ‘সনের’ ‘বঙ্গবন্ধু’ ‘জাতীয় কৃষি পুরস্কার’ দেয়া হয়। পুরস্কারটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালের ২৯ এপ্রিল মোঃ আবুল মিয়াকে জাতীয় পদক ও জাতীয স্বীকৃতি সনপত্র প্রদান করেন।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT